Home Blog Page 57

বাজেট ২০২৬-২৭ ঐতিহাসিক, বিকশিত ভারতের পথে মাইলফলক: প্রধানমন্ত্রী

0

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাজেট ২০২৬-২৭-কে ঐতিহাসিক বলে অভিহিত করেছেন। এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বাজেট ২০৪৭ সালের মধ্যে দেশকে ‘বিকশিত ভারত’ হিসেবে গড়ে তোলার যাত্রাপথের শক্ত ভিত রচনা করেছে।

তিনি জানান, এই বাজেট দেশের ১৪০ কোটি ভারতবাসীর আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন এবং সংস্কারের ধারাকে আরও মজবুত করার পাশাপাশি ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্যে একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরি করেছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন,

“চলতি বছরের বাজেট ভারতের সংস্কার যাত্রাকে নতুন গতি ও নতুন উদ্যম দেবে। রিফর্ম এক্সপ্রেসকে আরও দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিয়ে যাবে এই বাজেট।”

প্রধানমন্ত্রীর মতে, এই বাজেট দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন, পরিকাঠামো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বাজেটের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি তৈরি হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

নতুন আয়কর আইন ২০২৬ থেকে কার্যকর, সহজ হচ্ছে রিটার্ন ফাইলিং প্রক্রিয়া

0

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- লোকসভায় আজ কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, ইনকাম ট্যাক্স অ্যাক্ট, ২০২৫ আগামী ১ এপ্রিল, ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। নতুন আইনের অধীনে সরলীকৃত আয়কর বিধি ও ফর্ম খুব শীঘ্রই বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করা হবে, যাতে করদাতারা পর্যাপ্ত সময় পান নিয়ম-কানুন বুঝে নেওয়ার জন্য।

অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন করে ডিজাইন করা আয়কর রিটার্ন ফর্ম এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে সাধারণ নাগরিকরাও সহজেই কর রিটার্ন দাখিল করতে পারেন।

এছাড়াও কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়ানোর ঘোষণা করা হয়েছে।

আইটিআর-১ ও আইটিআর-২ দাখিলের শেষ তারিখ আগের মতোই ৩১ জুলাই পর্যন্ত থাকবে।

নন-অডিট ব্যবসায়িক করদাতা ও ট্রাস্টগুলির জন্য রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমা প্রস্তাবিতভাবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী সংসদকে জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে দেশের আর্থিক ঘাটতি (Fiscal Deficit) জিডিপির ৪.৩ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা চলতি অর্থবর্ষে ছিল ৪.৪ শতাংশ।

বাজেটে আরও জানানো হয়েছে, লভ্যাংশ আয় বা মিউচুয়াল ফান্ড থেকে প্রাপ্ত আয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত সুদের খরচের উপর আর কোনও ছাড় পাওয়া যাবে না। এই সংক্রান্ত বিদ্যমান করছাড়ের বিধান বাতিল করা হবে, তবে একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে এই পরিবর্তন কার্যকর হবে।

 

৪-১! নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে সিরিজ জিতল ভারত

0

জনতার কলম স্পোর্টস ডেস্ক :- পুরুষদের ক্রিকেটে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় করল ভারত। গতকাল রাতে কেরালার তিরুবনন্তপুরমে অবস্থিত গ্রিনফিল্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত পঞ্চম ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৪৬ রানে ব্ল্যাক ক্যাপসদের পরাজিত করে মেন ইন ব্লু।

টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। নির্ধারিত ২০ ওভারে ভারত তোলে ৫ উইকেটে ২৭১ রান। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ইশান কিষান ১০৩ রান করে সর্বোচ্চ স্কোরার হন। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব করেন ঝকঝকে ৬৩ রান।

বিশাল লক্ষ্যের জবাবে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপ চাপে পড়ে যায়। দলটি শেষ পর্যন্ত ২২৫ রানে অলআউট হয়ে যায়। ওপেনার ফিন অ্যালেন ৩৮ বলে ৮০ রানের ঝড়ো ইনিংস খেললেও তা দলকে জয়ের পথে নিয়ে যেতে পারেনি।

ভারতের হয়ে বোলিংয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন আর্শদীপ সিং, তিনি একাই নেন ৫টি উইকেট। এছাড়াও অক্ষর প্যাটেল দখল করেন ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট।

