জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- অবশেষে লেইক চৌমুহনী বাজারের অবৈধ দোকানপাট ভেঙে গুড়িয়ে দিলো আগরতলা পুরনিগম কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার সাত সকাল থেকে শুরু হয়েছে এই ভাঙ্গনের কাজ। সবজি বাজারের পাশাপাশি মাছ বাজারেরও দোকানপাট এদিন ভেঙে ফেলা হয়। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আগাম কিছু না জানিয়েই এই ভাঙ্গনের কাজ শুরু করে পৌরনিগম কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার সকালে ব্যবসা করার উদ্দেশ্যে তারা বাজারে এসে দেখেন তাদের দোকানপাট ভেঙ্গে গুড়িয়ে ফেলা হয়েছে।
আগরতলা পুরনিগম কর্তৃপক্ষের এই ধরনের উচ্ছেদ অভিযানের তীব্র প্রতিবাদ জানান তারা। এক মৎস্য ব্যবসায়ী জানান, বিগত ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে লেইক চৌমুহনী বাজারের মাছ বাজার অংশে ব্যবসা করে আসছেন তারা। দোকানপাট নিয়ে উনার বাবা কোন কাগজপত্র করে যাননি। বাবার অবর্তমানে তিনি ব্যবসা করে সংসারের হাল ধরে আছেন। কংগ্রেস এবং সিপিআইএম এর আমল থেকেই ব্যবসা করছেন তিনি। সেসময় সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে কোন আশঙ্কা দেখা দেয় নি। তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, বিজেপি সরকার আসার পর তাদের উচ্ছেদের শিকার হতে হল। এই অবস্থায় কি করে সংসার প্রতিপালন করবেন তা ভাবতেই পারছেন না বলে জানান তিনি।
এদিন সকালে স্বামীর কাছ থেকে উচ্ছেদ অভিযানের খবর পেয়ে অসুস্থ শরীর নিয়েই লেইক চৌমুহনী বাজারে ছুটে আসেন এক মহিলা।দীর্ঘদিনের দোকান ঘর গুঁড়িয়ে দেওয়ার দৃশ্য দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি তিনি। এই মহিলা জানান ,উনার স্বামী অসুস্থ। তিনি নিজেও অসুস্থ। সংসারের হাল ধরে রাখতে এই দোকান ঘরটি একমাত্র তাদের উৎস ছিল। এই অবস্থায় সংসার কিভাবে প্রতিপালন করবেন তা ভাবতে গিয়ে কেদে ফেলেন এই মহিলা।
প্রসঙ্ত, উল্লেখ্য যে, আগরতলা পুর নিগমের এই উচ্ছেদ অভিযানে লেইক চৌমুহনী বাজারের সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা প্রকারান্তরে বর্তমান আগরতলা পুরনিগমের উপর দোষ চাপিয়ে দিতে চাইলেও আজকের এই অবস্থার সূত্রপাত কিন্তু শুরু হয়েছিল প্রায় তিন দশক পূর্ব থেকেই। তথ্যভিজ্ঞ মহলের অভিমত, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অনেকেই অবৈধভাবে লেইক চৌমুহনী বাজারে ঘর নির্মাণ করে ব্যবসা শুরু করেন। এই সময় পুরনিগম কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে নীরব ভূমিকা পালন করে।এতে ব্যবসায়ীরাও কিন্তু উৎসাহ বোধ করেন।বিষয়টি নিয়ে বর্তমান নিগম কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসতেই আঁতে ঘা লাগছে শুরু করে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের। এদিন হতাশাগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের অনেকেই বিকল্প ব্যবস্থা করে দেওয়ার দাবি উত্থাপন করেন। এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিধায়ক তথা আগরতলা পুরনিগমের মেয়র দীপক মজুমদার কি ভূমিকা পালন করেন সেটাই এখন দেখার।
Leave feedback about this