Home রাজ্যকীর্তনের স্বকীয়তা ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে তিন দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু

কীর্তনের স্বকীয়তা ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে তিন দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু

by admin

জনতার কলম, আগরতলা, ২৮ আগস্ট:-কীর্তনের মৌলিক বৈশিষ্ট্য, সুর ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের দক্ষ করে তুলতে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী কীর্তন বিষয়ক কর্মশালা শুরু হয়েছে। শনিবার খেজুরবাগানস্থিত ভগৎ সিং যুব আবাসে এই কর্মশালার উদ্বোধন হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুরনিগমের ডেপুটি মেয়র মনিকা দাস দত্ত। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন শচীন দেববর্মণ স্মৃতি সরকারি সঙ্গীত মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. মনিকা দাস এবং রাজ্যভিত্তিক সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত চক্রবর্তী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের অধিকর্তা বিম্বিসার ভট্টাচার্য।

কর্মশালায় রিসোর্স পার্সন হিসেবে কলকাতা থেকে আগত বিশিষ্ট শিল্পী ড. দেবব্রত মল্লিক ও সুমন ভট্টাচার্য অংশগ্রহণ করেন। পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কীর্তন শিল্পী ও সংগঠকরাও কর্মশালায় যোগ দিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল বলেন, আধুনিকতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার পাশাপাশি নিজেদের শিকড়, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। ত্রিপুরার দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো কীর্তন। এই ঐতিহ্য যাতে হারিয়ে না যায় এবং আগামী প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে যায়, সেজন্য সকলকে উদ্যোগী হতে হবে।

তিনি বলেন, তিন দিনব্যাপী এই কর্মশালার মাধ্যমে শিল্পীদের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার আদান-প্রদান হবে। একইসঙ্গে নতুন প্রজন্মের কীর্তন শিল্পী তৈরির ক্ষেত্রেও এই কর্মশালা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। রাজ্যে কীর্তনীয় দলের চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। তাই ত্রিপুরাতেই আরও বেশি সংখ্যক দক্ষ কীর্তন শিল্পী গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

রাজ্যভিত্তিক সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত চক্রবর্তী বলেন, বর্তমানে কীর্তনের সঙ্গে বিভিন্ন চটুল গানের মিশ্রণের ফলে অনেক ক্ষেত্রে কীর্তনের মৌলিক বৈশিষ্ট্য ও স্বকীয়তা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। তাই কীর্তনের নিজস্ব রূপ, সুর ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তা যথাযথভাবে তুলে ধরার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, কর্মশালায় পদাবলী সংকীর্তন, পালা কীর্তনসহ বিভিন্ন ধারার কীর্তনের মৌলিক বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণ ও পুনরুজ্জীবনের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

স্বাগত ভাষণে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের অধিকর্তা বিম্বিসার ভট্টাচার্য বলেন, কীর্তন শুধু ভক্তিমূলক সংগীত নয়, এটি বাংলার লোকসংস্কৃতির একটি মূল্যবান সম্পদ। সুর, তাল ও ভক্তির সমন্বয়ে কীর্তন সমাজে সম্প্রীতি, মানবিক মূল্যবোধ এবং সাংস্কৃতিক চেতনা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তিনি আরও জানান, মুখ্যমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় রাজ্যের বার্ষিক সাংস্কৃতিক ক্যালেন্ডারে কীর্তনকে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর পরিসরে ‘কীর্তন উৎসব’ আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে আগরতলা পুরনিগমের ডেপুটি মেয়র মনিকা দাস দত্তও বক্তব্য রাখেন। এদিন চারজন কীর্তনীয়া বাদককে সম্মাননা জানানো হয়।

তিন দিনব্যাপী এই কর্মশালায় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত কীর্তন শিল্পী ও সংগঠকরা অংশগ্রহণ করছেন। আয়োজকদের আশা, কর্মশালার মাধ্যমে কীর্তনের মৌলিক বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণ, শিল্পীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ত্রিপুরার এই সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

related posts

Leave a Reply

Secret Link