জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- উত্তর ত্রিপুরার রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। বিজেপির যুব নেতা ও ধর্মনগর পুরপরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রাহুল কিশোর রায়ের আকস্মিক মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা জেলায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিজের বাড়ির বাথরুম থেকে রহস্যজনক অবস্থায় উদ্ধার করা হয় রাহুলের নিথর দেহ। তাঁর গলায় দলীয় গেরুয়া স্কার্ফ বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যাওয়ায় ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে—তা নিয়ে জল্পনা তীব্র হয়েছে।
এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা। তিনি এক বার্তায় রাহুলের অকাল প্রয়াণে দুঃখ প্রকাশ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি, রাহুলের স্ত্রীর তোলা অভিযোগগুলি নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা হবে বলেও তিনি স্পষ্ট করেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, তদন্তে যে সত্য সামনে আসবে, তার ভিত্তিতেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে পরিবারের অভিযোগ। রাহুলের স্ত্রী দাবি করেছেন, ধর্মনগর উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার আগের দিন কিছু বিজেপি যুব নেতা তাঁর স্বামীর ওপর দু’বার হামলার চেষ্টা করেছিলেন। অভিযোগ, দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করার সন্দেহেই তাঁকে টার্গেট করা হয়। ঠিক সেই সময় শহরে চলছিল জয়ের উদযাপন, যা এই ঘটনার সঙ্গে যোগসূত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
এদিকে, রাহুলের শেষ যাত্রার ছবি—যেখানে তাঁর গলায় দলীয় স্কার্ফ—সাধারণ মানুষের আবেগকে নাড়া দিয়েছে এবং দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিয়ে বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।
পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তবে ধর্মনগরে এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে উঠছে দলীয় ঐক্য, কর্মীদের নিরাপত্তা ও জবাবদিহিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।



