Home Blog Page 4

‘মন কি বাত’-এ ত্রিপুরার বাঁশশিল্পের প্রশংসায় মোদি

0

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর জনপ্রিয় রেডিও অনুষ্ঠান ‘মন কি বাত’-এর ১৩৩তম পর্বে রবিবার ত্রিপুরার ঐতিহ্যবাহী বাঁশের হস্তশিল্পকে জাতীয় স্তরে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেছেন। তিনি রাজ্যের কারিগরদের দক্ষতা ও সৃজনশীলতার প্রশংসা করে বলেন, পরিবেশবান্ধব এইসব পণ্যের চাহিদা এখন মুম্বই ও দিল্লির মতো বড় শহরগুলোতেও দ্রুত বাড়ছে।

প্রধানমন্ত্রী কারিগরদের দেশীয় বাজারের গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের কাজ তুলে ধরার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “ত্রিপুরার বাঁশের শিল্প আমাদের ঐতিহ্যের প্রতিফলনই নয়, এটি টেকসই জীবিকারও এক গুরুত্বপূর্ণ পথ। এই শিল্প বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য।”

মোদির এই মন্তব্যে ত্রিপুরাজুড়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। রাজ্যের প্রশাসন ও স্থানীয় কারিগররা এটিকে বড় প্রেরণা এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন দ্বার হিসেবে দেখছেন। ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকার বাঁশভিত্তিক শিল্পের প্রসারে কাজ করছে, আর প্রধানমন্ত্রীর এই স্বীকৃতি রপ্তানি বাড়ানো ও গ্রামীণ কর্মসংস্থান শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

রবিবারের ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে এছাড়াও আসন্ন জনগণনা ২০২৭, কালপাক্কমে ভারতের পারমাণবিক সাফল্য এবং ভগবান বুদ্ধের শিক্ষার প্রাসঙ্গিকতা নিয়েও আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তবে ত্রিপুরার জন্য তাঁর এই বিশেষ উল্লেখ রাজ্যের শিল্পীদের জন্য নতুন আশার আলো ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে এগিয়ে যাওয়ার উৎসাহ জুগিয়েছে।

মোদির মুখে ত্রিপুরার সাফল্য, গর্বের মুহূর্ত বললেন রাজীব

0

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘মন কি বাত’-এর ১৩৩তম পর্বে ত্রিপুরার ঐতিহ্যবাহী বাঁশ শিল্পের উল্লেখকে রাজ্যের জন্য গর্বের মুহূর্ত বলে অভিহিত করলেন ত্রিপুরা বিজেপির সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য।

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “আবারও প্রধানমন্ত্রীর কথায় উঠে এসেছে ত্রিপুরার গর্ব। তাঁর ভাষণে আমাদের বাঁশ শিল্পের ধারাবাহিক অগ্রগতি ও বিকাশের কথা তুলে ধরা হয়েছে, যা রাজ্যের শিল্প ও সংস্কৃতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।”

এদিন বধারঘাট মণ্ডলের উদ্যোগে চারিপাড়া স্কুলের হলঘরে বুথ নম্বর ২৪-এ ‘মন কি বাত’ শোনার আয়োজন করা হয়। এতে দলীয় কর্মী, সমর্থক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। উপস্থিত ছিলেন সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য, বিধায়ক মীনা রাণী সরকার, মণ্ডল সভাপতি মনীশ দেবসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনেন সবাই, যা ত্রিপুরার জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

রাজীব ভট্টাচার্য আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে ত্রিপুরার দুইজন কারিগরের নাম উল্লেখ করা রাজ্যের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয় এবং তাদের অবদানের বড় স্বীকৃতি। তিনি বলেন, “এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বাঁশ শিল্পের প্রতি আগ্রহ বাড়বে এবং এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কারিগররা নতুন করে অনুপ্রাণিত হবেন। আমরা আশা করছি, ত্রিপুরার বাঁশ শিল্প জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে আরও বেশি পরিচিতি পাবে।”

অনুষ্ঠানটি ঘিরে এলাকায় এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। উপস্থিত সকলেই প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে অনুপ্রাণিত হন বলে জানান আয়োজকরা। ত্রিপুরার জন্য ‘মন কি বাত’-এ বাঁশ শিল্পের এই গুরুত্ব পাওয়া একদিকে যেমন সাংস্কৃতিক স্বীকৃতি, তেমনি অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের ইঙ্গিত—যা দেশের আত্মনির্ভরতা ও টেকসই উন্নয়নের পথে রাজ্যের ভূমিকা আরও দৃঢ় করবে।