ম্যাচ শেষে ইশান কিষান ‘প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’ নির্বাচিত হন। ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্সের জন্য ভারতীয় অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব ‘প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ’ পুরস্কারে ভূষিত হন।

এই সিরিজ জয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ভারতের আধিপত্য আরও একবার প্রমাণিত হলো বলে মত ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের।

বাজেটে বড় ঘোষণা: SME, রেল, স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় জোর

0

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :-লোকসভায় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন আজ ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করেন। এটি তাঁর টানা নবম বাজেট। বাজেটকে তিনি ‘যুবশক্তি নির্ভর’ (Yuva Shakti-driven Budget) হিসেবে অভিহিত করেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, দারিদ্র্য হ্রাস এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে দেশে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

তিনি জানান, চলতি বছরের বাজেট তিনটি ‘কর্তব্য’-এর অনুপ্রেরণায় গঠিত—

১. অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা

২. মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা

৩. প্রতিটি পরিবার, সমাজ, অঞ্চল ও ক্ষেত্রকে সুযোগ-সুবিধা ও সম্পদের আওতায় আনা

এই বাজেট ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

* বাজেট ২০২৬-২৭-এর প্রধান দিকসমূহ (Budget Highlights)

▶ শিল্প, MSME ও উৎপাদন খাত

১০,০০০ কোটি টাকার SME গ্রোথ ফান্ড ঘোষণা, ভবিষ্যতের ‘চ্যাম্পিয়ন SME’ তৈরির লক্ষ্য।

SME ঋণদাতাদের জন্য Infrastructure Risk Guarantee Fund গঠন।

ইলেকট্রনিক্স কম্পোনেন্ট ম্যানুফ্যাকচারিং স্কিমের বরাদ্দ ৪০,০০০ কোটি টাকা করা হয়েছে।

খনি, প্রক্রিয়াকরণ ও গবেষণায় গতি আনতে ৩টি কেমিক্যাল পার্ক স্থাপন।

কনটেইনার ম্যানুফ্যাকচারিং স্কিমে ১০,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ (৫ বছরে)।

▶ বস্ত্র ও গ্রামীণ শিল্প

খাদি, হ্যান্ডলুম ও হস্তশিল্পের উন্নয়নে ‘মহাত্মা গান্ধী গ্রাম স্বরাজ উদ্যোগ’।

টেক্সটাইল সেক্টরে ন্যাশনাল ফাইবার স্কিম ও ন্যাশনাল হ্যান্ডলুম-হ্যান্ডিক্রাফট প্রোগ্রাম মিলিয়ে মেগা টেক্সটাইল পার্ক স্থাপনের প্রস্তাব।

▶ পরিকাঠামো ও পরিবহণ

পাবলিক ক্যাপেক্স বাড়িয়ে ১২.২ লক্ষ কোটি টাকা।

নতুন ডেডিকেটেড ফ্রেইট করিডোর: দানকুনি (পূর্ব) থেকে সুরাট।

আগামী ৫ বছরে ২০টি নতুন জাতীয় জলপথ চালু; শুরু হবে ওডিশার NW-5 থেকে।

বারাণসী ও পাটনায় শিপ রিপেয়ার ইকোসিস্টেম গঠন।

উপকূলীয় পণ্য পরিবহণে উৎসাহ দিতে Coastal Cargo Promotion Scheme।

৭টি হাই-স্পিড রেল করিডোর উন্নয়নের প্রস্তাব (মুম্বই-পুনে, পুনে-হায়দরাবাদ, হায়দরাবাদ-বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ-চেন্নাই, চেন্নাই-বেঙ্গালুরু, দিল্লি-বারাণসী, বারাণসী-শিলিগুড়ি)।

▶ স্বাস্থ্য ও ফার্মা

বায়োফার্মা শক্তি প্রকল্পে ২০,০০০ কোটি টাকা (৫ বছরে)।

৩টি নতুন NIPER ও ৭টি বিদ্যমান প্রতিষ্ঠান আপগ্রেড।

ক্যান্সারের ১৭টি ওষুধে কাস্টমস ডিউটি ছাড়।

৫টি আঞ্চলিক মেডিক্যাল হাব গঠন করে মেডিক্যাল ট্যুরিজমে জোর।

৩টি নতুন অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব আয়ুর্বেদ।

নিমহান্স-২ স্থাপন ও রাঁচি-তেজপুরে মানসিক স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান উন্নীতকরণ।

জেলা হাসপাতালে ৫০% জরুরি পরিষেবা ক্ষমতা বৃদ্ধি।

▶ শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও ক্রীড়া

পরিষেবা খাতকে এগিয়ে নিতে Education to Employment & Enterprise কমিটি গঠন।

১৫ হাজার স্কুল ও ৫০০ কলেজে AVGC কনটেন্ট ক্রিয়েটর ল্যাব স্থাপন।

শিল্প করিডরের কাছে ৫টি ইউনিভার্সিটি টাউনশিপ।

ঐতিহ্য সংরক্ষণে ন্যাশনাল ডেস্টিনেশন ডিজিটাল নলেজ গ্রিড।

ক্রীড়া ক্ষেত্রে রূপান্তরের লক্ষ্যে ‘খেলো ইন্ডিয়া মিশন’।

উত্তর-পূর্ব ভারতে বৌদ্ধ সার্কিট উন্নয়ন প্রকল্প (অরুণাচল, সিকিম, আসাম, মণিপুর, মিজোরাম ও ত্রিপুরা)।

▶ কর ও আর্থিক সিদ্ধান্ত

২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে রাজস্ব ঘাটতি ৪.৩% নির্ধারণ।

আয়করে বড় পরিবর্তন নেই; রিভাইজড রিটার্ন জমার সময় বাড়ানো হয়েছে ৩১ মার্চ পর্যন্ত।

শিক্ষা ও চিকিৎসার জন্য LRS-এর আওতায় TCS হার ৫% থেকে কমিয়ে ২%।

ফিউচার্সে STT ০.০২% থেকে বাড়িয়ে ০.০৫%।

মোটর দুর্ঘটনা ক্ষতিপূরণের সুদের উপর আয়কর ছাড়।

ক্লাউড পরিষেবা প্রদানকারী বিদেশি সংস্থাকে ২০৪৭ পর্যন্ত কর ছুটি।

▶ রপ্তানি ও বাণিজ্য

সামুদ্রিক খাদ্য প্রক্রিয়াকরণের কাঁচামালে ডিউটি ফ্রি আমদানি সীমা বৃদ্ধি।

জুতো শিল্পে ডিউটি ফ্রি ইনপুট সুবিধা সম্প্রসারণ।

সৌর কাঁচ তৈরিতে ব্যবহৃত সোডিয়াম অ্যান্টিমোনেটে শুল্ক ছাড়।

মাছ ধরাকে শুল্কমুক্ত করা এবং বিদেশি বন্দরে নামালে রপ্তানি হিসেবে গণ্য।

এই বাজেটের মাধ্যমে সরকার যুবশক্তি, শিল্পোন্নয়ন, পরিকাঠামো, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের উপর বিশেষ জোর দিয়েছে, যা ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গঠনের পথে দেশকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে মত বিশেষজ্ঞ মহলের।

নেশা মুক্ত ত্রিপুরা গড়ার বার্তায় ফুটবল জোয়ারে ভাসল বিলোনিয়া

0

জনতার কলম স্পোর্টস ডেস্ক :- নেশা মুক্ত ত্রিপুরা গড়ার লক্ষ্যে দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত দুই মাসব্যাপী ‘নেশা মুক্ত ফুটবল টুর্নামেন্ট ৩.০’-এর ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হলো বিলোনিয়া বিদ্যাপীঠ প্লে-গ্রাউন্ডে। দিবারাত্রি এই উত্তেজনাপূর্ণ ফাইনাল ম্যাচকে কেন্দ্র করে কানায় কানায় পূর্ণ ছিল গ্যালারি, ফুটবলপ্রেমীদের ঢল নামে গোটা মাঠজুড়ে।

ফাইনাল ম্যাচে মুখোমুখি হয় দুই শক্তিশালী দল—সাত চাঁদ সার্ক বনাম ঋষ্যমুখ প্লে ইলেভেন। নির্ধারিত সময়ে উভয় দলই গোলশূন্য থাকায় ম্যাচ গড়ায় পেনাল্টি শুটআউটে। টানটান উত্তেজনার পেনাল্টি লড়াইয়ে ৪-২ গোলে ঋষ্যমুখ প্লে ইলেভেনকে পরাজিত করে সাত চাঁদ সার্ক চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

এই ফাইনাল ম্যাচে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা রাজ্যের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা) মানিক সাহা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা রাজ্য উপজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া, বিধায়ক দীপঙ্কর সেন, অশোক মিত্র, স্বপ্না মজুমদার, মাইলাফ্রু মগ, দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলা সভাধিপতি দীপক দত্ত সহ অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ।

খেলা শুরুর আগে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা বলেন,

“এই ধরনের ক্রীড়া আয়োজন যুবসমাজকে নেশামুক্ত জীবনযাপনে উৎসাহিত করবে। খেলাধুলার মাধ্যমে যুবকদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটবে এবং তারা সুস্থ, সবল জীবন গড়তে আরও এক ধাপ এগিয়ে আসবে।”

খেলা শেষে বিজয়ী দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিবৃন্দ। চ্যাম্পিয়ন দল সাত চাঁদ সার্ক নগদ ১ লক্ষ টাকা ও ট্রফি অর্জন করে। দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও উৎসাহ পুরো ম্যাচের উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

এই নেশা মুক্ত ফুটবল টুর্নামেন্ট যুবসমাজের মধ্যে ক্রীড়াচর্চার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে মত প্রকাশ করেন আয়োজকেরা।

লোকসভায় ১৬তম অর্থ কমিশনের রিপোর্ট পেশ করলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন io

0

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন আজ লোকসভায় ২০২৬-২০৩১ সময়কালের জন্য কেন্দ্র ও রাজ্যগুলির মধ্যে কর রাজস্ব বণ্টন সংক্রান্ত ১৬তম অর্থ কমিশনের রিপোর্ট পেশ করেন। ভারতীয় সংবিধানের ২৮০ অনুচ্ছেদের অধীনে গঠিত এই অর্থ কমিশন কেন্দ্র ও রাজ্যের আর্থিক সম্পর্ক নিয়ে সুপারিশ প্রদান করে থাকে।

অর্থ কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী কেন্দ্রের আদায় করা সেস ও সারচার্জ ‘ডিভিজিবল পুল’-এর অন্তর্ভুক্ত নয়, অর্থাৎ এই অংশ রাজ্যগুলির সঙ্গে ভাগ করা হয় না। নির্দিষ্ট সময় অন্তর গঠিত এই সাংবিধানিক সংস্থা কেন্দ্র-রাজ্য আর্থিক বণ্টনের কাঠামো নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বাজেট পেশের পর অর্থমন্ত্রী লোকসভায় ফিনান্স বিল ২০২৬ উত্থাপন করেন। পাশাপাশি তিনি আর্থিক দায়বদ্ধতা ও বাজেট ব্যবস্থাপনা আইন (FRBM), ২০০৩-এর অধীনে প্রয়োজনীয় বিবৃতিগুলিও সংসদে পেশ করেন। এর মধ্যে রয়েছে—

মিডিয়াম-টার্ম ফিসকাল পলিসি কাম ফিসকাল পলিসি স্ট্র্যাটেজি স্টেটমেন্ট এবং ম্যাক্রো-ইকোনমিক ফ্রেমওয়ার্ক স্টেটমেন্ট।

পরবর্তীতে সংসদের অধিবেশন আগামীকাল সকাল ১১টা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করা হয়।

শিক্ষাঙ্গনে অশালীন ভাষার অভিযোগ, হলি ক্রস স্কুল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

0

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- আগরতলার দুর্গয়নগর এলাকার হলি ক্রস স্কুলকে ঘিরে এবার উঠল একাধিক অভিযোগ। এক ছাত্রী’র মা অভিযোগ করেছেন, স্কুল চত্বরে কিছু শিক্ষার্থীর মুখে অশালীন ভাষার ব্যবহার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অথচ এই বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তেমন কোনো নজরদারি বা কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না বলে তাঁর দাবি।

