Home Blog Page 50

বাংলাদেশ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়, সরকার গড়তে চলেছে বিএনপি

0

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- বাংলাদেশের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পথে এগোচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পার্টি (বিএনপি)। সরকারি ও দলীয় হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ঘোষিত ২৮৪টি আসনের মধ্যে বিএনপি ও তাদের জোট ২০৮টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। ফলে প্রায় দুই দশক পর ক্ষমতায় ফেরার পথে বড়সড় ম্যান্ডেট পেল দলটি।

দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজ নিজ আসনে জয়ী হয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে একাধিক সিনিয়র নেতাও বিজয়ী হয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে।

এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এই জয় বাংলাদেশের জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন। তিনি একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের পক্ষে ভারতের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচন ও একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোটে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৫৯.৪৪ শতাংশ। দেশের ২৯৯টি আসনে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বাকি আসনগুলির পাশাপাশি গণভোটের ভোটগণনা এখনও চলছে।

আকাশবাণী সংবাদদাতার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বর্তমান ফলাফলের প্রবণতা অনুযায়ী বিএনপি ও তাদের মিত্ররা স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

গ্রামীণ উন্নয়নে বড় পদক্ষেপ, ৫৪৬ কোটি টাকার প্রকল্প উদ্বোধনে শিবরাজ সিং চৌহান

0

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- রাজ্যে ‘বিকশিত ভারত জি রাম জি আইন, ২০২৫’ প্রণয়ন উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার স্বামী বিবেকানন্দ ময়দানে জনপ্রতিনিধি সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এই উপলক্ষে প্রায় ৫৪৬ কোটি টাকার বিভিন্ন গ্রামোন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। পাশাপাশি আয়োজিত হয় লাভার্থি সম্মেলন। মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা) মানিক সাহার উপস্থিতিতে ভার্চুয়ালি প্রকল্পগুলির উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন এবং কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রকের মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। অনুষ্ঠানে সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব সহ রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্য–সদস্যাগণ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের সূচনা করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান বলেন, “২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গড়ার সংকল্প বাস্তবায়নে গ্রামীণ ভারতের সর্বাঙ্গীন উন্নয়নের রোডম্যাপ হলো ‘বিকশিত ভারত জি রাম জি আইন, ২০২৫’। এই আইনের মাধ্যমে শুধু গ্রামীণ ভারতের চেহারা বদলাবে না, গরিব মানুষের ভাগ্যও পরিবর্তিত হবে।”

তিনি জানান, নতুন আইনে বছরে ১০০ দিনের পরিবর্তে ১২৫ দিনের কাজের নিশ্চয়তা দেওয়া হবে। কাজের দাবি জানিয়ে সময়মতো কাজ না পেলে বেকার ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে এবং মজুরি প্রদানে ১৫ দিনের বেশি দেরি হলে সুদসহ মজুরি দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাজেটে এই কর্মসূচির জন্য ১৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। রাজ্যসমূহ ও অর্থ কমিশনের অংশীদারিত্বে আগামী অর্থবছরে প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। সেই হিসেবে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ১০ লক্ষ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে গ্রামীণ জীবনযাত্রার মানে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন তিনি।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিকে ‘অষ্টলক্ষ্মী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং ত্রিপুরা সেই অষ্টলক্ষ্মীর পূর্ণ বৈভবের প্রতিচ্ছবি। প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে ভারত বিশ্বগুরু হওয়ার পথে এগিয়ে চলেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিরোধী দলগুলির সমালোচনা করে শিবরাজ সিং চৌহান বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই আইনের বিরোধিতা করা হচ্ছে, যার কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই।

তিনি আরও জানান, কর্মসূচি বাস্তবায়নে যুক্ত জিআরএস ও টেকনিক্যাল স্টাফদের বেতন-ভাতার জন্য প্রশাসনিক ব্যয় ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯ শতাংশ করা হয়েছে। ফলে এই খাতে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ থাকবে। জনজাতি, তপশিলী জাতি, দিব্যাঙ্গজন ও বিধবা মহিলাদের কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

