জনতার কলম ওয়েবডেস্ক, ৬জুলাই :- কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সমবায়মন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, সংস্কার, ডিজিটালাইজেশন এবং পেশাদার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশের সমবায় আন্দোলন এখন সম্প্রসারণের নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। আজ সমবায় মন্ত্রকের পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
অমিত শাহ জানান, দেশের প্রতিটি অঞ্চলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সেরা পাঁচটি সমবায় প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য একটি নতুন র্যাঙ্কিং ফ্রেমওয়ার্ক চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সফল সমবায় সংস্থাগুলোর কাজ তুলে ধরা হবে, যাতে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোও অনুপ্রাণিত হয়।
তিনি বলেন, রাজ্যগুলির গৃহীত মডেল উপ-আইনের মাধ্যমে প্রাইমারি অ্যাগ্রিকালচারাল ক্রেডিট সোসাইটি (PACS)-এর কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করে সেগুলোকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কৃষকদের জৈব কৃষিপণ্য উৎপাদন বাড়ানো এবং রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার কমানোর আহ্বান জানান তিনি।
অমিত শাহ বলেন, গত পাঁচ বছরে “সহযোগিতার মাধ্যমে সমৃদ্ধি” মন্ত্রকে সামনে রেখে সমবায় মন্ত্রক দেশের কোটি কোটি মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। বর্তমানে দেশের প্রায় ৩০ কোটি মানুষ এবং ৮ লক্ষ ৫০ হাজারেরও বেশি সমবায় প্রতিষ্ঠান এই খাতের সঙ্গে যুক্ত। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্যোগেই কেন্দ্রে একটি স্বতন্ত্র সমবায় মন্ত্রক গঠিত হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, গত পাঁচ বছরে সমবায় ব্যবস্থাকে আধুনিক, স্বচ্ছ, প্রযুক্তিনির্ভর এবং প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বীজ উৎপাদনের ক্ষেত্রে গঠিত ন্যাশনাল কো-অপারেটিভ কমিটি আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশের বৃহত্তম বেসরকারি বীজ উৎপাদনকারী সংস্থা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। এর মূল লক্ষ্য হবে কৃষকদের ভেজালমুক্ত ও উন্নতমানের বীজ সরবরাহ, অধিক ফলনশীল নতুন জাতের বীজের উন্নয়ন ও বিতরণ এবং ভারতের ঐতিহ্যবাহী দেশীয় বীজ সংরক্ষণ।
তিনি বলেন, ত্রিভুবন কো-অপারেটিভ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যাংকিং, দুগ্ধ, বিপণন, কৃষি, সারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষ পেশাজীবী তৈরি করা হবে। যোগ্যতার ভিত্তিতে তাঁদের নিয়োগ করা হবে এবং ধাপে ধাপে প্রাথমিক সমবায় সমিতি থেকে শীর্ষস্তরের প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত পেশাদার ব্যবস্থাপনা চালু করা হবে। এর ফলে নিয়োগে স্বচ্ছতা, কাজের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং দুর্নীতির ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকীতেও শ্রদ্ধা জানান অমিত শাহ। তিনি বলেন, ড. মুখোপাধ্যায় তাঁর সারাজীবন ভারতীয় সংস্কৃতি, মাতৃভূমির প্রতি শ্রদ্ধা এবং জাতীয় চেতনা জাগিয়ে তুলতে কাজ করেছেন। একইসঙ্গে তিনি “এক দেশ, এক সংবিধান, এক প্রধানমন্ত্রী ও এক পতাকা”র আদর্শের প্রবক্তা ছিলেন বলেও উল্লেখ করেন।