জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংক (TGB) ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ব্যবসা, মুনাফা এবং সম্পদের গুণমানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। পাশাপাশি আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও গ্রামীণ উন্নয়নে ব্যাংকটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
শনিবার আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে ব্যাংকের চেয়ারম্যান সত্যেন্দ্র সিং বার্ষিক সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি জানান, গ্রাহকদের আস্থা, প্রযুক্তিনির্ভর কর্মী এবং বহুমুখী পরিষেবার ফলে এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, “CRAR ২৮.৫৮% এবং নেট এনপিএ শূন্য থাকায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে অগ্রাধিকার খাতে ঋণ বৃদ্ধির জন্য ব্যাংক শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।”
১৯৭৬ সালে মাত্র ৪টি শাখা ও ৪.৫২ লক্ষ টাকার ব্যবসা দিয়ে যাত্রা শুরু করা এই ব্যাংক বর্তমানে ১৫০টি শাখা ও ১২টি আল্ট্রা-স্মল শাখা নিয়ে ত্রিপুরার সব ৮টি জেলায় পরিষেবা দিচ্ছে। মোট ব্যবসা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫,৪২২ কোটি টাকা, যা গত বছরের তুলনায় ৯.৪৯% বেশি। আমানত বেড়ে হয়েছে ১০,৮৮৯ কোটি টাকা এবং ক্রেডিট-ডিপোজিট অনুপাত বৃদ্ধি পেয়ে ৪১.৬২% হয়েছে।
ব্যাংকের লাভজনকতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অপারেটিং প্রফিট দাঁড়িয়েছে ২৩৬.১০ কোটি টাকা এবং নিট মুনাফা ৭৬.১৯% বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১৮৪.৮৪ কোটি টাকা। ঋণ বিতরণ হয়েছে ২,৮৫৪.৭১ কোটি টাকা। একই সঙ্গে গ্রস এনপিএ কমে ২.৮৯%-এ নেমে এসেছে এবং নেট এনপিএ শূন্য রয়েছে।
গ্রামীণ খাতে ঋণ প্রদানে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে TGB। কৃষি ও সংশ্লিষ্ট খাতে ঋণ হয়েছে ১,১১৯.০৫ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ২৪.৬৯%। অগ্রাধিকার খাতে ঋণ বিতরণ হয়েছে ৩,৪৯৯.৮১ কোটি টাকা (৭৭.২২%)। ব্যাংক ২৯,৬৬১টি কিসান ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করেছে, ১৬,৩৬০টি স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে ঋণ দিয়েছে এবং ১২,৫০৪টি মুদ্রা ঋণ অনুমোদন করেছে।
পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রেও অগ্রগতি হয়েছে। বর্তমানে ব্যাংকের ৪৩টি এটিএম এবং ৪৮৭টি বিজনেস করেসপন্ডেন্ট পয়েন্ট রয়েছে। পাশাপাশি ডিজিটাল ব্যাংকিং পরিষেবা, ই-ব্যাংক গ্যারান্টি, কো-ব্র্যান্ডেড ক্রেডিট কার্ড এবং আধুনিক মোবাইল ব্যাংকিং চালু করা হয়েছে।
আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে ব্যাংকটি। প্রধানমন্ত্রী জনধন যোজনায় ৫.৩৯ লক্ষ অ্যাকাউন্ট, প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষা বিমা যোজনায় ৪.৫৮ লক্ষ এবং অটল পেনশন যোজনায় ১.৮৯ লক্ষ গ্রাহক যুক্ত হয়েছে।
চেয়ারম্যান জানান, ভবিষ্যতে ডিজিটাল ব্যাংকিং, কৃষি ও এমএসএমই ঋণ এবং আর্থিক সচেতনতা বাড়ানোর দিকে বিশেষ জোর দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংক কৃষক, মহিলা, যুবক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পাশে থেকে আত্মনির্ভর ত্রিপুরা গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