নারী শক্তি বিলকে কেন্দ্র করে আগরতলায় বিক্ষোভ, কুশপুতুল দাহ রাহুল গান্ধীর

0

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- নারী শক্তি আধিনিয়ম বিল নিয়ে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের অবস্থানের প্রতিবাদে শনিবার আগরতলায় বিক্ষোভ মিছিল করল শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দলের মহিলা শাখা মহিলামোর্চার উদ্যোগে আয়োজিত এই মিছিলে হাজার হাজার কর্মী অংশ নেন।

মিছিল চলাকালীন অংশগ্রহণকারীরা বিরোধী জোট ও লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে স্লোগান তোলেন। প্রতিবাদের অংশ হিসেবে রাহুল গান্ধীর কুশপুতুল দাহও করা হয়।

এদিন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা বলেন, নারী শক্তি আধিনিয়ম বিলটি আগে পাস হলেও কার্যকর হওয়ার আগে কিছু সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। তিনি জানান, “প্রধানমন্ত্রী বিলটির বাস্তবায়ন দ্রুত করতে চেয়েছিলেন এবং সীমা নির্ধারণের জন্য ২০১১ সালের জনগণনার তথ্য ব্যবহারের প্রস্তাব দেন। কিন্তু কংগ্রেস ও তাদের আঞ্চলিক মিত্ররা এর বিরোধিতা করে বিলটি আটকে দেয়।”

মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেন, বিরোধীদের এই অবস্থান নারীদের প্রতি অবিচার এবং সেই কারণেই এই প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে।

অন্যদিকে, বিজেপির ত্রিপুরা প্রদেশ সভাপতি ও রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য অভিযোগ করেন, ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণের লক্ষ্যে আনা এই বিলটি বিরোধীদের কারণে কার্যকর হতে পারেনি। তাঁর মতে, বিলটি পাস হলে সংসদ ও রাজ্য বিধানসভায় নারীরা যথাযথ রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব পেতেন।

বিজেপি ত্রিপুরা মহিলামোর্চার সভাপতি ও প্রাক্তন বিধায়ক মিমি মজুমদারও বিরোধীদের কড়া সমালোচনা করে বলেন, তাদের অবস্থানের ফলে নারীদের অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছে।

শহরের বিভিন্ন এলাকায় এই প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণকারীরা প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে বিরোধী জোটের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন, যার ফলে আগরতলায় রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ে।

ছবিমুড়া পর্যটন কেন্দ্রে তালা,পর্যটন ব্যবস্থাপনায় হস্তক্ষেপ তিপ্রা মথার

0

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- শনিবার ত্রিপুরার জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র ছবিমুড়ার ব্যবস্থাপনা দখল করে নেন তিপ্রা মথা দলের শতাধিক কর্মী। তাদের দাবি, পর্যটন কেন্দ্রটি ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়া অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (টিটিএএডিসি)-এর আওতায় পড়ায় এর পরিচালনার দায়িত্ব তিপ্রা মথার হাতেই থাকা উচিত, কারণ বর্তমানে ADC-তে তারাই ক্ষমতায় রয়েছে।

এদিন তিপ্রা মথার সমর্থকরা ব্যবস্থাপনা কমিটির অফিসের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন এবং জানিয়ে দেন, বর্তমান কমিটির কোনো সদস্যকে অফিসে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। তবে দূর-দূরান্ত থেকে আগত পর্যটকদের প্রবেশে কোনো বাধা সৃষ্টি করা হবে না বলেও তারা স্পষ্ট করেছেন।

ছবিমুড়া তার ১৫-১৬ শতকের বিশাল পাথর খোদাইয়ের জন্য বিখ্যাত, যেখানে খাড়া বেলেপাথরের পাহাড়ে খোদাই করা রয়েছে প্রায় ২০ ফুট উঁচু দুর্গা মূর্তিসহ একাধিক হিন্দু দেবদেবীর প্রতিচ্ছবি। এই অনন্য শিল্পকর্ম এবং দীর্ঘ নৌভ্রমণের অভিজ্ঞতার জন্য ছবিমুড়াকে অনেকেই ‘ত্রিপুরার অ্যামাজন’ বলেও অভিহিত করেন।

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তিপ্রা মথার এক কর্মী জানান, “২০১৮ সাল থেকে বিজেপি নেতৃত্বাধীন একটি কমিটি ছবিমুড়ার দায়িত্বে রয়েছে। ২০২৬ সাল পর্যন্ত পুরো নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে ছিল। যেহেতু এটি টিটিএএডিসি-র অন্তর্ভুক্ত এবং বর্তমানে ADC-তে আমাদের দল ক্ষমতায়, তাই এই পর্যটন কেন্দ্র পরিচালনার অধিকার আমাদেরই থাকা উচিত।”এই ঘটনায় ছবিমুড়ার স্বাভাবিক কার্যক্রম সেদিনের জন্য ব্যাহত হয় এবং এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

কেওয়াইসি প্রক্রিয়া সহজ করতে সমন্বিত উদ্যোগের ডাক অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের

0

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- সাধারণ মানুষের জন্য কেওয়াইসি (KYC) প্রক্রিয়া আরও সহজ ও ঝামেলামুক্ত করতে সব আর্থিক নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। শনিবার মুম্বইয়ে সেবি (SEBI)-র ৩৮তম প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এই কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী জানান, একটি নাগরিককে যেন একাধিক আর্থিক পণ্য বা প্ল্যাটফর্মে বারবার একই ধরনের যাচাইকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে না হয়, তা নিশ্চিত করা সকল স্টেকহোল্ডারের যৌথ দায়িত্ব। এই লক্ষ্য পূরণে বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর উপর তিনি জোর দেন।

অনুষ্ঠানে সীতারামন সেবির নতুন বিনিয়োগকারী সচেতনতা উদ্যোগ ‘জাগরুক’ (JAGROOK) উদ্বোধন করেন। তিনি বলেন, আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জনসচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সাইবার নিরাপত্তা নিয়েও সতর্কবার্তা দেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনও বড় এক্সচেঞ্জ, ডিপোজিটরি, ক্লিয়ারিং কর্পোরেশন বা বড় ব্রোকারের উপর সফল সাইবার হামলা হলে তা জাতীয় স্তরে বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে, বিনিয়োগকারীদের সম্পদ নষ্ট হতে পারে এবং জনবিশ্বাস নড়বড়ে হয়ে যেতে পারে, যা পুনর্গঠনে বহু বছর লেগে যেতে পারে।

এই ধরনের ঝুঁকি এড়াতে সেবি ও সংশ্লিষ্ট সমস্ত নিয়ন্ত্রিত সংস্থাকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি, আঞ্চলিক ভাষায় বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ব্যাপক জনসচেতনতা প্রচার চালানো এবং ভুয়ো কনটেন্ট বা সরকারি আধিকারিকের নামে প্রতারণামূলক প্রচারের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।

সংগঠন মজবুত করতে জোর, জোট ছাড়াই ভোটে নামবে বিজেপি

0

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- ত্রিপুরায় ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (TTAADC) নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক সমীকরণে বড় বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা। দলের রাজ্য সদর দফতরে একটি সাংগঠনিক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, TTAADC নির্বাচনে একা লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল এবং দল সেই অবস্থানেই অনড় রয়েছে।

ডা. সাহা বলেন, “আমাদের একা লড়াই করার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল এবং আমরা এখনও সেই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করি। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিচার করে ভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচনেও আমরা একাই লড়াই করব।”

উল্লেখ্য, ভিলেজ কাউন্সিল (VC) মূলত গ্রামীণ স্থানীয় স্বশাসিত সংস্থা, যা সাধারণ এলাকার পঞ্চায়েত ব্যবস্থার সমতুল্য। তবে দুই ব্যবস্থার মধ্যে কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। সাধারণ এলাকায় যেখানে তিনস্তর বিশিষ্ট পঞ্চায়েত ব্যবস্থা চালু, সেখানে TTAADC অঞ্চলে একস্তর বিশিষ্ট ভিলেজ কাউন্সিল ব্যবস্থা কার্যকর।

নির্বাচন-পরবর্তী মূল্যায়নে TTAADC এলাকায় দলের সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “যেসব এলাকায় আমরা দুর্বল, সেখানে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে জোরদারভাবে কাজ করা হবে।”

এছাড়াও, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর কিছু ভিলেজ কাউন্সিল অফিস দখল নিয়ে যে অভিযোগ উঠছে, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ডা. সাহা। অভিযোগ রয়েছে, তিপ্রা মথা সমর্থকরা বিভিন্ন VC অফিসে জড়ো হয়ে জোর করে দখল নেওয়ার চেষ্টা করছে।

এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, “কোনও নির্বাচিত সংস্থাকে জোর করে দখল করা যায় না। আইন রয়েছে এবং কোনও অবস্থাতেই আইনভঙ্গ বরদাস্ত করা হবে না। যদি কোনও দল বারবার এ ধরনের কাজ করে, তাহলে মানুষের কাছে তাদের গ্রহণযোগ্যতা কমে যাবে।”

