Home Blog Page 48

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কণ্ঠে ‘সর্বজন হিতায়’ বার্তা, শুরু ইন্ডিয়া-এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬

0

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ‘ইন্ডিয়া-এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬’-এর মূল প্রতিপাদ্য “সর্বজন হিতায়, সর্বজন সুখায়”, যার অর্থ সবার কল্যাণ ও সবার সুখ। এই ভাবনাই মানবকেন্দ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে ভারতের অঙ্গীকারকে তুলে ধরে।

আজ নয়াদিল্লিতে পাঁচ দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন হয়েছে। প্রথম দিন থেকেই ভেন্যুতে উপচে পড়া ভিড় ও দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা গেছে।

সামাজিক মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানান, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিনিধিদের ভারতে আগমন দেশবাসীর জন্য গর্বের বিষয়। তিনি বিশ্বনেতা, শিল্পপতি, উদ্ভাবক, নীতিনির্ধারক, গবেষক ও প্রযুক্তি অনুরাগীদের স্বাগত জানান। তিনি বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিক্ষেত্রে ভারতের দ্রুত অগ্রগতির প্রমাণ এই সম্মেলন, যা বৈশ্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে দেশের যুবসমাজের দক্ষতা ও সক্ষমতাও এই আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্বদরবারে প্রতিফলিত হচ্ছে।

‘ইন্ডিয়া-এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’ গ্লোবাল সাউথে অনুষ্ঠিত প্রথম বৈশ্বিক এআই সম্মেলন। বিশ্বের বৃহত্তম এআই সম্মেলন হিসেবে পরিচিত এই আয়োজনে প্রযুক্তি দুনিয়ার শীর্ষ ব্যক্তিত্ব, শিল্পনেতা, নীতিনির্ধারক ও প্রযুক্তিবিদরা অংশ নিচ্ছেন। একশোরও বেশি দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং অনলাইনে ইতিমধ্যে দুই লক্ষেরও বেশি মানুষ নিবন্ধন করেছেন।

বিশ্বের ২০টি দেশের শীর্ষনেতারা এই সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ, সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ভিওলা আমহার্ড, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ আল নাহিয়ান, নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুটে, মরিশাসের প্রধানমন্ত্রী প্রভিন্দ জুগনাথ এবং ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে।

সম্মেলনটি তিনটি মূল ‘সূত্র’-এর উপর ভিত্তি করে গঠিত, যা বৈশ্বিক এআই সহযোগিতার নীতিমালা নির্ধারণ করে।

ভারতের উন্নয়নযাত্রায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। সুশাসন জোরদার করা এবং জনসেবা আরও কার্যকর করার ক্ষেত্রে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

প্রথম দিনে ভারত মণ্ডপম ও সুষমা স্বরাজ ভবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আলোচ্যসূচির মধ্যে রয়েছে—এআই যুগে কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ, ভারতের বিচারব্যবস্থায় এআই-এর ব্যবহার, সড়ক নিরাপত্তায় ডেটাভিত্তিক সমাধান এবং স্মার্ট ও টেকসই কৃষিতে এআই-এর ভূমিকা।

এআই-এর কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে ভারত একটি শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক এআই ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে অগ্রাধিকার দিয়েছে। ‘ইন্ডিয়া এআই মিশন’, উন্নত কম্পিউট অবকাঠামো গঠন, দেশীয় এআই মডেল উন্নয়ন এবং বৃহৎ পরিসরে দক্ষতা বৃদ্ধির কর্মসূচির মাধ্যমে দায়িত্বশীল ও বিশ্বাসযোগ্য এআই ব্যবহারের মজবুত ভিত্তি তৈরি করা হচ্ছে।

