রাজনৈতিক
মহিলা নেত্রী নিগ্রহে সরব রঞ্জিত দেববর্মা

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :-ত্রিপুরার নির্বাচনের পরবর্তী পরিস্থিতিতে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা সাবরুমে এক মহিলা রাজনৈতিক নেত্রীর উপর নিরাপত্তা বাহিনীর হামলার অভিযোগ তুলে ত্রিপুরা মানবাধিকার কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন এবং দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তার দায়ের করা আবেদনে দেববর্মা উল্লেখ করেন, গত ১২ এপ্রিল সাবরুম এসডিএম অফিস চত্বরে এই ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিপ্রা মথা পার্টি ও তিপ্রা উইমেন ফেডারেশনের জেলা পর্যায়ের নেত্রী সুপ্রিয়া চৌধুরীসহ কয়েকজন মহিলা প্রতিনিধি ভোট প্রক্রিয়া তদারকি ও শান্তি বজায় রাখতে সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ইভিএম স্ট্রং রুমে স্থানান্তরের সময় কিছু অনিয়ম চোখে পড়ে বলে দাবি করা হয়। এ নিয়ে আপত্তি জানানো হলে নিরাপত্তা বাহিনী নাকি বলপ্রয়োগ করে এবং লাঠিচার্জ করে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এক নিরাপত্তাকর্মী পিছন থেকে সুপ্রিয়া চৌধুরীকে লাথি মারেন, যার ফলে তিনি গুরুতরভাবে আহত হন এবং মানসিক আঘাতও পান।
বিধায়ক দেববর্মা এই ঘটনাকে “অতিরিক্ত ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলপ্রয়োগ” বলে অভিহিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, আক্রান্ত নেত্রী একজন তফসিলি জনজাতি সম্প্রদায়ের সদস্য হওয়ায় বিষয়টি আদিবাসী মহলে বিশেষ উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শারীরিক আঘাতের পাশাপাশি তার সম্মানহানিও হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
ঘটনার পর সুপ্রিয়া চৌধুরী চিকিৎসা নেন এবং সাবরুম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন, যা দেববর্মা তার আবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত করেছেন। তিনি অভিযুক্তদের পাশাপাশি দায়িত্বপ্রাপ্ত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আহ্বান জানান, যাতে জনসাধারণের আস্থা পুনরুদ্ধার করা যায়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। মানবাধিকার কর্মীরা সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের ঘটনা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
মানবাধিকার কমিশন শীঘ্রই বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে জানা গেছে।
You must be logged in to post a comment Login