Home রাজ্যতেলিয়ামুড়ায় বন্য হাতির তাণ্ডব, আতঙ্কে রাত কাটাচ্ছেন গ্রামবাসীরা

তেলিয়ামুড়ায় বন্য হাতির তাণ্ডব, আতঙ্কে রাত কাটাচ্ছেন গ্রামবাসীরা

by janatar kalam

জনতার কলম, আগরতলা, ৬জুলাই :-খোয়াই জেলার তেলিয়ামুড়া মহকুমার একাধিক গ্রামে বন্য হাতির বারবার হানায় চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বাসিন্দারা। কৃষ্ণপুর, চাম্পলাই, অফিস টিলা ও চকমাঘাট-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই রাতের অন্ধকারে হাতির পাল লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। ফলে ঘরবাড়ি, ফসল এবং মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।

স্থানীয়দের দাবি, কৃষ্ণপুর গ্রামের প্রায় ৭০টি পরিবার প্রতি রাতেই টিনের কৌটো বাজিয়ে, টর্চের আলো জ্বালিয়ে এবং দলবদ্ধভাবে পাহারা দিয়ে হাতির পাল তাড়ানোর চেষ্টা করেন। তবুও হাতির উপদ্রব কমছে না। বছরের পর বছর ধরে এই সমস্যা চললেও এখনও পর্যন্ত স্থায়ী সমাধান মেলেনি বলে অভিযোগ গ্রামবাসীদের।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, বনদপ্তর বিভিন্ন সময়ে হাতির অনুপ্রবেশ ঠেকাতে উদ্যোগ নিলেও তা সাময়িক স্বস্তি ছাড়া আর কিছুই দিতে পারেনি। হাতির হানায় বহু কাঁচা ও পাকা বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি ধান, ভুট্টাসহ বিভিন্ন কৃষিজ ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চাষিরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অতীতে এই মানব-হাতি সংঘাতের জেরে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

প্রভাবিত এলাকার অধিকাংশ মানুষ কৃষির উপর নির্ভরশীল। বারবার ফসল নষ্ট হওয়ায় অনেক কৃষক চাষাবাদ ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভাবছেন। এতে তাদের জীবিকা চরম সংকটের মুখে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রের মতে, আঠারোমুড়া পাহাড়ের জঙ্গলে খাদ্যের অভাব এবং বনাঞ্চলের পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে হাতির পাল খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে চলে আসছে। ফলে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাত আরও বেড়ে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু হাতির প্রবেশ রোধ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। বনাঞ্চলে হাতির খাদ্যের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, হাতির চলাচলের করিডর সংরক্ষণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে দ্রুত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার মতো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করাও জরুরি।

এদিকে স্থানীয় বিধায়ক তথা জনজাতি কল্যাণমন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা বিষয়টি নিয়ে বনদপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। গ্রামবাসীদের আশা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে এই দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।

You may also like

Leave a Comment

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy