Monthly Archives
January 2025
জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- চাকরি প্রদানের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করলো এসটিজিটি উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীরা ।মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে প্রায় ২৫ মিনিট বিক্ষোভ প্রদর্শনের পর তাদের গ্রেপ্তার করে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে মুখ রক্ষা করে পুলিশ প্রশাসন। এই ঘটনায় শহরের নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্ন চিহ্নের উদয় হল।
সম্প্রতি সাংবাদিক সম্মেলন করে অবিলম্বে চাকরি প্রদানের দাবি জানিয়েছিল এসটিজিটি কোয়ালিফাইড চাকরি প্রার্থীরা ।অবিলম্বে চাকরির দাবিতে আন্দোলনে নামার কথাও ঘোষণা করেছিল তারা । বৃহস্পতিবার সকালে নিরাপত্তার ফোকর গলে মুখ্যমন্ত্রীর লক্ষীনারায়ণ বাড়ি স্থিত বাসভবনের সামনে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এসটিজিটি উত্তীর্ণ চাকরি প্রার্থীরা। চাকরিপ্রার্থীরা ব্যানার এবং পোস্টার নিয়ে শামিল হয়ে চাকরি প্রদানের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন ।বিক্ষোভ প্রদর্শনকারীকে ঠেকাতে পারেনি নিরাপত্তার কাজে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা। প্রায় ২৫ মিনিট মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন চাকরিপ্রার্থীরা। এরই মধ্যে খবর পেয়ে ছুটে আসে বিশাল পুলিশবাহিনী।
প্রথমে বিক্ষোভকারীদের হটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে পুলিশ কর্মীরা। পরে বিক্ষোভকারীদের গ্রেপ্তার করে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় ।এদিন বিক্ষোভ প্রদর্শনে শামিল এক চাকরি প্রার্থী জানান ,তারা এক একটা দিন ,এক একটা রাত ও প্রতিটি মুহূর্ত যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন ।রাজ্য সরকারের কাছে পর্যাপ্ত শূন্য পদ পড়ে রয়েছে ।অথচ পরীক্ষা দিয়ে যোগ্যতা সম্পন্ন করার পরও তাদের নিয়োগ করা হচ্ছে না ।এই সমস্ত কথা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরার জন্যেই তারা এখানে সামিল হয়েছেন বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য এর আগেও একই দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে টেট উত্তির্ণ সহ বিভিন্ন সংগঠন গুলি ।তখনই নিরাপত্তাজনিত বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠে । মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় ।কিন্তু এত সব ব্যবস্থার পরও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তারা প্রদর্শনকারী মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে সক্ষম হলো । বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :-বাজারে নিত্যদিনের সামগ্রীর পাশাপাশি নকল হল ছাত্রছাত্রীদের পাঠ্য পুস্তকও। এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ পেয়ে রাজধানির বইয়ের দোকানগুলিতে হানা দিল দিল এন সি আর টি কেন্দ্রীয় এবং গুহাটি রিজিওনাল সেন্টারের যৌথ উদ্যোগে গঠিত একটি টিম। অভিযান কালে উদ্ধার হয় প্রচুর পরিমানে নকল বই।
রাজধানী আগরতলাতে বইয়ের দোকানগুলিতে চলছে ভয়ংকর কান্ড, এন সি আর টি অনুমোদন প্রাপ্য বইয়ের জায়গাতে বাজারে বিক্রি হচ্ছে নকল বই। রাজ্য থেকে দীর্ঘদিনের এই অভিযোগ নিয়ে বৃহস্পতিবার রাজধানীর বইয়ের দোকান গলিতে হানা দিল এন সি আর টি কেন্দ্রীয় টিম এবং গুহাটি রিজিওনাল সেন্টারের একটি টিমের যৌথ উদ্যোগে। বাজারে অভিযানের সময় বুক এম্পোরিয়াম সহ নামিদামি বইয়ের দোকানগুলি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে নকল বইগুলিকে, যে বইগুলি রাজ্যের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে পাঠায় বই বিক্রেতারা৷
এর পেছনের মূল উদ্দেশ্য হলো নকল বই বিক্রিতে বেশি মুনাফা লাভ, আর এর ফলে পড়াশোনার ক্ষেত্রে হয়রানির শিকার ছাত্র-ছাত্রীরা। যার ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকা থেকে শুরু করে ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকরা অভিযোগ জানিয়েছেন যার ফলে রাজ্যের বাজারে এই অভিযান। এদিন সংবাদ মাধ্যমকে অভিযানকারী দলের এক সদস্য জানান বাজারে তাদের ডিস্ট্রিবিউটর থাকা সত্ত্বেও বই বিক্রেতারা তাদের কাছ থেকে বই ক্রয় করেন না এরা বেশি মুনাফা লাভের জন্য নকল বই ক্রয় করে বিভিন্ন বিদ্যালয় এবং দোকানপাটগুলিতে পাঠিয়ে থাকেন। এখন অবধি প্রায় ২০ থেকে ২৫ টি দোকানে অভিযান চালানো হয়েছে যার থেকে দুটি দোকানে এই নকল বইগুলি উদ্ধার করা হয়েছে। তার পাশাপাশি তাদের এই অভিযানে রাজ্য পুলিশ প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণের জন্য তাদেরকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর আন্তরিক প্রচেষ্টায় রাজ্যে অঙ্গদান ও অঙ্গ প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া সফল হতে চলেছে
written by janatar kalam
জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবায় আরও একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। আগরতলা গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড জিবিপি হাসপাতালে শীঘ্রই লিভার সহ অন্যান্য অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা হবে। চেন্নাইয়ের মোহন ফাউন্ডেশন রাজ্যের জিবিপি হাসপাতালে লিভার সহ অন্যান্য অঙ্গ প্রতিস্থাপন করার জন্য কাজ করবে। এর ফলে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে। মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহার আন্তরিক প্রচেষ্টায় রাজ্যে অঙ্গদান ও অঙ্গ প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া সফল হতে চলেছে। আজ এক সাংবাদিক সম্মেলনে আগরতলা গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড জিবিপি হাসপাতালের মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট ডা. শংকর চক্রবর্তী একথা জানান। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি জানান, ত্রিপুরার স্বাস্থ্য পরিষেবায় বিশেষ করে অঙ্গ প্রতিস্থাপন করার প্রক্রিয়া আরো বেশি উন্নত করার জন্য চেন্নাই-এর মোহন ফাউন্ডেশন মাল্টি অর্গান হারভেস্টিং নেটওয়ার্কিং প্রতিষ্ঠানটি কাজ করবে। সারা দেশে এমনকি পৃথিবীর উন্নত দেশেও এই প্রতিষ্ঠান সুনামের সাথে কাজ করছে। গতকাল মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডা.) মানিক সাহার পৌরহিত্যে স্টেক হোল্ডারদের নিয়ে একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী এ ব্যাপারে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে আগরতলা গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড জিবিপি হাসপাতালের মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট জানান, ভারতে বহুদিন আগে থেকেই অঙ্গদান ও অঙ্গ প্রতিস্থাপনের কাজ চলে আসছে। আমাদের রাজ্যেও এখন পর্যন্ত সাফল্যের সাথে দুটি কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। একটি কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে গত ৮ জুলাই এবং দ্বিতীয়টি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে গত ১১ নভেম্বর। এই অঙ্গ প্রতিস্থাপন ও অঙ্গদানের কাজকে কিভাবে আরো উন্নত করা যায় তার জন্যই মোহন ফাউন্ডন্ডেশন এর সাথে যৌথ উদ্যোগে রাজ্যে অঙ্গদান এবং অঙ্গ প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া হতে চলেছে। তিনি জানান, দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। আমাদের রাজ্যে অনেকগুলি ট্রমা সেন্টার আছে। জিবিপি হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে ২০২৩ সালে মোট ৯৮ জন মারা গেছেন। ২০২৪ সালে মোট ১১১ জন মারা গেছেন। এদের মধ্যে ভালো অংশের ব্রেন ডেথ হয়েছিল।
এদের অঙ্গগুলি নিয়ে অন্যকে বাঁচানো যায়, ব্রেন ডেথ এর পর মৃত ব্যক্তির অঙ্গ নিয়ে সুস্থ ব্যক্তির দেহে প্রতিস্থাপন করা যায়। তবে এক্ষেত্রে দুটি পরিবারের কাছেই উপযুক্ত সমর্থন থাকা প্রয়োজন। ডা. চক্রবর্তী আরো বলেন রক্তদানের মতোই দেহ দান ও অঙ্গ প্রতিস্থাপনে ত্রিপুরা যাতে এগিয়ে যায় তার জন্য মানুষের সহযোগিতা দরকার। ব্রেন ডেথের পর মৃত ব্যক্তির হার্ট ও কিছু অঙ্গ সচল থাকে যেগুলোকে প্রতিস্থাপন করা যায়। ব্রেন ডেথ পর অঙ্গ প্রতিস্থাপন করতে কিছু আইনি পরামর্শ ও পারিবারিক প্রেরণা একান্ত প্রয়োজন।
সাংবাদিক সম্মেলনে এইমস-এর নিউরো সার্জারি বিভাগের প্রফেসর (ডা.) দীপক গুপ্তা বলেন, ব্রেন ডেথের পর অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে একটি ব্রেন ডেথ কমিটি গঠন করতে হয় এবং চারজন চিকিৎসক দ্বারা ব্রেন ডেথ এর শংসাপত্র প্রদান করতে হয়। কোন ব্যক্তির ব্রেন ডেথ এরপর হার্টবিট চলতে থাকলে, ওই ব্যক্তির হার্ট দান করা যায়। মোহন ফাউন্ডেশন-এর এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর পল্লবী কুমার বলেন, অঙ্গ প্রতিস্থাপন ও অঙ্গদানের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো সাথে সাথে প্রশিক্ষিত ব্যক্তিকে দিয়ে ফ্যামিলি মোটিভেশন করতে হবে। এই ব্যাপারে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রী ও যুব সম্প্রদায় এবং লায়ন্স ক্লাব, রোটারি ক্লাবকেও এই বিষয়ে সচেতনতায় মুখ্য ভূমিকা নিতে হবে। সাংবাদিক সম্মেলনে আগরতলা গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর (ডা.) অনুপ কুমার সাহা বলেন, অঙ্গদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং অঙ্গ প্রতিস্থাপনে আমরা যাতে খুবই দ্রুত এগিয়ে যেতে পারি তার জন্য মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে ও সচেতন করতে হবে। এই ব্যাপারে তিনি মোহন ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ জানান। তাদের সহায়তায় আমাদের রাজ্যে স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নতি ঘটবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর (ডা.) অনুপ কুমার সাহা, নয়াদিল্লিস্থিত এইমস-এর নিউরো সার্জারি বিভাগের প্রফেসর (ডা.) দীপক গুপ্তা, মোহন ফাউন্ডেশন-এর এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর পল্লবী কুমার, ডেপুটি মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট ও জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ডা. কনক চৌধুরী, ডেপুটি মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট ডা. মনিরুল ইসলাম, ডেপুটি মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট ডা. অভিজিৎ সরকার, ডেপুটি ডাইরেক্টর অ্যাডমিনিস্ট্রেশন গিডিয়ান মলসম, ডেপুটি মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট ডা. বিকাশ দেববর্মা সহ অন্যান্য আধিকারিকগণ।
জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- আইজিএম হাসপাতালের চক্ষু বিভাগে গত ২৮ জানুয়ারি চোখের ছানির অস্ত্রোপচার শিবির অনুষ্ঠিত হয়। শিবিরে আইজিএম হাসপাতালের চক্ষু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে চোখের সমস্যা নিয়ে আসা রোগীদের চিকিৎসা করেন। তাতে যাদের চোখের ছানির সমস্যা ছিল তাদেরকে বিনামূল্যে চোখের ছানির অস্ত্রোপচার করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
এদিন মোট ৩৭ জন চোখের ছানি পরা সমস্যার রোগীদের অস্ত্রোপচার করা হয়। এই অস্ত্রোপচারে ছিলেন আইজিএম হাসপাতালের চক্ষু বিশেষজ্ঞ সার্জন ডাঃ মধুসূদন দাস, ডাঃ শিউলি দাস, ডাঃ শ্যামরূপ ভট্টাচার্য প্রমুখ। উক্ত অস্ত্রোপচারে চক্ষু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ দ্বাড়াও এই টিমে সাহায্যকারী হিসেবে ছিলেন নার্সিং অফিসার নূপুর চক্রবর্তী, ভবিতা কলই, নিতু দেববর্মা এবং সুমন ভট্টাচার্য।
