Home Blog Page 51

যুদ্ধবিমানের ফ্লাই-পাস্ট, হাইওয়ে এয়ারস্ট্রিপে মোদির ঐতিহাসিক কর্মসূচি

0

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি আসাম সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই সফরে তিনি একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ঐতিহাসিক হতে চলেছে, কারণ উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রথম হাইওয়ে-ভিত্তিক জরুরি অবতরণ স্ট্রিপে (Emergency Landing Strip) তিনি অবতরণ ও উড্ডয়ন করবেন। ডিব্রুগড় জেলার ডিব্রুগড়-মোরান জাতীয় সড়কের চাবুয়া অংশে তৈরি এই বিশেষ এয়ারস্ট্রিপে সকালেই নামবেন প্রধানমন্ত্রী।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী প্রথমে চাবুয়া এয়ারফোর্স বেসে পৌঁছাবেন। সেখান থেকে তিনি মোরানের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে বিশেষভাবে নির্মিত হাইওয়ে এয়ারস্ট্রিপে অবতরণ করবেন। কর্মসূচির অংশ হিসেবে কয়েকটি যুদ্ধবিমান এই এয়ারস্ট্রিপে অবতরণ করবে এবং আকাশে ফ্লাই-পাস্ট প্রদর্শন করবে বলে জানা গেছে।

এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ব্রহ্মপুত্র নদীর উপর সদ্য নির্মিত কুমার ভাস্করবর্মণ সেতুর উদ্বোধন করবেন, যা গুয়াহাটি ও উত্তর গুয়াহাটিকে সংযুক্ত করবে। পাশাপাশি গুয়াহাটিতে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট (IIM) গুয়াহাটির অস্থায়ী ক্যাম্পাসের উদ্বোধন করবেন তিনি। রাজ্যকে কেন্দ্রের অর্থায়নে দেওয়া ১০০টি ইলেকট্রিক বাসও প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করবেন।

এর পাশাপাশি আমিনগাঁওয়ে স্থাপিত হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টারের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। সফরের শেষে গুয়াহাটিতে বিজেপি দলের কার্যনির্বাহক ও কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকেও যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

কর্মসংস্থান ও শিল্পোন্নয়নে জোর, উত্তরপ্রদেশের ২০২৬–২৭ বাজেটে বড় বরাদ্দ

0

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- উত্তরপ্রদেশ সরকার ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে পরিকাঠামো, শিল্পোন্নয়ন, এমএসএমই, তথ্যপ্রযুক্তি, সড়ক, সেচ ও গ্রামোন্নয়ন খাতে বড় অঙ্কের আর্থিক বরাদ্দ রেখেছে। বাজেটে মূলত পুঁজি বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিল্প সম্প্রসারণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী সুরেশ খান্না জানিয়েছেন, পরিকাঠামো ও শিল্প উন্নয়নের জন্য ২৭ হাজার ১০৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ১৩ শতাংশ বেশি। মুখ্যমন্ত্রী শিল্পাঞ্চল সম্প্রসারণ ও নতুন শিল্পাঞ্চল প্রণোদনা প্রকল্পে বরাদ্দ হয়েছে ৫ হাজার কোটি টাকা।

এছাড়া অটল ইনফ্রাস্ট্রাকচার মিশনের আওতায় ২ হাজার কোটি টাকা এবং এফডিআই ও ফরচুন-৫০০ সংস্থাগুলিকে উৎসাহ দিতে ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডর প্রকল্পে সম্ভাব্য ৩৫ হাজার ২৮০ কোটি টাকার বিনিয়োগের জন্য ইতিমধ্যেই ২০০টি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার ফলে প্রায় ৫৩ হাজার ২৬৩টি সরাসরি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে দাবি করা হয়েছে।

এমএসএমই খাতে ৩ হাজার ৮২২ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৯ শতাংশ বেশি। ‘সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’ প্রকল্পের জন্য ৫৭৫ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী যুব উদ্যোক্তা বিকাশ অভিযানের জন্য ১ হাজার কোটি টাকা এবং মুখ্যমন্ত্রী যুব স্বনিযুক্তি প্রকল্পে ২২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ‘এক জেলা এক পদ’ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ৭৫ কোটি টাকা।