রাজ্য সরকারের প্রশংসা করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় রাজ্যকে দেওয়া লক্ষ্যমাত্রার ৯৯ শতাংশ ঘরের কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ‘লাখপতি দিদি’ তৈরির লক্ষ্যমাত্রাও রাজ্য অতিক্রম করেছে। আগামী দিনে রাজ্যে আরও প্রায় ২ লক্ষ ঘর নির্মাণে আর্থিক বরাদ্দ দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনায় ১০৮টি আবাসিক এলাকাকে সংযুক্ত করতে নতুন রাস্তা নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নে আইসিএআর-এর কৃষি বিজ্ঞানীদের একটি দল রাজ্যে পাঠানো হবে বলেও ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। প্রতিটি জেলায় স্বসহায়ক দলের পণ্য বিক্রির জন্য সি-মার্ট খোলা হবে এবং আরকেভিওয়াই মিশনে রাজ্যকে অতিরিক্ত ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা) মানিক সাহা বলেন, গ্রামীণ মানুষের রোজগারের নিশ্চয়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে এই আইন একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। বিরোধীরা এই আইন নিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। এমজিএনরেগার ত্রুটিগুলি সংশোধন করতেই এই নতুন আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এই আইনের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে স্থায়ী সম্পদ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারে দালালচক্র ও দুর্নীতির অবসান ঘটবে। গ্রামসভা ও পঞ্চায়েতের মাধ্যমে গ্রামের উন্নয়নের রূপরেখা নির্ধারণ করা যাবে। কৃষিকালীন সময়ে সর্বোচ্চ দুই মাস কাজ বন্ধ রাখার বিধান রাখা হয়েছে, যাতে কৃষিকাজ ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং শ্রমিকরা কৃষিক্ষেত্র ও পরবর্তীতে এই আইনের আওতায় কাজের সুযোগ পান।

সভাপতির বক্তব্যে পঞ্চায়েত মন্ত্রী কিশোর বর্মণ বলেন, স্বচ্ছতা ও সুশাসনের মাধ্যমে রাজ্য পঞ্চায়েতি ব্যবস্থায় এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বিভিন্ন বিভাগে ইতিমধ্যেই রাজ্য ৭টি পুরস্কার অর্জন করেছে। এই আইনের মূল লক্ষ্য গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে শক্তিশালী ভারত গঠন করা।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের সচিব অভিষেক সিং। রাজ্যের পক্ষ থেকে এই আইন প্রণয়নের সমর্থনে একটি প্রস্তাব পত্র মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্বসহায়ক দলের সদস্যাদের ঋণের চেক, সয়েল হেলথ কার্ড, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘরের চাবির প্রতীকী মডেল এবং বিভিন্ন সুবিধাভোগীদের গাড়ির চাবি তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠান শেষে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। পাশাপাশি আয়োজিত বিভিন্ন প্রদর্শনী মণ্ডপও অতিথিরা পরিদর্শন করেন। উল্লেখ্য, গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের উদ্যোগে এবং পঞ্চায়েত দপ্তরের সহায়তায় এই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

শ্রম আইন ও এমজিএনরেগা নিয়ে কেন্দ্রকে কাঠগড়ায় কংগ্রেস, ধর্মঘটে সমর্থনের ঘোষণা কংগ্রেসের

0

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বিরোধী সমর্থিত শ্রমিক সংগঠনগুলির ডাকা দেশব্যাপী ধর্মঘটকে সমর্থন করার কথা ঘোষণা করল ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি। বুধবার বেলোনিয়ায় কংগ্রেস ভবনে সংগঠনিক বৈঠকের পর আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে টিপিসিসি সভাপতি আশিস কুমার সাহা এই ঘোষণা করেন।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আশিস সাহা অভিযোগ করেন, কেন্দ্রে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর একের পর এক আইন ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে পরিবর্তন আনা হয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। বিশেষ করে শ্রম আইন সংশোধন করে চারটি লেবার কোড চালু করার মাধ্যমে শ্রমিকদের সুরক্ষা অনেকটাই খর্ব করা হয়েছে এবং কর্পোরেট স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

