জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- ত্রিপুরার ৫৬-ধর্মনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ভোটগণনা আগামী ৪ মে অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৮টা থেকে ধর্মনগর পিএম শ্রী গার্লস হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলে এই গণনা প্রক্রিয়া শুরু হবে।
ভোটগণনাকে ঘিরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমস্ত ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে যাতে পুরো প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।
গত ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এই উপনির্বাচনে মোট ৮০.০৪ শতাংশ ভোটগ্রহণ হয়, যা উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ হিসেবে ধরা হচ্ছে। তবে ভোটগ্রহণের দিন একাধিক বুথে অনিয়ম, ভীতি প্রদর্শন ও উত্তেজনার অভিযোগ ওঠে।
বিরোধী দলগুলির পক্ষ থেকে এই বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। কংগ্রেস প্রার্থী চয়ন ভট্টাচার্য অভিযোগ করেন, ভোটের শেষ পর্যায়ে হঠাৎ করে ভোটের হার বেড়ে যায় এবং তাদের এজেন্টদের বুথ থেকে জোর করে বের করে দেওয়া হয়। একই অভিযোগ করেন সিপিআই(এম) প্রার্থী অমিতাভ দত্তও। তিনি দাবি করেন, বামপন্থী এজেন্টদের বুথ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে।
অন্যদিকে, বিজেপি প্রার্থী জহর চক্রবর্তী গণতন্ত্রের উৎসবে মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণকে স্বাগত জানান। বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং তারা জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।
এই উপনির্বাচনে মোট ৫৫টি বুথে ভোটগ্রহণ হয়। মোট ৪৬,১৪২ জন ভোটার, যার মধ্যে ২৩,৭৫৮ জন মহিলা, ছয়জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ করেন। প্রার্থীরা বিজেপি, কংগ্রেস, সিপিআই(এম)-নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট, আমরা বাঙালি, এসইউসিআই এবং এক স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে তৎকালীন বিধায়ক ও বিধানসভার স্পিকার বিশ্ববন্ধু সেনের মৃত্যুর পর এই উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়।
ভোটগণনার দিন শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে উত্তর ত্রিপুরার জেলা শাসক ও জেলা নির্বাচন আধিকারিক গণনাকেন্দ্রের ১০০ মিটার ব্যাসার্ধে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS), ২০২৩-এর ধারা ১৬৩ অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।
এই নির্দেশ ৪ মে ভোর ৬টা থেকে কার্যকর হবে এবং ভোটগণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে। প্রশাসনের তরফে সতর্ক করা হয়েছে, নির্দেশ অমান্য করলে BNSS-এর ধারা ২২৩ অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
