জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- ২৫ সেপ্টেম্বর পন্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের জন্মদিন। হিন্দুত্ববাদী মতাদর্শ দ্বারা পরিচালিত রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের অগ্রদূতের
জন্ম জয়ন্তী প্রতি বছরই নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালন করে আসছে ভারতীয় জনতা পার্টি। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। দেশের বিভিন্ন রাজ্যের সাথে রবিবার রাজ্যেও যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে দলীয়ভাবে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উদযাপিত পণ্ডিত দীনদয়াল এর ১০৭ তম জন্মদিন। এদিন সকালে কেন্দ্রীয়ভাবে মূল অনুষ্ঠানটি হয় আগরতলা কৃষ্ণনগর স্থিত পার্টির প্রদেশ কার্যালয়ে। সেখানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডক্টর মানিক সাহা, দলের রাজ্য প্রভারী সাংসদ বি এল সন্তোষ, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক, বিজেপি প্রদেশ সভাপতি, রাজীব ভট্টাচার্য আগরতলা পুর নিগমের মেয়র দীপক মজুমদার সহ আরো অনেকে। অনুষ্ঠানে পন্ডিত দীনদয়াল এর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান উপস্থিত নেতৃত্ব। পরে সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডক্টর মানিক সাহা বলেন, পন্ডিত দীনদয়াল এর আদর্শ নিয়ে ই চলছে এখন কাজ। মানুষকে মুক্তির যে পথ তিনি দেখিয়েছেন, সেই পথকেই পাথেয় করে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার চলছে।
September 2022
মহালয়ায় লক্ষীনারায়ণ বাড়ি দিঘিতে প্রচুর সংখ্যক মানুষের পিতৃপুরুষের উদ্দেশে তর্পণ
জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :-রবিবার পবিত্র মহালয়া। আশ্বিনের শুরুতে শারদীয়ার দুর্গোৎসবের আগে দুর্গা দুর্গতিনাশিনীকে আবহবোনের মাধ্যমে পূজার প্রস্তুতির অঙ্গ হিসেবে এই মহালয়ার বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। পিতৃপক্ষের সমাপ্তির আগে পক্ষ কালব্যাপী পিতৃতর্পণ শেষ হলো এদিন। মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হলো মাতৃ পক্ষ। মায়ের আগমনের সুরের মাধুর্য তৃপ্ত হয় বাঙালির মন প্রাণ হৃদয়। ৮ থেকে ৮০ অনাবিল আনন্দে মাতোয়ারা সবাই। মায়ের আগমনে সেজেছে প্রকৃতি। রবিবার সূর্যোদয়ের সঙ্গে শুরু হয় মাতৃ আরাধনা। প্রথা অনুযায়ী মহালয়ার সাত দিন পরেই দেবী দুর্গা মরতে আসেন। এদিন দেবী দুর্গা তার চার সন্তানকে নিয়ে স্বামী দেবাদীদেব মহাদেব গৃহ কৈলাস থেকে মরতে বাপের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এদিন ধর্মপ্রাণ হিন্দু অংশের মানুষ তাদের মৃত পূর্ব পুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণ করে থাকেন। শাস্ত্রমতে মহালয়ার পূণ্য তিথিতে মৃত পূর্ব পুরুষের উদ্দেশ্যে তর্পণ করলে তাদের আত্মার শান্তি লাভ করেন। এই রীতি যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। এবারও যেন তার ব্যতিক্রম নয়। বিগত দিনের মতো এবার রাজধানী আগরতলা লক্ষীনারায়ণ বাড়ি দিঘিতে প্রচুর সংখ্যক মানুষ পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে তিল দান করেন। এদিন তর্পণকারীরা দিঘির কোমর পরিমাণ জলে দাঁড়িয়ে মন্ত্র উচ্চারণ করে ফুল বেলপাতা তিলসহ অন্য সামগ্রী দিয়ে পূর্ব পুরুষের আত্মার শান্তি কামনা করেন। আর এই তিল দান কর্মসূচিকে ঘিরে এদিন লক্ষীনারায়ন বাড়ি দিঘিতে ধর্মপ্রাণ মানুষের উপস্থিতি ছিল বেশ চোখে পড়ার মতো।