অভিভাবকের বক্তব্য, স্কুল একটি শিক্ষাঙ্গন—যেখানে শিশুরা শিখবে শিষ্টাচার, নৈতিকতা ও সামাজিক মূল্যবোধ। কিন্তু অশালীন ভাষার প্রভাব পড়ছে অন্যান্য শিশুদের উপরও, যা তাদের মানসিক ও আচরণগত বিকাশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, স্কুলে ভর্তি নেওয়ার সময় শিক্ষার্থীর পারিবারিক পরিবেশ ও শিক্ষাগত মূল্যবোধের বিষয়টিও কিছুটা যাচাই করা উচিত। পাশাপাশি স্কুল কর্তৃপক্ষের উচিত শিশুদের ভাষা ও আচরণের উপর নিয়মিত নজরদারি রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

এই ঘটনায় অভিভাবক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। অনেকেই মনে করছেন, শুধু পড়াশোনা নয়—শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা ও নৈতিক শিক্ষার দিকেও স্কুল কর্তৃপক্ষের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন।

এই বিষয়ে এখনো পর্যন্ত হলি ক্রস স্কুল কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে অভিভাবকরা দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও স্কুল কর্তৃপক্ষের সক্রিয় হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

‘পিএম শ্রী’ প্রকল্পে সেকেরকোট এইচএস স্কুলে আধুনিক তিনতলা ভবনের ভূমিপূজন

0

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- আজ ‘পিএম শ্রী’ প্রকল্পের আওতায় প্রায় সাড়ে আট কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হতে চলা সেকেরকোট উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আধুনিক তিনতলা ভবনের ভূমিপূজন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ সভাপতি তথা রাজ্যসভা সাংসদ শ্রী রাজীব ভট্টাচার্য মহোদয়। এই উপলক্ষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য বলেন, নতুন ভবন নির্মাণের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন হবে এবং শিক্ষার্থীরা আরও আধুনিক ও উন্নত পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ পাবে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ‘পিএম শ্রী’ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশজুড়ে শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং তার সুফল রাজ্যবাসী পাচ্ছেন।

একই দিনে বিদ্যালয়ের ৭৮তম প্রতিষ্ঠা দিবস (ফাউন্ডেশন ডে) উপলক্ষে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত সকলের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় করেন সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য। বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের শিক্ষাগত ঐতিহ্য ও অবদানের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এই প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতেও দক্ষ, যোগ্য ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিধায়িকা শ্রীমতি অন্তরা সরকার দেবী মহোদয় সহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধি, শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিক, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়।

বিহারের পর এবার বাংলা টার্গেট, ত্রিপুরার অভিজ্ঞ নেতাদের মাঠে নামাল বিজেপি

0

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় সংগঠন আরও শক্তিশালী করতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের শক্ত ঘাঁটি ত্রিপুরার অভিজ্ঞ নেতৃত্বকে মাঠে নামাল বিজেপি। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তে প্রায় ২০ জন সিনিয়র নেতা ত্রিপুরা থেকে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী প্রচারে যুক্ত হলেন।

শনিবার কলকাতায় অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে নেতাদের দায়িত্ব বণ্টন চূড়ান্ত করা হয়। দলীয় সূত্রে খবর, প্রত্যেক নেতাকে নির্দিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্রের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে বুথ স্তর পর্যন্ত সংগঠন মজবুত করা যায়। কয়েকজন নেতাকে একাধিক কেন্দ্রের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে। বিহারে সাম্প্রতিক নির্বাচনী সাফল্যের পর পশ্চিমবঙ্গে সংগঠন বিস্তারে বিজেপির তৎপরতা আরও বাড়ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরার বিদ্যুৎমন্ত্রী রতন লাল নাথ, পঞ্চায়েতমন্ত্রী কিশোর বর্মন, বিধায়ক ভগবান দাস, সুশান্ত দেব, শম্ভু লাল চাকমা, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক, রাজ্য সাধারণ সম্পাদক অমিত রক্ষিত ও পাপিয়া দত্ত প্রমুখ। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিমা ভৌমিক, অভিষেক দেব রায়, নবদল বণিক, সুশান্ত দেব ও ভগবান দাস—এই পাঁচ নেতাকে সাতটি করে বিধানসভা কেন্দ্রের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদের এক-একটি কেন্দ্রের তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব স্পষ্ট করে দিয়েছে, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গই দলের প্রধান রাজনৈতিক লক্ষ্যস্থল। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব ও বিপ্লব কুমার দেব ইতিমধ্যেই রাজ্যে প্রচারে সক্রিয় রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীরও রাজ্য সফর শুরু হয়েছে। প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি জে.পি. নাড্ডা দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নেতাদের বাংলায় বেশি করে সময় দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ত্রিপুরার নেতাদের বাংলায় পাঠানো শুধু প্রতীকী পদক্ষেপ নয়। পাশ্ববর্তী রাজ্যের অভিজ্ঞ ক্যাডারদের কাজে লাগিয়ে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল স্তরে সংগঠন আরও মজবুত করাই বিজেপির মূল কৌশল। সংশ্লিষ্ট নেতারা আগামী দিনে নিজেদের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রগুলিতে নিয়মিত সফর করবেন, জনসংযোগ কর্মসূচি নেবেন এবং কর্মীদের উজ্জীবিত করার কাজ করবেন বলে দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে।