হস্ততাঁত ও বস্ত্রশিল্প খাতে ৫ হাজার ৪১ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় পাঁচ গুণেরও বেশি। পাওয়ারলুম বুনকরদের জন্য ৪ হাজার ৪২৩ কোটি টাকার ফ্ল্যাট রেট বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং টেক্সটাইল ও গার্মেন্টিং নীতি–২০২২-এর জন্য ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

পিএম মিত্র পার্ক প্রকল্পের আওতায় মেগা টেক্সটাইল পার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে, যার ফলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আইটি ও ইলেকট্রনিক্স খাতে ২ হাজার ৫৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যা ৭৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। উত্তরপ্রদেশ এআই মিশনের জন্য ২২৫ কোটি টাকা এবং সাইবার সিকিউরিটি অপারেশন সেন্টারের জন্য ৯৫ কোটির বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

রাজ্যে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগে ৮টি ডেটা সেন্টার পার্ক গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে ৯০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা তৈরি হবে।

সড়ক ও সেতু নির্মাণে ৩৪ হাজার ৪৬৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। নর্থ-সাউথ করিডর, বাইপাস, রিং রোড, ফ্লাইওভার ও শিল্প-লজিস্টিক করিডর নির্মাণে আলাদা আলাদা খাতে হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

সেচ ও জলসম্পদ দপ্তরের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ১৮ হাজার ২৯০ কোটি টাকা, যা গত বছরের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি। কেন-বেতওয়া লিঙ্কসহ বিভিন্ন বড় প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৪.৪৯ লক্ষ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া ২,১০০টি নতুন সরকারি নলকূপ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ কৃষক এবং প্রায় ৪৯.৯০ লক্ষ মানুষ উপকৃত হবেন বলে রাজ্য সরকার দাবি করেছে।

পশ্চিমবঙ্গের জন্য রেকর্ড রেল বাজেট ১৪,২০৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করল কেন্দ্র: অশ্বিনী বৈষ্ণব

0

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬–২৭-এ পশ্চিমবঙ্গের জন্য রেল খাতে রেকর্ড ১৪ হাজার ২০৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। লোকসভায় প্রশ্নোত্তর পর্বে সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইউপিএ সরকারের আমলে ২০০৯ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের জন্য রেল বাজেট ছিল মাত্র ৪ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।

রেলমন্ত্রী জানান, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে চলমান ও প্রস্তাবিত বিভিন্ন রেল প্রকল্পের জন্য মোট ৪ হাজার ৬৬২ হেক্টর জমির প্রয়োজন রয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত মাত্র ২৭ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, রাজ্যের একাধিক রেল প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া এখনও শুরুই হয়নি, যার ফলে প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নে বিলম্ব হচ্ছে।

মহারাষ্ট্র প্রসঙ্গে অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান, সেখানে সার্বিক ও সমন্বিতভাবে রেল উন্নয়নের কাজ চলছে। বর্তমানে মহারাষ্ট্রে প্রায় ১ লক্ষ ৫০ হাজার কোটি টাকার রেল প্রকল্পের কাজ চলছে। তিনি আরও জানান, ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষে মহারাষ্ট্রের জন্য রেল বাজেটে বরাদ্দ হয়েছে ২৩ হাজার ৯২৬ কোটি টাকা, যেখানে ইউপিএ সরকারের সময় এই বরাদ্দ ছিল মাত্র ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা।

রেলমন্ত্রী আরও বলেন, মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন শিল্পনগরীকে রেলপথে যুক্ত করতে একাধিক নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, যার ফলে রাজ্যের শিল্প ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাজেট আলোচনায় রাহুলের মন্তব্য নিয়ে ক্ষুব্ধ সরকার, প্রিভিলেজ নোটিসের পথে কিরেন রিজিজু

0

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- লোকসভায় বাজেট আলোচনার সময় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর করা মন্তব্যকে ঘিরে সংসদে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানিয়েছেন, সংসদে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে প্রিভিলেজ নোটিস আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কিরেন রিজিজু বলেন, বাজেট আলোচনার সময় রাহুল গান্ধী কোনও নোটিস না দিয়েই গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন, যা সংসদের নিয়ম ও প্রক্রিয়ার স্পষ্ট লঙ্ঘন। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়েও রাহুল গান্ধী অযৌক্তিক ও মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।

কিরেন রিজিজু আরও বলেন, লোকসভা ও রাজ্যসভায় কোনও সদস্য যদি গুরুতর অভিযোগ তোলেন, তাহলে তা প্রমাণসহ উত্থাপন করার নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। কিন্তু রাহুল গান্ধী কোনও প্রমাণ বা নোটিস ছাড়াই অভিযোগ তুলেছেন। তিনি জানান, রাহুল গান্ধীকে সংসদে তোলা বক্তব্যের সত্যতা প্রমাণ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

মন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরির বিরুদ্ধেও কোনও নোটিস ছাড়াই অভিযোগ তোলা হয়েছে, যা সংসদীয় শিষ্টাচার ও অধিকার লঙ্ঘনের সামিল। এই ঘটনায় স্পিকারের কাছে প্রিভিলেজ নোটিস জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। কিরেন রিজিজুর মতে, বাজেট আলোচনায় বিরোধী দলনেতার কোনও গঠনমূলক অবদান ছিল না।

এদিকে, ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে রাহুল গান্ধীর অভিযোগের জবাবে কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল বলেন, এই চুক্তি গ্রহণের ক্ষেত্রে কৃষকদের স্বার্থ ও কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি আশ্বাস দেন, সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্ত কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষিত রেখেই নেওয়া হয়েছে।

এটিএমে প্রতারণার ফাঁদ! সচেতন গ্রাহকদের নজরে পড়তেই ছুটে এল পুলিশ

0

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- জয়নগর অবলা চৌমুহনীস্থিত একটি এটিএম কাউন্টারে শনিবার চাঞ্চল্য ছড়ায়। অভিযোগ, এটিএম থেকে টাকা বেরোনোর মুখে অজ্ঞাত পরিচয় দুষ্কৃতীরা সেলুট্যাপ লাগিয়ে দেয়। এর ফলে টাকা তুলতে এসে সমস্যার মুখে পড়েন একাধিক গ্রাহক।

প্রথমে বিষয়টি নজরে আসে কয়েকজন সচেতন গ্রাহকের। তারা লক্ষ্য করেন, কার্ড ঢুকিয়ে টাকা তুলতে গেলে স্বাভাবিকভাবে টাকা বেরোচ্ছে না। ভালো করে খেয়াল করতেই দেখা যায়, টাকা বেরোনোর মুখে সেলুট্যাপ লাগানো রয়েছে। তৎক্ষণাৎ তাঁরা বিষয়টি আশপাশের লোকজনকে জানান এবং এটিএম কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন সংশ্লিষ্ট এটিএম কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে সেলুট্যাপ সরানো হয় এবং এটিএম কাউন্টার সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, এটিএমে প্রতারণা চালানোর উদ্দেশ্যেই এই কৌশল নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।

এলাকাবাসীর মধ্যে ঘটনাকে ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এই ধরনের কারসাজির মাধ্যমে গ্রাহকদের টাকা আটকে রেখে পরে তা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এটিএম কাউন্টারের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আবেদন জানানো হয়েছে। এটিএম ব্যবহার করার সময় কোনো অস্বাভাবিকতা নজরে এলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বা পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে। সচেতন গ্রাহকদের তৎপরতায় এদিন বড়সড় প্রতারণার ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছে প্রশাসন।

বাণিজ্য চুক্তির পথে আরও একধাপ, দিল্লিতে মার্কিন দূতাবাসে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

0

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- ভারতে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর জাতীয় রাজধানী নয়াদিল্লিতে নিজের সরকারি বাসভবনে এক বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর এবং বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গোয়াল এই সৌজন্য সাক্ষাতের মুহূর্তের ছবি সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ শেয়ার করেন।

অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার অভিজ্ঞতা শেয়ার করে পীযূষ গোয়াল লেখেন, “ভারতে মার্কিন দূতাবাসে সার্জিও গোরের স্বাগত সংবর্ধনায় অংশ নিতে পেরে খুব ভালো লেগেছে। আমার বিশ্বাস, ভারত-আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের অংশীদারিত্ব আরও নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে।”

এই সংবর্ধনায় ভারতের বন্ধুপ্রতিম দেশগুলির প্রতিনিধি, কূটনৈতিক মহলের সদস্য, বিভিন্ন ব্যবসায়িক সংস্থার নেতৃত্ব এবং যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদাররা উপস্থিত ছিলেন। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়ালের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৭৫ জনেরও বেশি রাষ্ট্রদূত অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

সংবর্ধনা শেষে সার্জিও গোরও এক্স-এ পোস্ট করে লেখেন, “আজ রাতে ভারতের প্রিয় বন্ধু, কূটনৈতিক মহল, ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দ এবং আমেরিকার অংশীদারদের সঙ্গে বাড়িতে একটি চমৎকার সংবর্ধনা আয়োজন করা হয়েছে। আমাদের দুই দেশের মধ্যে নতুন বাণিজ্য কাঠামো ও গভীরতর কৌশলগত সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে, এমন ব্যক্তিগত মুহূর্তগুলোই আসল জাদু তৈরি করে— যেখানে বিশ্বাস, ভাবনা ও যৌথ ভবিষ্যতের রূপরেখা গড়ে ওঠে। ভারত ও আমেরিকার সম্পর্কের সামনে অগণিত সম্ভাবনা রয়েছে।”

গোর এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়াল, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং উপস্থিত ৭৫ জনেরও বেশি রাষ্ট্রদূতকে।

অনুষ্ঠান চলাকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানান, হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের প্রতি বিশেষ নজর দিচ্ছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের কারণেই দুই দেশের মধ্যে অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তির পথ সুগম হয়েছে।

সার্জিও গোরের কথায়, “আমি এখানে এক মাসের একটু বেশি সময় ধরে রয়েছি এবং ইতিমধ্যেই কাজ শুরু হয়ে গেছে। হোয়াইট হাউস ভারতের দিকে নজর রেখেছে। আমাদের প্রেসিডেন্টও ভারতের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও প্রধানমন্ত্রী মোদির বন্ধুত্বের কারণেই অবশেষে আমরা এই বাণিজ্য চুক্তির দিকে এগোতে পেরেছি।”

বাজেট অধিবেশন নষ্ট করার অভিযোগ রাহুলের বিরুদ্ধে, মুখ খুললেন চিরাগ পাসওয়ান

0

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে বাজেট অধিবেশন নষ্ট করার অভিযোগ তুললেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসওয়ান। সংসদের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, একটিমাত্র ইস্যুতে অনড় অবস্থান নেওয়ার কারণেই পুরো বাজেট অধিবেশন কার্যত বিফলে গিয়েছে।

চিরাগ পাসওয়ানের দাবি, বিরোধী শিবিরের বহু সাংসদ, এমনকি বিভিন্ন আঞ্চলিক দলের প্রতিনিধিরাও রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও কেন্দ্রীয় বাজেটের ওপর বক্তব্য রাখার সুযোগ পাননি। তিনি অভিযোগ করেন, রাহুল গান্ধীর একগুঁয়ে অবস্থানের ফলেই বিরোধীদের কণ্ঠ সংসদের ভেতরে শোনা যায়নি।

তবে বিরোধীদের এই অভিযোগ যে তাঁদের কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি, তা খারিজ করে দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। চিরাগ পাসওয়ান বলেন, সংসদে বারবার বিরোধীদের বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট একটি ইস্যুকে সামনে রেখে অধিবেশন অচল করে দেওয়ার প্রবণতার কারণেই আলোচনা সম্ভব হয়নি।

তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রে আলোচনা ও বিতর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা না করে কেবল একটি বিষয়কে আঁকড়ে ধরে রাখলে সংসদের কাজকর্ম ব্যাহত হয় এবং দেশের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

টি-২০ বিশ্বকাপে নামিবিয়াকে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়াল নেদারল্যান্ডস

