৬৭ বছরের অপেক্ষার অবসান, প্রথমবার রঞ্জি জিতল জম্মু ও কাশ্মীর
জনতার কলম স্পোর্টস ডেস্ক :- ৬৭ বছরের অপেক্ষার অবসান। অবশেষে রঞ্জি ট্রফিতে ইতিহাস গড়ল জম্মু ও কাশ্মীর। হুবলিতে কর্ণাটকের বিরুদ্ধে দাপুটে পারফরম্যান্স দেখিয়ে প্রথমবারের মতো রঞ্জি ট্রফি জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করল জম্মু ও কাশ্মীর দল।
ফাইনালে আটবারের প্রাক্তন চ্যাম্পিয়ন কর্ণাটকের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই প্রভাব বিস্তার করে জম্মু ও কাশ্মীর। প্রথম ইনিংসে ২৯১ রানের বিশাল লিড নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় তারা। পঞ্চম ও শেষ দিনে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৪২/৪ রান তুলে লিড বাড়িয়ে ৬৩৩ রানে নিয়ে যায় দলটি।
শেষ পর্যন্ত ম্যাচ ড্র হলেও প্রথম ইনিংসের বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে থাকার সুবাদে শিরোপা নিশ্চিত করে জম্মু ও কাশ্মীর। ৬৭ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই জয় রাজ্যের ক্রিকেট ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। দেশীয় প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটাই জম্মু ও কাশ্মীরের প্রথম বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ক্রিকেট মহলে এই ঐতিহাসিক জয়ে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে।
অস্ত্র সমর্পণ না করলে ‘নিশ্চিত মৃত্যু’—ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- মধ্যপ্রাচ্যকে ঘিরে তীব্র উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কড়া বার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক বিবৃতিতে তিনি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড, সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, অস্ত্র নামালে সম্পূর্ণ দায়মুক্তি দেওয়া হবে, অন্যথায় “নিশ্চিত মৃত্যুর” মুখোমুখি হতে হবে।
ট্রাম্প বলেন, “অস্ত্র নামিয়ে রাখুন, তাহলে আপনাদের ন্যায্য আচরণ ও পূর্ণ ইমিউনিটি দেওয়া হবে। না হলে কঠোর পরিণতি অনিবার্য।” তিনি ইরানের সাধারণ জনগণের উদ্দেশ্যেও বার্তা দেন যে, “স্বাধীনতার সময় এসে গেছে”, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ঘরের বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেন। তাঁর কথায়, পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং সামরিক অভিযান তীব্র আকার নিতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, বহু বছর ধরে ইরানের জনগণ আমেরিকার সহায়তা চেয়েছিল কিন্তু আগের প্রশাসনগুলো সেই পদক্ষেপ নেয়নি। তিনি বলেন, “এখন আপনারা এমন একজন প্রেসিডেন্ট পেয়েছেন, যিনি আপনাদের প্রত্যাশা পূরণে প্রস্তুত।” একই সঙ্গে তিনি জানান, আমেরিকা “অত্যন্ত শক্তিশালী ও বিধ্বংসী ক্ষমতা” নিয়ে পরিস্থিতির পক্ষে অবস্থান করছে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে কূটনৈতিক মহলের একাংশ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সব উড়ান স্থগিত করল এয়ার ইন্ডিয়া
জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অংশে উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল এয়ার ইন্ডিয়া। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সমস্ত গন্তব্যে এয়ার ইন্ডিয়ার সব উড়ান আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
এয়ার ইন্ডিয়া এক বিবৃতিতে জানায়, যাত্রী ও বিমানকর্মীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং পরিস্থিতির আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নিরাপত্তা ও সুরক্ষা পরিবেশ বিবেচনা করে ভবিষ্যতেও উড়ান পরিচালনার বিষয়ে সক্রিয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে।
এছাড়াও, যেসব যাত্রী এই সিদ্ধান্তে প্রভাবিত হয়েছেন, তাঁদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে সংস্থার দল প্রস্তুত রয়েছে বলে এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরিষেবা পুনরায় চালুর বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কার্যকর গণতন্ত্রের ভিত্তি জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতা: রাজ্যপাল
জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- আমাদের দেশের সংবিধান কেবল একটি আইনি পাঠ্য নয়, এটি একটি পথপ্রদর্শক, যা দেশের প্রতিটি নাগরিকের ন্যায্য সমতা এবং স্বাধীনতা নিশ্চিত করে। আমাদের প্রথম এবং প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের প্রতি কর্তব্য পালন করা। আজ আগরতলার প্রজ্ঞা ভবনে সমস্ত অংশের মানুষের প্রতি জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা- শীর্ষক সেমিনার ও কর্মশালার উদ্বোধন করে রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেডি নান্নু একথা বলেন। অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল বলেন, আজকের কর্মশালার বিষয় সকল শ্রেণির জনগণের প্রতি জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা কেবল আলোচনার বিষয় নয়, এটি কার্যকর গণতন্ত্রের একটি ভিত্তি। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে সংবিধানের উল্লেখিত ন্যায় অধিকার প্রতিটি নাগরিককে প্রদান করা। সমাজের কৃষক, জনজাতি সম্প্রদায়ের জনগণ, মহিলা, যুবক, প্রত্যেকের ক্ষমতায়নের জন্য আমাদের সচেষ্ট থাকতে হবে।
তিনি জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে বলেন, দায়িত্ববোধ বলতে বোঝায় যে আপনি একটি নির্দিষ্ট নির্বাচনী এলাকা থেকে নির্বাচিত হলেও আপনার কর্তব্য সমগ্র রাজ্য এবং জনগণের জন্য সমর্পিত। পাশাপাশি উন্নয়নের সুফল সমাজের অন্তিম ব্যক্তির নিকট পৌঁছানো নিশ্চিত করাও জনপ্রতিনিধিদের গুরুদায়িত্ব। আমরা গর্বিত যে আমাদের রাজ্যকে একটি পূর্ণ সাক্ষর রাজ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তাই প্রত্যেকের দায়িত্ব হচ্ছে রাজ্যে গুণমানসম্মত শিক্ষার একটি বাস্তুতন্ত্র তৈরি করা। তিনি বলেন, রাজ্যে নারী ক্ষমতায়নের উপর গুরুত্ব দেওয়ার ফলেই বর্তমানে রাজ্যে বহু মহিলা লাখপতি দিদি হিসেবে তৈরি হয়েছেন। এছাড়াও রাজ্যের ১ লক্ষের উপর মহিলা এন্ট্রাপ্রেনার হয়ে উঠেছেন।
রাজ্যপাল বলেন, রাজ্যের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ কৃষির উপর নির্ভরশীল। তাই কৃষকের উন্নয়নে রাজ্য সরকার নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করে কাজ করছে। প্রতিটি কৃষক পি.এম. কিষাণ কিংবা প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনার সুবিধা পেয়েছেন কিনা সে বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়াও জনপ্রতিনিধিদের অন্যতম দায়িত্ব। জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা হচ্ছে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করা। জনপ্রতিনিধিরাই হচ্ছেন জনগণের আস্থার স্থান।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা) মানিক সাহা বলেন, জনগণের সম্মান রক্ষা, ব্যক্তিগত আচরণে শালীনতা বজায় রাখা, সমস্যায় মানুষের পাশে থাকা এবং কাজের প্রতি পূর্ণ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই একজন জনপ্রতিনিধির প্রকৃত পরিচয়। জবাবদিহিতাই গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্রকে আরও স্বচ্ছ, শক্তিশালী ও জনমুখী করে তোলার লক্ষ্যে আজকের এই উদ্যোগ এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। জনগণের আস্থা অর্জন করা এবং সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করাই একজন জনপ্রতিনিধির সর্বোচ্চ অঙ্গীকার। নৈতিকতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত মজবুত হলেই গণতন্ত্র বিকশিত হয়। তিনি বলেন, ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দূরদর্শী নেতৃত্বে আজ বিশ্বমঞ্চে ভারতের মর্যাদা ও গৌরব বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই গৌরব রক্ষা ও একে আরও সুদৃঢ় করা প্রত্যেক জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব। তিনি উল্লেখ করেন, ভারতের সংবিধান আমাদের স্বাধীনতা ও অধিকার প্রদান করেছে। সংবিধানের এই মর্যাদা ও চেতনাকে সুরক্ষিত রাখা আমাদের নৈতিক কর্তব্য।
তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধিদের কাজ শুধুমাত্র নির্বাচনের সময় মানুষের কাছে যাওয়া নয়। সারা বছর মানুষের পাশে থাকা, তাঁদের সমস্যা শোনা ও দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়াই প্রকৃত জনসেবা। তিনি আরও বলেন, জনগণ সব দেখে, সব বোঝে। তাই শুধু ভোটে জয়লাভের লক্ষ্য নয় সমাজের প্রান্তিকস্তরের উন্নয়ন, দূর্বল অংশের মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করাই জনপ্রতিনিধির প্রকৃত সার্থকতা। নৈতিকতা বজায় রেখে কাজ করা, নিজের কাজের নিরপেক্ষ মূল্যায়ন করা এবং দুর্নীতিমুক্ত থাকা অত্যন্ত জরুরী। জনপ্রতিনিধিদের প্রকৃত শক্তি পদমর্যাদায় নয়, বরং মানুষের বিশ্বাস অর্জনের মাধ্যমেই নিহিত।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভারত আজ ডিজিটাল ইন্ডিয়া যুগে এসে পৌঁছেছে। প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করার বিরাট সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। উন্নয়নমূলক প্রকল্প, সরকারি পরিকল্পনা ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির তথ্য ডিজিটাল মাধ্যমে জনগণের সামনে উপস্থাপন করলে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায় এবং প্রশাসনের প্রতি আস্থা আরও দৃঢ় হয়। মুখ্যমন্ত্রী কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের (সি.পি.এ.) কার্যপ্রণালী ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন। তিনি সিপি.এ.-র কার্যপ্রণালীর উপরও আলোকপাত করেন। মুখ্যমন্ত্রী জনপ্রতিনিধিদের নিজ এলাকায় দায়িত্বশীল ভূমিকা নেওয়ার উপরও গুরুত্ব আরোপ করেন।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সবকা সাথ, সবকা বিশ্বাস ও সবকা প্রয়াস দর্শনকে সামনে রেখে বিকশিত ভারত গড়ে তুলতে হলে বিকশিত ত্রিপুরা নির্মাণ অপরিহার্য। সকলের স্বচ্ছ সহযোগিতা, পারস্পরিক আস্থা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।
মুখ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আজকের এই সেমিনার জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা সম্পর্কে আরও সুস্পষ্ট ধারণা প্রদান করবে। পাশাপাশি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও জনমুখী করে তুলতে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি এই সেমিনারের সার্বিক সফলতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবল্স নারায়ণ সিং বলেন, সি.পি.এ. ১৯১১ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা যা সংসদীয় গণতন্ত্র, সুশাসন এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করে। এর মূল কাজ হলো জনপ্রতিনিধিদের দক্ষতা বৃদ্ধি, স্বচ্ছ শাসনব্যবস্থা পরিচালনার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে তোলা। সি.পি.এ.-র অন্যতম উদ্দেশ্য আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। সেই অর্থে আজকের এই আয়োজন খুবই প্রাসঙ্গিক। জনগণের প্রকৃত উন্নতি তথা জীবনশৈলীর উন্নতির স্বার্থে এই উদ্যোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, ত্রিপুরায় ১৯টি জনজাতি সম্প্রদায়ের মেলবন্ধনে একটি মিশ্র সমৃদ্ধ সংস্কৃতির বিকাশ ঘটেছে। প্রাকৃতিক সম্পদ, ঐতিহ্যবাহী সভ্যতা এবং সমাজের প্রান্তিকস্তরের উন্নতিসাধন ইত্যাদি সব মিলিয়ে ত্রিপুরা দেশের মধ্যে বর্তমানে এক আলোচিত অধ্যায়। ২০১৪ সালে কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে সরকার গঠন হওয়ার পর উত্তর-পূর্বাঞ্চল সহ ত্রিপুরার উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিরাট গতিশীলতা এসেছে। কেন্দ্রের অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি থেকে শুরু করে উত্তর পূর্বাঞ্চলের ৮টি রাজ্যকে অষ্টলক্ষ্মী রূপে তুলে ধরার ইতিবাচক প্রয়াস সাধারণ মানুষ আজ প্রতিটি ক্ষেত্রে উপলব্ধি করতে পারছেন। ডেপুটি চেয়ারম্যান তার বক্তব্যে ত্রিপুরার রাজবংশের ইতিহাস তথা মানিকা রাজবংশের গৌরবময় অধ্যায়ের উপরও আলোকপাত করেন। তিনি জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান রাখেন সমাজের সকল অংশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে রাজ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার।
অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখতে গিয়ে পশ্চিম ত্রিপুরা লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব বলেন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার কাজে জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ববোধ ও জবাবদিহিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনপ্রতিনিধিদের উচিত মানুষের আস্থা অর্জন করা। কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের কার্যপ্রণালির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এই সংস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
বনমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা বলেন, জনগণের কল্যাণে বিভিন্ন জনকল্যাণমুখী প্রকল্প সবাই মিলে রূপায়ণ করা উচিত। তবেই প্রকৃত অর্থে জনগণের উপকার হয়। সংসদীয় গণতন্ত্রে জনপ্রতিনিধিদের খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। জনকল্যাণে জনপ্রতিনিধিদের নিরপেক্ষ ভূমিকা গ্রহণ করা উচিত। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সাংসদ কৃতী দেবী সিং দেববর্মা বলেন, জনগণের বিশ্বাস অর্জন করা একজন জনপ্রতিনিধির সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। জনপ্রতিনিধিদের সঠিক দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়ে উঠে। আসাম থেকে নির্বাচিত সাংসদ পরিমল শুরু বৈদ্য বলেন, এক ভারত শ্রেষ্ঠ ভারত রূপায়ণের কাজে জনপ্রতিনিধিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
স্বাগত বক্তব্যে রাজ্য বিধানসভার সরকার পক্ষের মুখ্যসচেতক কল্যাণী সাহা রায় বলেন, ত্রিপুরার জন্য আজ খুবই গর্বের দিন। তিনি জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতার সঙ্গে মানুষের অধিকার রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। এতেই গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
বিধায়ক গোপাল চন্দ্র রায় বলেন, আজকের এই উদ্যোগ বর্তমান সময়ে খুবই প্রাসঙ্গিক। গণতন্ত্র রক্ষায় জনপ্রতিনিধিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। অনুষ্ঠানে বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরীর বার্তা পাঠ করে শোনান বিধায়ক সুদীপ সরকার। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদসূচক বক্তব্য রাখেন বিধানসভার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রামপ্রসাদ পাল।
অনুষ্ঠানে মঞ্চে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব ভট্টাচাৰ্য্য, কৃষিমন্ত্রী রতনলাল নাথ, পুরনিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, বিধানসভার সচিব অমিয় কুমার নাথ প্রমুখ। আজকের অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্যগণ ছাড়াও বিভিন্ন জিলা পরিষদের সভাধিপতি, টি.টি.এ.এ.ডি.সি.-র সিইএম, টি.টি.এ.এ.ডি.সি-র সদস্য-সদস্যা, পুরনিগমের কর্পোরেটরগণ সহ পঞ্চায়েত এবং ব্লকস্তরের জনপ্রতিধিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
৭ দিন পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসা সহায়তা, সচিবালয়ে ঘোষণা পরিবহন দপ্তরের
জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- সড়ক দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের তাৎক্ষনিক চিকিৎসা পরিষেবা যাতে বাধাপ্রাপ্ত না হয় তারজন্য শুরু করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী রাহত (PM-RAHT) প্রকল্প। কেন্দ্রীয় সড়ক, যোগাযোগ এবং মহাসড়ক মন্ত্রকের অধীনে এই প্রকল্প পরিচালিত হবে। এই প্রকল্পে দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের হাসপাতালে সর্বোচ্চ ৭দিনের চিকিৎসা করানোর জন্য সর্বাধিক ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা সহায়তা করা হবে। যদিও এর অতিরিক্ত অর্থ চিকিৎসা পরিষেবা গ্রহণকারী ব্যক্তিদের পরিবারকেই বহন করতে হবে। আজ সচিবালয়ের প্রেস কনফারেন্স হলে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এই প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে একথা বলেন পরিবহন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। তিনি বলেন, পরিবহন, আরক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তর যৌথভাবে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবে।