এর আগে মুখ্যমন্ত্রী দলীয় প্রার্থী ও ক্লাস্টার নেতাদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। তিনি জানান, এই বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট নেতাদের কাছ থেকে প্রতিক্রিয়া ও মতামত সংগ্রহ করা।

স্বচ্ছ নিয়োগ থেকে শিক্ষা সংস্কার—TTAADC-র ভবিষ্যৎ রূপরেখা দিলেন প্রদ্যোত

0

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (TTAADC) নিয়ে ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থার রূপরেখা তুলে ধরলেন তিপ্রা মথা পার্টির সুপ্রিমো প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মণ। শনিবার একটি সোশ্যাল মিডিয়া লাইভে তিনি তাঁর পরিকল্পনার কথা জানান এবং আগামী দিনে একাধিক বড় নীতিগত সংস্কারের ইঙ্গিত দেন।

প্রায় ১৩ মিনিটের লাইভ ভাষণে দেববর্মণ বলেন, আগামী ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, যা অনেকের পছন্দ নাও হতে পারে। তবে তিনি আশাবাদী, এই সিদ্ধান্তগুলি ভবিষ্যতের জন্য সঠিক পথ তৈরি করবে। তিনি বিশেষ করে যুবসমাজকে এই পরিবর্তনের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

তিনি জানান, শীঘ্রই নির্বাচিত সদস্যরা (MDC) শপথ নেবেন। তবে তিনি বড় আড়ম্বরপূর্ণ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান না করার পরামর্শ দিয়েছেন। শপথের পর নতুন চিফ এক্সিকিউটিভ মেম্বার (CEM) ও চেয়ারম্যান নির্বাচন করা হবে।

নির্বাচনী প্রচারের সময় উঠে আসা সমস্যাগুলির কথাও তুলে ধরেন দেববর্মণ। তিনি বলেন, পানীয় জলের অভাব ও স্কুলের খারাপ পরিকাঠামো এখনো বড় সমস্যা। “প্রচারের সময় শিশুদের জল চাইতে দেখেছি, যা আমাকে ব্যথিত করেছে,”—বলেন তিনি। যদিও পানীয় জল সরবরাহ সরাসরি TTAADC-র অধীনে নয়, তবুও এই বিষয়ে সামগ্রিক নীতি আনার কথা জানান তিনি।

শিক্ষাক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, খুব শিগগিরই একটি নতুন শিক্ষা নীতি প্রণয়ন করা হবে। পাশাপাশি পানীয় জল ও শিক্ষা নিয়ে সমন্বিত নীতি আনা হবে।

দেববর্মণ স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থার কথাও ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে স্বাধীন বোর্ড গঠন করা হবে এবং সম্পূর্ণ ব্যবস্থাকে পরিষ্কার করা হবে।

এছাড়া ক্রীড়া ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রেও উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। ফুটবল ও ক্রিকেটের পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং শিল্পী, গায়ক ও লোকশিল্পীদের সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

নীতিনির্ধারণে সহায়তার জন্য অবসরপ্রাপ্ত IAS ও TCS আধিকারিকদের নিয়ে একটি থিঙ্ক ট্যাঙ্ক গঠনের কথাও জানান তিপ্রা মথা প্রধান। পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য ভর্তুকিযুক্ত কোচিং সেন্টার চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

সমাজের সব ভাষাভাষী মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেন তিনি।

যুবসমাজের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আগামী ৩০ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে অনেক নতুন পরিবর্তন আসবে, যা ব্যবস্থার ভেতর থেকেই বাধার মুখে পড়তে পারে। এই পরিবর্তন সফল করতে আপনাদের পাশে থাকতে হবে। ”উল্লেখ্য, সদ্য অনুষ্ঠিত TTAADC নির্বাচনে তিপ্রা মথা বড় জয় পেয়ে বিজেপিকে পরাজিত করেছে।

মাটি ধসে চাপা পড়ে মৃত্যু শ্রমিকের, শোকে ভেঙে পড়ল পরিবার

0

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- ত্রিপুরার রাজনগর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সিদ্ধিনগর তহসিলের একিনপুর এলাকায় শুক্রবার রাতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন এক দৈনিক মজুর। মৃতের নাম রতন ভৌমিক (৪৫)।

জানা গেছে, নিজের বাড়ির কাছেই মাটি খোঁড়ার কাজ করছিলেন রতন ভৌমিক। সেই সময় হঠাৎ মাটি ধসে পড়ে তিনি তার নিচে চাপা পড়ে যান। স্থানীয়দের তৎপরতায় দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আধিকারিক সঞ্জয় শীলসহ মহকুমা প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিকরা। পরে জনপথ দফতরের (PWD) একটি ড্রেজার এনে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে দেহ উদ্ধার করা হয়।

রতন ভৌমিকের এই অকাল মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছে তার পরিবার। তিনি পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন। তার পরিবারে রয়েছেন স্ত্রী, পঞ্চম শ্রেণিতে পড়া এক পুত্র এবং দ্বাদশ শ্রেণির এক কন্যা। ঘটনাস্থলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তার স্ত্রী, সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় তিনি অসহায় হয়ে পড়েন।

মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য নিহার নগর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আধিকারিক সঞ্জয় শীল জানিয়েছেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী মৃতের পরিবারকে সবরকম সহায়তা প্রদান করা হবে।

এই ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত আর্থিক সাহায্য ও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।

আলিশান বাসভবন নিয়ে কেজরিওয়ালকে নিশানা বিজেপির

0

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :-দিল্লি সরকারের মন্ত্রী প্রবেশ বর্মা শনিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সাধারণ মানুষের রাজনীতির কথা বললেও কেজরিওয়াল বাস্তবে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন এবং তাঁর নতুন সরকারি বাসভবন নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন।

প্রবেশ বর্মা বলেন, অন্না আন্দোলনের সময় কেজরিওয়াল সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে উঠে এসেছিলেন এবং মহাত্মা গান্ধী, ভগত সিং ও ডঃ বি.আর. আম্বেদকরের আদর্শের কথা তুলে ধরেছিলেন। তিনি দাবি করেন, তখন কেজরিওয়াল একটি হলফনামায় সরকারি বাড়ি, গাড়ি বা বিলাসবহুল সুবিধা গ্রহণ করবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানে সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বিশেষ করে কেজরিওয়ালের নতুন সরকারি বাসভবনকে কেন্দ্র করে সরব হন বর্মা। তাঁর দাবি, লোধি এস্টেটের ৯৫ নম্বর এই বাসভবনটি কোনো সাধারণ মানুষের বাড়ির মতো নয়, বরং একটি বিলাসবহুল হোটেলের স্যুইটের মতো। তিনি এই বাড়িকে ‘শীশ মহল’ বলে কটাক্ষ করেন।

বর্মার বক্তব্য, “যিনি নিজেকে সাধারণ মানুষের নেতা বলে দাবি করেন, তিনি এখন রাজাদের মতো জীবনযাপন করছেন। এতে সমস্যা নেই, কিন্তু তখন ‘আম আদমি পার্টি’ নাম রাখা কতটা যুক্তিযুক্ত?” তিনি আরও তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, দলের নাম ‘আম আদমি পার্টি’র পরিবর্তে ‘আলিশান আদমি পার্টি’ হওয়া উচিত।

এছাড়াও, এই নতুন বাসভবনের খরচ ও অর্থের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিজেপি নেতা। তাঁর দাবি, এই বাড়িতে যে অর্থ ব্যয় হয়েছে, তা সরকারি নয় বরং ব্যক্তিগত। তিনি জানতে চান, এই নির্মাণে কোন সংস্থার অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে, কত টাকা খরচ হয়েছে এবং সেই তথ্য জনসমক্ষে আনা হবে কি না।

প্রবেশ বর্মা আরও বলেন, “যে ব্যক্তি দুই কামরার ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তাঁর এত বিলাসবহুল ‘মহল’ নির্মাণের প্রয়োজন কেন?” তিনি দাবি করেন, এই বিষয়গুলো নিয়ে কেজরিওয়ালের স্পষ্ট জবাব দেওয়া উচিত। এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দিল্লির রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

নতুন ভূমিকায় অশোক লাহিড়ী, মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ

0

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- সদ্য নীতি আয়োগের উপ-চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ অশোক লাহিড়ী। এই সাক্ষাৎ ঘিরে দেশের উন্নয়ন নীতি ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় নতুন দিশা আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

অশোক লাহিড়ী দেশের একজন অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত। তিনি পূর্বে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা (CEA) এবং ১৫তম অর্থ কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্তরেও বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।

নীতি আয়োগে উপ-চেয়ারম্যান পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী থাকলেও, দৈনন্দিন কার্যক্রম ও নীতি নির্ধারণে উপ-চেয়ারম্যানের ভূমিকাই মুখ্য। ফলে অশোক লাহিড়ীর এই নিয়োগকে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, উন্নয়নমূলক প্রকল্প এবং ভবিষ্যৎ নীতি কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অশোক লাহিড়ীর অভিজ্ঞতা নীতি আয়োগের কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করে তুলতে সাহায্য করবে।

নতুন দায়িত্বে যোগ দেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই প্রথম বৈঠক, যা আগামী দিনে দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেই মনে করা হচ্ছে।