0

জনতার কলম স্পোর্টস ডেস্ক:- দিল্লিতে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচে আগের ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে হতাশাজনক হারের ধাক্কা কাটিয়ে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করল নেদারল্যান্ডস। অলরাউন্ডার বাস দে লিডের অনবদ্য পারফরম্যান্সে নামিবিয়াকে ৭ উইকেটে হারিয়ে বড় জয় তুলে নেয় ডাচরা। বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ দুই উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাট হাতে অপরাজিত ৭২ রানের ইনিংস খেলেন দে লিডে।

টস জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় নেদারল্যান্ডস। শুরু থেকেই নামিবিয়ার রানের গতি বেঁধে দেন ডাচ বোলাররা। প্রথম তিন ওভারে মাত্র ১৩ রান তুলতে পারে নামিবিয়া এবং আরিয়ান ডাটের বলে স্টাম্পড হয়ে ফিরে যান লরেন স্টিনক্যাম্প। যদিও অপর প্রান্তে ইয়ান নিকোল লফটি-ইটন ও ইয়ান ফ্রাইলিঙ্ক আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে কয়েকটি ছক্কা ও চার মেরে পাওয়ারপ্লে শেষে দলকে ৪০/১-এ পৌঁছে দেন।

পাওয়ারপ্লের পরেও টাইট বোলিংয়ে নামিবিয়ার রান তোলা কঠিন করে তোলে নেদারল্যান্ডস। দশম ওভারে ফ্রাইলিঙ্ক আউট হলে ৫০ রানের জুটি ভাঙে। এরপর লফটি-ইটন ও অধিনায়ক গেরহার্ড ইরাসমাস দ্রুতগতিতে রান তুললেও ১৩তম ওভারে ইরাসমাসের বিদায়ের পর আবারও ছন্দ হারায় নামিবিয়া। ১৫তম ওভারে লফটি-ইটন ফিরে গেলে বড় সংগ্রহের আশা প্রায় শেষ হয়ে যায়।

শেষদিকে জেজে স্মিট পরপর দুটি ছক্কা হাঁকালেও পরের ওভারে বাস দে লিডের বলে বোল্ড হয়ে যান। ফলে শেষ চার ওভারে মাত্র ৩১ রান তুলতে পারে নামিবিয়া। নির্ধারিত ২০ ওভারে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৫৬/৮। নেদারল্যান্ডসের হয়ে লোগান ভ্যান বীক ২ উইকেট নেন ১৩ রানে, আর বাস দে লিডে নেন ২ উইকেট ২০ রানে।

১৫৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নেদারল্যান্ডসের শুরুটা ভালো হয়নি। ম্যাক্স ও’ডাউড দ্রুত ফিরে গেলেও মাইকেল লেভিট ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে তিনটি ছক্কাসহ ১৫ বলে ২৮ রান করেন। পাওয়ারপ্লে শেষে ডাচদের রান দাঁড়ায় ৫০/২।

এরপর বাস দে লিডে ও কলিন অ্যাকারম্যানের মধ্যে গড়ে ওঠে ম্যাচ জেতানো ৭০ রানের জুটি। শুরুতে ধীরে খেললেও ধীরে ধীরে রান বাড়াতে থাকেন দু’জন। ১৪তম ওভারে অ্যাকারম্যান আউট হলেও দে লিডে একাই ম্যাচের লাগাম নিজের হাতে রাখেন। ৩৮ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করে দলকে জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেন তিনি।

শেষ পর্যন্ত অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডসকে সঙ্গে নিয়ে ১৮তম ওভারের মধ্যেই জয় নিশ্চিত করে নেদারল্যান্ডস। ৭ উইকেট হাতে রেখে এবং ২ ওভার বাকি থাকতেই ম্যাচ জিতে নেয় তারা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

নামিবিয়া ১৫৬/৮ (২০ ওভার) – ইয়ান নিকোল লফটি-ইটন ৪২, জেজে স্মিট ২২; লোগান ভ্যান বীক ২/১৩, বাস দে লিডে ২/২০

