Home Blog Page 33

রেল, সড়ক ও বন্দর উন্নয়নে বড় ঘোষণা, কলকাতায় ১৮,৭০০ কোটি টাকার প্রকল্প চালু

0

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- পূর্ব ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে কলকাতায় প্রায় ১৮ হাজার ৭০০ কোটি টাকার একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সড়ক, রেল ও বন্দর অবকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত এই প্রকল্পগুলি পূর্ব ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পে নতুন গতি আনবে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করবে।

তিনি জানান, খড়গপুর-মোরগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে, দুবরাজপুর বাইপাস এবং কংসাবতী ও শিলাবতী নদীর উপর নতুন সেতু নির্মাণের মতো প্রকল্পগুলি রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ আরও উন্নত করবে।

রেল উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইন্ডিয়ান রেলওয়েজকে আধুনিক করার জন্য দেশজুড়ে একটি বড় কর্মসূচি চলছে এবং এই প্রক্রিয়ায় ওয়েস্ট বেঙ্গল যেন পিছিয়ে না পড়ে তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। তিনি কালাইকুন্ডা–কানিমাহুলি রেলপথে অটোমেটিক ব্লক সিগন্যালিং সিস্টেম চালু করেন এবং অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের অধীনে কামাখ্যাগুড়ি, আনারা, তমলুক, হলদিয়া, বরাভূম ও সিউড়ি—এই ছয়টি নবনির্মিত বা আধুনিকীকৃত স্টেশনের উদ্বোধন করেন।

এছাড়া তিনি পুরুলিয়া থেকে দিল্লির আনন্দ বিহার টার্মিনাল পর্যন্ত একটি নতুন এক্সপ্রেস ট্রেনের সূচনা করেন। এর ফলে ঝাড়খন্ড , বিহার , উত্তর প্রদেশ এবং দিল্লিগামী যাত্রীদের যাতায়াত আরও সহজ হবে।

বন্দর উন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কলকাতা পোর্ট ও হলদিয়া ডক কমপ্লেক্স দীর্ঘদিন ধরে পূর্ব ভারতের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে। হলদিয়া ডকে যান্ত্রিকীকরণ প্রক্রিয়া চালু হলে পণ্য ওঠানামার গতি বাড়বে, বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং বাণিজ্য অবকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে।

এই প্রকল্পগুলির মধ্যে কলকাতা ডক সিস্টেমের বাসকিউল ব্রিজ সংস্কার এবং কিডারপুর ডকে পণ্য পরিবহনের সক্ষমতা বাড়ানোর কাজও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন সড়ক, রেল ও বন্দর প্রকল্পগুলি কৃষক, ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে। পাশাপাশি পর্যটন ও স্থানীয় শিল্পের বিকাশেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আধুনিক অবকাঠামো ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠলে উন্নত বাংলার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে এবং ভারতের অগ্রগতিতে রাজ্যের ঐতিহাসিক ভূমিকা আবারও জোরদার হবে।

ডাবল ইঞ্জিন সরকার গঠনের ডাক, মোগার ‘বদলাভ র‍্যালি’তে অমিত শাহ 

0

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- আগামী বছরের পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যের মগা জেলা থেকে নির্বাচনী প্রচারের সূচনা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ । শনিবার কিল্লি চাহলান গ্রামে আয়োজিত ‘বদলাভ র‍্যালি’-তে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানান, জনগণ সুযোগ দিলে আগামী দুই বছরের মধ্যে পাঞ্জাবকে মাদকমুক্ত রাজ্যে পরিণত করবে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।

র‍্যালিতে তিনি আরও ঘোষণা করেন, বিজেপি সরকার গঠিত হলে ধর্মীয় রূপান্তর বা ধর্মান্তর রোধে বিধানসভায় আইন আনা হবে। একই সঙ্গে বর্তমান আম আদমি পার্টির (আপ) সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যে অপরাধ, মাদক সমস্যা, ধর্মান্তর, দুর্নীতি এবং কৃষকদের দুরবস্থা ক্রমশ বাড়ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পাঞ্জাবের জনগণকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাজ্যের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি ফিরিয়ে আনতে বিজেপির ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকার’ গঠন করা জরুরি। এতে কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ে উন্নয়নের গতি আরও বাড়বে বলেও তিনি দাবি করেন।

এদিন বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ১৯৮৪ সালের শিখ দাঙ্গার সঙ্গে জড়িত বহু অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করেছে।

পাঞ্জাবের শিখ গুরু এবং শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অমিত শাহ বলেন, অতীতে বিজেপি পাঞ্জাবের রাজনীতিতে ‘ছোট ভাই’ হিসেবে অংশ নিত। তবে এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বিজেপি রাজ্যে সরকার গঠন করে পাঞ্জাবকে আবারও তার হারানো গৌরব ফিরিয়ে দিতে প্রস্তুত।

শিলচর থেকে ২৩,৫৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের সূচনা করলেন নরেন্দ্র মোদী 

0

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- অসমের শিলচর থেকে মোট ২৩ হাজার ৫৫০ কোটি টাকার একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার কাছাড় জেলার শিলচরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব প্রকল্পের সূচনা করেন।

এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শিলচরের আম্বিকাপুর এলাকায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের ভূমিপূজন সম্পন্ন করেন। এর মধ্যে রয়েছে শিলচর হাই-স্পিড করিডর, শিলচর টাউন ফ্লাইওভার এবং করিমগঞ্জ জেলার পাথারকান্দিতে একটি কৃষি কলেজ স্থাপন। শিলচর হাই-স্পিড করিডর প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২২ হাজার ৮৬৪ কোটি টাকা, শিলচর টাউন ফ্লাইওভারের জন্য প্রায় ৫৬৫ কোটি টাকা এবং পাথারকান্দি কৃষি কলেজের জন্য প্রায় ১২২ কোটি টাকা ব্যয় হবে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ অসমের বারাক ভ্যালি ধীরে ধীরে ভারতের সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু হয়ে উঠছে। তিনি অভিযোগ করেন, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় ধরে কংগ্রেস শাসনে এই অঞ্চলের উন্নয়ন উপেক্ষিত ছিল।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে উত্তর-পূর্বাঞ্চল ভারতের Act East Policy-র নেতৃত্ব দিচ্ছে। শিলচর-শিলং হাই-স্পিড করিডর নির্মাণকে তিনি একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন। প্রায় ১৬৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই করিডরটি উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রথম নিয়ন্ত্রিত প্রবেশাধিকারযুক্ত হাই-স্পিড এক্সপ্রেসওয়ে হবে। এর ফলে গুয়াহাটি থেকে শিলচর যাওয়ার দূরত্ব ও সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। বর্তমানে যেখানে প্রায় সাড়ে আট ঘণ্টা সময় লাগে, সেখানে ভবিষ্যতে প্রায় পাঁচ ঘণ্টায় যাতায়াত সম্ভব হবে।

এছাড়া শিলচরের ট্রাঙ্ক রোডের ক্যাপিটাল পয়েন্ট থেকে রঙ্গিরখাড়ি পয়েন্ট পর্যন্ত জাতীয় সড়ক-৩০৬ এর উপর নির্মিত এলিভেটেড করিডর শহরের যানজট কমাতে সহায়ক হবে। এর ফলে ত্রিপুরা, মিজোরাম এবং মনিপুর এর সঙ্গে যোগাযোগ আরও উন্নত হবে।

প্রধানমন্ত্রী পাথারকান্দিতে নতুন কৃষি কলেজ স্থাপনের ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করেন। এই প্রতিষ্ঠানটি অসমে কৃষি শিক্ষা ও গবেষণাকে শক্তিশালী করবে এবং বরাক উপত্যকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত কৃষি শিক্ষার সুযোগ তৈরি করবে।

বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের নাগরিকদের উপর এর প্রভাব যাতে কম পড়ে, সে জন্য কেন্দ্র সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব থেকে দেশের মানুষকে যতটা সম্ভব সুরক্ষিত রাখা।

দেশজুড়ে পেট্রোল–ডিজেলের পর্যাপ্ত মজুত, গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের

0

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- কেন্দ্রের মিনিস্ট্রি অফ পেট্রোলয়াম এন্ড ন্যাচারাল গ্যাস জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের খুচরা বিক্রয় কেন্দ্র বা পেট্রোল পাম্পে পেট্রোল ও ডিজেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তাই জ্বালানি ঘাটতি নিয়ে অযথা উদ্বিগ্ন না হয়ে সাধারণ মানুষকে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

একটি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে মন্ত্রক জানায়, তাদের নজরে এসেছে যে তামিল নাড়ু এর একটি পেট্রোল পাম্প থেকে কেউ খোলা পাত্রে পেট্রোল নিয়ে যাচ্ছিলেন। এই ধরনের ঘটনা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে সতর্ক করেছে মন্ত্রক।

মন্ত্রক স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, খোলা বা অনুপযুক্ত পাত্রে জ্বালানি নেওয়া বা সংরক্ষণ করা বিপজ্জনক এবং এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। এ ধরনের নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পেট্রোল পাম্পটিকে ইতিমধ্যেই সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও দেশের সব পেট্রোল পাম্প ও ডিলারদের জ্বালানি সরবরাহের সময় কঠোরভাবে নিরাপত্তা নির্দেশিকা মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রক। সতর্ক করে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে কোনও রকম নিয়ম ভঙ্গ ধরা পড়লে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বন্যা-ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যগুলির পাশে কেন্দ্র, এনডিআরএফ থেকে ১,৯১২ কোটি বরাদ্দ

0

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-এর সভাপতিত্বে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি দেশের ছয়টি রাজ্যে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় ১,৯১২.৯৯ কোটি টাকার অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় অনুদন অনুমোদন করেছে। শুক্রবার এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে মিনিস্ট্রি অফ হোম অ্যাফেয়ার্শ ।

জানা গেছে, ২০২৫ সালে বিভিন্ন রাজ্যে বন্যা, হঠাৎ বন্যা (ফ্ল্যাশ ফ্লাড), মেঘভাঙা বৃষ্টি, ভূমিধস এবং ঘূর্ণিঝড় ‘মোন্থা’র প্রভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিপ্রেক্ষিতে এই অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। এই সহায়তা দেওয়া হবে ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফান্ড (এনডিআরএফ) থেকে।

কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, এই অর্থের মধ্যে অন্ধ্র প্রদেশ পাবে ৩৪১.৪৮ কোটি টাকা, ছাত্তিসগড় ১৫.৭০ কোটি টাকা, গুজরাট ৭৭৮.৬৭ কোটি টাকা, হিমাচল প্রদেশ ২৮৮.৩৯ কোটি টাকা, নাগাল্যান্ড ১৫৮.৪১ কোটি টাকা এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু এন্ড কাশ্মীর পাবে ৩৩০.৩৪ কোটি টাকা। এই বরাদ্দ সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্স ফান্ড (এসডিআরএফ)-এ থাকা বছরের শুরুর ব্যালেন্সের ৫০ শতাংশ সমন্বয়ের শর্তে প্রদান করা হবে।

কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় কেন্দ্র সবসময় রাজ্যগুলির পাশে থেকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ইতিমধ্যেই এসডিআরএফের মাধ্যমে ২৮টি রাজ্যকে ২০,৭৩৫.২০ কোটি টাকা এবং এনডিআরএফের মাধ্যমে ২১টি রাজ্যকে ৩,৬২৮.১৮ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও রাজ্য দুর্যোগ প্রশমন তহবিল বা স্টেট ডিজাস্টার মিটিগেশন ফান্ড (এসডিএমএফ) থেকে ২৩টি রাজ্যকে ৫,৩৭৩.২০ কোটি টাকা এবং ন্যাশনাল ডিজাস্টার মিটিগেশন ফান্ড (এনডিএমএফ) থেকে ২১টি রাজ্যকে ১,১৮৯.৫৬ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে বলে কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে।

ত্রিপুরায় বজ্রবিদ্যুৎসহ ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, সতর্কতা জারি আবহাওয়া দফতরের

0
Rain on umbrella background, weather forecast and environmental concept

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- ভারতের আবহাওয়া দফতর India Meteorological Department (আইএমডি) জানিয়েছে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একাধিক রাজ্যের সঙ্গে ত্রিপুরাতেও বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে। দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামীকাল ত্রিপুরা রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সঙ্গে বজ্রপাত এবং দমকা হাওয়া বইতে পারে।

আইএমডি জানিয়েছে, একইসঙ্গে উত্তর-পূর্ব ভারতের অরুণাচল প্রদেশ, আসাম, মেঘালয়া, নাগাল্যান্ড, মনিপুর ও মিজোরাম রাজ্যেও অনুরূপ আবহাওয়া পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়ো হাওয়ার কারণে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

এছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যেমন পাঞ্জাব, উত্তরাখন্ড, সাব-হিমালয়ান ওয়েস্ট বেঙ্গল ও সিকিম এলাকাতেও বজ্রঝড়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে পশ্চিম ভারতের কিছু অংশে তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। বিশেষ করে হিমাচল প্রদেশ, কনকনও গোয়া অঞ্চলে তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বজ্রপাত ও দমকা হাওয়ার সময় খোলা জায়গায় অবস্থান না করার জন্য সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে। কৃষক ও সাধারণ নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সাবধানতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

২০২৮-এর পর ত্রিপুরায় টিপ্রাসা মুখ্যমন্ত্রী গড়ার দাবি প্রদ্যুত দেববর্মার

0

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- ত্রিপুরার আসন্ন টিটিএএডিসি নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে। এ পরিস্থিতিতে তিপ্রা মোথা পার্টির সুপ্রিমো প্রদ্যুত কিশোর মানিক্য দেববর্মা বুধবার গোমতী জেলার কিল্লায় আয়োজিত এক দলীয় সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দাবি করেন, তিপ্রাসা জনগণের ঐক্যবদ্ধ সমর্থন থাকলে ২০২৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর আগরতলা দখল করে রাজ্যে একজন তিপ্রাসা মুখ্যমন্ত্রী গঠন করা সম্ভব।

সমাবেশে তিনি বিজেপির ‘খুমুলুঙ দখল’ করার দাবিকে কটাক্ষ করে বলেন, আসন্ন ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (টিটিএএডিসি) নির্বাচনের ফলাফলই ভবিষ্যতের রাজনীতির দিক নির্ধারণ করবে। তার মতে, এই নির্বাচন আদিবাসী অধিকার রক্ষার লড়াই এবং রাজ্য সরকারের নীতির মধ্যে এক ধরনের রাজনৈতিক পরীক্ষা হয়ে উঠবে।

তিনি বলেন, এই লড়াই মূলত ‘বুবাগ্রা’—অর্থাৎ আদিবাসী জনগণের অধিকার রক্ষার প্রতীকী নেতৃত্ব এবং মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার নেতৃত্বাধীন সরকারের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। জনগণই ঠিক করবেন কার ওপর তারা আস্থা রাখবেন।

বক্তব্যে তিনি কেন্দ্র ও রাজ্যের শাসক দলের ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ স্লোগান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তার অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভিলেজ কমিটির নির্বাচন না হওয়ায় উন্নয়নের অর্থ তৃণমূল স্তরে পৌঁছাচ্ছে না এবং এতে গ্রামীণ জনজাতি এলাকাগুলি বঞ্চিত হচ্ছে।

প্রদ্যুত দেববর্মা আরও দাবি করেন, আসন্ন টিটিএএডিসি নির্বাচনে জয়ের জন্য বিপুল অর্থ ব্যয়ের চেষ্টা হতে পারে। তবে তিনি সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “কেউ যদি টাকা দেয় তা গ্রহণ করলেও ভোট যেন সেই দলকেই দেওয়া হয়, যারা টিপ্রাসা জনগণের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় লড়াই করছে।”

প্রসঙ্গত, ত্রিপুরায় অতীতে আদিবাসী সম্প্রদায় থেকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন সিপিআই(এম)-এর বর্ষীয়ান নেতা দশরত দেব। বর্তমানে টিটিএএডিসির মেয়াদ ২০২৬ সালের ২০ এপ্রিল পর্যন্ত রয়েছে এবং তার আগেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জনজাতি মহিলাদের স্বনির্ভর করতে উদ্যোগ, মোহনপুরে ৬৫০ জনকে সুতো বিতরণ

0

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- রাজ্যের জনজাতি গোষ্ঠীর উন্নয়ন ছাড়া ত্রিপুরার সার্বিক অগ্রগতি সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন ত্রিপুরার কৃষি ও কৃষক কল্যাণমন্ত্রী রতন লাল নাথ। বুধবার মোহনপুরে মুখ্যমন্ত্রী জনজাতি ডেভেলপমেন্ট মিশনের আওতায় জনজাতি মহিলাদের মধ্যে সুতো বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এই কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে মোট ৬৫০ জন জনজাতি মহিলার হাতে সুতো তুলে দেওয়া হয়। এর মধ্যে লেফুঙ্গা ব্লকের ৫৭০ জন এবং মোহনপুরের জনজাতি অধ্যুষিত এলাকার ৮০ জন মহিলা এই সুবিধা পান।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিজেপি জোট সরকার জনজাতি সম্প্রদায়ের উন্নয়নে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তবে বিরোধী দলগুলি উন্নয়নের পথে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তিনি জানান, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য ত্রিপুরা জনজাতি কল্যাণ দপ্তর তিনটি জাতীয় পুরস্কারও অর্জন করেছে।

জনজাতি ছাত্রছাত্রীদের সুবিধা প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার হোস্টেল ভাতা ১০০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করেছে এবং বৃত্তির পরিমাণ ৪০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০০০ টাকা করা হয়েছে। এছাড়াও ছাত্রছাত্রীদের উন্নত শিক্ষার জন্য হোস্টেলগুলিতে স্মার্ট ক্লাসরুম চালু করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ২০১৮ সালে বিজেপি সরকার গঠনের পর থেকে রাজ্যে ২৯টি জনজাতি ছাত্রাবাস নির্মিত হয়েছে, ২২টির নির্মাণকাজ চলছে এবং আরও ৪৮টি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। আগে যেখানে মাত্র চারটি একলব্য মডেল আবাসিক বিদ্যালয় ছিল, বর্তমানে তা বেড়ে ২১টিতে দাঁড়িয়েছে এবং আরও ছয়টি বিদ্যালয়ের কাজ শুরু হচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, জনজাতি মহিলাদের স্বনির্ভর করে তুলতে রাজ্য সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে রাজ্যের প্রায় ৩০ হাজার জনজাতি মহিলাকে সুতো বিতরণ করা হবে, যার জন্য সরকারের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪ কোটি টাকা। পাশাপাশি জনজাতি এলাকার যুবকদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে সিন্থেটিক অ্যাস্ট্রোটার্ফ ফুটবল গ্রাউন্ড নির্মাণের কাজও চলছে।

এছাড়া তিনি জানান, জনজাতি ব্লকগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ওয়ার্ল্ড ব্যাংক প্রায় ১৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরার জনজাতি কল্যাণমন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা সহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

ফটিকরায়ে মনু নদীর উপর পাকা সেতুর কাজ পরিদর্শনে মন্ত্রী সুধাংশু দাস

0

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- ফটিকরায়ের ইন্দিরা কলোনী থেকে সায়দাবাড়ি পর্যন্ত মনু নদীর উপর নির্মীয়মাণ পাকা সেতুর কাজ পরিদর্শন করলেন ত্রিপুরা সরকারের মৎস্য মন্ত্রী সুধাশু দাস। প্রায় ২ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতুর কাজ বর্তমানে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।

বুধবার গ্রামীণ উন্নয়ন দপ্তরের আধিকারিক, পঞ্চায়েতের জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়ে নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। পরিদর্শনের সময় তিনি সেতু নির্মাণের গুণগত মান খতিয়ে দেখেন এবং কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন।

মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকদের নির্দেশ দেন, যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দ্রুত সেতুর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়। তিনি বলেন, এই সেতু নির্মিত হলে ইন্দিরা কলোনী ও সায়দাবাড়ি এলাকার মানুষের মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ হবে।

মন্ত্রী আরও জানান, সেতুটি চালু হলে দুই এলাকার মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ ও সুসম্পর্ক বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি এলাকার কৃষিজীবী মানুষ ও ব্যবসায়ীদের জন্য পণ্য পরিবহন সহজ হবে এবং স্থানীয় বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডও আরও সক্রিয় হয়ে উঠবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।