চোখের ছানির অস্ত্রোপচারের পর রোগীদেরকে চিকিৎসকগণ চোখের সঠিক যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দেন এবং বিনামূল্যে প্রযোজনীয় ওষুধ ও কালো চশমা প্রদান করেন। ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য অধিকর্তা এক প্রেস রিলিজে এই সংবাদ জানিয়েছেন।
জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- বুধবার ব্যাপক কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে রাজধানীতে নিজেদের ২৪ তম রাজ্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত করল রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল সিপিআইএম। সম্মেলনের মধ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সিপিআইএম পুলিটব্যুরোর সমন্বয়কারী প্রকাশ কারাত, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার এবং সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক তথা বিরোধী দলনেতা জিতেন চৌধুরী রাজ্যের উন্নয়ন এবং সংবিধান সংশোধনীর অভিযোগ সহ বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ নিয়ে রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্যে নিজেদের অভিমত প্রকাশ করেন।
কিন্তু এই বক্তব্যের ২৪ ঘন্টা পেরুতে না পেরুতেই তাদের বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডাক্তার মানিক সাহা। বুধবার বিকেলে হাপানিয়া আন্তর্জাতিক মেলা প্রাঙ্গণে ৩৫ তম শিল্প ও বাণিজ্য মেলার উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন বাম নেতাদের চোখে ছানি পড়েছে। তাই তারা উন্নয়ন দেখতে পাননা। পরামর্শ দিলেন অপারেশন করার ও। কেননা যে বিমানবন্দর দিয়ে তিনি এলেন ও যে রাস্তা দিয়ে দলীয় পতাকা উড়িয়ে এসেছেন সেই রাস্তার উন্নয়ন উনার চোখে পড়েনি?
এছাড়া মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মানিক্য যার নামে এই বিমানবন্দরের নামকরণ হয়েছে উনাকে তাদের 25 বছরের শাসনকালে কোন সম্মানই দেইনি তৎকালীন শাসক দল সিপিআইএম। তাছাড়া এরা বর্তমান সময় থেকে ৫০ বছর পিছিয়ে গিয়েছে এবং বর্তমান শাসক দল বিজেপি ৫০ বছর এগিয়ে রয়েছে তাই এরা রাজ্যের উন্নয়ন লক্ষ্য করতে পারছে না। পাশাপাশি সংবিধান সংশোধনী নিয়ে তিনি বলেন গত ইউপিএ সরকারের আমলে সংবিধানের উপর যে আঘাত এনেছে এরা তা দেশের মানুষ কোনদিন ভুলবে না। ২০১৪ সালে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই সংবিধান রক্ষিত হয়েছে বলে জানান তিনি।
উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির মধ্যে মাথাপিছু গড় আয়ে ত্রিপুরা বর্তমানে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে : মুখ্যমন্ত্রী
written by janatar kalam
জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- রাজ্যের সার্বিক বিকাশে বর্তমান রাজ্য সরকার বহুমুখী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। যেভাবে রাজ্যের উন্নয়নে সরকার কাজ করছে তাতে ত্রিপুরার অগ্রগতি কেউ রোধ করতে পারবেনা। রাজ্যের গড় অভ্যন্তরীণ উৎপাদন আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির মধ্যে মাথাপিছু গড় আয়ে ত্রিপুরা বর্তমানে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। আজ সন্ধ্যায় হাঁপানিয়া আন্তর্জাতিক মেলা প্রাঙ্গণে ৩৫তম শিল্প ও বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা) মানিক সাহা একথা বলেন। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই মেলা আয়োজনের উদ্দেশ্য হল রাজ্যে কি ধরণের পণ্য উৎপাদন হচ্ছে তা প্রদর্শন করা। মানুষ কি ধরণের পণ্য চায় তা জানা। তিনি বলেন, আগের তুলনায় রাজ্যে উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্যের গুণমান অনেক বেড়েছে। শিল্পোদ্যোগীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও বলেছেন, আমরাও পারি এই আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করতে হবে। রাজ্য সরকার চেষ্টা করছে বাইরে থেকে শিল্পোদ্যোগীরা আমাদের রাজ্যে শিল্প গড়ে তুলুক।
রাজ্যের মানুষও যেন শিল্পমুখী হন। রাজ্যের মানুষও আগের তুলনায় অনেক বেশি উদ্যোগী হয়েছেন। এই মানসিকতা আগে ছিলনা। আমিও করতে পারি এই আত্মবিশ্বাস তৈরী হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কর্মপ্রত্যাশী নয়, কর্মসংস্থানকারী হতে হবে। স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য রাজ্য সরকার যুবক যুবতীদের নানাভাবে সাহায্য করছে। ইতিমধ্যেই প্রায় ৫৬ হাজার স্বসহায়ক দল তৈরী হয়েছে। সরস মেলায় দেখা গেছে তাদের উৎপাদিত পণ্যের গুণমান আগের তুলনায় অনেক ভাল হয়েছে। তাদের উৎপাদিত পণ্য বর্হিরাজ্যেও বিক্রি হচ্ছে। তাতে তাদের আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির মধ্যে ত্রিপুরা দ্রুত অগ্রবর্তী রাজ্য হয়ে উঠেছে। তিনি এক ভারত শ্রেষ্ঠ ভারত এবং এক ত্রিপুরা শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন এবং শিল্প ও বাণিজ্য মেলার সাফল্য কামনা করেন।
হাঁপানিয়া আন্তর্জাতিক মেলা প্রাঙ্গণে ১৫ দিনব্যাপী শিল্প ও বাণিজ্য মেলায় ৫৭৬টি স্টল খোলা হয়েছে। এর মধ্যে স্থানীয় স্টল হল ৩৫৪টি, বর্হিরাজ্যের স্টল ১৪৪টি। আফগানিস্থান, তুর্কি এবং দুবাই থেকেও স্টল খোলা হয়েছে। এবার মেলায় ১৭টি রাজ্য থেকে স্টল খোলা হয়েছে। এবারের মেলার মূল ভাবনা হল ‘ডেস্টিনেশন ত্রিপুরা-ল্যান্ড অব অপরচুনিটিস’। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী সান্তনা চাকমা বলেন, রাজ্যে শিল্প স্থাপনের জন্য রাজ্য সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করে কাজ করছে। রাবার, বাঁশ-বেত সহ রাজ্যে যেসব প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে তাকে ভিত্তি করে শিল্প কারখানা গড়ে তোলার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যে নতুন শিল্পনীতি গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন সবার সহযোগিতায় শিল্প ও বাণিজ্য মেলা আরও আকর্ষনীয় হয়ে উঠবে এবং আরও বেশি বাণিজ্য হবে।
শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী বৃষকেতু দেববর্মা বলেন, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে, শিল্প স্থাপনে উৎসাহিত করতে এধরণের মেলার আয়োজন করা হয়। রাজ্য সরকার চাইছে যুবক যুবতীরা যেন নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে। বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দক্ষতা উন্নয়ন, ব্যাম্বো মিশনের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ধূপকাঠি শিল্পে সারা দেশে যত ধূপকাঠির শলা প্রয়োজন তা প্রায় ৬০ শতাংশ আমাদের রাজ্য থেকে রপ্তানী করা হয়। তিনি ১৫ দিনব্যাপী এই মেলার সাফল্য কামনা করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সবাইকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য রাখেন শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের অধিকর্তা বিশ্বশ্রী বি। উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম ত্রিপুরা জিলা পরিষদের সভাধিপতি বলাই গোস্বামী, ত্রিপুরা বিধানসভার উপাধ্যক্ষ রামপ্রসাদ পাল, আগরতলা পুরনিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, বিধায়ক মিনা রাণী সরকার, টিআইডিসি’র চেয়ারম্যান নবাদল বণিক, শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে। শিল্প ও বাণিজ্য মেলা প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর মুখ্যমন্ত্রী সহ অতিথিগণ বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।


