কর্মসংস্থান ও শিল্পোন্নয়নে জোর, উত্তরপ্রদেশের ২০২৬–২৭ বাজেটে বড় বরাদ্দ

Date:

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- উত্তরপ্রদেশ সরকার ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে পরিকাঠামো, শিল্পোন্নয়ন, এমএসএমই, তথ্যপ্রযুক্তি, সড়ক, সেচ ও গ্রামোন্নয়ন খাতে বড় অঙ্কের আর্থিক বরাদ্দ রেখেছে। বাজেটে মূলত পুঁজি বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিল্প সম্প্রসারণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী সুরেশ খান্না জানিয়েছেন, পরিকাঠামো ও শিল্প উন্নয়নের জন্য ২৭ হাজার ১০৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ১৩ শতাংশ বেশি। মুখ্যমন্ত্রী শিল্পাঞ্চল সম্প্রসারণ ও নতুন শিল্পাঞ্চল প্রণোদনা প্রকল্পে বরাদ্দ হয়েছে ৫ হাজার কোটি টাকা।

এছাড়া অটল ইনফ্রাস্ট্রাকচার মিশনের আওতায় ২ হাজার কোটি টাকা এবং এফডিআই ও ফরচুন-৫০০ সংস্থাগুলিকে উৎসাহ দিতে ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডর প্রকল্পে সম্ভাব্য ৩৫ হাজার ২৮০ কোটি টাকার বিনিয়োগের জন্য ইতিমধ্যেই ২০০টি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার ফলে প্রায় ৫৩ হাজার ২৬৩টি সরাসরি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে দাবি করা হয়েছে।

এমএসএমই খাতে ৩ হাজার ৮২২ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৯ শতাংশ বেশি। ‘সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’ প্রকল্পের জন্য ৫৭৫ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী যুব উদ্যোক্তা বিকাশ অভিযানের জন্য ১ হাজার কোটি টাকা এবং মুখ্যমন্ত্রী যুব স্বনিযুক্তি প্রকল্পে ২২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ‘এক জেলা এক পদ’ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ৭৫ কোটি টাকা।

হস্ততাঁত ও বস্ত্রশিল্প খাতে ৫ হাজার ৪১ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় পাঁচ গুণেরও বেশি। পাওয়ারলুম বুনকরদের জন্য ৪ হাজার ৪২৩ কোটি টাকার ফ্ল্যাট রেট বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং টেক্সটাইল ও গার্মেন্টিং নীতি–২০২২-এর জন্য ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

পিএম মিত্র পার্ক প্রকল্পের আওতায় মেগা টেক্সটাইল পার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে, যার ফলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আইটি ও ইলেকট্রনিক্স খাতে ২ হাজার ৫৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যা ৭৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। উত্তরপ্রদেশ এআই মিশনের জন্য ২২৫ কোটি টাকা এবং সাইবার সিকিউরিটি অপারেশন সেন্টারের জন্য ৯৫ কোটির বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

রাজ্যে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগে ৮টি ডেটা সেন্টার পার্ক গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে ৯০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা তৈরি হবে।

সড়ক ও সেতু নির্মাণে ৩৪ হাজার ৪৬৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। নর্থ-সাউথ করিডর, বাইপাস, রিং রোড, ফ্লাইওভার ও শিল্প-লজিস্টিক করিডর নির্মাণে আলাদা আলাদা খাতে হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

সেচ ও জলসম্পদ দপ্তরের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ১৮ হাজার ২৯০ কোটি টাকা, যা গত বছরের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি। কেন-বেতওয়া লিঙ্কসহ বিভিন্ন বড় প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৪.৪৯ লক্ষ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া ২,১০০টি নতুন সরকারি নলকূপ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ কৃষক এবং প্রায় ৪৯.৯০ লক্ষ মানুষ উপকৃত হবেন বলে রাজ্য সরকার দাবি করেছে।

Share post:

Subscribe

Popular

More like this
Related

দিল্লি হাইকোর্টে মদ নীতি মামলা: ৪ মে শুনানি, কেজরিওয়াল-সিসোদিয়ার অনুপস্থিতি

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- দিল্লির বহুল আলোচিত আবগারি (মদ)...

পাকিস্তানের ফতেহ-২ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারের দাবি

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- পাকিস্তান নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ‘ফতেহ-২’...

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান প্রেসিডেন্ট আউনের, হামলার নিন্দা

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে দুই...

ঝড়-বৃষ্টির প্রভাব মোকাবিলায় তৎপর প্রশাসন, উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার কড়া বার্তা

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিপাত...