Home Blog Page 40

পরিকাঠামো ব্যয় ১২ লক্ষ কোটি টাকার বেশি, বেসরকারি খাতে বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

0

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- বাজেট-পরবর্তী ওয়েবিনারে “বিকশিত ভারতের জন্য প্রযুক্তি, সংস্কার ও অর্থ” শীর্ষক আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, জাতীয় বাজেট কোনও স্বল্পমেয়াদি লেনদেনের নথি নয়; এটি দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত রোডম্যাপ। তিনি জানান, বাজেটের মূল্যায়ন হওয়া উচিত এমন নীতির ভিত্তিতে, যা পরিকাঠামো সম্প্রসারণ, ঋণপ্রবাহ সহজীকরণ, ব্যবসা করার সুবিধা বৃদ্ধি, শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং নাগরিক জীবনের সরলীকরণে সহায়ক। ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্য ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাজেট-পরবর্তী ওয়েবিনার শুধু আলোচনা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ফলপ্রসূ ব্রেনস্টর্মিংয়ের মঞ্চ হয়ে উঠুক। শিল্পপতি, শিক্ষাবিদ, বিশ্লেষক ও নীতিনির্ধারকদের সম্মিলিত অংশগ্রহণই পরিকল্পনার কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে। তিনি বলেন, গত এক দশকে দৃঢ় নীতিগত সংস্কারের ফলে ভারত উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন করেছে। প্রক্রিয়া সরলীকরণ, প্রযুক্তিনির্ভর শাসন ও শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো অর্থনীতিকে নতুন গতি দিয়েছে। সংস্কারের সাফল্য ঘোষণায় নয়, বাস্তব প্রভাবেই পরিমাপ করা উচিত বলে মত দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী জানান, গত ১১ বছরে পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর দেওয়া হয়েছে। সড়ক, রেল, বন্দর, ডিজিটাল নেটওয়ার্ক ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার মতো স্থায়ী সম্পদ দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদনশীলতা বাড়াবে। তিনি বলেন, ১১ বছর আগে যেখানে সরকারি মূলধনী ব্যয় ছিল প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা, তা এখন বেড়ে ১২ লক্ষ কোটি টাকার বেশি হয়েছে—যা বেসরকারি ক্ষেত্রের জন্যও স্পষ্ট বার্তা। শিল্প ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে পরিকাঠামো বিনিয়োগ, নতুন অর্থায়ন মডেল এবং উদীয়মান ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রকল্প অনুমোদন ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা, খরচ-সুবিধা বিশ্লেষণ এবং লাইফসাইকেল কস্টিংয়ে গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

তিনি জানান, বিদেশি বিনিয়োগ কাঠামোকে আরও সহজ ও বিনিয়োগবান্ধব করা হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন জোরদার করতে বন্ড মার্কেট সক্রিয় করা এবং লেনদেন প্রক্রিয়া সহজ করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বন্ড মার্কেট সংস্কারকে দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। সরকার, শিল্প, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাক্ষেত্রের যৌথ অঙ্গীকার হিসেবে একটি ‘রিফর্ম পার্টনারশিপ চার্টার’ তৈরির প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, কার্যকর বাস্তবায়নই নীতির সাফল্যের চাবিকাঠি এবং এই চার্টার বিকশিত ভারতের যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে উঠতে পারে।

সবশেষে, বাজেটের সুযোগ কাজে লাগিয়ে দ্রুত ও সরল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নীতিগুলিকে মাটিতে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি। তাঁর কথায়, সম্মিলিত অংশগ্রহণেই শক্তিশালী ও গতিশীল অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব।

 

উন্নয়ন বৈষম্য দূর করতে আগ্রাসী বিকেন্দ্রীকরণ পথে মিজোরাম সরকার

0

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- মিজোরামে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণে জোর দিচ্ছে রাজ্য সরকার। শুক্রবার বিধানসভায় এ কথা ঘোষণা করেন মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী লালদুহোমা। তিনি জানান, দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বৈষম্য দূর করতে এবং শাসনব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করতে তাঁর সরকার আগ্রাসীভাবে বিকেন্দ্রীকরণ নীতি অনুসরণ করতে চলেছে।

মিজোরাম বিধানসভায় মিজোরাম স্টেট ইউনিভার্সিটি (সংশোধনী) বিল, ২০২৬-এ আলোচনায় অংশ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আর্থিক বিকেন্দ্রীকরণের একটি বিস্তৃত পরিকল্পনা খুব শিগগিরই চালু করা হবে। উল্লেখ্য, তিনি অর্থ দফতরের দায়িত্বও সামলাচ্ছেন।

প্রস্তাবিত সংস্কারের অধীনে, দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজকর্মের জন্য বারবার অর্থ দফতরের অনুমোদন নেওয়ার প্রথা তুলে দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিভাগীয় সচিবদের প্রশাসনিক অনুমোদন ও ব্যয় মঞ্জুরির ক্ষমতা সরাসরি প্রদান করা হবে, ফলে অর্থ দফতরের ছাড়পত্র নেওয়ার বাধ্যবাধকতা আর থাকবে না।

এই পদক্ষেপকে রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন বলে উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়ার পক্ষেও মত দেন, যাতে সামগ্রিক ও সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আঞ্চলিক বৈষম্য দূর করে সমতা ভিত্তিক উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

দিল্লি এক্সসাইজ মামলায় সব অভিযোগ খারিজ, কেজরিওয়ালদের বড় স্বস্তি

0

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- দিল্লি এক্সসাইজ নীতি সংক্রান্ত মামলায় বড় স্বস্তি পেলেন আম আদমি পার্টির শীর্ষ নেতারা। অভিযোগিত দিল্লি এক্সসাইজ পলিসি কেলেঙ্কারি মামলায় আদালত সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে সকল অভিযুক্তকে অব্যাহতি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাক্তন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল।

রায় ঘোষণার পর তিনি বলেন, আদালত সমস্ত অভিযোগ খারিজ করেছে এবং সকল অভিযুক্তকে মুক্তি দিয়েছে। তিনি দাবি করেন, তিনি সৎ এবং শেষ পর্যন্ত সত্যেরই জয় হয়েছে।

এই মামলায় মনীশ সিসোডিয়া-সহ অন্যান্য অভিযুক্তরাও অব্যাহতি পেয়েছেন বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, এই রায় নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিজেপির মুখপাত্র সুধাংশু ত্রিবেদি। তিনি বলেন, প্রমাণের অভাবেই নিম্ন আদালত অভিযুক্তদের খালাস দিয়েছে। বিষয়টিকে তিনি ‘প্রযুক্তিগত’ আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেন, শতাধিক মোবাইল ফোন ও সিম কার্ড ধ্বংস করা হয়েছিল। পুরো বিষয়টির বিস্তারিত সামনে এলে দল গঠনমূলক ও সুসংগঠিত জবাব দেবে বলেও জানান তিনি।

এই রায়কে কেন্দ্র করে রাজধানীর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

এক্সসাইজ নীতি বাতিল ঘিরে নতুন বিতর্ক, AAP-র বিরুদ্ধে সরব BJP

0

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- নতুন দিল্লিতে দিল্লি এক্সসাইজ পলিসি মামলাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে। মঙ্গলবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিজেপি অভিযোগ করেছে, এই মামলায় প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেছে আম আদমি পার্টি (AAP)।

বিজেপি সাংসদ মনোজ তিওয়ারি দাবি করেন, বিতর্কিত আবগারি নীতি বাতিলের সিদ্ধান্ত থেকেই একাধিক গুরুতর প্রশ্ন উঠে আসছে। তাঁর অভিযোগ, তথাকথিত ‘মদ কেলেঙ্কারি’ সংক্রান্ত তদন্তে একাধিক মোবাইল ফোন ধ্বংস করা হয়েছে বলে তদন্তকারীদের কাছে প্রমাণ রয়েছে।

তিনি বলেন, রাউজ অ্যাভিনিউ আদালতের রায়ের পর এই মামলা উচ্চতর আদালতে গড়াবে বলে বিজেপি আশাবাদী। একই সঙ্গে তিনি প্রাক্তন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল-এর বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তুলে বলেন, দুর্নীতির জন্য দায়ীদের জবাবদিহি করতেই হবে এবং শেষ পর্যন্ত সত্যেরই জয় হবে।

যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে আম আদমি পার্টির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। দিল্লির রাজনৈতিক মহলে এই ইস্যু নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

রাম প্রাসাদ পাল ও রঞ্জিত দেববর্মার বিরুদ্ধে অভিযোগ, রাজ্যপালের দ্বারস্থ সাংবাদিকরা

0

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- আগরতলায় রাজভবনে বুধবার বিকেলে এক তাৎপর্যপূর্ণ ডেপুটেশন কর্মসূচিতে রাজ্যের শাসক জোটের দুই বিধায়ক— রাম প্রাসাদ পাল ও রঞ্জিত দেববর্মা এর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ স্তরের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানালেন একদল সাংবাদিক। তাঁরা রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে লিখিত স্মারকলিপি পেশ করেন।

সাংবাদিকদের প্রতিনিধিদলে ছিলেন শানিত দেবরায়, সেবক ভট্টাচার্য, প্রণব সরকার, ড. বিশ্বেন্দু ভট্টাচার্য, দিবাকর দেবনাথ ও অভিজিৎ ঘোষসহ মোট ২১ জন। বৈঠকে তাঁরা অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে দুই বিধায়কের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি বিধায়ক রাম প্রসাদ পাল ‘আজকের ফরিয়াদ’ পত্রিকা ও নিউজ নাও চ্যানেলের সম্পাদক শানিত দেবরায়ের বাড়ির সামনে সমাবেশ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। অভিযোগ, ওই বিক্ষোভে তাঁর ছবিতে লাল কালি দিয়ে ‘ক্রস’ চিহ্ন এঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং তাঁর বিরুদ্ধে নানা ভিত্তিহীন মন্তব্য করা হয়। এ ঘটনায় শানিত দেবরায় এডি নগর থানায় অভিযোগ দায়ের করলেও এখনও পর্যন্ত গ্রেফতারি হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। সাংবাদিকদের মতে, এতে রাজ্যের সংবাদমহলে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, তিপ্রামথার বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মার বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। ‘হেডলাইন্স ত্রিপুরা’ চ্যানেলে কিছু প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকে চ্যানেলের সম্পাদক প্রণব সরকারকে সামাজিক মাধ্যমে কটূক্তি, মানহানিকর মন্তব্য ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে। প্রণব সরকার এ বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে একাধিক মামলা দায়ের করলেও পুলিশ তা গ্রহণ করেনি বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।

সাংবাদিকদের বক্তব্য, এ ধরনের ঘটনা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। তাই নিরপেক্ষ ও উচ্চস্তরের তদন্তের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু সাংবাদিকদের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন বলে প্রতিনিধিদল জানিয়েছে।

১.৯৭ কোটি টাকায় নির্মিত ফিসিকালচার সেন্টার চালু, উপকৃত হবেন গোমতীর মৎস্যচাষীরা

0

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- উদয়পুরে আজ একটি আধুনিক ফিসিকালচার সেন্টারের উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়। ফিসিকালচার সেন্টারটির উদ্বোধন করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি র নেতৃত্বে রাজ্যে অভূতপূর্ব উন্নয়ন-হচ্ছে। রাজ্যের বৃহৎ অংশের মানুষকে স্বনির্ভর করে তুলতে মৎস্য দপ্তরের মাধ্যমে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে চলেছে। অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, উদয়পুর মহকুমা সহ গোমতী জেলাতে মৎস্য উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজ্যকে মৎস্যচাষে অনির্ভর করে তুলতে আগামী দিনে গোমতী জেলা মুখ্যভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ উন্নয়ন দপ্তরের মাধ্যমে বেকার যুবকযুবতীদের জন্য রোজগারের সুযোগ-সৃষ্টি হয়েছে। এই লক্ষ্যে সরকার একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্প ও যোজনা চালু করেছে। পাশাপাশি, অমরসাগরকোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলেও ৪০ এর সৌন্দর্যায়নের জন্য-তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্যমন্ত্রী সুধাংশু দাস। তিনি বলেন, নতুন ফিসিকালচার সেন্টারের উদ্বোধনের মাধ্যমে গোমতী জেলার মৎস্যচাষীদের জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। এই আধুনিক পরিকাঠামোর ফলে জেলার মৎস্যচাষীরা সরাসরি উপকৃত হবেন। মৎস্যমন্ত্রী জানান, পরিকল্পিতভাবে রাজ্য সরকার পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ করছে। এই ফিসিকালচার সেন্টার নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৯৭ লক্ষ টাকা, যা মৎস্যচাষের উন্নয়নের জন্য রাজ্য সরকারের অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন। তিনি আরও বলেন, রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মাছ উৎপাদন হয় গোমতী জেলাতেই। এই সাফল্যের জন্য জেলার সকল মৎস্যচাষীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, মৎস্যচাষে উৎসাহ দিতে মৎস্য সহায়তা যোজনায় মৎস্যচাষীদের বছরে ৬,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, ২৩৯ কানি জলাশয়ে নতুন করে মাছ চাষ শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক রামপদ জমাতিয়া, উদয়পুর পুর পরিষদের চেয়ারপারসন শীতল চন্দ্র মজুমদার, মৎস্য দপ্তরের সচিব দীপা ডি নায়ার, অধিকার্তা সন্তোষ দাস প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গোমতী জিলা পরিষদের সভাধিপতি দেবল দেবরায় এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন গোমতী জেলা মৎস্য উপঅধিকার্তা কৃষ্ণহরি ত্রিপুরা।

