জনতার কলম, ওয়েবডেস্ক, ২৭ আগস্ট:-নেপালে ভয়াবহ ফ্ল্যাশ ফ্লাডের জেরে আটকে পড়া ভারতীয় নাগরিকদের খোঁজ ও উদ্ধারে তৎপরতা বাড়িয়েছে ভারত সরকার। এখনও পর্যন্ত নেপালে থাকা ২৮৮ জন ভারতীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।
নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া ভারতীয়দের মধ্যে ৭৩ জন ত্রিশুলি-১ বিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত ছিলেন। দুর্গত এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় কাঠমান্ডুতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস প্রকল্প কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে নিখোঁজ ভারতীয়দের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে।
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র জানান, কৈলাস মানস সরোবর যাত্রায় যাওয়া তামিলনাড়ুর দুটি পৃথক দলের ৩৭ জন ও ৪৯ জন ভারতীয়ের সঙ্গেও এখনও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া নেপালের রাসুয়া জেলার তিমুরে পশ্চিমবঙ্গের ৩২ জন এবং কেরলের ৩৩ জন ভারতীয় নাগরিকও এখনও যোগাযোগের বাইরে রয়েছেন।
নেপাল সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে আটকে থাকা ভারতীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন এবং তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমস্ত ধরনের প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানান রণধীর জয়সওয়াল।
এদিকে নেপালের উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য ভারত ইতিমধ্যেই ৪৭ টনেরও বেশি জরুরি ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধার ও ত্রাণকাজ আরও দ্রুত করতে বেইলি ব্রিজ পাঠানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
বিদেশ মন্ত্রক একটি ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম চালু করেছে। একইসঙ্গে কাঠমান্ডু ও বেইজিংয়ে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসও ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন চালু করেছে, যাতে আটকে থাকা ভারতীয়দের পরিবার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা পেতে পারেন।
রণধীর জয়সওয়াল আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বুধবার নেপালের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি নেপালের মানুষের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সব ধরনের মানবিক সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, চিনের ভূখণ্ডে আটকে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে আনতেও তৎপর হয়েছে বেইজিংয়ে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস। প্রায় ২০০ জন ভারতীয় নাগরিক নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার জন্য সহায়তা চেয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র।
আটকে থাকা ভারতীয়দের মধ্যে ৯৫ জন বর্তমানে দারচেনে রয়েছেন এবং নেপালে প্রবেশের জন্য হিলসার দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া ৪ জন গিলং সিটিতে এবং ১৩ জন জুথুলপুকে রয়েছেন। তাঁরা সাগা শহরের দিকে এগোচ্ছেন। আরও প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জন ভারতীয়ও সাগার দিকে রওনা দিয়েছেন।
চিনের স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে ভারতীয় দূতাবাস নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং আটকে থাকা ভারতীয়দের নিরাপদে উদ্ধার ও সরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রণধীর জয়সওয়াল।