Home Blog Page 53

ভারতের টেক্সটাইল শিল্পে সুবর্ণ সুযোগ, খুলল ১১৮ বিলিয়ন ডলারের বাজার

0

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- ভারত-আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তির ফলে বিশ্বব্যাপী ১১৮ বিলিয়ন ডলারের টেক্সটাইল, অ্যাপারেল ও ‘মেড-আপস’ আমদানি বাজার ভারতের জন্য খুলে গেল বলে জানিয়েছে কেন্দ্র সরকার। সরকারের মতে, এই চুক্তির মাধ্যমে ভারতের টেক্সটাইল রপ্তানিতে বড়সড় গতি আসবে।

বস্ত্র মন্ত্রক এই বাণিজ্য চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, ভারত ও আমেরিকার মধ্যে টেক্সটাইল বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও মজবুত করার ক্ষেত্রে এটি একটি বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে। মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকা বর্তমানে ভারতের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য। বছরে প্রায় ১০.৫ বিলিয়ন ডলারের টেক্সটাইল পণ্য রপ্তানি হয় আমেরিকায়, যার মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ অ্যাপারেল এবং ১৫ শতাংশ ‘মেড-আপস’ পণ্য।

বস্ত্র মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, টেক্সটাইল পণ্যের উপর পারস্পরিক ১৮ শতাংশ শুল্ক আরোপের ফলে ভারতের অবস্থান প্রতিযোগী দেশগুলির তুলনায় আরও মজবুত হবে। এই চুক্তির মাধ্যমে ভারতীয় টেক্সটাইল শিল্প আন্তর্জাতিক বাজারে খরচের দিক থেকে আরও প্রতিযোগিতামূলক হতে পারবে। পাশাপাশি, আমেরিকা থেকে টেক্সটাইল শিল্পের জন্য মধ্যবর্তী কাঁচামাল সংগ্রহের সুযোগ বাড়বে, যার ফলে ঝুঁকি কমিয়ে উৎপাদনে বৈচিত্র্য আনা সম্ভব হবে।

এই চুক্তির ফলে দেশে মূল্য সংযোজিত (ভ্যালু অ্যাডেড) টেক্সটাইল পণ্যের উৎপাদন বাড়বে এবং রপ্তানির ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলবে। বস্ত্র মন্ত্রকের মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

জম্মু-কাশ্মীরের উন্নয়ন প্রকল্পে গতি আনতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, নির্দেশ অমিত শাহের

0

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- জম্মু-কাশ্মীরে চলমান উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির অগ্রগতি পর্যালোচনায় শুক্রবার উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বৈঠকে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন, গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং সময়মতো কাজ শেষ করার ওপর বিশেষ জোর দেন তিনি। আকাশবাণী জম্মুর সংবাদদাতা সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পভিত্তিক অগ্রগতি খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের দ্রুত কাজ সম্পন্নের নির্দেশ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জম্মু-কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা, মুখ্যমন্ত্রী উমর আবদুল্লা, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন, মুখ্যসচিব আতল দুল্লু এবং ডিজিপি নলিন প্রভাত-সহ একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক।

বৈঠকে অমিত শাহ বলেন, গত এক দশকে জম্মু-কাশ্মীরে বিনিয়োগ, শিল্প, ক্রীড়া ও পরিকাঠামো ক্ষেত্রে যে নজিরবিহীন অগ্রগতি হয়েছে, তাকে আরও ত্বরান্বিত করাই কেন্দ্রের অগ্রাধিকার। তাঁর কথায়, জম্মু-কাশ্মীরকে আরও উন্নত ও স্বনির্ভর করে তুলতে উন্নয়নের গতি অব্যাহত রাখা জরুরি।

দুই দিনের সফরে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে জম্মু পৌঁছান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। শুক্রবার সকালে তিনি কথুয়া জেলার হীরানগর সেক্টরের আন্তর্জাতিক সীমান্ত বরাবর গুরনাম ও ববিয়ান এলাকায় বিএসএফের অগ্রবর্তী পোস্ট পরিদর্শন করেন। সীমান্তরক্ষীদের সঙ্গে কথা বলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেন তিনি।

কথুয়া থেকে ফেরার পর জম্মু-কাশ্মীরকে সন্ত্রাসমুক্ত করার লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠকেও সভাপতিত্ব করেন অমিত শাহ। ওই বৈঠকে সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী-সহ নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষ কর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শহিদ হওয়া একাধিক পুলিশকর্মীর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং তাঁদের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেন। শুক্রবার বিজেপির একটি প্রতিনিধিদলও তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে।

সব কর্মসূচি শেষে অমিত শাহ পরে ছত্তীসগঢ়ের রায়পুরের উদ্দেশে রওনা দেন।

মালয়েশিয়ায় UPI চালুর ঘোষণা, ভারত-মালয়েশিয়া বন্ধুত্বে ডিজিটাল ছোঁয়া

0

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- কুয়ালালামপুরে আয়োজিত ‘Selamat Datang Modi Ji’ শীর্ষক প্রবাসী সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভারত-মালয়েশিয়া সম্পর্কের নতুন দিশা তুলে ধরলেন। তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের মূল শব্দ এখন ‘IMPACT’—যার পূর্ণরূপ India-Malaysia Partnership for Advancing Collective Transformation।

দু’দিনের সরকারি সফরে মালয়েশিয়া সফরে এসে প্রথম দিনের কর্মসূচিতেই প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে আবেগঘন মুহূর্ত ভাগ করে নেন প্রধানমন্ত্রী। প্রায় ১৫ হাজার ভারতীয় প্রবাসীর উপস্থিতিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমও উপস্থিত ছিলেন। দুই রাষ্ট্রনেতার এক মঞ্চে বক্তব্য দেওয়াকে দুই দেশের পারস্পরিক বিশ্বাস ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রবাসী ভারতীয়দের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ভারত ও মালয়েশিয়ার মধ্যে সংযোগের এক ‘জীবন্ত সেতু’ হলেন প্রবাসীরা। প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের কথা স্মরণ করে তিনি জানান, গত বছর আসিয়ান সম্মেলনে অংশ নিতে না পারলেও প্রতিশ্রুতি রেখেই তিনি এবার মালয়েশিয়ায় এসেছেন।

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ ভারত বিশ্বমঞ্চে উন্নয়নের বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে পরিচিত। ব্রিটেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ওমান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আমেরিকার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য চুক্তির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘Trust এখন ভারতের সবচেয়ে বড় শক্তি।’

ভারত-মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমানে মালয়েশিয়ায় শতাধিক ভারতীয় আইটি সংস্থা কাজ করছে, যার ফলে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। পাশাপাশি খুব শীঘ্রই মালয়েশিয়ায় ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম UPI চালু হওয়ার ঘোষণা দেন তিনি, যা দুই দেশের ফিনটেক সহযোগিতাকে আরও জোরদার করবে।

দেশের অভ্যন্তরীণ উন্নয়নের কথা তুলে ধরে মোদি বলেন, ভারত বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল ফোন উৎপাদক দেশে পরিণত হয়েছে। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানিতেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে এবং বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ফিনটেক ইকোসিস্টেম গড়ে উঠেছে ভারতে।

প্রবাসীদের জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। ওভারসিজ সিটিজেন অফ ইন্ডিয়া (OCI) কার্ড সুবিধা ষষ্ঠ প্রজন্ম পর্যন্ত বাড়ানো হবে বলে জানান তিনি। এছাড়াও ভারতে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের জন্য ‘তিরুভাল্লুভর স্কলারশিপ’ চালুর ঘোষণা এবং মালয়েশিয়ায় নতুন ভারতীয় কনস্যুলেট খোলার পরিকল্পনার কথাও জানান।

সফরের প্রথম দিন শেষ হয় ইতিবাচক বার্তায়। দ্বিতীয় দিনে প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠক ও দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এই বৈঠকে কম্প্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ পর্যালোচনার পাশাপাশি একাধিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে জানা গেছে।

‘পরীক্ষা পে চর্চা’-য় ছাত্রছাত্রীদের পাশে রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নান্নু

0

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নান্নু আজ সকালে বেরিমুড়া দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিভাবকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘পরীক্ষা পে চর্চা’ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী মোদির বক্তব্য সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে দেখেন সকলে।

অনুষ্ঠান শেষে রাজ্যপাল বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে আলাপচারিতায় অংশ নেন এবং পরীক্ষা নিয়ে তাঁদের অভিজ্ঞতা ও মতামত জানতে চান। এই প্রসঙ্গে রাজ্যপাল বলেন, ছাত্রছাত্রীদের সঠিকভাবে বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে অভিভাবক এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান, সন্তানদের শুধু ভালো ফলাফল করতেই নয়, সমাজের কল্যাণমূলক কাজে যুক্ত থাকতে উৎসাহিত করতে।

রাজ্যপাল আরও বলেন, পরীক্ষাকে ভয় নয়, বরং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মোকাবিলা করতে শিখলেই জীবনের বড় চ্যালেঞ্জগুলিও সহজ হয়ে যায়। ছাত্রছাত্রীদের ইতিবাচক মানসিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি নিয়মিত অধ্যয়ন ও শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপনের উপর জোর দেন তিনি।

এই অনুষ্ঠানে ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক শিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তা রাজীব দত্ত সহ দপ্তরের অন্যান্য উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।

‘পরীক্ষা পে চর্চা’ অনুষ্ঠান শেষে রাজ্যপাল বেরিমুড়া দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরি, লাইব্রেরি, ক্লাসরুম সহ বিভিন্ন পরিকাঠামো ঘুরে দেখেন এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।লোক ভবন সূত্রে এই সংবাদ জানানো হয়েছে।

‘বিকশিত ভারত’ গড়বে আজকের ছাত্রসমাজ: ‘পরীক্ষা পে চর্চা’-য় মোদি-মানিক সাহার বার্তা

0

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- পরীক্ষা মানেই আতঙ্ক নয়, বরং সেই ভয় কাটিয়ে নিজের লক্ষ্যে পৌঁছানোর একটি মাধ্যম— এমনই বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার নয়াদিল্লির লোক কল্যাণ মার্গে আয়োজিত ‘পরীক্ষা পে চর্চা’-র নবম সংস্করণে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে একান্ত কথোপকথনে প্রধানমন্ত্রী এই বার্তা তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার নম্বর নিয়ে অহেতুক দুশ্চিন্তা বা তথাকথিত ‘মার্কস ব্যাধি’ থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, সমাজে অনেক সময় শিক্ষার প্রকৃত প্রভাবের চেয়ে নম্বরকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। অথচ নম্বর ও দক্ষতার মধ্যে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত অধ্যয়ন, সময় ব্যবস্থাপনা, নিয়মানুবর্তিতা ও স্বাস্থ্যচর্চার উপর গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী ২৫ বছর ভারতের ভবিষ্যৎ গঠনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশ যখন স্বাধীনতার শতবর্ষে পৌঁছাবে, তখন আজকের তরুণ প্রজন্মই হবে ‘বিকশিত ভারত’-এর প্রধান কারিগর। তাই এখন থেকেই বড় স্বপ্ন দেখার এবং দেশের উন্নয়নে নিজেকে প্রস্তুত করার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি বিদেশি পণ্যের প্রতি মোহ ত্যাগ করে দেশীয় সম্পদ ও সংস্কৃতির উপর আস্থা রাখার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।

ছাত্রছাত্রীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সত্যের শক্তিই সবচেয়ে বড় সাহস। জ্ঞানের উপর বিশ্বাস রাখলে যেকোনও কঠিন বিষয়ও সহজ হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, শিক্ষকের শেখানোর গতির চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে থাকার চেষ্টা করলে পড়াশোনায় আরও সুবিধা হয়। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, পরীক্ষা জীবনের একটি অংশ মাত্র— এটিই জীবনের শেষ কথা নয়।

অনুষ্ঠান শেষে ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের হাতে তৈরি বিভিন্ন উপহার প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। ত্রিপুরার এক ছাত্র মাতা ত্রিপুরাসুন্দরীর ছবি প্রধানমন্ত্রীকে উপহার হিসেবে প্রদান করে।

