Monthly Archives
May 2025
ভয়াবহ অগ্নিকান্ড আগরতলার মহারাজগঞ্জ বাজরে প্রায় ৭ টি সব্জির দোকান ক্ষতিগ্রস্থ
written by janatar kalam
জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- ভয়াবহ অগ্নিকান্ড আগরতলার মহারাজগঞ্জ বাজরে। প্রায় ৬ থেকে ৭ টি দোকানে আগুন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমান লক্ষাধিক টাকার উপরে হবে। দমকলের কর্মীদের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ। জানা যায় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে আচমকাই মহারাজগঞ্জ বাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে।
এই ঘটনায় প্রায় ৭ টি সব্জির দোকান ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ব্যাবসায়ীরা খবর দেয় দমকল কর্মীদের। প্রথম ঘটনাস্থলে ছুটে আসে মহারাজগঞ্জ বাজরের দমকল কর্মীরা। পরবর্তীতে ছুটে আসে দমকলের আরো ২ টি ইঞ্জিন। কিন্তু ব্যাবসায়ীদের অভিযোগ দমকল কর্মীরা ঘটনাস্থলে সঠিক সময়ে পৌঁছায়নি। প্রায় ১ ঘণ্টা সময় লেগেছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে।
তবে আগুন কিভাবে লেগেছে এখনো জানা যায়নি। এদিকে শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে যান আগরতলা পুর নিগমের ডেপুটি মেয়র মনিক। দাস দত্ত, কর্পোরেটর রত্না দত্ত সহ অন্নান্যরা। ডেপুটি মেয়র জানান সরকারি ভাবে ক্ষতিগ্রস্থদের সাহায্য করা হবে। এই ঘটনায় একপ্রকার চাঞ্চল্য তৈরী হয়েছিল।
জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- বর্তমানে প্রযুক্তির উন্নয়নের গতি অভূতপূর্ব। যা প্রতি মুহূর্তে আমাদের জীবনযাত্রার রূপকে বদলে দিচ্ছে। কিন্তু আমাদের এই প্রযুক্তিগুলিকে সতর্কতা ও সচেতনতার সাথে গ্রহণ করতে হবে। আজ রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে মহারাজা বীরবিক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন সমারোহে একথা বলেন রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেডি নান্নু। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহাও। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ত্রিপুরা হাইকোর্টের বিচারপতি টি. অমরনাথ গৌড়কে ডিগ্রি অব লিটারেচার (Honoris Causa) সম্মানে ভূষিত করা হয়।
সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যপাল বলেন, মহারাজা বীরবিক্রম কিশোর মাণিক্য ছিলেন সত্যিকারের এক প্রগতিশীল ব্যক্তি। যিনি বুঝতে পেরেছিলেন রাজ্যের ভবিষ্যৎ শিক্ষার আধুনিকীকরণের উপর নির্ভর করে। অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগেও মানবতাবাদ, সহানুভূতি, সৃজনশীলতা, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা এবং পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা একজন ছাত্র বা ছাত্রীকে সমাজের নিকট মহামূল্যবান করে তোলে। তিনি বলেন, প্রযুক্তি সময়ের সাথে পরিবর্তিত হয়। কিন্তু শিখন দক্ষতা ও মূল্যবোধ চিরস্থায়ী থাকে। চেতনা, দৃঢ়তা, সমৃদ্ধ বৈচিত্র্য ও সংস্কৃতিকে সঙ্গে করে রাজ্যের উন্নয়নে সকলকে কাজ করার জন্য রাজ্যপাল এই অনুষ্ঠানে আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা বলেন, রাজ্য সরকার মহারাজা বীরবিক্রম বিশ্ববিদ্যালয়কে সার্বিকভাবে গুণমানসম্পন্ন একটি উন্নত বিশ্ববিদ্যালয় হিসাবে গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এক্ষেত্রে সুদূরপ্রসারি পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার।
তিনি বলেন, সমাবর্তন অনুষ্ঠান ডিগ্রিপ্রাপ্ত পড়ুয়াদের জীবনের একটি বিশেষ মুহূর্ত। প্রাচীনকাল থেকেই আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার একটা ঐতিহ্য রয়েছে। আগে বিদেশ থেকে পড়ুয়ারা আমাদের দেশের নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করতে আসতেন। শিক্ষার এই ঐতিহা পুনরুদ্বারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিরন্তর প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন। আমাদের দেশের ঐতিহ্যগত কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও পরম্পরার উপর ভিত্তি করে দীর্ঘ বছর পর নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি চালু করা হয়েছে।
রাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতেও নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি কার্যকর করা হচ্ছে। গণিত, বিজ্ঞান, যোগব্যায়াম এবং দর্শনশাস্ত্রে ভারতের অবদান এখনও বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি-২০২০ এই গৌরবপূর্ণ ঐতিহ্যকে আধুনিক পাঠ্যক্রমে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এই দৃষ্টিভঙ্গির সাথে সামঞ্জস্য রেখে এম.বি.বি. বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্ডিয়ান নলেজ সিস্টেমের উপর একটি কোর্স চালু করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ারের সুযোগ আরও প্রসারিত করতে এম.বি.বি. বিশ্ববিদ্যালয়ে বি.বি.এ, এম.বি.এ, বি.সি.এ., এম.সি.এ, বি.এস.সি. এবং বায়োটেকনোলজিতে এম.এস.সি. কোর্স চালু করার পরিকল্পনার কথাও মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এ.আই)-এর মতো প্রযুক্তি ব্যবহার শিক্ষাকে আরও কার্যকর এবং সহজলভ্য করেছে। ইতিমধ্যে কলেজগুলির জন্য অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর নিয়োগ করা হয়েছে। সরকারি উদ্যোগে নতুন কলেজ খোলা হচ্ছে। ছাত্রীদের জন্য টিউশন ফি মকুব করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী কন্যা আত্মনির্ভর যোজনা এবং মুখ্যমন্ত্রী যুব যোগাযোগ যোজনার মতো প্রকল্পও চালু করা হয়েছে। যোগ্য শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে স্কুটি বিতরণ করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী ডিগ্রিপ্রাপ্ত পড়ুয়াদের উদ্দেশ্যে বলেন, জীবনের পরবর্তী পর্যায়ে পা রাখার সাথে সাথে নানাবিধ চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হবে। তবে যোগ্যতা ও দক্ষতার সঙ্গে প্রতিটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে জীবনে এগিয়ে যেতে হবে। সবার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের পাশাপাশি বিনয়ী হওয়ার জন্য তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান। মুখ্যমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিপ্রাপ্ত সকলের ভবিষ্যৎ জীবন ও প্রচেষ্টার সফলতা প্রত্যাশা করেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এম.বি.বি. বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. বিভাস দেব। এছাড়াও শিক্ষা দপ্তরের বিশেষ সচিব রাভাল হেমেন্দ্র কুমার, এম.বি.বি. বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. সুমন্ত চক্রবর্তী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও পি.এইচ.ডি, স্নাতকোত্তর, স্নাতক ডিগ্রি প্রাপ্ত পড়ুয়া সহ পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা পড়ুয়াদের উত্তীর্ণ হওয়ার শংসাপত্র প্রদান করা হয়। ১৩৫ জন কৃতীকে একাডেমিক শ্রেষ্ঠত্বের জন্য পদক দিয়ে সম্মানিত করা হয়। রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেডি নান্নু, মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা সহ অতিথিগণ তাদের হাতে শংসাপত্র ও পদক তুলে দেন।
“তৃণমূল সরকার বাংলার যুব সমাজকে রাস্তায় নামিয়েছে,লাগামহীন দুর্নীতির জন্যই বাচ্চাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হচ্ছে: মোদী
written by janatar kalam
জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :-“তৃণমূলের নেতাদের লাগামহীন দুর্নীতির জন্যই এখানকার বাচ্চাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হচ্ছে। কিন্তু এরা নিজেদের ভুল কিছুতেই মানতে চাইছেন না। বরং, উল্টে আদালতকে আক্রমণ করছেন এরা। আর তৃণমূল সরকার অভিযুক্তদেরই বাঁচানোর চেষ্টা করছে। বিজেপি কখনও এটা হতে দেবে না। বৃহস্পতিবার আলিপুরদুয়ারে একটি জনসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী মোদী এই কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, “তৃণমূল সরকার বাংলার যুব সমাজকে রাস্তায় নামিয়েছে। এই নির্মম সরকারের কারণে রাজ্যে হিংসা, অরাজকতা ছড়িয়ে পড়েছে। নারীদের নিরাপত্তা নেই, গরিবদের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে, এবং যুব সমাজের ভবিষ্যৎ ধ্বংসের মুখে।” বাংলায় একটা দুর্নীতির সরকার চলছে। এখানকার শাসকদল জোর করে গরীব মানুষদের প্রাপ্য ছিনিয়ে নিতে চাইছে। বাংলা আসলে অনেকগুলি সঙ্কটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এ হল হিংসা এবং দুই হল অরাজকতা। তারপর আছে মায়েদের উপর অত্যাচার।
তিনি আরও বলেন, যখন ভারতের রাষ্ট্রপতি হিসেবে আদিবাসী সম্প্রদায়ের একজন মহিলা, দ্রৌপদী মুর্মু, নির্বাচিত হয়েছিলেন, তখনও তৃণমূল কংগ্রেস তাঁর বিরোধিতা করেছিল। এই বক্তব্যে তিনি রাজ্যের শাসক দলের নীতি ও আচরণের উপর তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তিনি আরো বলেন,তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ তুলে বলেন যে, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটেছে। তিনি উল্লেখ করেন, “নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে তৃণমূল সরকারের কোনো উদ্যোগ নেই। রাজ্যে হিংসা এবং অরাজকতা বেড়ে চলেছে। এই পরিস্থিতি বাংলার জনগণের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
” তিনি আরও বলেন যে, কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের জন্য সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত, কিন্তু রাজ্য সরকারের সহযোগিতার অভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, পুরো বাংলা বলছে, আমরা আর নির্মম সরকার চাই না।আলিপুরদুয়ারের প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ ভোটের আগে পেপটকের মতোই কাজ করবে। গোটা বিজেপি দল এখন কীভাবে মোদীর পেপটকের পরে চাঙ্গা হয়ে মাঠে নেমে তা রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগায়, এখন সেটাই দেখার।
আমি “চ্যালেঞ্জ করছি, কালই ভোট করুন আমরা তৈরী আছি, বিজেপি কোনওদিন বাংলার মন জিততে পারবে না: মমতা
written by janatar kalam
জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :-“বাংলার সংস্কৃতি ও রাজনীতির স্বাতন্ত্র্য আছে। বিজেপি কোনওদিন বাংলার মন জিততে পারবে না।” আমি “চ্যালেঞ্জ করছি, কালই ভোট করুন। আমরা তৈরি আছি। দেখা যাবে কে কেমন জনপ্রিয়।” বৃহস্পতিবার নবান্ন থেকে সাংবাদিক সম্মেলনে করে এমনটাই সুর চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
উল্লেখ্য, রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার রাজ্য থেকে তৃণমূল সরকারকে উৎখাত করার ডাক দিয়ে অপারেশন সিঁদুরের মতো ‘অপারেশন বাংলা’র কথা উল্লেখ করেছেন। তারই কড়া জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে বললেন, ”চ্যালেঞ্জ করছি, আমরা ‘অপারেশন বাংলা’র জন্য তৈরি। কালই ভোট করুন। দেখা যাবে।” তাঁর আরও চ্যালেঞ্জ, ”বাংলার ক্ষমতা কখনও বিজেপির হাতে যাবে না। কারণ সাংস্কৃতিক পার্থক্য।” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এক সময় নিজেকে চা-ওয়ালা বলে পরিচয় দিতেন, তারপর বললেন তিনি পাহারাদার। আর এখন কি সিঁদুর বিক্রি করতে নেমেছেন?”
এদিন মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “ মোদী কেন নিজের স্ত্রীকে সিঁদুর পরাচ্ছেন না? প্রত্যেক মহিলা তাঁর স্বামীর থেকে সিঁদুর নেন। মা বোনেদের সিঁদুর এভাবে বেচা যায় না। রাজনৈতিক ভাবে আকর্ষণীয় করতেই নাম দেওয়া হয়েছে অপারেশন সিঁদুর।”
তিনি আরো বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অতীতে একাধিকবার প্রধানমন্ত্রীকে ‘বন্ধু’ বলে উল্লেখ করেছেন। সেই প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কটাক্ষ করে বলেন, “আপনি এত বড় নেতা, অথচ আমেরিকার নাম এলেই চুপ করে যান!”
