জনতার কলম, আগরতলা, ২২ আগস্ট:-আগরতলার জিবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৭ দিনের এক নবজাতকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। বিশেষ শিশুযত্ন কেন্দ্রে ইনজেকশন দেওয়ার পরই শিশুটির অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে বলে অভিযোগ পরিবারের। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চিকিৎসা প্রক্রিয়া ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মৃত শিশুর পরিবার।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন আগে বিশেষ শিশুযত্ন কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন শিশুটিকে একটি ইনজেকশন দেওয়া হয়। পরিবারের এক সদস্যের দাবি, ইনজেকশন দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই শিশুটি অচেতন হয়ে পড়ে এবং শ্বাস নিতে সমস্যা দেখা দেয়। পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে এবং পরবর্তীতে শিশুটির মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর থেকেই পরিবারের মূল প্রশ্ন, এত ছোট একটি শিশুকে ইনজেকশন দেওয়ার দায়িত্বে ঠিক কে ছিলেন? পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসক বা নার্সের পরিবর্তে শিশুদের দেখভালের কাজে যুক্ত এক কেয়ারগিভার বা অ্যাটেনডেন্টই ইনজেকশনটি দিয়েছেন। এমনকি ঘটনার পর ওই ব্যক্তি হাসপাতাল থেকে চলে যান বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিবারের দাবি, ইনজেকশন দেওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট কক্ষে কোনও চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। শিশুটির মা এবং ওই কেয়ারগিভার সেখানে ছিলেন বলে জানানো হয়েছে। ফলে চিকিৎসকের সরাসরি তত্ত্বাবধান ছাড়া কীভাবে শিশুটিকে ইনজেকশন দেওয়া হল, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে পুরো ঘটনার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ইনজেকশন দেওয়ার জন্য অনুমোদিত ছিলেন কি না, তাঁর প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ বা যোগ্যতা ছিল কি না এবং ঘটনার সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক বা নার্স কোথায় ছিলেন—এই বিষয়গুলির উত্তর চেয়েছে পরিবার।
তবে পরিবারের অভিযোগের সবকটি দিক এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণও এখনও নিশ্চিত নয়। ইনজেকশন দেওয়ার সঙ্গে মৃত্যুর সরাসরি কোনও চিকিৎসাগত সম্পর্ক ছিল কি না, তা নির্ধারণের জন্য হাসপাতালের চিকিৎসা নথি, চিকিৎসকদের মতামত এবং প্রয়োজন হলে প্রশাসনিক তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
একটি ১৭ দিনের শিশুর মৃত্যু ঘিরে ওঠা এই অভিযোগ স্বাভাবিকভাবেই হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা এবং নবজাতক পরিচর্যা ব্যবস্থার দিকে নতুন করে নজর টানছে। পরিবারের অভিযোগের পাশাপাশি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং তদন্তের ফলাফল সামনে এলেই ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।