জনতার কলম, আগরতলা, ২৪আগস্ট :- ত্রিপুরা উপজাতি এলাকা স্বশাসিত জেলা পরিষদ এলাকায় মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের যে প্রতিশ্রুতি রাজ্য সরকার দিয়েছিল, তা এবার বাস্তবায়নের পথে। ধলাই জেলার আমবাসার লালছড়ি এলাকায় এইচ পি ঘোষ মেমোরিয়্যাল মেডিক্যাল কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা। মঙ্গলবার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পাশাপাশি মেডিক্যাল কলেজের ভূমি পূজা অনুষ্ঠানেও অংশ নেন তিনি।
প্রায় ২০ একর জমির উপর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট এই মেডিক্যাল কলেজ গড়ে তুলবে এইচ পি ঘোষ মেমোরিয়্যাল ফাউন্ডেশন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরা উপজাতি এলাকা স্বশাসিত জেলা পরিষদ এলাকায় একটি মেডিক্যাল কলেজ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতি এখন পূরণ হতে চলেছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এইচ পি ঘোষ মেমোরিয়্যাল ফাউন্ডেশনের কর্ণধার চন্দ্রশেখর ঘোষ ত্রিপুরারই একজন কৃতী ব্যক্তিত্ব। সর্বভারতীয় স্তরে তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে রয়েছেন। ইচ্ছা, নিষ্ঠা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করলে যে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব, চন্দ্রশেখর ঘোষ তার উদাহরণ বলে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
রাজ্যবাসী এবং বিশেষ করে ধলাই জেলার মানুষের পক্ষ থেকে মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য চন্দ্রশেখর ঘোষকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বর্তমান রাজ্য সরকার ধলাই জেলা হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর পাশাপাশি আমবাসায় মেডিক্যাল কলেজ গড়ে উঠলে এলাকার স্বাস্থ্য পরিষেবায় বড় পরিবর্তন আসবে। এর ফলে আমবাসা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়নও ত্বরান্বিত হবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই মেডিক্যাল কলেজকে কেন্দ্র করে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। ভবিষ্যতে এখানে একটি প্যারামেডিক্যাল কলেজ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নয়ন প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে একটি হেলথ ইউনিভার্সিটি গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সবকিছু যেন শুধু আগরতলাকেন্দ্রিক না হয়, সেই লক্ষ্যেও সরকার কাজ করছে। আমবাসায় মেডিক্যাল কলেজের পাশাপাশি উদয়পুরের তেপানিয়াতে আয়ুর্বেদিক কলেজ গড়ে তোলা হচ্ছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর প্রসার ঘটানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশ যে উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে, সেই দিশাতেই ত্রিপুরা সরকার কাজ করছে বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের পদস্থ আধিকারিকরাও সেই লক্ষ্যেই কাজ করছেন বলে জানান তিনি।
সম্প্রতি আগরতলায় আয়োজিত বিজনেস কনক্লেভের প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সেখানে রাজ্য ও বহিরাজ্য থেকে প্রায় ১২০০ জন শিল্পোদ্যোগী অংশ নিয়েছিলেন। তাঁদের অনেকেই ত্রিপুরায় শিল্প ক্ষেত্রে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বর্তমানে জিএসডিপির ক্ষেত্রে ত্রিপুরা উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। মাথাপিছু আয়ের ক্ষেত্রেও রাজ্য দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। নীতি আয়োগ ত্রিপুরাকে ‘ফ্রন্ট রানার স্টেট’ হিসেবে ঘোষণা করেছে বলেও জানান তিনি। রাজ্য সরকারের উন্নয়নমুখী কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের ফলেই এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী আহ্বান জানান, মেডিক্যাল কলেজটি গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করতে হবে। ‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত’-এর পাশাপাশি ‘এক ত্রিপুরা, শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা’ গড়ে তুলতে সকলকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও ভূমি পূজা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ধলাই জেলা পরিষদের সভাধিপতি সুস্মিতা দাস, বিধায়ক মনোজকান্তি দেব, বিধায়ক শম্ভুলাল চাকমা, বিধায়ক স্বপ্না দাস পাল, বিধায়ক চিত্তরঞ্জন দেববর্মা, স্বাস্থ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিতো, ধলাই জেলার জেলাশাসক বিবেক এইচ বি এবং এইচ পি ঘোষ মেমোরিয়্যাল ফাউন্ডেশনের ডিরেক্টর নিলিমা ঘোষ-সহ অন্যান্যরা। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বন্ধন গ্রুপের চেয়ারম্যান চন্দ্রশেখর ঘোষ।
উদ্বোধন ধলাই ক্যাফের
মেডিক্যাল কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের পর মুখ্যমন্ত্রী ধলাই জেলাশাসকের অফিস কমপ্লেক্সে গড়ে তোলা ‘ধলাই ক্যাফে’র উদ্বোধন করেন। ক্যাফেটি ত্রিপুরা রুরাল লাইভলিহুড মিশন (টিআরএলএম)-এর মাধ্যমে পরিচালিত হবে।
এরপর জেলাশাসকের অফিসের কনফারেন্স হলে ধলাই জেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে একটি পর্যালোচনা বৈঠকে অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে জেলার জনপ্রতিনিধিদের পাশাপাশি প্রশাসনের পদস্থ আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন। জেলায় চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।