জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :-
মহারাজা বীরবিক্রম বিমানবন্দরে কার্গো পরিষেবা আজ থেকে পুনরায় শুরু হয়েছে। এমবিবি বিমানবন্দরে এক অনুষ্ঠানে পরিবহণ মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী নবনির্মিত কার্গো ভবনের উদ্বোধন করেন। ১ হাজার ২৭২ স্কোয়ার মিটার আয়তন বিশিষ্ট এই কার্গো ভবন নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১৭ কোটি টাকা। আশা করা হচ্ছে প্রতি বছর এর মাধ্যমে মোট ৪০ হাজার ১৫০ মেট্রিকটন পণ্য পরিবহণ করা সম্ভব হবে। যা পূর্বের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বেশি। প্রাথমিকভাবে ইন্ডিগো এই পরিষেবা প্রদানের সাথে যুক্ত হয়েছে।কার্গো ভবনের উদ্বোধন করে পরিবহণ মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বলেন, নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই বিমানবন্দরের বিভিন্ন পরিষেবা দ্রুত শুরু করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যেই আজ থেকে কার্গো পরিষেবা, বিমানবন্দরে প্রিপেইড অটো পরিষেবা প্রদান শুরু হয়েছে। তিনি ইন্ডিগো বিমান সংস্থার আধিকারিকদের এই পরিষেবা প্রদানে যুক্ত হওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং আশা প্রকাশ করেন অচিরেই অন্যান্য বিমান সংস্থাগুলিও এই পরিষেবা প্রদানে এগিয়ে আসবে। তিনি আরও বলেন, এই কার্গো পরিষেবা বন্ধ থাকার ফলে রাজ্যের ব্যবসায়ীদের অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। তিনি আশা করেন পরিষেবা পুনরায় চালু হওয়ায় ব্যবসায়ীদের সুবিধা হবে।
অনুষ্ঠানে পরিবহণ মন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরার তিনদিকে রয়েছে প্রতিবেশি দেশ বাংলাদেশ। তাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রথম থেকেই এই রাজ্যের বিমান ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে জোর দিয়েছেন। এদিনের অনুষ্ঠানে তিনি আরও জানান, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে জুন মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে আগরতলা-চিটাগাং আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবা শুরু হয়ে যাবে। পরবর্তীতে আগরতলা থেকে সরাসরি সিঙ্গাপুর, ব্যাঙ্কক, ইত্যাদি শহরের সাথেও বিমান পরিষেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, পুরানো বিমানবন্দর প্রাঙ্গণ থেকে মহারাজার মূর্তিটিকে স্থানান্তরিত করা সম্ভব না হওয়ায় নতুন বিমানবন্দরে মহারাজা বীরবিক্রমের একটি নতুন ব্রোঞ্জের মূর্তি বসানো হবে। এরজন্য ব্যয় হবে প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা। পরিবহণ মন্ত্রী শ্রী চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার রাজ্যের জনগণের স্বার্থে উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা) মানিক সাহার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় রাজ্য উন্নয়নে পথে এগিয়ে চলছে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পরিবহণ দপ্তরের সচিব উত্তম কুমার চাকমা, এয়ারপোর্ট অথরিটির অধিকর্তা কে সি মিনা। উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসক দেবপ্রিয় বর্ধন, পরিবহণ দপ্তরের কমিশনার সুব্রত চৌধুরী প্রমুখ। উল্লেখ্য, নতুন এই ভবনে পচনশীল এবং অপচনশীল পণ্য, বিপদজনক পণ্যের জন্য কোল্ড স্টোরেজের সুবিধা রয়েছে।
April 2023
ছাত্রছাত্রীদের মধ্যেও নেশার বিরুদ্ধে একটা গণ জাগরণ গড়ে তুলতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী
জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :-
পড়াশুনার সাথে সাথে ছাত্রছাত্রীদের খেলাধূলা সহ বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সৄক্তনমূলক কাজেও যুক্ত হতে হবে। পাশাপাশি সময়ের প্রতি মূল্য দিয়ে সময়ের কাজ সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন করার অভ্যাসও গড়ে তুলতে হবে। তবেই ছাত্রছাত্রীরা নিজেদেরকে সমাজে একজন প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হবে। আজ রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে ত্রিপুরা মধ্যশিক্ষা পর্যদ পরিচালিত ২০২২ সালের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় বিশেষ সাফল্যের জন্য ছাত্রছাত্রীদের ‘চিফ মিনিস্টারস অ্যানুয়েল স্টেট অ্যাওয়ার্ড ফর অ্যাকাডেমিক এক্সিলেন্স’ প্রদান অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা একথা বলেন। মুখ্যমন্ত্রী অনুষ্ঠানে বলেন, ২০১৮ সাল থেকে শিক্ষা দপ্তর ত্রিপুরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদ পরিচালিত মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় বিশেষ সাফল্যের স্বীকৃতি স্বরূপ ছাত্রছাত্রীদের এই পুরস্কার প্রদান করছে। পুরস্কার প্রদানের মূল উদ্দেশ্য হল ছাত্রছাত্রীদের প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষায় উৎসাহিত করা। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান রাজ্য সরকার ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে গুণগত শিক্ষা প্রদানের উপর গুরুত্ব দিয়েছে। ফলস্বরূপ গত কয়েক বছরে ত্রিপুর মধ্যশিক্ষা পর্ষদ পরিচালিত মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় পাশের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী তথ্য সহ বলেন, ২০১৮ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাশের হার যেখানে ছিল ৫২.২৫ শতাংশ তা ২০২২ সালে বেড়ে হয়েছিল ৯১.০২ শতাংশ। মাধ্যমিক পরীক্ষায় অন্যান্য ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে জনজাতি অংশের ছাত্রছাত্রীদের পাশের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১৮ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষায় জনজাতি অংশের ছাত্রছাত্রীদের পাশের হার ছিল ৩৭.৩০ শতাংশ, যা ২০২২ সালে বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৮৬.৫৫ শতাংশ। এছাড়া ২০১৮ সালের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় পাশের হার ছিল যেখানে ৭০.৫৮ শতাংশ তা ২০২২ সালে বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৯৭.৪৫ শতাংশ। ২০১৮ সালের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় জনজাতি অংশের ছাত্রছাত্রীদের পাশের হার ছিল ৬৪, ১৮ শতাংশ যা ২০২২ সালে বেড়ে হয়েছে, ৯৫.৫৩ শতাংশ।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীকেই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের পাঠাগারে গিয়ে দেশের বরেন্য মনিষীদের জীবনী পাঠ করার উপর গুরুত্ব দিতে হবে। তবেই সে একজন ভালো মনের মানুষ হয়ে উঠতে পারবে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের ছেলেমেয়েরা যাতে রাজ্য থেকেই উচ্চশিক্ষার সুযোগ লাভ করতে পারে তারজন্য পরিকাঠামোও গড়ে তোলা হয়েছে। বর্তমানে উচ্চশিক্ষার জন্য রাস্লো কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, রাস্তা সরকার নিয়ন্ত্রনাধীন বিশ্ববিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয়, আইন কলেজ, ফরেন্সিক বিশ্ববিদ্যালয়, ডেন্টাল কলেজ, ইঞ্জিনীয়ারিং কলেজ, ২টি মেডিক্যাল কলেজ, ফার্মাসি কলেজ ইত্যাদি রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান রাজ্য সরকার নেশামুক্ত ত্রিপুরা গঠনে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। রাজ্যের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যেও নেশার বিরুদ্ধে একটা গণ জাগরণ গড়ে তুলতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে শিক্ষা দপ্তরের সচিব শরদিন্দু চৌধুরী বলেন, গত কয়েক বছরে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারও রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় আগামী দিনে রাজ্যে গুণগত শিক্ষার প্রসার আরও ঘটবে বলে শিক্ষা সচিব আশা ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে এছাড়াও বক্তব্য রাখেন ত্রিপুরা মধ্যশিক্ষা পর্যদের সভাপতি ভবতোষ সাহা এবং উচ্চশিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তা এন সি শর্মা। অনুষ্ঠানে ২০২২ সালের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় বিশেষ সাফল্যের জন্য বিভিন্ন বিভাগে ২০২ জন অজছাত্রীকে পুরস্কৃত করা হয়। এরমধ্যে মাধ্যমিক পরীক্ষায় সফল ছাত্রছাত্রী রয়েছে ৩৬ জন ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় সফল ছাত্রছাত্রী রয়েছে, ১৬৬ জন। পুরস্কার স্বরূপ প্রত্যেককে একটি করে আই-প্যাড ও শংসাপত্র প্রদান করা হয়। পুরস্কার প্রাপকদের হাতে পুরস্কারগুলো তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা ও অন্যান্য অতিধিগণ।
জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- মোহনপুরে সাংসদ মেগা স্বাস্থ্য শিবির
মোহনপুরের স্বামী বিবেকানন্দ মহাবিদ্যালয়ে আজ সাংসদ মেগা স্বাস্থ্য শিবির অনুষ্ঠিত হয়। শিবিরে দেশের বিখ্যাত হাসপাতালের শিশুরোগ, স্নায়ু, কার্ডিওলজি, স্ত্রীরোগ, দত্ত, অস্থি, চর্ম, চোখ, নাক, কান, গলা ও মেডিসিন বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ উপস্থিত ছিলেন। তাছাড়া রাজ্যের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণও এই স্বাস্থ্য শিবিরে অংশ নেন। শিবিরে ১১৮৯ জন রোগীর চিকিৎসা করে প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়। তাছাড়া রোগীদের বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষাও বিনামূল্যে করা হয়। উল্লেখ্য, রাম মনোহর লোহিয়া, সবদরজং, পিজিআই ও ম্যাক্স হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ শিবিরে রোগীদের চিকিৎসা করেন।
কৃষি ও কৃষক কল্যাণমন্ত্রী রতনলাল নাথ ও রাজ্যসভার সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব সাংসদ মেগা স্বাস্থ্য শিবিরে উপস্থিত ছিলেন। শিবিরে কৃষি ও কৃষক কল্যাণমন্ত্রী রতনলাল নাথ বলেন, রাজ্যে এ ধরনের তিনটি সাংসদ মেগা স্বাস্থ্য শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। এই শিবিরের উদ্দেশ্য হলো গরীব অংশের মানুষের কাছে উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া। এজন্য সাংসদগণ এধরনের স্বাস্থ্য শিবিরের আয়োজন করছেন। দেশের স্বনামধন্য হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ শিবিরে স্বাস্থ্য পরিষেবা দিচ্ছেন। এজনা রোগীদের বহির্রাজো যেতে হচ্ছে না। মোহনপুরে এ ধরনের স্বাস্থ্য শিবির করায় কৃষিমন্ত্রী রাজ্যসভার সাংসদ বিপ্লব কুমার দেবকে ধন্যবাদ জানান। শিবিরে রাজ্যসভার সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ২০১৪ সালের পর থেকে দেশে চিকিৎসা পরিষেবায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। চিকিৎসা ক্ষেত্রে এই পরিবর্তনের ছোঁয়া রাজ্যের মোহনপুর এলাকায় পৌঁছে দিতেই এ ধরনের স্বাস্থ্য শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। শিবিরে ভারতের স্বনামধনা হাসপাতালগুলির বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ চিকিৎসা পরিষেবা দিচ্ছেন। সাথে প্রয়োজনীয় ওষুধও দিচ্ছেন। শিবিরে সাংসদ শ্রী দেব আয়ুষ্মান ভারত কার্ডের মাধ্যমে চিকিৎসার সুযোগ নেওয়ার জন্য এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। শিবিরে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মোহনপুর পুরপরিষদের চেয়ারপার্সন অনিতা দেবনাথ, ভাইস চেয়ারপার্সন শংকর দেব, মোহনপুর পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান রীণা দেববর্মা, মোহনপুর মহকুমার মহকুমা শাসক সুব্রত ভট্ট চার্য, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডা. দেবাশিস দাস প্রমুখ।
জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ভেঙ্গে চুরমার এক হতদরিদ্রের বসত ঘর।বৃহস্পতিবার রাতে কালবৈশাখীর তান্ডবে বিলোনিয়া শহর এবং শহরতলি এলাকায় প্রচন্ড পরিমানে ঝড় বৃষ্টি হয়। ঝড়ের তান্ডবে বিলোনিয়া সুকান্ত নগর গ্রাম পঞ্চায়েতে উত্তর বিলোনিয়ার এক ব্যক্তির বসত ঘরের উপর ভেঙে পড়ে আমগাছ । সে জানায় ঘরটি ছিল ২০১৪ সালের প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা প্রকল্পের। বর্তমানে কালবৈশাখীর তান্ডবে ভেঙ্গে যাওয়া এই ঘর সংস্কার করার ক্ষেত্রে অক্ষম পরিবারটি। বর্তমানে সরকারের কাছে ঘরটি সংস্কার করে দেওয়ার জন্য আর্জি জানান।
জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- প্রেমিকাকে বিয়ে করার দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে দিল এলাকাবাসী, পলাতক প্রেমিক সহ পরিবার।সংবাদে প্রকাশ, বিশালগড়থানাধীন গকুলনগর সুকান্ত কলোনি এলাকার বাসিন্দা সুশান্ত সাহার ছেলে সুজিত সাহা গত দুই বছর ধরে একই এলাকার এক মেয়ের সাথে প্রেমের অভিনয় করে, ওই যুবতী মেয়ের সাথে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে যুবতী মেয়েকে বিয়ে করতে অস্বীকার করে। এই নিয়ে বেশ কয়েক দফায় এলাকায় শালিশি সভাও হয়। সালিশি সভায় প্রেমিক সুজিত সাহা ১৫ দিনের সময় চেয়ে নেয়, শুক্রবার১৫ দিন শেষ হয়েছে। বিয়ের উদ্যোগ না নেওয়ায় স্থানীয় এলাকাবাসীরা প্রেমিক সুজিত সাহার বাড়িতে গেলে সুজিত সাহা সহ তার পরিবারের লোকজন বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। অবশেষে স্থানীয় এলাকাবাসীরা তার বাড়ির গেটে তালা লাগিয়ে দেয়।
জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- ২০২২ সালের টি আর বি টি পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা পত্রে ভুল থাকার অভিযোগে পুনঃ মূল্যায়ন করে স্টার প্রধানের দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে শিক্ষা দপ্তরে । টিআরবিটি কন্ট্রোলারের পরামর্শ আদালতে যাওয়ার। ২০২২ সালে অর্থাৎ বিধানসভা নির্বাচনের আগে বেকারদের সামনে চাকুরীর ললিপপ ঝুলিয়ে পরীক্ষা গ্রহণ করেছিল টিআরবিটি। ২০২৩ বিধানসভা নির্বাচন শেষ।ফলাফল ঘোষণার পর ফের ক্ষমতায় ফিরেছে বিজেপি। দুর্ভাগ্যের বিষয় ভাগ্যের চাকা ঘুরেনি বেকার পরীক্ষার্থীদের। অভিযোগ প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্রে অজস্র ভুল থাকার পরেও টিআরবিটি কর্তৃপক্ষ তা মানতে রাজি নয়। এ নিয়ে পাঁচবার টিআরবিটি এক্সামিনার কন্ট্রোলারের সাথে দেখা করেছে পরীক্ষার্থীরা। ক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ ইতিবাচক কোন উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না টি আর বিটির কাছ থেকে। শুক্রবার ফের টিআরবিটির সামনে ধরনায় বসেছে পরীক্ষার্থীরা। জনৈক পরীক্ষার্থী নিয়ে জানিয়েছে। টিআরবিটি অফিস থেকে তাদেরকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে কোন স্লোগান দেওয়া যাবে না, চুপচাপ বসে থাকলে পাঁচজনকে বোর্ড কর্তৃপক্ষের সাথে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হবে। এদিকে বোর্ডের কথা মত পাঁচজনের এক প্রতিনিধি দল দেখা করেছে টিআরবিটির এক্সামিনার প্রত্যুষ রঞ্জন দেবের সাথে। এক্সামিনারের সাফ বক্তব্য, পরীক্ষার্থীদের পাঁচবার বুঝানোর পরেও তারা কোন কারণেই বুঝতে চাইছে না বিষয়টি। তাদের বক্তব্য তাদের কথামতো তৈরি করতে হবে উত্তরপত্র। তার জন্য আমি তাদেরকে পরামর্শ দিয়েছি আদালতে যাওয়ার জন্য। প্রশ্ন হচ্ছে ঠিক কবে নাগাদ টি আর বিটি কর্তৃপক্ষ ২০২২ এ অনুষ্ঠিত টেট পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করবে। এ নিয়েই বর্তমানে অনেক বেকার যুবক-যুবতী ক্ষুব্ধ হয়ে আছে।
জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- রাজধানী আগরতলা শহরের ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রায় ৮৮ শতাংশ ব্যবসায়ী পুর নিগমের প্রপার্টি ট্যাক্স, তৌজি রেন্ট, ট্রেড লাইসেন্স রেনুয়েল, এম এস এস এ আই লাইসেন্স, লিগ্যাল মেট্রলজি লাইসেন্স ইত্যাদি রেনুয়াল ছাড়াই হরদম ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। বছরের পর বছর ব্যবসা করে নিজেদের বিষয় সম্পত্তি বাড়ালেও ফাঁকি দিয়ে যাচ্ছে পুরনিগমকে। যার ফলে শতকরা ১২ শতাংশ ব্যবসায়ী থেকেও কর পাচ্ছে না পুর নিগম। শুক্রবার রাজধানীর মহারাজগঞ্জ বাজার বাণিজ্য ভবনে আয়োজিত নতুন লাইসেন্স ও পুনর নবীকরণ ক্যাম্পে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই তথ্য তুলে ধরেছেন নিগমের মেয়র দীপক মজুমদার। এদিন শ্রী মজুমদার ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান রেখে বলেন সময় মত সমস্ত কর প্রদান করে পুর নিগমকে উন্নয়ন কাজে সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য। নতুবা যারা কর ফাঁকি দিচ্ছে তাদের জন্য আগামী দিনে আইনানুক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য হবে।
জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- বাইক চুরি কান্ডে বিশাল সাফল্য পেয়েছে আমবাসা থানার পুলিশ। দুই চোরকে গ্রেফতার করে উদ্ধার করেছে সাতটি বাইক ও একটি অলটো গাড়ি। বাইক চুরি কান্ডে পুলিশের সাফল্য। গত কয়েক মাস ধরে আমবাসা মহকুমার বিভিন্ন এলাকায় বাইক চুরির ঘটনা ঘটে চলছিল। আর এইসব চুরির ঘটনার বিষয় যখন আমবাসা থানায় লিপিবদ্ধ হয়, তারপর থেকে আমবাসা থানার পুলিশ বাইকগুলি উদ্ধার এবং চোরদের ধরার জন্য তড়িঘড়ি তদন্ত শুরু করে। পুলিশের তদন্তে একের পর এক সাফল্য আসতে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার গন্ডাছড়া থানার পুলিশের সহযোগিতায় বাইক চুরি কান্ডে জড়িত বিমল রিয়াং নামে এক বাইক চোরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় আমবাসা থানার পুলিশ। জানা যায় বিমল রিয়াংকে গন্ডাছড়া জগবন্ধু পাড়া থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পাশাপাশি চুরি যাওয়া একটি বাইক উদ্ধার করে। একই সঙ্গে চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি আল্টু গাড়ি বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ। উল্লেখ্য বাইক চুরি কাণ্ডে তদন্তে নেমে পুলিশ এখনও পর্যন্ত সাতটি বাইক উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। আমবাসা থানার ওসি বিশ্বজিৎ দেববর্মা জানান মহকুমার বিভিন্ন এলাকা থেকে বাইক চোরেরা ইতিমধ্যেই অনেকগুলি বাইক চুরি করে নিয়ে যায়। এদিকে আগামী দিনেও এ ধরনের অভিযান জারি থাকবে বলে জানান ও সি বিশ্বজিৎ দেববর্মা। শ্রী দেববর্মা আরও জানান, শনিবার আটক বিমল রিয়াংকে আদালতে সোপর্দ করা হবে তিন দিনের রিমান্ড চেয়ে।
জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে রাজ্যে।করোনার দৈনিক সংক্রমণ থেমে নেই। কৈলাশহর আগরতলা সহ দশ জন আক্রান্তের খবর মিলেছে।তবে সরকারি তথ্যে গত ২৪ ঘন্টায় দুজন করোনা আক্রান্তের খোঁজ মিলেছে। আগরতলার পর করোনা ভাইরাস থাবা বসালো কৈলাশহরে। শহরের বৌলাপাশা এলাকায় আক্রান্ত আট মাসের শিশু, চাঞ্চল্য গোটা জেলা জুড়ে। সাতাশ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটায় এব্যাপারে সাংবাদিক সম্মেলন করে ঊনকোটি জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে জেলার সার্ভিলেন্স অফিসার ড: শংখ শুভ্র দেবনাথ এখবরটি জানান। উল্লেখ্য, পনেরোই এপ্রিল থেকে ছাব্বিশ এপ্রিল পর্যন্ত ঊনকোটি জেলায় আটজন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন।চৌদ্দই এপ্রিল প্রথম ঊনকোটি জেলার পেঁচারথলের নবীন ছড়া এলাকার দুজন স্বাস্থ্যপরিসেবা গ্রহণ করার জন্য উত্তর জেলার পানিসাগর মহকুমা হাসপাতালে গেলে তাদের শরীরে করোনা ভাইরাসের সন্ধান পাওয়া যায়। পরবর্তী সময় তাদের সূত্রধরে আঠারো এপ্রিল একই পরিবারের তিন জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের সন্ধান পাওয়া যায়। চব্বিশ এপ্রিল সোমবার দুপুরে কৈলাসহরের জগন্নাথপুর গ্রামের 37বছরের এক যুবক ঊনকোটি জেলা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসলে পরীক্ষায় যুবকের শরীরে করোনা ভাইরাস পাওয়া যায়। অনুরূপভাবে পঁচিশ এপ্রিল গৌরনগর ব্লকের বাবুর বাজারের এক যুবক জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা গ্রহন করতে গেলে পরীক্ষায় করোনা আক্রান্তের বিষয় সুনিশ্চিত হয়। তবে চাঞ্চল্যকর বিষয় হল বৃহস্পতিবার ছাব্বিশ এপ্রিল কৈলাসহরের রাজিব গান্ধী মেমোরিয়াল মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা গ্রহণ করতে আসলে আট মাস বয়সী এক শিশুর শরীরে করোনা ভাইরাসের সন্ধান পাওয়া যায়। প্রায় ধারাবাহিকভাবে প্রতিদিন ঊনকোটি জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে করোনা আক্রান্তের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে। এব্যাপারে ঊনকোটি জেলার সার্ভিলেন্স অফিসার চিকিৎসক শঙ্খ শুভ্র দেবনাথ জানান, সমস্ত বিষয়ে স্বাস্থ্য দপ্তর অবগত রয়েছে। আক্রান্তরা হোম আইসোলেশনে রয়েছেন। তাদের প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র ও চিকিৎসা সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে। আক্রান্তদের কন্টাক্ট সেম্পল নেওয়া হয়েছে, পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। লক্ষণ দেখা দিলে কিংবা কোন ধরনের সন্দেহ হলে দ্রুত স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষা করার আহ্বান রাখেন ডাক্তার। ডাক্তার দেবনাথ আরও জানান যে, জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছে। ভারত সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী চলতি মাসে ইতিমধ্যেই কোভিড পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য মগ ডিল সম্পূর্ণ হয়েছে। সম্পূর্ণ বিষয়টি জেলাশাসক সহ ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। বেশ কিছুদিন রাজ্যবাসী কোভিড আতঙ্ক মুক্ত থাকলেও বর্তমানে রাজ্যে বেশ কয়েকটি কোভিড আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা সামনে আসায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।অন্যদিকে আগরতলায় চার জন ঐ রোগ থেকে মুক্তি পেয়ে সুস্থ হয়েছেন। ফলে গোটা রাজ্যে বর্তমানে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১৫। স্বাস্থ্য দপ্তরের মিডিয়া বুলেটিন অনুসারে, গত ২৪ ঘন্টায় আরটিপিসি আরে ৪৯ জন এবং রেপিড এন্টিজেন এর মাধ্যমে ১০২৪ জন, মোট ১০৭৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তাতে রেপিড এন্টিজেনের মাধ্যমে দুজনের দেহে করোনা সংক্রমণ মিলেছে।ফলে দৈনিক সংক্রমণের হার বর্তমানে কমে হয়েছে ০.১৯।
জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- রাজ্যে এসেই মাকে দেখতে জিবি হাসপাতালে ছুটে যান সস্ত্রীক মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডাক্তার মানিক সাহা ! মায়ের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়ে কথা বলেন কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সাথে। চিকিৎসক জানান মুখ্যমন্ত্রীর মাতার শারীরিক অবস্থা, বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে।