এদিকে, আগরতলার বড়দোয়ালী উচ্চতর-মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভার্চুয়াল মাধ্যমে ‘পরীক্ষা পে চর্চা’-র নবম সংস্করণের অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা দপ্তরের সচিব মিলিন্দ রামটেকে, উচ্চপদস্থ আধিকারিক, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক ও ছাত্রছাত্রীরা।

অনুষ্ঠান শেষে বিদ্যালয়ের হল ঘরে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পরীক্ষা পে চর্চা’ কেবল একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি ছাত্রছাত্রীদের জন্য অনুপ্রেরণামূলক দিকনির্দেশনা। ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে পরীক্ষার মুখোমুখি হওয়ার জন্য এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৮ সাল থেকে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই কর্মসূচি সফলভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে এবং এবছর তার নবম সংস্করণ অনুষ্ঠিত হল।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পরীক্ষা হল নিজের জ্ঞান, পরিশ্রম ও দক্ষতা প্রকাশের সুযোগ— ভয়ের কোনও কারণ নেই। নিয়মিত অধ্যয়ন, সময়ের সঠিক ব্যবহার, শরীরচর্চা ও আত্মবিশ্বাসই জীবনে সফলতার মূল চাবিকাঠি। তিনি শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার উপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি শিক্ষকদের নিয়মিত আপডেট থাকা এবং ছাত্রছাত্রীদের কাজের যথাযথ মূল্যায়নের উপর জোর দেন।

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, রাজ্য সরকার গুণগত শিক্ষার প্রসারে নিরন্তর কাজ করে চলেছে। নারী শিক্ষা ও নারী স্বশক্তিকরণেও রাজ্য এগিয়ে রয়েছে। এই প্রসঙ্গে তিনি রাজ্যের এক কন্যা সন্তানের রেলের লোকো পাইলট হওয়ার উদাহরণ তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার মূল চাবিকাঠি আজকের ছাত্রসমাজ। তাঁদের সাফল্যের মধ্য দিয়েই রাজ্য ও দেশ আরও সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে।

রেকর্ড গড়ে ষষ্ঠবার অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ভারত, বৈভব সূর্যবংশীর ঐতিহাসিক ১৭৫ রানের ঝড়

0
HARARE, ZIMBABWE - FEBRUARY 06: Ayush Mhatre of India lifts the ICC U19 Men´s Cricket World Cup Trophy alongside team mates following the ICC U19 Men's Cricket World Cup 2026 Final between England and India at Harare Sports Club on February 06, 2026 in Harare, Zimbabwe. (Photo by Johan Rynners-ICC/ICC via Getty Images)

জনতার কলম স্পোর্টস ডেস্ক :- বৈভব সূর্যবংশীর ব্যাটে ভর করে রেকর্ড গড়ে ষষ্ঠবার অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জিতে নিল ভারত। ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ১০০ রানে হারিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করে টিম ইন্ডিয়া। মাত্র ১৪ বছর বয়সী বৈভব অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের মঞ্চে নজিরবিহীন ব্যাটিং করে ৮০ বলে বিধ্বংসী ১৭৫ রান করেন, পথে ভেঙে দেন একাধিক রেকর্ড।

ম্যাচের শুরুতেই সেমিফাইনালের নায়ক অ্যারন জর্জ দ্রুত ফিরে গেলেও এরপর যা ঘটে, তা রীতিমতো ক্রিকেটীয় প্রদর্শনী। একপ্রান্ত আগলে রেখে বৈভব ধীরে শুরু করলেও জেমস মিন্টোর এক ওভারে ১৮ রান নিয়ে গিয়ার বদলে দেন। অপর প্রান্তে আয়ুষ মিত্রেও ধারাবাহিক বাউন্ডারিতে চাপ বাড়ান ইংল্যান্ডের বোলারদের উপর। মাত্র ৩২ বলে নিজের চতুর্থ পঞ্চাশ ছুঁয়ে ফেলেন বৈভব।

এরপর ফারহান আহমেদের ওভারে টানা ছক্কা হাঁকিয়ে ভয়ঙ্কর রূপ নেন তিনি। ২০ ওভারের মধ্যেই সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন বৈভব। পরের ১২ বলে চারটি চার ও চারটি ছক্কায় কার্যত তাণ্ডব চালান এই কিশোর ব্যাটার। হাফওয়ে মার্কে তাঁর স্কোর পৌঁছয় ১৭৫-এ এবং ভারতের দলগত রান দাঁড়ায় ২৫০। শেষ পর্যন্ত বৈভব আউট হলে কিছুটা স্বস্তি পায় ইংল্যান্ড।

মাঝের ওভারগুলোতে রান তুলনায় গতি কমলেও কানিশ্ক চৌহানের শেষ ওভারের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ভারত ৫০ ওভারে তোলে ৪১১/৯—অনূর্ধ্ব-১৯ নকআউট ম্যাচে যা এক নজিরবিহীন স্কোর।

৪১২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে ধীরগতির ব্যাটিং করে ইংল্যান্ড। পরে বেন ডকিন্স ও বেন মায়েস কিছুটা গতি আনলেও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় তারা। মাঝের ওভারগুলোতে আয়ুষ মিত্রে ও দীপেশ দেবেন্দ্রনের জোড়া আঘাতে কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় ইংল্যান্ড। যদিও ক্যালেব ফ্যালকনার দুর্দান্ত শতরান করে লড়াইয়ের চেষ্টা চালান, তাতে পরাজয়ের ব্যবধান কিছুটা কমে মাত্র। শেষ পর্যন্ত ৪০.২ ওভারে ৩১১ রানে অলআউট হয়ে যায় ইংল্যান্ড।

এই জয়ের মাধ্যমে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে নিজেদের আধিপত্য আরও পোক্ত করল ভারত। বৈভব সূর্যবংশীর এই ঐতিহাসিক ইনিংস দীর্ঘদিন ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে গেঁথে থাকবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ভারত ৪১১/৯ (৫০ ওভার) – বৈভব সূর্যবংশী ১৭৫, আয়ুষ মিত্রে ৫৩; জেমস মিন্টো ৩/৬৩

ইংল্যান্ড ৩১১ (৪০.২ ওভার) – ক্যালেব ফ্যালকনার ১১৫, বেন ডকিন্স ৬৬; আর এস অম্বরিশ ৩/৫৬

ফল: ভারত ১০০ রানে জয়ী

“শহরের রাস্তা দখলমুক্ত হবেই”—দুর্গা চৌমুহনীতে গর্জে উঠলেন মেয়র

0

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- রাজধানী আগরতলার ব্যস্ত দুর্গা চৌমুহনী বাজার এলাকায় শুক্রবার ফের উচ্ছেদ অভিযানে নামল আগরতলা পুর নিগম। যানজট কমানো ও পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতেই এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ফুটপাত ও রাস্তার ওপর বসে ব্যবসা করা একাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে সরে যেতে বাধ্য করা হয়।

এই অভিযানের তদারকি করেন এলাকার বিধায়ক তথা আগরতলা পুর নিগমের মেয়র দীপক মজুমদার। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পুর নিগমের একাধিক আধিকারিক ও কর্মীরা। গোটা অভিযান ঘিরে এলাকায় ব্যাপক তৎপরতা দেখা যায়।

অভিযান চলাকালীন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মেয়র দীপক মজুমদার জানান, শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষার জন্য নিয়মিতভাবেই এই ধরনের অভিযান চালানো হচ্ছে এবং আগামীতেও তা অব্যাহত থাকবে। তিনি স্পষ্ট করে দেন, বেআইনি দখলদারির প্রশ্নে পুর নিগম কোনোভাবেই ছাড় দেবে না।

মেয়রের কথায়, দিনের বিভিন্ন সময়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নজরদারি বাড়িয়ে ধারাবাহিকভাবে অভিযান চালানো হচ্ছে। যাঁরা নিয়ম ভেঙে রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই কঠোরতা বজায় থাকবে।

