জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- বাজেট-পরবর্তী ওয়েবিনারে “বিকশিত ভারতের জন্য প্রযুক্তি, সংস্কার ও অর্থ” শীর্ষক আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, জাতীয় বাজেট কোনও স্বল্পমেয়াদি লেনদেনের নথি নয়; এটি দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত রোডম্যাপ। তিনি জানান, বাজেটের মূল্যায়ন হওয়া উচিত এমন নীতির ভিত্তিতে, যা পরিকাঠামো সম্প্রসারণ, ঋণপ্রবাহ সহজীকরণ, ব্যবসা করার সুবিধা বৃদ্ধি, শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং নাগরিক জীবনের সরলীকরণে সহায়ক। ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্য ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাজেট-পরবর্তী ওয়েবিনার শুধু আলোচনা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ফলপ্রসূ ব্রেনস্টর্মিংয়ের মঞ্চ হয়ে উঠুক। শিল্পপতি, শিক্ষাবিদ, বিশ্লেষক ও নীতিনির্ধারকদের সম্মিলিত অংশগ্রহণই পরিকল্পনার কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে। তিনি বলেন, গত এক দশকে দৃঢ় নীতিগত সংস্কারের ফলে ভারত উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন করেছে। প্রক্রিয়া সরলীকরণ, প্রযুক্তিনির্ভর শাসন ও শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো অর্থনীতিকে নতুন গতি দিয়েছে। সংস্কারের সাফল্য ঘোষণায় নয়, বাস্তব প্রভাবেই পরিমাপ করা উচিত বলে মত দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী জানান, গত ১১ বছরে পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর দেওয়া হয়েছে। সড়ক, রেল, বন্দর, ডিজিটাল নেটওয়ার্ক ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার মতো স্থায়ী সম্পদ দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদনশীলতা বাড়াবে। তিনি বলেন, ১১ বছর আগে যেখানে সরকারি মূলধনী ব্যয় ছিল প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা, তা এখন বেড়ে ১২ লক্ষ কোটি টাকার বেশি হয়েছে—যা বেসরকারি ক্ষেত্রের জন্যও স্পষ্ট বার্তা। শিল্প ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে পরিকাঠামো বিনিয়োগ, নতুন অর্থায়ন মডেল এবং উদীয়মান ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রকল্প অনুমোদন ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা, খরচ-সুবিধা বিশ্লেষণ এবং লাইফসাইকেল কস্টিংয়ে গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
তিনি জানান, বিদেশি বিনিয়োগ কাঠামোকে আরও সহজ ও বিনিয়োগবান্ধব করা হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন জোরদার করতে বন্ড মার্কেট সক্রিয় করা এবং লেনদেন প্রক্রিয়া সহজ করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বন্ড মার্কেট সংস্কারকে দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। সরকার, শিল্প, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাক্ষেত্রের যৌথ অঙ্গীকার হিসেবে একটি ‘রিফর্ম পার্টনারশিপ চার্টার’ তৈরির প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, কার্যকর বাস্তবায়নই নীতির সাফল্যের চাবিকাঠি এবং এই চার্টার বিকশিত ভারতের যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে উঠতে পারে।
সবশেষে, বাজেটের সুযোগ কাজে লাগিয়ে দ্রুত ও সরল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নীতিগুলিকে মাটিতে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি। তাঁর কথায়, সম্মিলিত অংশগ্রহণেই শক্তিশালী ও গতিশীল অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব।

