জনতার কলম, আগরতলা, ২৮ আগস্ট:-বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও গবেষণার ক্ষেত্রে ছাত্রছাত্রীদের আগ্রহ এবং অংশগ্রহণ বাড়াতে রাজ্যের কলেজগুলিতে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। আধুনিক বিজ্ঞান চর্চায় শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা এবং তাঁদের মধ্যে উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা ও হাতে-কলমে গবেষণার পরিবেশ তৈরি করতে ‘কলেজ বায়োটেক ক্লাব’ গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে রাজ্যের ১৭টি কলেজে বায়োটেক ক্লাব গঠন করা হয়েছে।
শনিবার রাজ্য বিধানসভায় বিধায়ক রঞ্জিত দাসের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে এই তথ্য জানান উচ্চশিক্ষামন্ত্রী কিশোর বর্মন। তিনি জানান, উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে গবেষণাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের গবেষণামুখী করে তুলতে বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রমের সঙ্গে তাঁদের যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, কলেজগুলিতে আয়োজিত সেমিনার, কর্মশালা, বক্তৃতা, ক্ষেত্র পরিদর্শন, সামাজিক সমীক্ষা, ল্যাবরেটরিভিত্তিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ক্ষেত্র সমীক্ষা, ইলেকট্রনিক প্রযুক্তি এবং ডেস্কটপ পাবলিশিং প্রকল্প-সহ বিভিন্ন কার্যক্রমে ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি শিল্প প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের মাধ্যমেও শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
স্নাতক স্তরের শিক্ষার্থীদের সাহিত্য পর্যালোচনা এবং গবেষণা পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত করে তুলতে ইলেকট্রনিক জার্নাল, বই এবং বিভিন্ন গবেষণা উপকরণের সুযোগ রয়েছে বলেও জানান উচ্চশিক্ষামন্ত্রী।
তিনি আরও জানান, উদয়পুরের নেতাজি সুভাষ মহাবিদ্যালয় এবং এমবিবি কলেজে নতুন বিজ্ঞান ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। পাশাপাশি ত্রিপুরা ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিকে কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের লক্ষ্যে আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।
উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জানান, গত তিন বছরে ডিগ্রি ও ডিপ্লোমা স্তরে রাজ্যের কলেজগুলিতে মোট ১৪,৩০২ জন ছাত্রছাত্রী বিভিন্ন গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেছে।
সরকারি কলেজগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নে প্রায় ৯০ কোটি টাকা বরাদ্দ
অন্যদিকে, বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মনের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জানান, গত তিনটি অর্থবছরে সরকারি কলেজগুলিতে পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য মোট ৮৯ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে এখনও পর্যন্ত ৮৫ কোটি ২৭ লক্ষ টাকা ব্যয় করা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যে ৫টি কলেজে নতুন ভবন, ৭টি কলেজে গবেষণাগার, ১টি কলেজে গ্রন্থাগার এবং ১৫টি কলেজে স্মার্ট শ্রেণিকক্ষ স্থাপন করা হয়েছে।
আগামী অর্থবছরে আরও কয়েকটি কলেজে নতুন ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিশালগড়ের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মহাবিদ্যালয়, সাব্রুমের মাইকেল মধুসূদন দত্ত কলেজ, মোহনপুরের স্বামী বিবেকানন্দ মহাবিদ্যালয়, ফটিকরায়ের আম্বেদকর কলেজ, কমলপুরের অদ্বৈত মল্লবর্মন স্মৃতি মহাবিদ্যালয়, আগরতলার বীরবিক্রম মেমোরিয়াল কলেজ, খোয়াইয়ের দশরথ দেব মেমোরিয়াল কলেজ এবং কাকড়াবনের সরকারি ডিগ্রি কলেজ।
রাজ্যে ৪১টি সরকারি কলেজ, পড়ুয়া প্রায় ৭০ হাজার
বিধায়ক অশোক চন্দ্র মিত্রের আরেকটি প্রশ্নের লিখিত উত্তরে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জানান, বর্তমানে রাজ্যে উচ্চশিক্ষা দপ্তরের অধীনে মোট ৪১টি সরকারি কলেজ রয়েছে। এর মধ্যে ২৯টি সরকারি সাধারণ ডিগ্রি কলেজ, ৫টি পেশাদারি কলেজ, ৬টি পলিটেকনিক এবং ১টি টেকনিক্যাল কলেজ রয়েছে।
এই সমস্ত সরকারি কলেজে বর্তমানে মোট ৬৯,৬৭৭ জন ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করছেন।