পুর নিগম সূত্রে জানা গেছে, আগামীতেও রাজধানীর বিভিন্ন ব্যস্ত বাজার ও জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় দখলদারি রুখতে অভিযান জারি থাকবে। এদিন অভিযানের জেরে দুর্গা চৌমুহনী এলাকায় সাময়িক উত্তেজনা ছড়ালেও প্রশাসনের তৎপরতায় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে।

ঊনকোটিতে পর্যটনের নতুন অধ্যায়! ট্যুরিস্ট লজে বড়সড় রূপান্তরের কাজ শুরু

0

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- কৈলাশহরের পর্যটন কেন্দ্র ঊনকোটিতে পর্যটকদের থাকার পরিকাঠামোকে আধুনিক ও আরামদায়ক করে তুলতে বড়সড় উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্যের পর্যটন দপ্তর। দীর্ঘদিনের পুরনো ও জরাজীর্ণ ব্যবস্থাকে সরিয়ে পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতেই ঊনকোটি ট্যুরিস্ট লজের সংস্কার ও পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছে।

পর্যটন দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ট্যুরিস্ট লজে যুক্ত করা হচ্ছে নানান আধুনিক সুবিধা। এর মধ্যে রয়েছে সংযুক্ত শৌচালয় সহ স্যুট রুম, ডিলাক্স স্যুট রুম ও স্ট্যান্ডার্ড রুম। পাশাপাশি পর্যটকদের জন্য থাকছে ৩০ আসন বিশিষ্ট রেস্তোরাঁ, মডুলার কিচেন ইউনিট, ৫০ জন ধারণক্ষম সভাকক্ষ, ব্যবস্থাপক ও কর্মীদের আলাদা কক্ষ, স্টোর ও লিনেন রুম, এবং রিসেপশন ডেস্ক সহ অভ্যর্থনা এলাকা।

শুধু থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা নয়, পর্যটকদের বিনোদন ও শরীরচর্চার সুবিধার দিকেও নজর দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ব্যায়াম ও প্রশিক্ষণের জন্য জিমনেসিয়াম, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সহ ইনডোর গেমসের পরিকাঠামো এবং নারী-পুরুষের জন্য পৃথক শৌচালয়ের ব্যবস্থা। কাজ শেষ হলে ঊনকোটি ট্যুরিস্ট লজ সম্পূর্ণ নতুন রূপে পর্যটকদের সামনে হাজির হবে বলে জানা গেছে।

এদিন পর্যটন দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে সংস্কারকাজের অগ্রগতি পরিদর্শনে যান পর্যটনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। তিনি কাজের গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প সম্পন্ন করার উপর গুরুত্ব দেন। এই আধুনিকীকরণ প্রকল্প শেষ হলে ঊনকোটিতে পর্যটকদের আবাসনের সমস্যা অনেকটাই কমবে এবং রাজ্যের পর্যটন ক্ষেত্র আরও গতিশীল হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

নির্বাচনের আগে কৃষ্ণনগরে বিজেপির ঝাঁপ! ‘জয় নিশ্চিত’ বার্তা রাজীব ভট্টাচার্যের

0

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- নদীয়া (উত্তর) সাংগঠনিক জেলার অন্তর্গত কৃষ্ণনগর (উত্তর) বিধানসভা কেন্দ্রে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিলেন ত্রিপুরার সাংসদ তথা বিজেপির রাজ্য সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য।

এদিন কৃষ্ণনগর (উত্তর) এলাকায় পৌঁছালে জেলা সভাপতি সহ ভারতীয় জনতা পার্টির বিভিন্ন স্তরের কার্যকর্তারা তাঁকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান। নির্বাচনী প্রস্তুতি ও সংগঠনের শক্তিবৃদ্ধি নিয়ে স্থানীয় নেতৃত্বদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।

পরবর্তীতে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে রাজীব ভট্টাচার্য জানান, কার্যকর্তাদের বিপুল উৎসাহ ও সমর্থন তাঁকে আরও অনুপ্রাণিত করেছে। এই ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টাই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি কৃষ্ণনগর (উত্তর) বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির জয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সকল কার্যকর্তাকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামার আহ্বান জানান তিনি।