একইসঙ্গে গ্রামীণ কর্মসংস্থানের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প এমজিএনরেগা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন টিপিসিসি সভাপতি। তাঁর অভিযোগ, এই প্রকল্পের বিধিনিষেধ শিথিল ও কাজের সুযোগ কমিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা চলছে। ফলে গ্রামীণ দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারগুলি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি বলেন, এমজিএনরেগা শুধু একটি প্রকল্প নয়, গ্রামীণ মানুষের কাজের আইনি নিশ্চয়তা—সেই ভিত্তিকেই দুর্বল করার চেষ্টা হচ্ছে।

আশিস সাহা জানান, শ্রমিক, কৃষকসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এই ধর্মঘটে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে কংগ্রেস। কেন্দ্রীয় সরকারের শ্রমিক ও কৃষক বিরোধী নীতির পুনর্বিবেচনা করে অবিলম্বে সংশোধনের দাবিও তোলেন তিনি।

তিনি আরও জানান, এমজিএনরেগাকে রক্ষা ও আরও শক্তিশালী করার দাবিতে দেশজুড়ে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দেড় মাসব্যাপী আন্দোলন কর্মসূচি চলছে, যা শুরু হয়েছে গত ১০ জানুয়ারি থেকে। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি ‘সেভ এমজিএনরেগা’ স্লোগানকে সামনে রেখে রাজভবন অভিযান কর্মসূচিরও ঘোষণা দেন টিপিসিসি সভাপতি।

সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টিপিসিসি সাধারণ সম্পাদক মিলন কর, ওবিসি চেয়ারম্যান মনোরঞ্জন দেবনাথ, জেলা সভাপতি মৃদুল পাটারি সহ অন্যান্য কংগ্রেস নেতা-কর্মীরা।

স্পিনের ফাঁদে কুপোকাত ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজের টানা দ্বিতীয় জয়

0

জনতার কলম স্পোর্টস ডেস্ক :- গ্রুপ ‘সি’-তে টানা দ্বিতীয় জয়ে শীর্ষে উঠে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। গুদাকেশ মোটির দুর্দান্ত স্পেল (৩/৩৩) এবং শেরফানে রাদারফোর্ডের অনবদ্য অপরাজিত ৭৬ রানের ইনিংসে ভর করে ইংল্যান্ডকে ৩০ রানে হারাল ক্যারিবীয়রা। প্রথমে ব্যাট করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তুলেছিল লড়াকু ১৯৬ রান, জবাবে স্পিনের ফাঁদে পড়ে ১৬৬ রানেই অলআউট হয়ে যায় ইংল্যান্ড।

ম্যাচের শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মাত্র ৭ বলের মধ্যেই দুই ওপেনারকে হারিয়ে ৮/২ অবস্থায় পড়ে যায় তারা। জোফরা আর্চার ও স্যাম কারানের প্রথম ওভারেই দুই প্রান্ত থেকে আঘাত আসে। তবে শিমরন হেটমায়ার ও রোস্টন চেজ পাল্টা আক্রমণে ইনিংস সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। হেটমায়ার আর্চার ও কারানের বিরুদ্ধে একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে চাপ তৈরি করেন। চেজও উইল জ্যাকসের ওভারে টানা তিনটি চার মেরে ম্যাচে গতি ফেরান। তবে জেমি ওভারটনের বলে টপ এজ হয়ে আউট হন হেটমায়ার।

এরপর ইনিংস গড়ার দায়িত্ব নেন শেরফানে রাদারফোর্ড। অন্যপ্রান্তে থাকা সেট চেজ আদিল রশিদের গুগলিতে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরলে মাঝপথে আবার চাপে পড়ে ক্যারিবীয়রা। ১০ ওভার শেষে স্কোর দাঁড়ায় ৭৯/৪। সেখান থেকেই ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন রাদারফোর্ড। উইল জ্যাকসের বলে টানা দুটি ছক্কা হাঁকিয়ে ইনিংসে প্রাণ ফেরান তিনি। পরে রোভম্যান পাওয়েলকে সঙ্গে নিয়ে বড় জুটি গড়েন। যদিও আদিল রশিদ নিজের স্পেলে দারুণ নিয়ন্ত্রণ রেখে ২ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডকে ম্যাচে রাখার চেষ্টা করেন।

