ভাতা বৃদ্ধি থেকে কর্মসংস্থান—জনমুখী ইস্তেহার টিএমসি-র

Date:

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) শুক্রবার তাদের নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করল। “দিদির ১০ প্রতিশ্রুতি”কে সামনে রেখে তৈরি এই ইস্তেহারকে জনমুখী উন্নয়ন রোডম্যাপ হিসেবে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী।

ইস্তেহারের মূল কেন্দ্রে রয়েছে একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্প। ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পে ভাতা ৫০০ টাকা বাড়িয়ে সাধারণ শ্রেণির মহিলাদের জন্য মাসিক ১,৫০০ টাকা এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতির মহিলাদের জন্য ১,৭০০ টাকা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ‘বাংলার যুব-সাথী’ প্রকল্পের আওতায় বেকার যুবকদের জন্য মাসিক ১,৫০০ টাকা ভাতা চালু রাখার কথাও জানানো হয়েছে। কৃষকদের সহায়তায় ৩০,০০০ কোটি টাকার কৃষি বাজেট ঘোষণা করার পরিকল্পনাও রয়েছে, যেখানে ভূমিহীন কৃষকরাও অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।

ইস্তেহারে প্রত্যেক পরিবারের জন্য পাকা বাড়ি এবং সব ঘরে পাইপলাইনের মাধ্যমে পানীয় জলের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য পরিষেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বছরে ‘দুয়ারে চিকিৎসা’ শিবির আয়োজনের কথাও বলা হয়েছে। শিক্ষা ক্ষেত্রেও সরকারি স্কুলগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি পূর্ব ভারতের বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে পশ্চিমবঙ্গকে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আধুনিক লজিস্টিকস ও গ্লোবাল ট্রেড সেন্টার তৈরির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

বয়স্ক ভাতা চালু রাখার পাশাপাশি আরও বেশি মানুষকে এর আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে টিএমসি। প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে সাতটি নতুন জেলা গঠন এবং শহরাঞ্চলের স্থানীয় প্রশাসনিক সংস্থার বিস্তারের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের শাসনব্যবস্থার দিশা হিসেবে এই প্রতিশ্রুতিগুলিকেই তুলে ধরেছে দল।

ইস্তেহার প্রকাশের সময় সাংবাদিক বৈঠকে মমতা ব্যানার্জী কেন্দ্র ও ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি)-র বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় সরকার নাগরিকদের অধিকার খর্ব করার চেষ্টা করছে এবং রাজ্যের স্বায়ত্তশাসনে হস্তক্ষেপ বাড়াচ্ছে।

এছাড়া সম্ভাব্য আসন পুনর্বিন্যাস (ডিলিমিটেশন) নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। নির্বাচনের আগে ব্যাপক হারে সরকারি আধিকারিকদের বদলি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাও তিনি সমালোচনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়ে তিনি অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন পাবলিক সেক্টর ইউনিট দুর্বল করা হচ্ছে এবং কিছু শিল্পপতিকে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

আরও একধাপ এগিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে কার্যত “ঘোষিত নয় এমন রাষ্ট্রপতি শাসন” চলছে। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি রাজনৈতিকভাবে বাংলাকে টার্গেট করছে এবং রাজ্যের শক্ত অবস্থানকে দুর্বল করতে চাইছে।

ভোটারদের একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক লড়াই নয়, দেশের ভবিষ্যৎ রক্ষার লড়াই। তাঁর দাবি, বাংলার মানুষই শেষ পর্যন্ত বিজেপিকে উপযুক্ত জবাব দেবে।

Share post:

spot_imgspot_img

Popular

More like this
Related

পশ্চিম এশিয়া সংকটের প্রভাব, ৪০টি পণ্যে শুল্ক ছাড় দিল কেন্দ্র

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাত ও...

ধর্মনগরে বিজেপির জনসংযোগ অভিযান তুঙ্গে, জয়ের বার্তা সুধাংশুর কণ্ঠে

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :-আসন্ন ধর্মনগর বিধানসভা উপ-নির্বাচনকে...

‘জয়ের পথে’ যুক্তরাষ্ট্র, আরও হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের...

ভারত বুরকিনা ফাসোকে এক হাজার মেট্রিক টন চাল পাঠাল মানবিক সহায়তা হিসেবে

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :-খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং সংকটাপন্ন...