এডিসি নির্বাচনে ২৮ আসনেই লড়াইয়ের ঘোষণা জিএমপির

0

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- আসন্ন স্বশাসিত জেলা পরিষদ (এডিসি) নির্বাচনে রাজ্যের ২৮টি আসনেই লড়াইয়ে নামার সিদ্ধান্ত নিল ত্রিপুরা রাজ্য উপজাতি গণমুক্তি পরিষদ (জিএমপি)। ২৯ ও ৩০ জানুয়ারি আগরতলার টাউন হল সংলগ্ন রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনের সামনে আয়োজিত সংগঠনের ২৩তম কেন্দ্রীয় কমিটির সম্মেলনে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নবনির্বাচিত সভাপতি নরেশ জমাতিয়া, সাধারণ সম্পাদক রাধাচরণ দেববর্মা ও বর্ষীয়ান নেতা প্রণব দেববর্মা জানান, সংগঠনের সম্মেলনে বিপুল সংখ্যক প্রতিনিধির উপস্থিতি আন্দোলনের প্রতি নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। এই সম্মেলনে অল ইন্ডিয়া ফোরাম ফর ট্রাইবাল রাইটস-এর জাতীয় নেতৃত্ব জিতেন চৌধুরী, বৃন্দা কারাত ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারও উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনে ২৫ সদস্যের নতুন ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করা হয়, যার মধ্যে ৬ জন নতুন মুখ রয়েছেন। পাশাপাশি ১৩৭ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটিও পুনর্গঠন করা হয়। সাধারণ সম্পাদক রাধাচরণ দেববর্মা বলেন, এডিসি নির্বাচনে বিজেপির ‘২৮টি আসন জয়ের’ দাবিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে “ইঞ্চি ইঞ্চি করে লড়াইয়ে” নামবে জিএমপি।

সম্মেলনের বক্তারা বিজেপি-আইপিএফটি জোটের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তোলেন। তাঁদের দাবি, বর্তমান শাসনকালে এডিসি দুর্নীতি ও অপশাসনের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। চাকরির সুযোগ কমে গেছে, সম্পদ লুট হচ্ছে এবং বাম আমলে গড়ে তোলা বহু সম্পত্তি ইজারা বা বন্ধক রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহার বিরুদ্ধেও খুমুলুঙে নিয়মিত পর্যালোচনা বৈঠক না করার অভিযোগ তোলা হয়।

সম্মেলনে ১০ দফা দাবি সনদ গৃহীত হয়েছে। আগামী দিনে দাবিগুলি আদায়ে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে বলে নেতৃত্বের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

রাধাচরণ দেববর্মা আরও অভিযোগ করেন, বিজেপি ও আরএসএস উপজাতি সমাজের উপর নিজেদের আদর্শ চাপিয়ে দিতে চাইছে। পাশাপাশি কোকবরক ভাষার রোমান লিপির দাবিকেও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হয়।

সভাপতির ভাষণে নরেশ জমাতিয়া বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারকে “নতুন ফ্যাসিবাদী শাসন” বলে আক্রমণ করেন। একই সঙ্গে তিনি বিজেপির পাশাপাশি টিপরা মথাকেও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে চিহ্নিত করে বলেন, “প্রধান শত্রু বিজেপি হলেও মথাও বিরোধী শক্তি হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। তারা চরমপন্থী শক্তিকে মদত দিচ্ছে।” তাঁর মতে, আগামী লড়াই শুধু রাজনৈতিক নয়, আদর্শিক লড়াইও।