পাক অধিকৃত কাশ্মীর ভারতের একটি অংশ, বিচ্ছিন্ন মানুষরা আজ হোক কাল হোক, স্বেচ্ছায় ভারতে ফিরে আসবে: রাজনাথ
written by janatar kalam
জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :-“ আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে মেক-ইন-ইন্ডিয়া একটি অপরিহার্য উপাদান এবং এটি অপারেশন সিন্দুরের সময় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের কার্যকর পদক্ষেপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে ,” প্রতিরক্ষা মন্ত্রী শ্রী রাজনাথ সিং শিল্পপতিদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, জোর দিয়ে বলেছেন যে অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট (এএমসিএ) প্রোগ্রাম এক্সিকিউশন মডেলের মাধ্যমে, বেসরকারি ক্ষেত্র প্রথমবারের মতো সরকারি খাতের কোম্পানিগুলির সাথে একটি বৃহৎ প্রতিরক্ষা প্রকল্পে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে, যা দেশীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদার করবে। তিনি ২৯ মে, ২০২৫ তারিখে নয়াদিল্লিতে ভারতীয় শিল্প কনফেডারেশন (সিআইআই) বার্ষিক ব্যবসায়িক শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী পূর্ণাঙ্গ অনুষ্ঠানে ভাষণ দিচ্ছিলেন।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ভারতে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরির জন্য AMCA প্রোগ্রামের জন্য বাস্তবায়ন মডেলকে একটি সাহসী এবং সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন , যা দেশীয় মহাকাশ খাতকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাবে। “AMCA প্রকল্পের অধীনে, পাঁচটি প্রোটোটাইপ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে, যার পরে সিরিজ উৎপাদন করা হবে। এটি মেক-ইন-ইন্ডিয়া প্রোগ্রামের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ,” তিনি বলেন।
অপারেশন সিন্দুরের সময় মেক-ইন-ইন্ডিয়ার সাফল্যের কথা তুলে ধরে শ্রী রাজনাথ সিং বলেন যে, ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারত না যদি দেশটি তাদের নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার না করত। তিনি মেক-ইন-ইন্ডিয়াকে নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বর্ণনা করে বলেন, অপারেশন সিন্দুরের সময় দেশীয় ব্যবস্থার ব্যবহার প্রমাণ করেছে যে ভারতের শত্রুর যেকোনো অস্ত্র ভেদ করার ক্ষমতা রয়েছে। “আমরা সন্ত্রাসীদের আস্তানা এবং তারপরে সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করেছি। আমরা আরও অনেক কিছু করতে পারতাম, তবে আমরা শক্তি এবং সংযমের সমন্বয়ের একটি দুর্দান্ত উদাহরণ উপস্থাপন করেছি,” তিনি বলেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে ভারত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে তার কৌশল এবং প্রতিক্রিয়া পুনর্গঠন এবং পুনর্নির্ধারণ করেছে এবং পাকিস্তান বুঝতে পেরেছে যে সন্ত্রাসবাদের ব্যবসা পরিচালনা করা ব্যয়সাশ্রয়ী নয়, বরং এর জন্য তাকে ভারী মূল্য দিতে হতে পারে। তিনি আরও বলেন যে ভারত পাকিস্তানের সাথে তার সম্পৃক্ততা এবং সংলাপের সুযোগ পুনর্নির্ধারণ করেছে এবং এখন কেবল সন্ত্রাসবাদ এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীর নিয়েই আলোচনা হবে।
শ্রী রাজনাথ সিং আবারও স্পষ্ট করে বলেছেন যে পাক অধিকৃত কাশ্মীর ভারতের একটি অংশ এবং ভৌগোলিক ও রাজনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন মানুষরা, আজ হোক কাল হোক, স্বেচ্ছায় ভারতে ফিরে আসবে। “প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকার এক ভারত শ্রেষ্ঠ ভারতের সংকল্পে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বেশিরভাগ মানুষের ভারতের সাথে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। খুব কম সংখ্যক মানুষই বিভ্রান্ত হয়েছেন। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দা আমাদের ভাইবোনদের অবস্থা বীর যোদ্ধা মহারাণা প্রতাপের ছোট ভাই শক্তি সিংয়ের মতো। বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরেও, ছোট ভাইয়ের প্রতি বড় ভাইয়ের আস্থা ও বিশ্বাস অক্ষুণ্ণ থাকে এবং তিনি বলেন: ‘तब कुपंथ को छोड़ सुपथ पर स्वयं चला आउँछा। मेरा ही भाई है, मुझसे दूर कहाँ जायेगा।’,” তিনি বলেন।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে সরকার নীতিগত স্পষ্টতা, স্বদেশীকরণ, অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা এবং কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনকে অগ্রাধিকার দিয়েছে এবং এই প্রচেষ্টার সাফল্য কেবল তখনই নিশ্চিত করা যেতে পারে যখন উদ্ভাবক, উদ্যোক্তা এবং নির্মাতারা সহ সমস্ত অংশীদাররা এই জাতীয় লক্ষ্যে শক্তিশালী অংশীদার হবেন। তিনি ভারতীয় শিল্পকে কোম্পানির স্বার্থের চেয়ে জাতীয় স্বার্থের উপর বেশি মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। “যদি কোম্পানির স্বার্থ সুরক্ষিত করা আপনার কর্ম হয় , তবে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা আপনার ধর্ম ,” তিনি বলেন।
‘বিশ্বাস তৈরি এবং ভারত প্রথমে’ শীর্ষক শীর্ষ সম্মেলনের প্রতিপাদ্য বিষয়বস্তু সম্পর্কে শ্রী রাজনাথ সিং বলেন যে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারত চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে, এটি অত্যন্ত গর্বের বিষয়। “এটি কেবল আকারে ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির বিষয় নয়; এটি ভারতের প্রতি বিশ্বের ক্রমবর্ধমান আস্থা এবং নিজের উপর আস্থার বিষয়ও। আজ, ভারত কেবল প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির ভোক্তা নয়, বরং উৎপাদক এবং রপ্তানিকারকও হয়ে উঠেছে। বিশ্ব যখন উচ্চমানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য আমাদের কাছে আসে, তখন এটি কেবল বাজারের ইঙ্গিত নয়, এটি আমাদের সক্ষমতার প্রতি সম্মান,” তিনি বলেন।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী গত দশকে সরকারের গৃহীত উদ্যোগের ফলে অর্জিত সাফল্যের কথা উল্লেখ করে ভারতের প্রবৃদ্ধির যাত্রায় প্রতিরক্ষা খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “১০-১১ বছর আগে আমাদের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ছিল প্রায় ৪৩,০০০ কোটি টাকা। আজ তা ১,৪৬,০০০ কোটি টাকার রেকর্ড অঙ্ক অতিক্রম করেছে, যার মধ্যে বেসরকারি খাতের অবদান ৩২,০০০ কোটি টাকারও বেশি। আমাদের প্রতিরক্ষা রপ্তানি, যা ১০ বছর আগে প্রায় ৬০০-৭০০ কোটি টাকা ছিল, আজ ২৪,০০০ কোটি টাকার রেকর্ড অঙ্ক অতিক্রম করেছে। আমাদের অস্ত্র, সিস্টেম, সাব-সিস্টেম, উপাদান এবং পরিষেবা প্রায় ১০০টি দেশে পৌঁছেছে। প্রতিরক্ষা খাতের সাথে যুক্ত ১৬,০০০-এরও বেশি এমএসএমই সরবরাহ শৃঙ্খলের মেরুদণ্ড হয়ে উঠেছে। এই কোম্পানিগুলি কেবল আমাদের স্বনির্ভরতার যাত্রাকে শক্তিশালী করছে না, বরং লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থানও প্রদান করছে,” তিনি বলেন।
শ্রী রাজনাথ সিং আরও বলেন, আজ ভারত কেবল যুদ্ধবিমান এবং ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাই তৈরি করছে না, বরং নতুন যুগের যুদ্ধ প্রযুক্তির জন্যও প্রস্তুত হচ্ছে। “আমরা এমনকি সীমান্তবর্তী প্রযুক্তিতেও ধারাবাহিকভাবে অগ্রগতি অর্জন করছি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার প্রতিরক্ষা, মানবহীন ব্যবস্থা এবং মহাকাশ-ভিত্তিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে আমাদের অগ্রগতি বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত হচ্ছে। ভারতের ইঞ্জিনিয়ারিং, উচ্চ নির্ভুলতা উৎপাদন এবং ভবিষ্যতের প্রযুক্তির উন্নয়ন কেন্দ্র হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে,” তিনি বলেন।
ভারতীয় শিল্পকে জাতির সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষার বাহক হিসেবে অভিহিত করে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বলেন যে, সরকার এবং শিল্পের যৌথ প্রচেষ্টা এবং সমন্বয়ই কেবল ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে একটি উন্নত জাতিতে পরিণত করতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, আজকের সময়ে, কোনও জাতির শক্তি কেবল তার অর্থনৈতিক সূচক যেমন জিডিপি, বিদেশী বিনিয়োগ বা রপ্তানি পরিসংখ্যান দ্বারা মূল্যায়ন করা হয় না, এটি একটি দেশ তার নাগরিক এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের মধ্যে কতটা আস্থা জাগাতে পারে তার উপরও নির্ভর করে। “বিশ্বাস তখনই স্থায়ী হয় যখন একটি দেশ এই আত্মবিশ্বাস রাখে যে সে তার ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করতে পারে, তার নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে এবং ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তার মুখে স্থিতিশীল থাকতে পারে। জাতির মনোবল তখনই উচ্চ থাকে যখন সে জানে যে তার আজ নিরাপদ এবং আগামীকাল নিরাপদ,” তিনি আরও বলেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল দীনেশ কে ত্রিপাঠী, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিং, প্রতিরক্ষা সচিব শ্রী রাজেশ কুমার সিং, প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগের সচিব এবং ডিআরডিওর চেয়ারম্যান ডঃ সমীর ভি কামাত, সেনাবাহিনীর উপপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল এনএস রাজা সুব্রামণি, সিআইআই সভাপতি শ্রী সঞ্জীব পুরী এবং শিল্প নেতৃবৃন্দ।
জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- মুসলিম ভ্রাতৃত্বের আড়ালে বিশ্বকে প্রতারিত করা পাকিস্তান সময়ে সময়ে মুসলিম দেশগুলির সহানুভূতি অর্জনের চেষ্টা করে, কিন্তু এবার সৌদি আরবে এর বাস্তবতা উন্মোচিত করেছেন AIMIM প্রধান এবং হায়দ্রাবাদের সাংসদ আসাদুদ্দিন ওয়াইসি। তিনি কেবল রিয়াদে পাকিস্তানের অপকর্মই প্রকাশ করেননি, বরং সৌদি কর্তৃপক্ষকে কঠোর সুরে সতর্কও করেছেন।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ভারতীয় সাংসদদের প্রতিনিধিদলের বৈঠকের সময় ওয়াইসি খোলাখুলিভাবে বলেছিলেন যে পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদকে প্রকাশ্যে সমর্থন করে এবং তাদের সমস্ত দাবি মিথ্যার উপর ভিত্তি করে। এই প্রতিনিধিদল বিজেপি সাংসদ বৈজয়ন্ত পান্ডার নেতৃত্বে সেখানে গিয়েছিল, যেখানে ওয়াইসিও সদস্য হিসাবে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর সাথে আলাপকালে ওয়াইসি বলেন যে সৌদি আরবে প্রায় ২৭ লক্ষ ভারতীয় বাস করেন এবং কাজ করেন এবং সেখানে ভারতীয় সম্প্রদায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তিনি বলেন, “প্রতিটি বৈঠকেই আমরা পাকিস্তানের সন্ত্রাস এবং মিথ্যা প্রচারণার বিষয়ে কথা বলেছি। আমাদের দাবি ছিল পাকিস্তানকে আবারও FATF-এর ধূসর তালিকায় রাখা হোক। ২০১৮ সালে সৌদি আরব আমাদের সাহায্য করেছিল, আমরা আশা করি এখনও আমাদের সাহায্য করবে।
” তিনি সৌদি প্রতিনিধিদের আরও বলেন যে ভারতে প্রায় ১৪৫ মিলিয়ন মুসলিম বাস করে এবং পাকিস্তান তাদের সম্পর্কে যা প্রচার করে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। ওয়াইসি জোর দিয়ে বলেন যে সৌদি আরব সম্প্রতি পাকিস্তানকে ২ বিলিয়ন ডলার সাহায্য এবং ৩ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিয়েছে, কিন্তু সাধারণ পাকিস্তানি জনগণ সেই অর্থ থেকে কোনও সুবিধা পায়নি।
তিনি আরও বলেন যে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাজেট তার জিডিপির ২.৬%, যেখানে ভারতের ১.৯%, এবং পাকিস্তানের উলেমারা (ধর্মীয় পণ্ডিতরা) ভারতের উলেমাদের সামনে কোথাও নেই। ওয়াইসি বলেন, “আমরা বলেছি ভারতে উলেমারা কীভাবে কাজ করছেন এবং পাকিস্তান কীভাবে কেবল মিথ্যা প্রচার করছে।
” ওয়াইসি আরও স্পষ্ট করে বলেন যে ২৬/১১-এর পরে এবং পাঠানকোট হামলার পরে ভারত পাকিস্তানের সাথে আলোচনা করেছিল কিন্তু তাতে কিছুই আসেনি, বরং এটি কেবল ক্ষতিই করেছে। ওয়াইসির এই মন্তব্যকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের কঠোর কূটনৈতিক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
মাওবাদীদের নিয়ে সিপিআইএম দল বর্তমানে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার লক্ষ্যে নানাভাবে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে: মফস্বর আলী
written by janatar kalam