জনপ্রতিনিধিদের দায়বদ্ধতা বাড়াতে বিধানসভার কর্মশালা

0

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি প্রজ্ঞা ভবনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে তৃণমূল স্তরে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করে তুলতে বিশেষ আলোচনা চক্র ও কর্মশালার আয়োজন করছে ত্রিপুরা বিধানসভা। সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মশালাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

আজ বিধানসভা ভবনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে এই কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিধানসভার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রামপ্রসাদ পাল, সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী রতন লাল নাথ, মুখ্য সচেতক কল্যাণী সাহা রায় এবং বিধানসভার সচিব অমিয় কান্তি নাথ।

কর্মশালার মূল প্রতিপাদ্য বিষয় রাখা হয়েছে— “সব স্তরে জন প্রতিনিধিদের জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা ও দায়িত্ববোধ।” এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী রতন লাল নাথ জানান, সুশাসন, স্বচ্ছতা, প্রশাসনিক নৈতিকতা এবং জনকল্যাণে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, গণতন্ত্র একদিনের প্রক্রিয়া নয়; নিয়মিত চর্চা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিকাশের মধ্য দিয়েই তা আরও সুদৃঢ় হয়।

এই কর্মশালায় তৃণমূল স্তরের জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে বিধানসভার সদস্যরা অংশ নেবেন। আলোচনায় তাঁরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও মতামত ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি বিধানসভার কার্যপ্রণালী ও প্রাসঙ্গিক আইনগত কাঠামো সম্পর্কেও ধারণা দেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে তাঁরা আরও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু । মুখ্য অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ড.) মানিক সাহা । মূল বক্তব্য রাখবেন রাজ্যসভার উপ-সভাপতি হরিবংশ নারায়ণ সিংহ, যেখানে তিনি সংসদীয় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রসঙ্গে আলোকপাত করবেন।

এছাড়াও রাজ্যসভা ও লোকসভার সদস্য, মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, বিধায়ক, ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ব্যবস্থার প্রতিনিধি, টিটিএএডিসি-র সদস্য, পুরনিগম ও পুরপরিষদের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ হয়ে আইনশৃঙ্খলা আরও জোরদারের আহ্বান মুখ্যমন্ত্রীর

0

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও সুদৃঢ় করতে এবং অপরাধ প্রবণতা কমাতে পুলিশকে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে আরও দক্ষ হয়ে উঠতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা।

আজ অরুন্ধতীনগরস্থিত মনোরঞ্জন দেববর্মা স্মৃতি পুলিশ স্টেডিয়ামে আয়োজিত ‘পুলিশ সপ্তাহ প্যারেড ২০২৬’-এর প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি বলেন, সমাজে অপরাধের ধরন ও পদ্ধতি পরিবর্তিত হচ্ছে। তাই আরক্ষা বাহিনীকে আধুনিক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। পুলিশের পোশাককে গর্ব ও মর্যাদার প্রতীক উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই পোশাকের সম্মান রক্ষা করার পাশাপাশি কাজের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে।

অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন শাখার জওয়ানদের প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। তিনি জানান, বর্তমানে রাজ্যে শান্তির পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। ২০২৫ সালে বিভিন্ন অপরাধের হার ৮.৩০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধের ক্ষেত্রে ত্রিপুরা ২৮টি রাজ্যের মধ্যে নিচের দিক থেকে একাদশতম স্থানে রয়েছে। মহিলাদের নিরাপত্তা জোরদারে রাজ্যে ৯টি মহিলা থানা চালু রয়েছে এবং প্রতিটি থানায় ২৪ ঘণ্টার মহিলা হেল্পলাইন পরিষেবা চালু আছে।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে জাতীয় সড়কসহ অন্যান্য সড়কে ১৬টি ব্ল্যাক স্পট ও ৮৪টি দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গত এক বছরে সড়ক দুর্ঘটনা ৮.৮২ শতাংশ এবং দুর্ঘটনায় মৃত্যুহার ১৩ শতাংশ কমেছে বলেও জানান তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্য সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার নেশামুক্ত ত্রিপুরা গঠন। এ লক্ষ্যে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। এনডিপিএস মামলার নথিভুক্তির হার ১১.০৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং গত কয়েক বছরে প্রায় ১৬৪১.৮৯ কোটি টাকার নেশাদ্রব্য বাজেয়াপ্ত ও ধ্বংস করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সীমান্ত সুরক্ষায় বিএসএফ-এর পাশাপাশি পুলিশের অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। চলতি বছরে ৫৭৬ জন অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ও ১০২ জন দালালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় সাইবার পুলিশ স্টেশন চালুসহ প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্দেশনায় আরক্ষা বাহিনীকে আধুনিক ও শক্তিশালী করে তুলতে একাধিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান। সম্প্রতি ৯৫৩ জন কনস্টেবল নিয়োগ করা হয়েছে; শীঘ্রই আরও ৯১৬ জন কনস্টেবল ও ২১৮ জন সাব-ইনস্পেক্টর নিয়োগ করা হবে।

অনুষ্ঠানে ১১৪টি নতুন পুলিশ বাইক ও ২২টি পুলিশ ভ্যানের যাত্রার সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি আরক্ষা বাহিনীর আয়োজিত রক্তদান শিবির পরিদর্শন করে রক্তদাতাদের উৎসাহিত করেন। এদিন ৫০০ জন জওয়ান স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য পুলিশ আধিকারিক ও জওয়ানদের পুরস্কৃত করা হয় এবং আরক্ষা জওয়ানদের পরিবারের মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী।

অনুষ্ঠান শেষে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থায় এআই প্রযুক্তি সংযুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে জিপিএস ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগও নেওয়া হবে।

রাজ্যের ৬২ কেন্দ্রে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা নির্বিঘ্নে, অনুপস্থিত ২৮৯

0

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- ত্রিপুরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদ পরিচালিত ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা আজ থেকে শুরু হয়েছে। উচ্চতর মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ফাজিল আর্টস এবং মাদ্রাসা ফাজিল থিওলজির আজ ছিল ইংরেজি বিষয়ের পরীক্ষা। রাজ্যের মোট ৬২টি উচ্চতর মাধ্যমিক পরীক্ষা কেন্দ্রের অন্তর্গত সবকটি পরীক্ষাস্থলের অবস্থা শান্তিপূর্ণ ছিল।

আজ উচ্চতর মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ফাজিল আর্টস ও মাদ্রাসা ফাজিল থিওলজির ইংরেজি পরীক্ষায় ২৬,০১১ জন পরীক্ষার্থী নথিভুক্ত ছিল। সারা রাজ্যে পরীক্ষায় বসেছিল ২৫,৭২২ জন পরীক্ষার্থী। অনুপস্থিতির সংখ্যা মোট ২৮৯ জন। ছাত্রছাত্রীর উপস্থিতির শতকরা হার ৯৮.৮৯।

আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে এবছরের মাধ্যমিক পরীক্ষা। আগামীকাল মাধ্যমিক এবং মাদ্রাসা আলিমে ইংরেজি বিষয়ে পরীক্ষা হবে। ত্রিপুরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।