৮০ শতাংশ কমেছে সহিংসতা, শিগগিরই সম্পূর্ণ শান্তির আশা: অমিত শাহ

0

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, অনুচ্ছেদ ৩৭০ বিলুপ্তির পর কাশ্মীর, উত্তর-পূর্ব এবং মাওবাদী প্রভাবিত এলাকায় সহিংসতা ৮০ শতাংশ কমেছে। তিনি বলেন, খুব শিগগিরই এই অঞ্চলগুলি সম্পূর্ণভাবে সহিংসতামুক্ত হবে।

দিল্লি পুলিশের ৭৯তম প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অমিত শাহ বলেন, ১১টি রাজ্যে বিস্তৃত মাওবাদী সন্ত্রাস দীর্ঘদিন ধরে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে ছিল।

এদিন অমিত শাহ দিল্লি পুলিশ স্পেশাল সেলের ইন্টিগ্রেটেড হেডকোয়ার্টার্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। প্রায় ৩৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ভবনটি মাদক পাচার ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় দেশের অন্যতম আধুনিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এতে থাকবে আধুনিক ইনডোর ফায়ারিং রেঞ্জ, ওয়ার রুম, সাইবার ল্যাব, প্রশিক্ষণ হলসহ অত্যাধুনিক পরিকাঠামো।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল মাদক চক্র, জাল ভারতীয় মুদ্রা চক্র, সাইবার অপরাধ এবং একাধিক বড় সন্ত্রাসী ঘটনার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে গত ১১ বছরে তিনটি নতুন ফৌজদারি আইন চালু হয়েছে, যা দেশের বিচারব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এনেছে।

এদিন অমিত শাহ ‘সেফ সিটি প্রজেক্ট’-এর প্রথম পর্যায়ের উদ্বোধনও করেন। প্রায় ৮৫৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক ইন্টিগ্রেটেড কমান্ড, কন্ট্রোল, কমিউনিকেশন অ্যান্ড কম্পিউটার সেন্টার দিল্লির মানুষের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়।

অনুষ্ঠানে দিল্লি পুলিশ কমিশনার সতীশ গোলচা জানান, ‘নেশা মুক্ত ভারত অভিযান’-এর আওতায় গত বছর দিল্লি পুলিশ ছয় হাজার কিলোগ্রামেরও বেশি মাদকদ্রব্য বাজেয়াপ্ত করেছে। তিনি বলেন, স্পেশাল সেল কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির সমন্বয়ে বিদেশে পলাতক ৩২ জন অপরাধীর বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং গত বছর দুইজন অভিযুক্তকে ভারতে প্রত্যর্পণ করা হয়েছে।

সাইবার অপরাধ দমনে বড় পদক্ষেপ হিসেবে সতীশ গোলচা জানান, এক লক্ষ টাকার বেশি অর্থ জড়িত সাইবার জালিয়াতির ক্ষেত্রে দিল্লি পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এফআইআর নথিভুক্ত করা শুরু করেছে, যা দেশের মধ্যে প্রথম উদ্যোগ।

জাতীয় নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির দেশীয় বিকাশ অপরিহার্য: রাজনাথ সিং

0

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং আজ জোর দিয়ে বলেছেন, জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির দেশীয় উন্নয়ন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বিশেষ করে অ্যারো ইঞ্জিন প্রযুক্তিতে আত্মনির্ভরতা অর্জনের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

আজ বেঙ্গালুরুতে প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও)-র অধীন গ্যাস টারবাইন রিসার্চ এস্টাব্লিশমেন্ট-এ বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে রাজনাথ সিং এ কথা বলেন।

‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রাজনাথ সিং বলেন, দেশীয় যোগাযোগ ব্যবস্থা, নজরদারি সরঞ্জাম ও অস্ত্রের ব্যবহারের মাধ্যমে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় ক্রমবর্ধমান আত্মনির্ভরতার পরিচয় দিয়েছে।

সফরকালে তিনি দেশীয় সামরিক গ্যাস টারবাইন ইঞ্জিন উন্নয়ন সংক্রান্ত চলমান বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তাদের প্রশংসা করে বলেন, আত্মনির্ভর ভারত গড়ে তুলতে গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম আরও জোরদার করা জরুরি।

দিল্লি আদালতের চার্জ ফ্রেম, নির্দোষ দাবি লালু-রাবড়ির

0

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- দিল্লির একটি আদালত আজ কথিত ‘ল্যান্ড-ফর-জবস’ দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন রেলমন্ত্রী লালু প্রসাদ যাদব এবং তাঁর স্ত্রী রাবড়ি দেবী-র বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করেছে।

বিশেষ বিচারক বিশাল গগনে জানান, অভিযুক্ত লালু প্রসাদ যাদব ও রাবড়ি দেবীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। তবে তাঁরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মামলাটি পরবর্তী শুনানির জন্য চলতি মাসের ২৭ তারিখে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

গত মাসে আদালত লালু প্রসাদ যাদব, তাঁর পরিবারের সদস্য ও অন্যান্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দিয়েছিল। এই মামলায় মোট ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে এবং ৫২ জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (সিবিআই)-র চার্জশিটে মোট ১০৩ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল, যার মধ্যে পাঁচ জন ইতিমধ্যেই প্রয়াত হয়েছেন।

নিসাঙ্কার ঝলমলে শতরানে অস্ট্রেলিয়াকে উড়িয়ে সুপার এইটে শ্রীলঙ্কা

0

জনতার কলম স্পোর্টস ডেস্ক :- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাল্লেকেলেতে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুর্দান্ত শতরানের সৌজন্যে অস্ট্রেলিয়াকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে শ্রীলঙ্কা। পাথুম নিসাঙ্কার ঝলমলে ইনিংসেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। এটি চলতি বিশ্বকাপের প্রথম শতরান। টানা তৃতীয় জয়ে শ্রীলঙ্কা সুপার এইটে জায়গা নিশ্চিত করেছে।

১৮২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাথুম নিসাঙ্কা শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাট করেন। প্রথম ওভারেই ফাইন লেগের ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকান তিনি। কুশল পেরেরা দ্রুত আউট হলেও কুশল মেন্ডিসকে সঙ্গে নিয়ে নিসাঙ্কা দলকে শক্ত ভিত গড়ে দেন। পাওয়ারপ্লেতেই শ্রীলঙ্কা তোলে ৬১/১। পরে দু’জনেই অর্ধশতরান পূর্ণ করেন এবং ৯৭ রানের জুটি গড়েন।

মার্কাস স্টয়নিস এই জুটি ভাঙলেও পাভান রাথনায়েকে দ্রুত বাউন্ডারি মেরে রান তোলার গতি বজায় রাখেন। শেষ ছয় ওভারে ৬১ রান দরকার থাকতেই নিসাঙ্কা স্টয়নিসকে এক ওভারে ২০ রান তুলে ম্যাচ শ্রীলঙ্কার দিকেই নিয়ে যান। পরে নাথান এলিসের ওভারে পরপর দুই ছক্কা হাঁকিয়ে নিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক শতরান পূর্ণ করেন নিসাঙ্কা। শেষ পর্যন্ত রাথনায়েকের বাউন্ডারিতে জয় নিশ্চিত হয়।

এর আগে ব্যাট করতে নেমে মিচেল মার্শ ও ট্রাভিস হেড ঝড়ো সূচনা দেন। পাওয়ারপ্লেতে অস্ট্রেলিয়া তোলে ৭০ রান। মার্শ এক ওভারে টানা পাঁচ বাউন্ডারি মারেন মহীশ থিকশানাকে। দু’জনের ১০৪ রানের জুটিতে বড় স্কোরের ভিত তৈরি হয়।

তবে মাঝ ওভারে শ্রীলঙ্কার বোলাররা ঘুরে দাঁড়ান। দুশান হেমন্তা তিনটি উইকেট নেন এবং দুনিথ ওয়েলালাগে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য এনে দেন। গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও জশ ইংলিস কিছুটা লড়াই করলেও নিয়মিত উইকেট পড়ায় রান তোলার গতি কমে যায়। শেষদিকে দুশমন্ত চামিরার দুর্দান্ত বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়া ২০ ওভারে ১৮১ রানে অলআউট হয়।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

অস্ট্রেলিয়া ১৮১ অলআউট (২০ ওভার) – ট্রাভিস হেড ৫৬, মিচেল মার্শ ৫৪; দুশান হেমন্তা ৩/৩৭।

শ্রীলঙ্কা ১৮৪/২ (১৮ ওভার) – পাথুম নিসাঙ্কা ১০০*, কুশল মেন্ডিস ৫১; মার্কাস স্টয়নিস ২/৪৬।

সংবাদমাধ্যমকে ভয় দেখানোর চেষ্টা? বিধায়কের ভূমিকায় প্রশ্ন

0

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- আগরতলার বড়দোয়ালি মিলন সংঘ এলাকায় শনিবার সকালে ঘটে যাওয়া এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিশিষ্ট সাংবাদিক ও দৈনিক আজকের ফরিয়াদ-এর সম্পাদক শানিত দেবরায়ের বাড়ির সামনে সূর্যমণিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক রামপ্রসাদ পাল অনুগামীদের নিয়ে অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হন বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলে রাজপথ অবরোধ করে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়।

অ্যাসেম্বলি অফ জার্নালিস্টস (এওজে)-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রকাশ্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে একজন সাংবাদিককে লক্ষ্য করে হুমকিসূচক মন্তব্য এবং অশালীন ভাষা প্রয়োগ অত্যন্ত নিন্দনীয়। সংগঠনের দাবি, এ ধরনের আচরণ শুধু ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, বরং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক পরিসরের ওপর চাপ সৃষ্টি করার সামিল।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ঘটনাস্থলে বিধায়ক এমন মন্তব্য করেন যাতে শানিত দেবরায়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। বিষয়টি দ্রুত সাংবাদিক মহলে ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন সংগঠন সরব হয়ে ওঠে। এওজে এক বিবৃতিতে জানায়, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বা পেশীশক্তির প্রদর্শন করে সংবাদমাধ্যমকে চুপ করিয়ে দেওয়ার যে কোনও চেষ্টা প্রতিহত করা হবে।

ঘটনার জেরে সাংবাদিকদের এক প্রতিনিধি দল পুলিশ মহানির্দেশকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলে। পুলিশ প্রশাসনের তরফে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে শানিত দেবরায় পশ্চিম আগরতলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি এফআইআরের কপি রাজ্যপাল এবং পুলিশ মহানির্দেশকের কাছেও প্রেরণ করেছেন। বিধায়কের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

এই ঘটনার পর রাজ্যের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিক সংগঠন ঐক্যবদ্ধভাবে শানিত দেবরায়ের পাশে থাকার কথা জানিয়েছে। সাংবাদিক সমাজের বক্তব্য, গণতান্ত্রিক কাঠামোয় সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব, এবং সেই প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না।

উন্নয়নের কারিগর ইঞ্জিনিয়াররা, সমাজসেবাতেও এগিয়ে: মুখ্যমন্ত্রী

0

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- প্রকৌশলীরা হলেন আধুনিক ভারতের স্থপতি। পরিকাঠামোগত নক্সা তৈরি থেকে শুরু করে তার রূপায়ণ এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির বিকাশে প্রকৌশলীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তারা হলেন আধুনিক পরিকাঠামো নির্মাণের কারিগর। আজ সুকান্ত একাডেমির অডিটোরিয়ামে এসোসিয়েশন অব সার্ভিস ইঞ্জিনীয়ার্স অব ত্রিপুরা -এর যন্ত্র দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সম্মেলন এবং রক্তদান শিবিরের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা) মানিক সাহা এ কথা বলেন।