প্রিভেনশন ইজ দি বেটার দেন কিউর সতর্ক থাকতে হবে সাংবাদিকদের মন্তব্য মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডক্টর মানিক সাহার
জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- আন্দোলন বিশ্বাস করে না বিজেপি জোট সরকার। দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলন করতে হয়না। সরকার আগে থেকেই চাহিদা পূরণ করতে চায়।বললেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডঃ মানিক সাহা। প্রিভেনশন ইজ দি বেটার দেন কিউর , অর্থাৎ চিকিৎসার আগে রোগ প্রতিরোধ করাই ভালো। এই নীতিতেই বিশ্বাস করে রাজ্য সরকার। তাই এই সরকারের আমলে কোন কিছু পাওয়ার জন্য আন্দোলন করতে হয়না। আন্দোলনের আগেই সরকার প্রত্যেকে দাবি-দাওয়া মিটিয়ে দিতে চায়।আগেকার সরকার শ্রমিকদের নিয়ে শুধু দাবি আন্দোলন ইত্যাদি করেই গেছে। অথচ শ্রমিকদের জন্য কোন চিন্তাভাবনা করে নি। বর্তমান সরকার প্রত্যেকের দাবি-দাওয়া নিয়ে অত্যন্ত সহানুভূতির সঙ্গে তা পূরণ করার চেষ্টা করছে। তার প্রতিফলন ইতিমধ্যেই রাজ্যে প্রস্ফুটিত হয়ে উঠেছে। শনিবার ত্রিপুরা ফটোজার্নালিস্ট এসোসিয়েশন বার্ষিক সাধারন সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে কথাগুলি বললেন, মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডঃ মানিক সাহা। বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এদিন আরও বলেন অতীতকাল থেকেই সাংবাদিকরা আক্রমণের শিকার হয়ে আসছে। আগামী দিন আরও ভয়াবহ। তার জন্য সতর্ক থাকতে হবে সাংবাদিকদের।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমি বলছিনা হেলমেট পড়ে সাংবাদিকতা করতে হবে।তবে সতর্কতার সঙ্গে প্রস্তুত থাকতে হবে সাংবাদিকদের। এদিনের সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, আগরতলা প্রেসক্লাবের সম্পাদক প্রণব সরকার , ত্রিপুরা ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক রমাকান্ত দে, সভাপতি সহ অন্যান্য পদাধিকারীরা।
২০২৩ বিধানসভা নির্বাচনে ৬০ টি আসনের মধ্যে ৬০ টিতেই একা লড়বে বিজেপি দল মথার সঙ্গে হচ্ছেনা জোট : সুব্রত
জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- 2023 বিধানসভা নির্বাচনে 60 টি আসনের মধ্যে 60 টিতেই একা লড়বে বিজেপি দল। 60টি আসনেই জয়ী হয়ে ক্ষমতায় ফিরবে বিজেপি | স্পষ্ট জানালেন বিজেপি মুখপাত্র সুব্রত চক্রবর্তী। শেষ হল ভারতীয় জনতা পার্টির দুই দিনব্যাপী আয়োজিত চিন্তন শিবির। শিবিরে অফিস বেয়ারার থেকে শুরু করে মন্ত্রী এমএলএ, মন্ডল সভাপতি, মিডিয়া ,সোশ্যাল মিডিয়া সেল প্রত্যেকের সাথে আলাদা আলাদা বৈঠক হয়েছে। শুক্রবার ও শনিবার দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। 60টি বিধানসভা কেন্দ্রের বর্তমান অবস্থান এবং শক্তি সমস্ত কিছু নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এখান থেকেই আগামী বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। লক্ষ্যএবার 60 এ 60 টি আসন |শিবির শেষে সাংবাদিক বৈঠকে জানালেন দলীয় মুখপাত্র সুব্রত চক্রবর্তী। শিবিরের শেষদিনে আলোচনা হয়েছে বিরোধীদের অবস্থান নিয়ে। সুব্রত চক্রবর্তী জানান শুধু ভারত নয় বিশ্বের সর্ব বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিজেপি বিরোধী বলতে এই রাজ্যে বিশেষ কোন রাজনৈতিক দলকে চিহ্নিত করে না। বিরোধী মানে বিরোধীদল। কথাটি স্পষ্ট না হলেও রাজিব বাবু স্পষ্ট বুঝাতে চেয়েছেন। তিনি বলেন বিরোধীদের গতিবিধি সম্পর্ক আভ্যন্তরীণ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিন সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে সুব্রত চক্রবর্তী জানান 2023 বিধানসভা নির্বাচনে নতুন কোনো রাজনৈতিক দলের লগে এলান্স হওয়ার সম্ভাবনা নেই | প্রকারান্তরে স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন তিপরা মথা দলের সঙ্গে কোনো জোট হচ্ছে না। এদিনের বৈঠকে বিশিষ্ট দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সংগঠন মন্ত্রী বিএল সন্তোষ , ত্রিপুরা প্রদেশ প্রভারি ড:মহেশ শর্মা , দলের জাতীয় মুখপত্র ড:সম্বিত পাত্রা, উত্তর পূর্বের সংগঠন মন্ত্রী ফণীন্দ্রনাথ শর্মা, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক, সাংসদ রেবতী ত্রিপুরা , রাজ্যসভার নতুন সংসদ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব , বিজেপি সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্যী রাজিব ভট্টাচার্যী, মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডঃ মানিক সাহা ,উপমুখ্যমন্ত্রী জিষ্ণু দেব বর্মন,প্রমূখ।
এমজি বাজারে গোডাউনে উদ্ধার অবৈধ মজুদ করা মশার কয়েল নেতৃত্বে এসডিপিও অজয় কুমার দাস
জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- গোপন খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুদ করা বাংলাদেশের মশার কয়েল উদ্ধার করেছে পুলিশ। সদর এসডিপিও অজয় কুমার দাসের নেতৃত্বে মহারাজগঞ্জ ফাঁড়ির ওসি মঙ্গেশ পাটারি ও পূর্ব থানার ওসি রানা চ্যাটার্জির উপস্থিতিতে মহারাজগঞ্জ বাজারের বেশ কয়েকটি গোডাউনে হানা দেওয়া হয়। এই সময় গোডাউন গুলি থেকে প্রচুর পরিমাণ বাংলাদেশি মশার কয়েল উদ্ধার হয়েছে। উপস্থিত ছিলেন সদর ডিসিএম শ্রীকান্ত চক্রবর্তী। পুলিশ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বেশ কয়েকজনকে থানায় ডেকে পাঠিয়েছে। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসডিপিও জানান, মধ্যপ্রদেশের একটি কোম্পানি তার মশার কয়েল নকল করা হয়েছে বলে গত ২১ জুলাই একটি মামলা দায়ের করেছিল। তার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। শীঘ্রই মূল অভিযুক্তকে জালে তোলা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জনতার কলম ত্রিপুরা বিলোনিয়া প্রতিনিধি :- উদ্ধার হল ৪৭ বছর বয়সী নিখোঁজ সবিতা দেবনাথের পচাগলা মৃতদেহ। সনাক্ত করেছে মৃতার পুত্রবধূ। চাঞ্চল্য এলাকায়। বিলোনিয়া থানাধীন বরজ কলোনি এলাকায় সিএমও অফিসের সামনে গভীর জঙ্গলে এক মহিলার পচা গলা মৃতদেহ দেখে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। খবর দেওয়া হয় পুলিশে। ঘটনাস্থলে পুলিশ ডগ স্কোয়ার্ড এবং ফরেনসিক দলকে নিয়ে এসেছে। উল্লেখ্য গত ১৯ তারিখ সন্ধ্যায় এই এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়েছিল সবিতা দেবনাথ (৪৭) নামে এক মহিলা। এই মহিলার বাড়ির পেছনের দিকে গভীর জঙ্গলে মৃতদেহ পাওয়া যায়। পরবর্তী সময়ে শাড়ি দেখে এটা সবিতা দেবনাথ এর মৃতদেহ বলে সনাক্ত করে তারই পুত্রবধূ। এদিকে এই ঘটনায় গভীর মর্মাহত এলাকার মহিলারা। তারা ঘটনায় যুক্ত থাকা অভিযুক্তদের বের করে উপযুক্ত শাস্তি বিধানের দাবি করেছে। বিশেষ করে ফাঁসিতে ঝোলানোর জন্য দাবি জানায়।লাগছে। প্রত্যক্ষদর্শী এক মহিলা জানায় মৃতদেহটি উলঙ্গ অবস্থায় উপুর করে পরে রয়েছিল। গরু চড়াতে গিয়ে ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করে মহিলা হতবাক হয়ে পড়ে। পরে অন্যান্যরা ছুটে গিয়ে পুলিশকে খবর দিয়েছে।প্রসঙ্গত গত নয় মাসে বিলোনিয়া থেকে প্রায় 50 জন মহিলা এইভাবে নিখোঁজ হয়েছে বলে বিলোনিয়া থানার তথ্য অনুসারে জানা যায়।