নেদারল্যান্ডস ১৫৯/৩ – বাস দে লিডে ৭২*, কলিন অ্যাকারম্যান ৩২

ফল: নেদারল্যান্ডস ৭ উইকেটে জয়ী

জলাতঙ্ক প্রতিরোধে মাঠে নামছে রাজ্য, বেওয়ারিস প্রাণী নিয়ে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা

0

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- জলাতঙ্ক রোগ ও নানা দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক শিক্ষিকা সহ জনসাধারণকে আরও বেশি করে সচেতন করতে হবে। বেওয়ারিস কুকুর ও অন্যান্য প্রাণীদের আচার আচরণ এবং তাদের মাধ্যমে বিভিন্ন রোগ বিস্তার প্রতিরোধ করার জন্য প্রতিষেধক ও প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কেও ছাত্রছাত্রী এবং জনগণকে সচেতন করে তুলতে হবে। রাজ্য সরকার বেওয়ারিস প্রাণীদের উদ্ধার করে উপযুক্ত শেল্টার হাউজে রাখার ব্যবস্থা করছে। এসব বেওয়ারিস প্রাণীদের জন্য যেন কোনও দুর্ঘটনা না ঘটে এ বিষয়ে রাজ্য সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

আজ সচিবালয়ের কনফারেন্স হলে প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের উদ্যোগে বেওয়ারিস কুকুর ও অন্যান্য বেওয়ারিস প্রাণীদের ব্যবস্থাপনার বিষয়ে আয়োজিত বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন। সভায় মুখ্যমন্ত্রী গৃহপালিত প্রাণীদের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে টিকাকরণের উপরও বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন।

মুখ্যমন্ত্রী আগরতলা পুরনিগম, ধর্মনগর পুর এলাকায় অ্যানিমেল বার্থ কন্ট্রোল সেন্টার এবং আরও ৬টি জেলায় অ্যানিমেল বার্থ কন্ট্রোল সেন্টার নির্মাণের কাজ সহ ২০টি নগর পঞ্চায়েত এলাকায় বেওয়ারিস প্রাণীদের জন্য শেল্টার হাউস নির্মাণের বিষয়ে খোঁজখবর নেন। তিনি বেওয়ারিস প্রাণীদের ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি শুরু করার আগে এই কর্মসূচি সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করার জন্য নির্দেশ দেন।

সভায় মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যে মোট গৃহপালিত বেওয়ারিস প্রাণীর সংখ্যা, বিভিন্ন স্থানের অ্যানিমেল বার্থ কন্ট্রোল সেন্টার এবং বেওয়ারিস প্রাণীর ব্যবস্থাপনায় এখন পর্যন্ত কি কি কাজ করা হয়েছে সেই সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। বেওয়ারিস কুকুর ও অন্যান্য প্রাণীদের ব্যবস্থাপনার কাজে যুক্ত কর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নিতে বলেন। মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের বিভিন্ন স্থানের গোশালাগুলির সম্পর্কেও খোঁজখবর নেন।সভায় প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের সচিব দীপা ডি. নায়ার বেওয়ারিস প্রাণীদের সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং জলাতঙ্ক রোগ প্রতিরোধে এখন পর্যন্ত কি কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে অবহিত করেন।

তিনি জানান ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ২,৯৯৮টি বেওয়ারিস কুকুরকে টিকাকরণ, বিভিন্ন বিদ্যালয়ে সচেতনতামূলক শিবির এবং বিভিন্ন স্থানে ১৯৮টি সচেতনতামূলক শিবির করা হয়েছে। এছাড়াও সভায় নগরোন্নয়ন দপ্তরের সচিব মিলিন্দ রামটেকে, আইন দপ্তরের সচিব শঙ্করি দাস, আগরতলার পুর নিগমের কমিশনার সাজু বাহিদ এ, প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের অধিকর্তা ড. নিরজ কুমার চঞ্চল সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে অবহিত করেন। এছাড়া সভায় পরিবহণ দপ্তরের সচিব উত্তম কুমার চাকমা সহ বিভিন্ন দপ্তরের অধিকর্তা ও অন্যান্য আধিকারিকগণ উপস্থিত ছিলেন।