জনতার কলম, আগরতলা, ২৭ আগস্ট :-রাজ্যে শিক্ষক স্বল্পতা দূর করতে ধারাবাহিকভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত রাজ্যে মোট ৪,৮৭৯ জন স্নাতক ও অস্নাতক শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। একইসঙ্গে ত্রিপুরা সরকারের অধীন বিভিন্ন স্কুল থেকে ২,৬৮৪ জন শিক্ষককে ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (টিটিএএডিসি) পরিচালিত স্কুলে ডেপুটেশনে পাঠানো হয়েছে। এডিসি এলাকার ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনায় যাতে কোনও ধরনের ব্যাঘাত না ঘটে, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিধানসভার দ্বিতীয়ার্ধে জনস্বার্থে আনীত নোটিশের উপর স্বল্পকালীন আলোচনায় অংশ নিয়ে এই তথ্য জানান মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা। রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষক স্বল্পতার বিষয়টি নিয়ে নোটিশটি উত্থাপন করেন বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০১৮ সাল থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ১,৪১৩ জন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট টিচার (পিজিটি) এবং ১,৪৭১ জন গ্র্যাজুয়েট টিচার (জিটি) নিয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি ১৪৫ জন স্পেশাল এডুকেটর, ১১৭ জন স্কুল লাইব্রেরিয়ান এবং ১০৫ জন ফিজিক্যাল এডুকেশন টিচারও নিয়োগ করা হয়েছে।
শিক্ষক স্বল্পতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বর্তমানে বিভিন্ন স্তরে শূন্যপদ পূরণের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। এলিমেন্টারি ও সেকেন্ডারি এডুকেশনের অধীনে থাকা শূন্যপদগুলি পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, প্রি-প্রাইমারি শিক্ষকের ৩৫২টি শূন্যপদে নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর জন্য সিলেকশন টেস্ট ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে প্রার্থীদের নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে।
এছাড়া টেট-১-এর মাধ্যমে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির জন্য অ্যাসিস্ট্যান্ট টিচার (প্রাইমারি)/আন্ডার গ্র্যাজুয়েট টিচার পদে ১,০৩৬টি শূন্যপদ পূরণের লক্ষ্যে টিচার রিক্রুটমেন্ট বোর্ড, ত্রিপুরার (টিআরবিটি) কাছে রিকুইজিশন পাঠানো হয়েছে। একইভাবে টেট-২-এর মাধ্যমে পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের জন্য গ্র্যাজুয়েট টিচার/অ্যাসিস্ট্যান্ট টিচার পদে ১,০২০ জন শিক্ষক নিয়োগের লক্ষ্যে টিআরবিটির কাছে রিকুইজিশন পাঠানো হয়েছে।
এর পাশাপাশি গ্র্যাজুয়েট টিচার (এসটিজিটি) পদে ৭০০ জন শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়াও চলছে বলে বিধানসভায় জানান মুখ্যমন্ত্রী।
শিক্ষক নিয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের কাছে শিক্ষক নিয়োগ শুধুমাত্র চাকরি দেওয়ার একটি প্রক্রিয়া নয়। একজন শিক্ষক নিয়োগের অর্থ একটি শ্রেণিকক্ষকে আরও শক্তিশালী করা, একটি শিশুর ভবিষ্যৎকে আলোকিত করা এবং আগামী দিনের ত্রিপুরাকে আরও শক্তিশালী করে তোলা। এই লক্ষ্যেই বর্তমান সরকার কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও কাজ করে যাবে।
রাজ্যের প্রতিটি শিশুর কাছে মানসম্মত শিক্ষা পৌঁছে দেওয়াই বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে স্কুলগুলিতে প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিশ্চিত করার মাধ্যমে শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত করার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও তিনি জানান।