 

অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ইঞ্জিনীয়ারগণ পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সামাজিক দায়কতাও পালন করছেন যা খুবই প্রশংসনীয়। দেশের সার্বিক উন্নয়নে প্রকৌশলীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আমাদের রাজ্যেও প্রতিভাবান দক্ষ ইঞ্জিনীয়ার রয়েছেন। তারা রাজ্যে সার্বিক উন্নয়নে নিজেদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে প্রতিনিয়ত রাজ্যের উন্নয়নে কাজ করছেন। তিনি বলেন, বর্তমান যুগ কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার যুগ। তাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের আরও দক্ষ করে তুলতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রক্তদানের মত সামাজিক কাজের কোনো বিকল্প নেই। রক্তদান মানুষের জীবন বাঁচানোর এক অনন্য প্রয়াস। তিনি বলেন, বর্তমানে রাজ্যে ১২টি সরকারী ও দুটি বেসরকারী ব্লাড ব্যাঙ্ক রয়েছে। রক্তদানে নিজেদের এগিয়ে আসতে এবং অন্যদেরও উৎসাহিত করতে মুখ্যমন্ত্রী সবার প্রতি আহ্বান জানান।

 

অনুষ্ঠানে সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য বলেন, ইঞ্জিনীয়ারগণ দায়িত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে তাদের কাজ করে যাচ্ছেন। পেশাগত কাজের বাইরে এসে রক্তদানের মত সামাজিক কর্তব্য পালন অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বর্তমান রাজ্য সরকার মানবিক ভূমিকা নিয়ে ত্রিপুরাকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের সচিব অভিষেক সিং। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সোনা রঞ্জন দেববর্মা। ধন্যবাদসূচক বক্তব্য রাখেন লক্ষণ সরকার। সংগঠনের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ১ লক্ষ টাকা দান করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী রক্তদান শিবির পরিদর্শন করেন এবং রক্তদাতাদের উৎসাহিত করেন।

১,৬৭৮ ভোটারের সিদ্ধান্তে গঠিত হবে নতুন বার কাউন্সিল

0

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- ত্রিপুরা বার কাউন্সিল নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শনিবার শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হচ্ছে। সকাল ৯টা থেকে আগরতলায় ত্রিপুরা হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। প্রথম দিকে ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম থাকলেও সকাল ১০টার পর থেকে আইনজীবীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে থাকে।

নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার বিচারপতি এস সি দাস সাংবাদিকদের জানান, নির্বাচনী প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে চলছে এবং কোথাও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর নেই। আগরতলায় ত্রিপুরা হাইকোর্ট চত্বরে মোট সাতটি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এই কেন্দ্রগুলিতে একযোগে ভোটগ্রহণ চলছে।

শুধু আগরতলা নয়, রাজ্যের অন্যান্য মহকুমা ও শহর মিলিয়ে মোট নয়টি জায়গায় ভোটকেন্দ্র খোলা হয়েছে। এই কেন্দ্রগুলি হল বিশালগড়, সোনামুড়া, উদয়পুর, বেলোনিয়া, খোয়াই, কৈলাসহর, কমলপুর ও ধর্মনগর। প্রতিটি কেন্দ্রে আলাদা করে রিটার্নিং অফিসার, পোলিং অফিসার ও অবজার্ভার নিয়োগ করা হয়েছে। নির্বাচন পরিচালনায় যুক্ত সকল আধিকারিককে আগেভাগেই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

রিটার্নিং অফিসারের মতে, বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যারা ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করবেন, তারা ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। ভোটগ্রহণ শেষ হলে ব্যালট বক্স সিল করে নিরাপত্তার সঙ্গে সংরক্ষণ করা হবে।

এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১,৬৭৮ জন। এর মধ্যে শুধুমাত্র আগরতলায় ভোটার রয়েছেন ১,১৯১ জন। এই নির্বাচনের মাধ্যমে মোট ১১ জন প্রার্থী ত্রিপুরা বার কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হবেন।

নির্বাচন সংক্রান্ত যাবতীয় প্রক্রিয়া সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা মেনেই পরিচালিত হচ্ছে। ত্রিপুরা ছাড়াও দ্বিতীয় ধাপে অন্ধ্রপ্রদেশ ও দিল্লিতে একসঙ্গে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

রিটার্নিং অফিসার জানান, আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত হাই পাওয়ার কমিটি এবং দুইজন কাউন্টিং এক্সপার্ট রাজ্যে আসবেন। ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ভোট গণনার কাজ শুরু হবে। নির্বাচন পরবর্তী ফলাফল নিয়ে আইনজীবী মহলে কৌতূহল ও আগ্রহ তুঙ্গে।

আসামে ৫,৪৫০ কোটির প্রকল্প উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর, ব্রহ্মপুত্রে নতুন সেতু ও ই-বাস পরিষেবার সূচনা

0

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- আসামে আজ ৫,৪৫০ কোটিরও বেশি টাকার একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গুয়াহাটি-তে ব্রহ্মপুত্র নদীর উপর নির্মিত কুমার ভাস্কর বর্মা সেতুর উদ্বোধন করেন তিনি। প্রায় ৩,০০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতু গুয়াহাটি ও উত্তর গুয়াহাটিকে যুক্ত করবে।

সেতু উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী কাছের লাচিত ঘাট এলাকায় যান এবং সেখান থেকে ভার্চুয়ালি Indian Institute of Management Guwahati-এর অস্থায়ী ক্যাম্পাস ও কামরূপ জেলার আমিনগাঁওয়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জাতীয় ডেটা সেন্টারের উদ্বোধন করেন।

এদিন প্রধানমন্ত্রী পিএম ই-বাস সেবা প্রকল্পের আওতায় দেশের চারটি শহরে ২২৫টি ইলেকট্রিক বাসের সূচনা করেন। এর মধ্যে গুয়াহাটির জন্য ১০০টি, নাগপুর ও ভাবনগর-এর জন্য ৫০টি করে এবং চণ্ডীগড়-এর জন্য ২৫টি বাস বরাদ্দ করা হয়েছে।

এর আগে দিনের শুরুতে ডিব্রুগড় জেলায় মোরান বাইপাসে জাতীয় সড়কের উপর নির্মিত জরুরি অবতরণ সুবিধা (Emergency Landing Facility) উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই পরিকাঠামো উদ্বোধনের পর তিনি যুদ্ধবিমান, পরিবহন বিমান ও হেলিকপ্টারের আকাশ প্রদর্শন প্রত্যক্ষ করেন।

দিনব্যাপী সফরে থাকা প্রধানমন্ত্রী পরে গুয়াহাটিতে ‘বুথ বিজয় সংকল্প সভা’-য় ভাষণ দেন। তিনি বলেন, আসামসহ সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চল ভারতের ‘অষ্টলক্ষ্মী’। তাঁর দাবি, গত ১১ বছরে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উন্নয়নে ঐতিহাসিক ভূমিকা নিয়েছে, যেখানে আগের কংগ্রেস সরকারের সময় এই অঞ্চল অবহেলিত ছিল।

প্রধানমন্ত্রী জানান, গত ১১ বছরে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জন্য ৫.৫ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং পরিকাঠামো উন্নয়নে অভূতপূর্ব অগ্রগতি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলেই আসাম দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গ্রোথ ইঞ্জিন হিসেবে উঠে এসেছে।

সংযোগ ব্যবস্থা ও পরিকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই সরকারের লক্ষ্য বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে কর বণ্টনের আওতায় আসামের জন্য রেকর্ড ৪৯,৭২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। রাজ্যে নদী পর্যটন পরিকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।