সাংবাদিক সম্মেলনে পরিবহনমন্ত্রী জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা পরিষেবা পেতে যাতে কোন সমস্যা না হয়, তারজন্য এই প্রকল্প শুরু করা হয়েছে। এই সম্পর্কিত ভার্চুয়াল মিটিং গতকাল কেন্দ্রীয় সড়ক, যোগাযোগ এবং মহাসড়ক মন্ত্রী নীতিন গড়করি এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে পরিবহন মন্ত্রী আরও বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে যাতে কেউ টাকার অভাবে চিকিৎসা পরিষেবা থেকে বঞ্চিত না হন সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। রাজ্যে ৭টি বেসরকারি হাসপাতাল সহ মোট ১৪১টি ছোট বড় এবং রাজ্যস্তরীয় হাসপাতাল এই প্রকল্পের আওতায় নথিভুক্ত করা হয়েছে। যেখানে দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের নিয়ে গেলে কোন ধরণের দেরি কিংবা প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে পরিষেবা শুরু করার কাজ দেরি করা যাবে না। পরিবহন মন্ত্রী আরও জানান, ইতিমধ্যে রাজ্যে রাহ-বীর স্কিম চালু রয়েছে। যার মাধ্যমে দুর্ঘটনা হওয়ার প্রথম ১ ঘন্টার মধ্যে যদি কেউ দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে যান তাহলে সরকারের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। এই প্রকল্পে এখন পর্যন্ত রাজ্যে ১ জনকে এবং জাতীয়স্তরে ১ জন ডিএসপি’কে সম্মানিত করা হয়েছে। সাংবাদিক সম্মেলনে পরিবহন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী আশা প্রকাশ করেন এই প্রকল্পের ফলে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার অনেকাংশ হ্রাস করার সম্ভব হবে। এছাড়া দুর্ঘটনার শিকার পরিবারের সদস্যদের আর্থিক ব্যয়ভার অনেকটা লাঘব করা যাবে। তিনি বলেন, রাজ্যে এই প্রকল্প চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়ে গেছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পরিবহন দপ্তরের সচিব ইউ কে চাকমা, আই জি (আইনশৃঙ্খলা) মনচাক ইয়ার, রাজ্যে আয়ুষ-এর সিইও শরদ নায়ার এবং পরিবহন দপ্তরের অতিরিক্ত সচিব সুব্রত চৌধুরী।
‘প্রচণ্ড’ হেলিকপ্টারে ঐতিহাসিক উড়ান, নজির গড়লেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু
জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক রাষ্ট্রপতি দ্রৌপাদি মুর্মু শুক্রবার রাজস্থানের জয়সলমেরে এক ঐতিহাসিক নজির গড়লেন। স্বদেশে নির্মিত হালকা যুদ্ধ হেলিকপ্টার হাল প্রচন্ডএ বিশেষ উড়ান দেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি জয়সলমেরে ভারতীয় বায়ুসেনার বৃহৎ সামরিক মহড়া বায়ু শক্তি ২০২৬ প্রত্যক্ষ করতে যান। সেখানে পৌঁছে ‘প্রচণ্ড’ হেলিকপ্টারে তিনি ফ্লাইং হেলমেট ও ফ্লাইট ড্রেস পরে বিশেষ সোর্টি সম্পন্ন করেন। দুইটি ‘প্রচণ্ড’ হেলিকপ্টারের ফরমেশনে এই উড়ান পরিচালিত হয়। অন্য হেলিকপ্টারে উপস্থিত ছিলেন বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এ.পি. সিং।
উল্লেখ্য, ‘প্রচণ্ড’ অত্যাধুনিক প্রযুক্তি-সজ্জিত হালকা যুদ্ধ হেলিকপ্টার, যা কঠিন যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং উচ্চ পার্বত্য এলাকায় কার্যকরভাবে অভিযান চালাতে সক্ষম। রাষ্ট্রপতির এই উড়ানকে আত্মনির্ভর ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে গত ডিসেম্বর মাসে রাষ্ট্রপতি মুর্মু স্বদেশে নির্মিত কালভারি শ্রেণির সাবমেরিন INS Vaghsheer-এ সওয়ার হন কর্ণাটকের কারওয়ার নৌঘাঁটি থেকে। সেই অভিযানে তাঁর সঙ্গে ছিলেন নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল দীনেশ কুমার ত্রিপাঠি।
এছাড়া গত অক্টোবরে তিনি অম্বালা এয়ার ফোর্স স্টেশনে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান Dassault Rafale-এ উড়ান দেন। তারও আগে ২০২৩ সালের ৮ এপ্রিল অসমের তেজপুরে Sukhoi Su-30MKI যুদ্ধবিমানে সোর্টি সম্পন্ন করেছিলেন তিনি।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধবিমান, সাবমেরিন ও হালকা যুদ্ধ হেলিকপ্টারে রাষ্ট্রপতির ধারাবাহিক উড়ান ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকীকরণ, কৌশলগত প্রস্তুতি এবং দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদনের অগ্রগতির প্রতীক। শুক্রবারের এই ঐতিহাসিক সোর্টির মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি ভারতীয় বায়ুসেনার দক্ষতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও পরাক্রমকে কুর্নিশ জানান।











