জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও বর্তমান পশ্চিম ত্রিপুরা লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী প্রচারে বিজেপির জয় নিশ্চিত করে আগরতলায় ফিরতেই মঙ্গলবার এমবিবি বিমানবন্দরে তাকে ঘিরে দেখা গেল এক নজিরবিহীন উচ্ছ্বাস।
ঢাক-ঢোলের শব্দ, স্লোগান এবং ফুলের পাপড়িতে ভরে ওঠে গোটা বিমানবন্দর চত্বর। দলীয় কর্মী-সমর্থকরা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে তাকে অভ্যর্থনা জানান। বিশাল মালা ও ফুলের তোড়া দিয়ে তাকে বরণ করা হয়, যা তার প্রতি দলের কৃতজ্ঞতার প্রতীক হিসেবে ধরা পড়ে।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিপ্লব দেব বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস এখন অতীত। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ তাদের রায় দিয়ে দিয়েছেন।” তিনি এই জয়কে উন্নয়নের পক্ষে মানুষের স্পষ্ট সমর্থন হিসেবে ব্যাখ্যা করেন এবং ‘ভয়, তোষণ ও দুর্নীতির রাজনীতি’র বিরুদ্ধে জনমতের প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেন।
তিনি পশ্চিমবঙ্গের “সচেতন ও সম্মানিত নাগরিকদের” অভিনন্দন জানান এবং প্রতিটি বিজেপি কর্মীকে ধন্যবাদ জানান, যারা এই জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এই সাফল্যের কৃতিত্ব তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দূরদর্শী নেতৃত্ব, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কৌশল এবং দলের সর্বভারতীয় সভাপতির সাংগঠনিক দক্ষতাকে দেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাক-নির্বাচনী মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “ওগুলো এখন অতীত। ফলাফলই তার জবাব।”
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা আসনে পুনর্নির্বাচনের নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে তিনি স্বাগত জানিয়ে বলেন, নির্বাচন কমিশন সঠিকভাবে অনিয়মের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
ভবিষ্যৎ দায়িত্ব সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তরে বিপ্লব দেব বলেন, “দলের শীর্ষ নেতৃত্ব আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, আমি নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছি। ভবিষ্যতেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশ মেনেই কাজ করব।”
পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, সেই প্রশ্নে তিনি জানান, “এটি দলের শীর্ষ নেতৃত্বই ঠিক করবে। নির্বাচন সদ্য শেষ হয়েছে, সময়ই সব বলবে।”
আগরতলায় এই জাঁকজমকপূর্ণ সংবর্ধনা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বিপ্লব কুমার দেব এখন শুধু ত্রিপুরার নেতা নন, বরং বিজেপির এক গুরুত্বপূর্ণ কৌশলবিদ হিসেবেও তার অবস্থান আরও দৃঢ় হয়েছে।