শেষ পাঁচ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং ঝড় পুরো ম্যাচের চিত্র বদলে দেয়। জেসন হোল্ডারকে সঙ্গে নিয়ে রাদারফোর্ড আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেন। রাদারফোর্ড ২৯ বলে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। অন্যদিকে হোল্ডার কারানের এক ওভারে তিনটি বিশাল ছক্কা হাঁকান। শেষ পাঁচ ওভারে আসে ৬৬ রান। ২০ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৯৬/৬—যা একসময় প্রায় অসম্ভব বলেই মনে হচ্ছিল।

জবাবে শুরুটা ভালোই করে ইংল্যান্ড। ফিল সল্ট ঝোড়ো ব্যাটিং করে একটি ওভারে ২৪ রান তুলে নেন হোল্ডারের কাছ থেকে। তবে দ্রুতই রোমারিও শেফার্ডের বলে আউট হন সল্ট। পাওয়ারপ্লে শেষে ইংল্যান্ডের রান দাঁড়ায় ৬৭/১। কিন্তু এরপরই ম্যাচে প্রবেশ করে স্পিনের প্রভাব। রোস্টন চেজ ও গুদাকেশ মোটির স্পিনে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে ইংল্যান্ড। মোটির প্রথম ওভারেই টম ব্যান্টনকে ফিরিয়ে দেন তিনি। পরে জ্যাকব বেথেল, হ্যারি ব্রুকসহ গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন মোটে।

১৪ ওভার শেষে ইংল্যান্ডের স্কোর দাঁড়ায় ১৩১/৫। তখনও লড়াইয়ের আশা থাকলেও শেষদিকে একের পর এক রান আউটে ম্যাচ হাতছাড়া হয়ে যায় ইংল্যান্ডের। শেষ পর্যন্ত ১৯ ওভারে ১৬৬ রানেই অলআউট হয়ে যায় তারা। ফলে ৩০ রানের বড় জয় পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৯৬/৬ (শেরফানে রাদারফোর্ড ৭৬*, রোস্টন চেজ ৩৪, জেসন হোল্ডার ৩৩; আদিল রশিদ ২/১৬)

ইংল্যান্ড ১৬৬ (স্যাম কারান ৪৩*, জ্যাকব বেথেল ৩৩; গুদাকেশ মোটে ৩/৩৩, রোস্টন চেজ ২/২৯)

এই জয়ের ফলে গ্রুপ ‘সি’-তে টানা দুই ম্যাচ জিতে শীর্ষস্থান আরও মজবুত করল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

প্রাক্তন সিপিআইএম নেতার পরিবারের সদস্যসহ একাধিক পরিবারের বিজেপিতে যোগদান

0

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- কৃষ্ণপুর বিধানসভার মানিকবাজার শক্তি কেন্দ্রের উদ্যোগে দেবেন্দ্র চৌধুরী পাড়ায় আয়োজিত যোগদান কর্মসূচি ঘিরে দেখা গেল জনসমর্থনের নতুন বার্তা।

বিরোধীদের পুরনো ও দিশাহীন রাজনীতির বাইরে এসে সাধারণ মানুষ যে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের ওপর আস্থা রাখছেন, এদিনের অনুষ্ঠান সেই বাস্তব চিত্রই তুলে ধরল।

অনুষ্ঠানে জনজাতি কল্যাণ মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মার উপস্থিতিতে বিভিন্ন দল ত্যাগ করে মোট ২১টি পরিবার ও ৮১ জন ভোটার আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগদান করেন। এই যোগদান কর্মসূচি ঘিরে এলাকায় উৎসাহ ও উদ্দীপনার পরিবেশ তৈরি হয়।

বিশেষভাবে নজর কেড়েছে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ। প্রাক্তন সিপিআইএম এমডিসির স্ত্রী বিধান দেববর্মাসহ একাধিক মহিলা সদস্যের বিজেপিতে যোগদান রাজনীতির ময়দানে নারীদের বাড়তে থাকা আত্মবিশ্বাস ও সক্রিয় ভূমিকার বার্তাই বহন করছে।

এই অংশগ্রহণ স্পষ্ট করে দিচ্ছে—ত্রিপুরার ভবিষ্যৎ গঠনে নারীরাও আজ নেতৃত্বের পাশে দাঁড়িয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে প্রস্তুত।

স্থানীয় নেতৃত্বের বক্তব্য অনুযায়ী, সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ ও জনমুখী প্রকল্পের বাস্তব সুফল দেখেই মানুষ দলে দলে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। আগামী দিনে এই জনসমর্থন আরও বাড়বে বলেই আশাবাদ ব্যক্ত করেন দলীয় নেতৃত্ব।

চিকিৎসায় দক্ষ হতে গেলে নিতে হবে চ্যালেঞ্জ: মুখ্যমন্ত্রী

0

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- আগরতলার মুক্তধারা অডিটোরিয়ামে আগরতলা গভর্নমেন্ট ডেন্টাল কলেজ ও আইজিএম হাসপাতালের যৌথ উদ্যোগে ২০২৩-২৪ এবং ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের নবাগত ছাত্রছাত্রীদের নবীনবরণ উৎসব ‘সিনারজি-১০’ উদ্‌যাপিত হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা বলেন, একজন চিকিৎসককে প্রতিনিয়ত ব্যবহারিক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে নিজেকে গড়ে তুলতে হয়। যত বেশি চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করা যায়, ততই একজন চিকিৎসক অভিজ্ঞ ও দক্ষ হয়ে ওঠেন। 

নবাগত ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেবল পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান নয়, প্রকৃত ও ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জনের দিকেও সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। চিকিৎসা বিদ্যায় শেখার শেষ নেই, জানারও শেষ নেই। গতানুগতিকতার বাইরে গিয়ে নিজেকে আপডেট রাখা জরুরি। তিনি দন্ত চিকিৎসাবিদ্যার বিভিন্ন ব্যবহারিক দিক তুলে ধরে বলেন, ভালো দন্ত চিকিৎসক হতে হলে এনাটমি, ওরাল সার্জারি ও ওরাল প্যাথোলজি বিষয়ে গভীর জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি একটি ভালো ‘ক্লিনিক্যাল আই’ থাকতে হবে। 

কলেজে সুস্থ শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জুনিয়র ছাত্রছাত্রীদের সিনিয়রদের সম্মান করা উচিত এবং সিনিয়রদেরও জুনিয়রদের স্নেহ ও সহানুভূতির সঙ্গে আগলে রাখতে হবে। এতে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠবে এবং পড়াশোনার পরিবেশ আরও সুন্দর হবে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘পরীক্ষা পে চর্চা’ কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পড়াশোনার সময় নিজেকে চাপমুক্ত রাখা এবং শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি। 

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, আগে রাজ্যের আর্থিকভাবে দুর্বল মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের বাইরে গিয়ে বিডিএস পড়তে হত। বর্তমানে আগরতলা গভর্নমেন্ট ডেন্টাল কলেজে বিডিএস কোর্সে ৬৩টি আসন রয়েছে। রাজ্য সরকার এই প্রতিষ্ঠানকে দেশের অন্যতম সেরা ডেন্টাল কলেজে পরিণত করতে উদ্যোগী। শিক্ষার পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতায় পিএম ডিভাইন প্রকল্পের আওতায় ২০২ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। ভবিষ্যতে রাজ্যকে একটি মেডিক্যাল এডুকেশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেও সরকার কাজ করছে।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে বলেন, আগরতলা গভর্নমেন্ট ডেন্টাল কলেজ ইতিমধ্যেই দন্ত চিকিৎসাবিদ্যার ক্ষেত্রে দেশজুড়ে সুনাম অর্জন করেছে। মুখ্যমন্ত্রীর ঐকান্তিক উদ্যোগে মাত্র ৯ মাসের মধ্যে এই কলেজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়েছে। রাজ্যকে মেডিক্যাল শিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য দপ্তরের অধিকর্তা ডা. দেবাশ্রী দেববর্মা এবং মেডিক্যাল এডুকেশন দপ্তরের অধিকর্তা ডা. হরপ্রসাদ শর্মা। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আগরতলা গভর্নমেন্ট ডেন্টাল কলেজের প্রিন্সিপাল ডা. শালু রায়। ধন্যবাদজ্ঞাপন করেন কলেজের একাডেমিক ইনচার্জ ডা. পূজা দেবনাথ। নবীনবরণ অনুষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীরা মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করে অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলে।

১৪ ফেব্রুয়ারি ত্রিপুরা বার কাউন্সিল নির্বাচন, লড়াই ১১টি পদের জন্য

0

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- ত্রিপুরা বার কাউন্সিলের নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে চলেছে নির্বাচন। এবারের নির্বাচনে মোট ১১টি পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৪ জন প্রার্থী। এর আগেই সংরক্ষিত আসনে তিনজন মহিলা আইনজীবী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় ভোট হবে বাকি পদগুলির জন্য।

বুধবার ত্রিপুরা বার কাউন্সিল কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার বিচারপতি এস সি দাস জানান, সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়ে ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। আগরতলায় ত্রিপুরা হাইকোর্ট চত্বরে মোট ৭টি বুথ বসানো হবে। পাশাপাশি জেলা ও মহকুমা সদর দফতর মিলিয়ে আরও ৮টি ভোটকেন্দ্র খোলা হচ্ছে। যেসব স্থানে ২০ জনের বেশি ভোটার রয়েছেন, সেখানেই ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

ভোটদান পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি জানান, এবারের ভোট হবে প্রেফারেন্সিয়াল বা পছন্দক্রমভিত্তিক। প্রতিটি ব্যালট পেপারে ভোটারদের অন্তত পাঁচটি পছন্দ চিহ্নিত করা বাধ্যতামূলক। নিয়ম অনুযায়ী ভোট না দিলে ব্যালট বাতিল বলে গণ্য হবে।

বিচারপতি দাস আরও জানান, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারে বার কাউন্সিলে ৩০ শতাংশ আসন মহিলা আইনজীবীদের জন্য সংরক্ষিত। মনোনয়ন পর্বে মাত্র তিনজন মহিলা প্রার্থী আবেদন করায় তাঁরা তিনটি সংরক্ষিত আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। বাকি ১১টি পদের জন্য ভোট হবে।

তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে বলেন, প্রত্যেক ভোটারকে মাত্র একটি ব্যালট পেপার দেওয়া হবে। তাই ব্যালট পেপার ভরার সময় যথেষ্ট সতর্ক থাকতে হবে। নির্দেশিকা মেনে ভোট না দিলে ভোট বাতিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নির্বাচন শেষে আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি ভোটগণনা হবে। বার কাউন্সিলের এই নির্বাচনের দিকে নজর রেখেছেন রাজ্যের আইনজীবী মহল।

১০ বছর পর গ্রাম কমিটির নির্বাচন!সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে ‘বড় জয়’ বললেন প্রদ্যোত

0

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (TTAADC)-এর সাধারণ নির্বাচন এবং গ্রাম কমিটি (Village Committee)-র নির্বাচন একসঙ্গে করার নির্দেশ দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়কে ‘বড় জয়’ হিসেবে দেখছে তিপ্রা মথা পার্টি।

দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মা সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে জানান, “সুপ্রিম কোর্ট আজ নির্দেশ দিয়েছে, রাজ্য নির্বাচন কমিশন যেন TTAADC এবং গ্রাম কমিটির নির্বাচন একইসঙ্গে করে। আমাদের জন্য এটা বিরাট জয়। প্রায় এক দশক পরে গ্রাম স্তরে ভোট হতে চলেছে।”

