Home রাজ্য“শ্বেত বিপ্লব ২.০-এর পথে ত্রিপুরা, দুগ্ধ উন্নয়নে ত্রিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর”

“শ্বেত বিপ্লব ২.০-এর পথে ত্রিপুরা, দুগ্ধ উন্নয়নে ত্রিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর”

by janatar kalam

জনতার কলম, আগরতলা, ২৩ জুন :-ত্রিপুরায় দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পশুপালকদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। রাজ্যের সমবায়ভিত্তিক দুগ্ধ ক্ষেত্রকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করে তুলতে সোমবার সচিবালয়ের ২ নম্বর কনফারেন্স হলে এক গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা বলেন, আজকের দিনটি রাজ্যের জন্য অত্যন্ত গর্বের ও তাৎপর্যপূর্ণ।

মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে রাজ্য সরকারের প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তর, ন্যাশনাল ডেয়ারি ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (এনডিডিবি) এবং গোমতী কো-অপারেটিভ মিল্ক প্রডিউসার্স ইউনিয়ন লিমিটেডের মধ্যে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। ‘হোয়াইট রেভলিউশন ২.০’ বা ‘শ্বেত বিপ্লব’-এর জাতীয় লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাজ্যে একটি সমন্বিত সমবায়ভিত্তিক দুগ্ধ উন্নয়ন পরিকল্পনা (সিসিডিডিপি) প্রণয়ন ও বাস্তবায়নই এই চুক্তির মূল উদ্দেশ্য।

সমঝোতা স্মারকে ত্রিপুরা সরকারের পক্ষে প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের সচিব দীপা ডি. নায়ার, এনডিডিবি-র পক্ষে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আঞ্চলিক প্রধান ড. সব্যসাচী রায় এবং গোমতী কো-অপারেটিভ মিল্ক প্রডিউসার্স ইউনিয়ন লিমিটেডের পক্ষে চেয়ারম্যান রতন ঘোষ স্বাক্ষর করেন।

অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দুগ্ধ ও দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে গুজরাট দেশের কাছে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ত্রিপুরাও আগামী দিনে এই ক্ষেত্রে বিশেষ সাফল্য অর্জন করে দেশের মানচিত্রে নিজস্ব অবস্থান গড়ে তুলুক, সেই লক্ষ্য নিয়েই সরকার কাজ করছে। তিনি বলেন, কৃষক ও পশুপালকদের আয় বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে দুগ্ধ শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। ত্রিপুরায় এমন এক দুগ্ধ আন্দোলনের সূচনা হোক, যা ভবিষ্যতে সারা দেশের কাছে সমাদৃত হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ত্রিপুরা আজ উন্নয়নের পথে দ্রুত এগিয়ে চলেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রাণীসম্পদ বিকাশ, মৎস্য ও তপশিলি জাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী সুধাংশু দাস বলেন, এই সমঝোতা স্মারক রাজ্যের দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি পশুপালকদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। বর্তমানে রাজ্যে দুধ উৎপাদন ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং উৎপাদন আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

সমবায় দপ্তরের মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর রাজ্যের সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। সমবায় আন্দোলনকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। ‘বিকশিত ভারত’ গঠনের ক্ষেত্রে সমবায়গুলির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে ন্যাশনাল ডেয়ারি ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মিনেশ শাহ এবং গোমতী কো-অপারেটিভ মিল্ক প্রডিউসার্স ইউনিয়ন লিমিটেডের চেয়ারম্যান রতন ঘোষ ত্রিপুরায় দুগ্ধ শিল্পের বিকাশ, উৎপাদন বৃদ্ধি, বাজার সম্প্রসারণ এবং পশুপালকদের উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সমবায় দপ্তরের সচিব তাপস রায়, প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের অধিকর্তা ড. নীরজ কুমার চঞ্চল, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিক, এনডিডিবি-র প্রতিনিধিবৃন্দ এবং গোমতী কো-অপারেটিভ মিল্ক প্রডিউসার্স ইউনিয়ন লিমিটেডের পরিচালন পর্ষদের সদস্যরা।

You may also like

Leave a Comment

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy