Home Blog Page 28

আয়কর ও শুল্কে পরিবর্তনের পথ খুলল, সংসদে ফাইন্যান্স বিল ২০২৬ পেশ

0

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন সোমবার লোকসভায় ফাইন্যান্স বিল ২০২৬ পেশ করেছেন। এই বিলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬-২৭-এ ঘোষিত বিভিন্ন প্রস্তাব আইনি স্বীকৃতি পাবে। বিলটি পাশ হলে আয়কর হারের পরিবর্তন, শুল্ক এবং আবগারি শুল্ক সংক্রান্ত সংশোধনগুলি কার্যকর হবে।

এর পাশাপাশি অর্থমন্ত্রী কর্পোরেট আইন (সংশোধনী) বিল, ২০২৬-ও লোকসভায় উপস্থাপন করেন। নিম্নকক্ষ এই বিলটি আরও বিস্তারিত পর্যালোচনার জন্য যৌথ সংসদীয় কমিটি (জেপিসি)-র কাছে পাঠানোর অনুমোদন দিয়েছে। এই সংশোধনী বিলের লক্ষ্য হল এলএলপি আইন, ২০০৮ এবং কোম্পানি আইন, ২০১৩-তে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা। যেখানে কোম্পানি আইন সংস্থার নিবন্ধন, কর্পোরেট শাসন, তথ্য প্রকাশ এবং বিলুপ্তি নিয়ন্ত্রণ করে, সেখানে এলএলপি আইন অংশীদারদের সীমিত দায়বদ্ধতার সঙ্গে আরও নমনীয় কাঠামো প্রদান করে।

অর্থমন্ত্রী জানান, প্রায় দুই বছরের বিশদ আলোচনা ও পর্যালোচনার পর এই সংশোধনী বিল সংসদে আনা হয়েছে। কোম্পানি আইন কমিটি (সিএলসি)-র সুপারিশ সম্পূর্ণভাবে গ্রহণ করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, ১১ সদস্যের সিএলসি ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে গঠিত হয়েছিল। কমিটির সদস্যদের মধ্যে ছিলেন প্রাক্তন লোকসভা মহাসচিব টি.কে. বিশ্বনাথন, শিল্পপতি উদয় কোটক , আইন বিশেষজ্ঞ শার্দুল এস. শ্রফ, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট জি. রামাস্বামী এবং শিল্পপতি সিদ্ধার্থ বিড়লা প্রমুখ। কমিটি ২০২২ সালের ২১ মার্চ সরকারকে তাদের চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেয়।

এই সুপারিশগুলির উপর বিভিন্ন মহলের সঙ্গে আলোচনা করা হয়, যার মধ্যে প্রাক্তন ক্যাবিনেট সচিব রাজীব গাবার নেতৃত্বাধীন উচ্চপর্যায়ের কমিটিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

এদিকে, সংসদের বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্ব সোমবার সকাল ১১টা থেকে পুনরায় শুরু হয়েছে। উগাদি ও ঈদের ছুটির পর এই অধিবেশন শুরু হয় এবং ছুটির ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২৮ ও ২৯ মার্চও সংসদ বসবে।

‘পয়সা দিয়ে কেনা ডেটা কেন বাতিল?’ সংসদে প্রশ্ন রাঘব চাড্ডার

0

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- রাজ্যসভার সাংসদ রাঘব চাড্ডা মোবাইল ডেটা ব্যবহারের বর্তমান নীতিকে কেন্দ্র করে সরব হলেন। সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে তিনি টেলিকম সংস্থাগুলির ‘ডেইলি ডেটা লিমিট’ ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করেন।

তার অভিযোগ, বর্তমানে টেলিকম কোম্পানিগুলি ১.৫ জিবি, ২ জিবি বা ৩ জিবি করে প্রতিদিনের ডেটা সীমা নির্ধারণ করে, যা প্রতি ২৪ ঘণ্টায় রিসেট হয়ে যায়। কিন্তু ব্যবহার না করা ডেটা সম্পূর্ণ অর্থ প্রদান করা সত্ত্বেও দিনের শেষে বাতিল হয়ে যায়। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, একজন গ্রাহক যদি ২ জিবি ডেটার জন্য অর্থ দেন কিন্তু ১.৫ জিবি ব্যবহার করেন, তাহলে বাকি ০.৫ জিবি কোনো রকম ক্ষতিপূরণ বা রোলওভার ছাড়াই হারিয়ে যায়।

রাঘব চাড্ডা আরও দাবি করেন, এটি কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট নীতি। এই ব্যবস্থায় গ্রাহকদের হয় অপ্রয়োজনীয়ভাবে ডেটা ব্যবহার করতে বাধ্য করা হচ্ছে, নয়তো তা হারাতে হচ্ছে।

এই বিষয়টি তিনি সংসদেও উত্থাপন করেছেন বলে জানান। তার প্রশ্ন, যে ডেটার জন্য গ্রাহকরা অর্থ প্রদান করছেন, তা কেন ব্যবহার না করলে বাতিল হয়ে যাবে? তিনি প্রস্তাব দেন, অব্যবহৃত ডেটা পরবর্তী চক্রে বহন (carry forward) করার সুযোগ থাকা উচিত, যাতে গ্রাহকরা তাদের কেনা পরিষেবার পূর্ণ সুবিধা পেতে পারেন।

এই মন্তব্যের পর টেলিকম নীতিমালা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং গ্রাহক স্বার্থ রক্ষায় পরিবর্তনের দাবি জোরদার হচ্ছে।

কংগ্রেসে থাকা মানেই আপস! তীব্র কটাক্ষ ভূপেন কুমার বরা

0
জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- অসমের লক্ষিমপুরে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে বিহপুরিয়া কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী ভূপেন কুমার বরা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন।

তিনি দাবি করেন, আসন্ন নির্বাচনে বিজেপির বিরুদ্ধে তেমন কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা তিনি দেখছেন না। তাঁর কথায়, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র সহযোগিতায় যে উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন, তার সুফল ইতিমধ্যেই রাজ্যের মানুষ পেয়েছেন। বহু যুবক কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন এবং বিভিন্ন সংস্থা অসমে বিনিয়োগ করেছে—যা সাধারণ মানুষের কাছেও স্পষ্ট।

ভূপেন কুমার বরা আরও বলেন, বিহপুরিয়ার মানুষ বিজেপির ‘জাতি, মাটি, ভেটি’ স্লোগানকে সমর্থন করেছেন। তাই জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে যাওয়া সম্ভব নয় বলেই তিনি বিজেপিকে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর দাবি, এই সিদ্ধান্তকে স্থানীয় মানুষও সঠিক বলে মনে করছেন এবং উন্নয়নের স্বার্থে কাজ করাকেই তারা অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।

এছাড়াও কংগ্রেসকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, আত্মসম্মানবোধ সম্পন্ন কোনো নেতা কংগ্রেসে থাকতে পারেন না। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেসে থাকতে গেলে আগে রকিবুল হাসান-এর আশীর্বাদ নিতে হয়। এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালীতে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ নাকচ ইরানের

0

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- ভারতে অবস্থিত ইরানের দুতাভাস সম্প্রতি এক বিবৃতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে ২০ লক্ষ মার্কিন ডলার গ্রহণের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে।

দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ ধরনের দাবির কোনো সত্যতা নেই এবং এসব মন্তব্য কেবল কিছু ব্যক্তির ব্যক্তিগত মতামত মাত্র। এগুলো কোনোভাবেই ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরানের সরকারি অবস্থানকে প্রতিফলিত করে না।

বিবৃতিতে আরও স্পষ্ট করা হয়, আন্তর্জাতিক মহলে প্রচারিত এ ধরনের তথ্য বিভ্রান্তিকর এবং বাস্তবতার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। তাই এ ধরনের গুজব বা ভিত্তিহীন দাবিতে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ত্রিপুরা জুড়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে পালিত ঈদ-উল-ফিতর

0

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে ত্রিপুরা জুড়ে গভীর ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহের সঙ্গে উৎসব পালিত হচ্ছে। একমাসব্যাপী রমজানের রোজা শেষে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ ভোর থেকেই ঈদের বিশেষ নামাজ আদায় করতে সমবেত হন।

রাজ্যের বিভিন্ন জেলার ঈদগাহ ও মসজিদে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে আগরতলার শিবনগরে অবস্থিত গেদু মিয়া মসজিদে বড় জমায়েত দেখা যায়, যেখানে বহু ধর্মপ্রাণ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজে অংশগ্রহণ করেন।

নামাজ শেষে রাজ্য, দেশ ও সমগ্র বিশ্বের শান্তি, সমৃদ্ধি ও সম্প্রীতির জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়। ধর্মীয় নেতারা তাঁদের বক্তব্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার গুরুত্ব তুলে ধরেন। ঈদের আনন্দে সবাই একে অপরকে শুভেচ্ছা জানান, কোলাকুলি করেন এবং মিলন ও ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দেন, যা এই পবিত্র উৎসবের মূল চেতনা।

এদিকে, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা নিজের সামাজিক মাধ্যমে সকল ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষকে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তাঁর বার্তায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই পবিত্র দিনটি যেন সকলের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য ও মানবিকতার বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে। তিনি প্রার্থনা করেন, ঈদের এই শুভক্ষণ সবার জীবনে সুখ, শান্তি ও সুস্বাস্থ্য বয়ে আনুক।

মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তা উৎসবের আবহে এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করেছে এবং রাজ্যের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও ঐক্যের বার্তাকে আরও জোরালো করেছে।

মথুরা ইস্যুতে তোপ অখিলেশের, ‘উত্তরপ্রদেশে নেই আইন-শৃঙ্খলা’

0

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- অখিলেশ যাদব মথুরায় এক ‘গৌ রক্ষক’-এর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া উত্তেজনার প্রেক্ষিতে উত্তরপ্রদেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানালেন।

তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলার সম্পূর্ণ অবনতি ঘটেছে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তার কথায়, “মথুরা, বৃন্দাবনের মতো ধর্মীয় স্থানে যদি এইভাবে একজন সাধুর সঙ্গে আচরণ করা হয়, তাহলে পরিস্থিতির ভয়াবহতা বোঝা যায়।”

মথুরা এবং বৃন্দাবনের ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজ্যে খোলাখুলি গুলি চালানোর ঘটনা ঘটছে এবং অপরাধীদের মধ্যে কোনো ভয় নেই। এছাড়াও Varanasiএর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “যেখানে দেশের প্রধানমন্ত্রী বহুবার নির্বাচিত হয়েছেন, সেই জায়গাতেও খুনোখুনির ঘটনা ঘটছে।”

বিজেপিকে সরাসরি নিশানা করে তিনি আরও বলেন, “ঘৃণা ছড়ানোর রাজনীতি কীভাবে করতে হয়, তা বিজেপির কাছ থেকেই শেখা যায়।” এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে, এবং বিরোধী দলগুলির সঙ্গে শাসক দলের বাকযুদ্ধ আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

৫ বছর পর ফের চালু বেইজিং-দিল্লি সরাসরি ফ্লাইট, ঘোষণা এয়ার চায়নার

0

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- ভারত ও চীনের মধ্যে বিমান যোগাযোগ আরও জোরদার হতে চলেছে। বেইজিং থেকে দিল্লি পর্যন্ত সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু করতে যাচ্ছে এয়ার চায়না—এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভারতে অবস্থিত চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র ইউ জিং।

প্রায় পাঁচ বছরের দীর্ঘ বিরতির পর দুই দেশের মধ্যে যাত্রীবাহী বিমান চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। ২০২০ সালে কোভিড মহামারী ও সীমান্ত উত্তেজনার কারণে ভারত-চীন সরাসরি ফ্লাইট পরিষেবা স্থগিত হয়ে যায়। পরবর্তীতে কূটনৈতিক পর্যায়ে সম্পর্কের উন্নতি এবং দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ফলে ২০২৫ সালের শেষের দিকে পুনরায় বিমান পরিষেবা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এই প্রেক্ষাপটে ইতিমধ্যেই কয়েকটি এয়ারলাইন্স ধাপে ধাপে পরিষেবা চালু করেছে। যেমন, চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্স ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে সাংহাই-দিল্লি রুটে ফ্লাইট শুরু করেছে, যা ছিল পাঁচ বছর পর প্রথম সরাসরি সংযোগ পুনঃস্থাপন। এদিকে, এয়ার চায়না আগে বেইজিং-দিল্লি রুটে পরিষেবা চালুর জন্য আবেদন করেছিল এবং ২০২৬ সালের শুরুতেই এই রুট চালু হওয়ার সম্ভাবনার কথা উঠে আসে।

কূটনৈতিক মহল মনে করছে, এই ফ্লাইট পুনরায় চালু হওয়া শুধু যাত্রী পরিবহন নয়, বরং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, পর্যটন এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত-চীন সরাসরি বিমান পরিষেবা পুনরায় চালু হওয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের “স্বাভাবিকীকরণ”-এর একটি বড় ইঙ্গিত, যা ভবিষ্যতে আরও অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতার পথ খুলে দিতে পারে।

১৭ বছরের রেকর্ড ভাঙলেন ক্যামেরন ম্যাকইভয়, ৫০ মিটার ফ্রিস্টাইলে নতুন ইতিহাস

0

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- অলিম্পিক ও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন সাঁতারু ক্যামেরণ ম্যাকইভয় পুরুষদের ৫০ মিটার ফ্রিস্টাইল ইভেন্টে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে অটুট থাকা এই রেকর্ড ভেঙে ৩১ বছর বয়সী এই অস্ট্রেলিয়ান সাঁতারু চীনের শেনজেনে অনুষ্ঠিত চায়না ওপেনে গতকাল ২০.৮৮ সেকেন্ড সময় নেন।

এর আগে ব্রাজিলের César Cielo ২০০৯ সালে ২০.৯১ সেকেন্ড সময় নিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন। ম্যাকইভয় সেই রেকর্ড থেকে ০.০৩ সেকেন্ড কম সময় নিয়ে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেন।

উল্লেখ্য, সিয়েলোর এই রেকর্ডটি গড়া হয়েছিল সাঁতারের তথাকথিত “সুপার স্যুট” যুগে। ওই বিশেষ ধরনের স্যুট ব্যবহারে পানিতে ভাসমানতা বাড়ত এবং ঘর্ষণ কমত, যার ফলে ২০০৯ সালে প্রায় ১৫০টি বিশ্বরেকর্ড ভেঙে যায়। পরে ২০১০ সালে এই স্যুট নিষিদ্ধ করা হয়।

নতুন এই রেকর্ড গড়ে আবারও নিজের দক্ষতা প্রমাণ করলেন ক্যামেরন ম্যাকইভয় এবং সাঁতার জগতে নতুন মাইলফলক স্থাপন করলেন তিনি।

“৩৪ হাজার কোটির বাজেট: শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও গ্রামোন্নয়নে জোর”

0

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- মহিলা, শিক্ষার্থী, যুব সম্প্রদায়, জনজাতি, তপশিলি জাতি, ওবিসি, সংখ্যালঘু, কর্মচারি, পেনশনার এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণে এই বাজেট পেশ করা হয়েছে। এই বাজেট প্রমাণ করে আমাদের সরকার শুধুমাত্র কথায় নয়, কাজে বিশ্বাস করে। এই বাজেটটি আমাদের রাজ্যের বিকাশ, জনকল্যাণ এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে উৎকর্ষ সাধনের সম্ভাবনার প্রতীক। আমাদের সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিকশিত ভারত গড়ার যে লক্ষ্য এই বাজেট সেই লক্ষ্য পূরণের সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ। আমরা ত্রিপুরাকে আত্মনির্ভর করার উদ্দেশ্যে এগিয়ে চলেছি। এই বাজেট তারই প্রতিফলন। আজ বিধানসভা অধিবেশনের দ্বিতীয়ার্ধে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য যে বাজেট প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে তার উপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা) মানিক সাহা একথা বলেন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্য বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং গ্রামোন্নয়ন-এর উপর বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এবারের বাজেটে নতুন কোনও কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়নি। ২০২৬-২৭অর্থবছরের মোট বাজেট বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ২১২ কোটি ৩১ লক্ষ টাকা, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের অনুমিত বাজেটের তুলনায় ৫.৫২ শতাংশ বেশি। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের জন্য ২,৪৪১.৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তুলনায় ২৫.২৯ শতাংশ বেশি। গ্রামীণ উন্নয়ন খাতে ৪,০৯৪.৫৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তুলনায় ২৫.২৯ শতাংশ বেশি। কৃষি ও কৃষি সংশ্লিষ্ট খাতের জন্য ১,৯৮৫.৬১ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যা ২০২৫-২৬ সালের তুলনায় ৫.৩১ শতাংশ বেশি। শিক্ষা খাতে ৬,৪৩৯.৫৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যা ২০২৫-২৬ সালের তুলনায় ৪.৪৩ শতাংশ বেশি। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে রাজ্য সরকার জনজাতি অধ্যুষিত অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য মোট ৯১৪ কোটি ৮২ লক্ষ টাকা প্রদান করবে। এখানে লক্ষনীয় বিষয় হচ্ছে আমাদের বাজেটের গত বছরের তুলনায় বৃদ্ধি ৫.৫২ শতাংশ কিন্তু আমরা জনজাতি অধ্যুষিত অঞ্চলের ক্ষেত্রে বাজেট গত বছরের তুলনায় ৬.৩৪ শতাংশ বেশি রেখেছি। ট্রাইবেল সাবপ্ল্যান অর্থাৎ টি.এসপির আওতায় মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৭৫৪২.০৬ কোটি টাকা, যা রাজ্যের মোট উন্নয়ন খাতের ব্যয়ের প্রায় ৩৯.৩৯ শতাংশ। ট্রাইবেল সাবপ্ল্যানের আওতাভুক্ত অধিকাংশ অর্থরাশি জনজাতি অধ্যুষিত এলাকায় ব্যয় হবে।

বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন দপ্তরের আগামী অর্থবছরে কি কি কাজ করা হবে বা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, রাজ্যে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সমগ্র শিক্ষা অভিযানের অধীনে ১২৫টি নতুন শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ, ৩৪৫টি শ্রেণিকক্ষ সংস্কার, ১০৫৬টি শৌচাগার নির্মাণ এবং ৪২৩৮টি নিরাপদ পানীয়জলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পি.এম. পোষণ প্রকল্পে ৪ লক্ষ ১০ হাজার ছাত্রছাত্রীকে মিড ডে মিল দেওয়া হচ্ছে। রাজ্যের জনগণের জন্য মানসম্মত সাশ্রয়ী ও সর্বজনীন স্বাস্থ্য পরিষেবা সুনিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনার আওতায় ১ লক্ষ ১৪ হাজার ১৩২ জন রোগী ক্যাশলেস চিকিৎসার সুযোগ পেয়েছেন। তাছাড়া মুখ্যমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনায় ৪৩ হাজার ৯৭৫ জন রোগী ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা গ্রহণ করেছেন। রাজ্যে ১১৩৯টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মধ্যে ৫৯২টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ন্যাশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স স্ট্যান্ডার্ডের অধীনে স্বীকৃতি লাভ করেছে, যা দেশের মধ্যে অন্যতম।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৪৪০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ ও উন্নয়নের কাজ করা হয়েছে। আগামী অর্থবছরে ৯৮০ কিলোমিটার জেলা সড়ক নির্মাণ ও উন্নয়ন এবং ৮টি আর.সি.সি. সেতু নির্মাণের কাজ গ্রহণ করা হবে। রাজ্যের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির জন্য সরকার কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তার বিস্তারিত তিনি বিধানসভায় উল্লেখ করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে প্রায় ৪ লক্ষ ৯২ হাজার গ্রামীণ মহিলা বর্তমানে ৫৫ হাজার ৩৫টি স্বনির্ভর গোষ্ঠীতে সংগঠিত হয়েছেন। রাজ্যে ইতিমধ্যেই ১ লক্ষ ৮ হাজার লাখপতি দিদি হয়েছেন।

স্বসহায়ক দলগুলিকে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৮৯ কোটি টাকা ব্যাঙ্ক ঋণ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে রাজ্যে প্রায় ৩ লক্ষ ৪৭ হাজার মহিলা কৃষি, পশুপালন এবং মৎস্যচাষের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়েছেন। নারী ক্ষমতায়নকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে ক্লাস্টার লেভেল ফেডারেশনগুলির মাধ্যমে ৫৮টি জেন্ডার রিসোর্স সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। যা নারীদের সহায়তা, সচেতনতা এবং দক্ষতা বৃদ্ধির বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করছে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, এবছর ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত রাজ্যে ৪৫ হাজার ৮৫৪ জন গর্ভবতী মহিলাকে মুখ্যমন্ত্রী মাতৃপুষ্টি উপহার প্রকল্পে আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় আরও ১০টি ওয়ার্কিং উইম্যান হোস্টেল নির্মাণের জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ১১৪ কোটি টাকার প্রস্তাব সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার মঞ্জুর করেছে এবং হোস্টলগুলি নির্মাণের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেট সমর্থন জানিয়ে আরও শক্তিশালী, সমৃদ্ধতর এবং বিকশিত ত্রিপুরা গড়ে তোলার লক্ষ্যে একসাথে কাজ করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী সবার প্রতি আহ্বান জানান।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বরাদ্দের উপর আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহরায় বলেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত নির্মাণের লক্ষ্যকে সামনে রেখে ত্রিপুরার উন্নয়নের যে রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে তা সফল করতেই রাজ্য সরকার কাজ করছে। বর্তমান অর্থবছরে রাজ্য সরকার কি কি কাজ করেছে এবং কি দৃষ্টিভঙ্গিকে সামনে রেখে আগামী অর্থবছরের জন্য বাজেট তৈরি করা হয়েছে তা বাজেট বক্তব্যে তুলে ধরা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রতিবছর বাজেটে অর্থ বরাদ্দের পরিমাণ বাড়ছে। আগামী অর্থবছরের জন্য ৩৪২১২.৩১ কোটি টাকার বাজেট পেশ করা হয়েছে। বাজেটে কোনও ধরনের কর চাপানো হয়নি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দায়িত্ব নেওয়ার পর উত্তর পূর্বাঞ্চলের উন্নয়নে যে জোয়ার এসেছে তাতে আমাদের রাজ্যও অংশীদার। রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়নে বিভিন্ন পরিকল্পনা রূপায়ণ করা হচ্ছে। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। রাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থায় অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি রেল যোগাযোগ, সড়ক যোগাযোগের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, বর্তমানে ১৩টি এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল করছে। ৬টি জাতীয় সড়ক এবং ৪টি রাজ্য হাইওয়ে রাজ্যে তৈরি হয়েছে। তাছাড়া রাজ্যের অন্যান্য সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, গ্রামীণ কর্মসংস্থান, গৃহহীনদের জন্য আবাসন প্রভৃতির বিষয় তুলে ধরে তিনি বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতি আগের তুলনায় অনেক সুদৃঢ় হয়েছে। কৃষকদের আয় তুলনামূলকভাবে অনেক বেড়েছে।

আগে ছিলো না। রাজ্যের অভ্যন্তরীণ গড় উৎপাদন বেড়েছে, মাথাপিছু আয় বাড়ছে। তিনি বলেন, রাজ্যের উন্নয়নে মূলধনী বায় তুলনামূলকভাবে অনেক বেড়েছে। প্রসঙ্গক্রমে তিনি বলেন, রাজ্যের বেকার যুবক যুবতীদের চাকরি দেওয়ার উদ্যোগ সব সময়ই অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই রাজ্যে প্রায় ৫৬ হাজার স্বসহায়ক দল তৈরি করা হয়েছে। প্রায় ৪ লক্ষ ৪৬ হাজার ৭৪৫ জন মহিলা স্বসহায়ক দলের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। এদের মধ্যে ১ লক্ষ ৮ হাজার জন লাখপতি দিদি হয়েছেন। নতুন নতুন ক্ষেত্রেও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হচ্ছে। তিনি বলেন, একদিনে সব কাজ করা সম্ভব না। এজন্য সময় দিতে হবে। ভবিষ্যতে রাজ্যের মঙ্গল হয় এই চিন্তা করেই আগামী অর্থবছরের জন্য বাজেট তৈরি করা হয়েছে।

সাধারণ বাজেট নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে আজ বিধানসভায় মৎস্যমন্ত্রী সুধাংশু দাস জানান, এই বাজেট জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। তিনি বলেন, ২০৪৭সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ এবং ‘বিকশিত ত্রিপুরা’ গড়ার লক্ষ্যে এই বাজেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। পাশাপাশি তিনি প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে জানান, এই বাজেটের মাধ্যমে দপ্তরের বর্তমান প্রকল্পগুলি বাস্তবায়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।

তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী প্রাণী সম্পদ বিকাশ যোজনার মাধ্যমে রাজ্যের সাধারণ মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনার আওতায় মৎস্যচাষীরাও ব্যাপকভাবে লাভবান হচ্ছেন, যার ফলে তাদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটছে এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়াও তিনি বাজেটে ‘অরেঞ্জ ইকোনোমি’র বিষয়টিও উল্লেখ করেন। তাছাড়া আজ বাজেটের উপর আলোচনায় অংশ নেন বিধায়ক রঞ্জিত দাস, অশোক চন্দ্র মিত্র, ফিলিপ কুমার রিয়াং, সুদীপ রায় বর্মন, সুদীপ সরকার ও পল দাংশু।

ভাতা বৃদ্ধি থেকে কর্মসংস্থান—জনমুখী ইস্তেহার টিএমসি-র

0

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) শুক্রবার তাদের নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করল। “দিদির ১০ প্রতিশ্রুতি”কে সামনে রেখে তৈরি এই ইস্তেহারকে জনমুখী উন্নয়ন রোডম্যাপ হিসেবে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী।

ইস্তেহারের মূল কেন্দ্রে রয়েছে একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্প। ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পে ভাতা ৫০০ টাকা বাড়িয়ে সাধারণ শ্রেণির মহিলাদের জন্য মাসিক ১,৫০০ টাকা এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতির মহিলাদের জন্য ১,৭০০ টাকা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ‘বাংলার যুব-সাথী’ প্রকল্পের আওতায় বেকার যুবকদের জন্য মাসিক ১,৫০০ টাকা ভাতা চালু রাখার কথাও জানানো হয়েছে। কৃষকদের সহায়তায় ৩০,০০০ কোটি টাকার কৃষি বাজেট ঘোষণা করার পরিকল্পনাও রয়েছে, যেখানে ভূমিহীন কৃষকরাও অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।

ইস্তেহারে প্রত্যেক পরিবারের জন্য পাকা বাড়ি এবং সব ঘরে পাইপলাইনের মাধ্যমে পানীয় জলের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য পরিষেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বছরে ‘দুয়ারে চিকিৎসা’ শিবির আয়োজনের কথাও বলা হয়েছে। শিক্ষা ক্ষেত্রেও সরকারি স্কুলগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি পূর্ব ভারতের বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে পশ্চিমবঙ্গকে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আধুনিক লজিস্টিকস ও গ্লোবাল ট্রেড সেন্টার তৈরির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

বয়স্ক ভাতা চালু রাখার পাশাপাশি আরও বেশি মানুষকে এর আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে টিএমসি। প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে সাতটি নতুন জেলা গঠন এবং শহরাঞ্চলের স্থানীয় প্রশাসনিক সংস্থার বিস্তারের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের শাসনব্যবস্থার দিশা হিসেবে এই প্রতিশ্রুতিগুলিকেই তুলে ধরেছে দল।

ইস্তেহার প্রকাশের সময় সাংবাদিক বৈঠকে মমতা ব্যানার্জী কেন্দ্র ও ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি)-র বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় সরকার নাগরিকদের অধিকার খর্ব করার চেষ্টা করছে এবং রাজ্যের স্বায়ত্তশাসনে হস্তক্ষেপ বাড়াচ্ছে।

এছাড়া সম্ভাব্য আসন পুনর্বিন্যাস (ডিলিমিটেশন) নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। নির্বাচনের আগে ব্যাপক হারে সরকারি আধিকারিকদের বদলি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাও তিনি সমালোচনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়ে তিনি অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন পাবলিক সেক্টর ইউনিট দুর্বল করা হচ্ছে এবং কিছু শিল্পপতিকে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

আরও একধাপ এগিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে কার্যত “ঘোষিত নয় এমন রাষ্ট্রপতি শাসন” চলছে। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি রাজনৈতিকভাবে বাংলাকে টার্গেট করছে এবং রাজ্যের শক্ত অবস্থানকে দুর্বল করতে চাইছে।

ভোটারদের একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক লড়াই নয়, দেশের ভবিষ্যৎ রক্ষার লড়াই। তাঁর দাবি, বাংলার মানুষই শেষ পর্যন্ত বিজেপিকে উপযুক্ত জবাব দেবে।