উল্লেখযোগ্যভাবে, TTAADC এলাকার গ্রাম কমিটিগুলির মেয়াদ শেষ হয়েছিল ২০১৬ সালে। এরপর দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে কোনও নির্বাচন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিল তিপ্রা মথা সহ একাধিক সংগঠন। তাদের অভিযোগ ছিল, ভোট না করিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে পিছিয়ে রাখা হয়েছে। প্রথমদিকে কোভিড পরিস্থিতির কারণে ভোট পিছোনোর কথা বলা হলেও, পরবর্তীতে আর কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।

যদিও গ্রাম কমিটি ব্যবস্থাকে অনেকেই সাধারণ এলাকার পঞ্চায়েত ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করেন, বাস্তবে দু’টির কাঠামো এক নয়। TTAADC এলাকায় গ্রাম কমিটি এক স্তরের প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়, যেখানে সাধারণ এলাকায় তিন স্তরের পঞ্চায়েত ব্যবস্থা কার্যকর।

বর্তমানে তিপ্রা মথা পার্টির নেতৃত্বাধীন পরিষদ ২০২১ সালে ক্ষমতায় আসে এবং তাদের পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষের পথে। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে TTAADC-এর সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। সেই সঙ্গেই এবার গ্রাম কমিটির ভোটও অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, TTAADC এলাকায় মোট ৫৮৭টি গ্রাম কমিটি রয়েছে। অন্যদিকে জেলা পরিষদের মোট আসন সংখ্যা ২৮। ভোটগ্রহণ পদ্ধতিতেও রয়েছে পার্থক্য। জেলা পরিষদের নির্বাচন হয় ইভিএম-এর মাধ্যমে, আর গ্রাম কমিটির ভোট নেওয়া হয় পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে।

সব মিলিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে উপজাতি স্বশাসিত পরিষদ এলাকায় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নতুন করে গতি পাবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

ত্রিপুরায় সংগঠন মজবুত করার রণকৌশল নিয়ে আলোচনা, নিতিন নবীনের সঙ্গে রাজীবের বৈঠক

0

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- বুধবার দিল্লিতে ভারতীয় জনতা পার্টির জাতীয় কার্যালয়ে সর্বভারতীয় সভাপতি শ্রী নিতিন নবীনের সঙ্গে সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ করেন ত্রিপুরার সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য। এই গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তৈরি হয়।

সূত্রের খবর, এই বৈঠকে ত্রিপুরা রাজ্যের বর্তমান সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী করা, তৃণমূল স্তরে কর্মীদের সক্রিয় ভূমিকা বৃদ্ধি এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচি ও রণকৌশল নিয়েও ফলপ্রসূ মতবিনিময় হয়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজ্যে সংগঠনকে আরও সুসংহত করতে বিভিন্ন স্তরে সমন্বয় জোরদার করা, কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও জনসংযোগ কর্মসূচিকে আরও গতিশীল করার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগামী দিনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কীভাবে সংগঠনকে আরও কার্যকরভাবে প্রস্তুত করা যায়, সেই বিষয়েও দিকনির্দেশনা উঠে আসে বৈঠকে।

এই সাক্ষাৎ রাজ্য রাজনীতিতে বিজেপির ভবিষ্যৎ রণকৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ডাবল সুপার ওভারের রুদ্ধশ্বাস লড়াই, আফগানিস্তানকে ৪ রানে হারাল দক্ষিণ আফ্রিকা

0
AHMEDABAD, INDIA - FEBRUARY 11: Rahmanullah Gurbaz of Afghanistan bats during the ICC Men's T20 World Cup India & Sri Lanka 2026 match between South Africa and Afghanistan at Narendra Modi Stadium on February 11, 2026 in Ahmedabad, India. (Photo by Surjeet Yadav-ICC/ICC via Getty Images)

জনতার কলম স্পোর্টস ডেস্ক :- নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর অন্যতম রোমাঞ্চকর ম্যাচে আফগানিস্তানকে হারিয়ে সুপার ওভারের নাটকীয় লড়াইয়ে জয় ছিনিয়ে নিল দক্ষিণ আফ্রিকা। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ম্যাচ টাই হওয়ার পর প্রথম সুপার ওভারেও দু’দল সমান রান করলে ফল নির্ধারিত হয় দ্বিতীয় সুপার ওভারে। সেখানে শেষ পর্যন্ত ৪ রানে জয় পায় প্রোটিয়ারা।

দ্বিতীয় সুপার ওভারে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা ডেভিড মিলারের ৪ বলে ঝোড়ো ১৬ রান এবং ট্রিস্টান স্টাবসের ২ বলে ৭ রানের দৌলতে তোলে ২৩ রান। জবাবে আফগানিস্তান শুরুতেই চাপে পড়ে যায়। প্রথম দুই বলে কোনো রান না আসার পাশাপাশি মোহাম্মদ নবির উইকেট হারায় তারা। শেষ চার বলে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২৪ রান। রহমনুল্লাহ গুরবাজ টানা তিনটি ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচে নাটকীয়তা ফেরান। একটি ওয়াইডও আসে। শেষ বলে জয়ের জন্য দরকার ছিল ৫ রান। কিন্তু কেশব মহারাজের বলে বড় শট নিতে গিয়ে গুরবাজ ক্যাচ তুলে দেন। ফলে ৪ রানে ম্যাচ জিতে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা।

এর আগে প্রথম সুপার ওভারে আফগানিস্তান তোলে ১৭ রান। জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকাও ১৭ রান করে, ফলে ম্যাচ গড়ায় দ্বিতীয় সুপার ওভারে।

মূল ম্যাচে ১৮৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আফগানিস্তানের হয়ে দুর্দান্ত লড়াই করেন উইকেটরক্ষক ব্যাটার রহমনুল্লাহ গুরবাজ। ৪২ বলে ৪টি চার ও ৭টি ছক্কার সাহায্যে তিনি করেন ঝোড়ো ৮৪ রান। দ্রুত শতকের পথে এগোতে থাকা গুরবাজকে কেশব মহারাজের বলে জর্জ লিন্ডের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরতে হয়।

তবে গুরবাজ ছাড়া আফগান শীর্ষক্রম একেবারেই ব্যর্থ হয়। ইব্রাহিম জাদরান ১২, গুলবাদিন নাইব ০, সেদিকুল্লাহ আতাল ০, রাসুলি ১৫ এবং মোহাম্মদ নবি ৫ রান করে আউট হন। নিচের দিকে আজমতুল্লাহ ওমরজাই ১৭ বলে ২২ এবং রশিদ খান ১২ বলে ২০ রান করে লড়াইয়ে ফেরান দলকে। দশ নম্বরে নামা নূর আহমদ ৯ বলে ২টি ছক্কার সাহায্যে ১৫ রান করে প্রায় জয়ের মুখে নিয়ে গিয়েছিলেন আফগানিস্তানকে। কিন্তু জয়ের রান নিতে গিয়ে ফজলহক ফারুকি রান আউট হলে ম্যাচ টাই হয়ে যায়। আফগানিস্তান ১৯.৪ ওভারে ১৮৭ রানে অলআউট হয়। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে লুঙ্গি এনগিডি সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট নেন।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা ৬ উইকেটে ১৮৭ রান তোলে। ওপেনার কুইন্টন ডি কক ৪১ বলে ৫টি চার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে ৫৯ রান করেন। অন্য ওপেনার রায়ান রিকেল্টন ২৮ বলে ৫টি চার ও ৪টি ছক্কায় করেন ৬১ রান। দু’জনের মধ্যে দ্বিতীয় উইকেটে ১১৪ রানের জুটি গড়ে ওঠে।

মাঝের ওভারে ডিওয়াল্ড ব্রেভিস ২৩, ডেভিড মিলার ২০ এবং মার্কো ইয়ানসেন ১৬ রান যোগ করেন। আফগানিস্তানের হয়ে আজমতুল্লাহ ওমরজাই ৩টি, রশিদ খান ২টি এবং ফজলহক ফারুকি ১টি উইকেট নেন।