এদিকে বিলোনিয়া মহকুমাশাসক অফিস থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে জানানো হয় গুজবে কান না দেওয়ার জন্য। প্রশাসনিক এই বালখিল্যতায় রীতিমতো হতবাক হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ।পুলিশ ও বীর বাহাদুরের মত গুজব ছড়াচ্ছে বলে সবকিছু উড়িয়ে দিচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে। ৫০ জন মহিলা নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার পরও পুলিশ জনতাকে সতর্ক করছে গুজবে কান না দেওয়ার। রাজ্য পুলিশের এই তাবেদারীতে ক্ষুব্দ বিলোনিয়া মহাকুমার বুদ্ধিজীবী অংশের মানুষ।
২০২৩ বিধানসভা নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকার দিকে, এগুচ্ছে বিজেপি তৈরি রণকৌশল জোটে রয়েছে শঙ্কা
জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :-
শুরু হয়েছে প্রদেশ বিজেপি ওয়ার্কিং কমিটি চিন্তন বৈঠক। মূলত ২০২৩ বিধানসভা নির্বাচনের রণকৌশল তৈরি করা হবে এই বৈঠক থেকেই.।তৈরি করা হবে ৬০ টি বিধানসভা কেন্দ্রের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা। যাদেরকে মোটামুটি যেই কেন্দ্রের প্রার্থী হিসেবে চিহ্নিত করা হবে তাদেরকে এখন থেকেই ওই কেন্দ্রে মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিজেপি সূত্রে খবর , এই মুহূর্তে দল শুধুমাত্র সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্প গুলি প্রচারে নিয়ে যাবে। ত্রিপুরা উপজাতি স্ব-শাসিত জেলা পরিষদের উন্নয়নেও নেওয়া হয়েছে একগুচ্ছ কর্মসূচি। যদিও এই মুহূর্তে সরকারের হাতে আর সময় নেই নতুন করে কোনো উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করা। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে ভাবাচ্ছে প্রদ্যুৎ কিশোরের তিপরা মথা। কেননা পাহাড়ের কুড়িটি উপজাতি সংরক্ষিত আসনের মধ্যে দু-একটি কেন্দ্র ছাড়া বাকি সবগুলি কেন্দ্র প্রদ্যুৎ কিশোরের করায়ত্তে রয়েছে। বর্তমানে 15 টি আসন রয়েছে সিপিআইএমের দখলে। ইতিমধ্যেই চারটি আসনে বিজেপির বিধায়করা পদত্যাগ করে অন্য দলের সঙ্গে চলে গেছে। তার মধ্যে দলের ভিতরে রয়েছে সংস্কারপন্থীরা। দ্বিতীয় মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের পর বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অভাব ছিল হয়তো সংস্কারপন্থীরা মুছে গেছে। কিন্তু না, কৃষ্ণনগরের বিজেপির বাড়িতে কান পাতলেই সংস্কারপন্থীদের গুনগুন আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। আদি বিজেপি বলে আবার কেউ কেউ নিজেদেরকে দাবি করছে। প্রশ্ন হচ্ছে বিজেপি নেতারা একবারও ভাবলে না আদতে ত্রিপুরায় বিজেপি কারা। আদি বিজেপি বা ত্রিপুরা তে কতজন ছিল। হাতে গুনা জনা 25 আদি বিজেপি বাদ দিলে বাকি সবাই কিন্তু দীর্ঘ 25 বছর কংগ্রেস করেছিল। কিছু কিছু দলছুট ক্ষুধার্ত সিপিএম কর্মী-সমর্থকও রয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে 10323 চাকরিচ্যুতদের পরিবার। রয়েছে জে আর বি টিপরীক্ষার্থীরা , রয়েছে টেট পরীক্ষার্থীরা , রয়েছে টিআরবিটি। এই সমস্ত পরিবারগুলি যোগ করলে বেরিয়ে আসবে মোট ভোটারের সংখ্যা। এই সমস্ত কিছু বিষয় সমূহ চিন্তন বৈঠকে উঠে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংগঠন মন্ত্রী ফণীন্দ্রনাথ শর্মা , রয়েছে প্রদেশ বিজেপি নয়া রাজ্য প্রভারি ড: মহেশ শর্মা , হয়েছেন দলের জাতীয় মুখপাত্র সম্বিত পাত্র। বি এল সন্তোষ। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বর্তমান সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ড :মানিক সাহা , প্রদেশ বিজেপি রাজ্য সভাপতি রাজিব ভট্টাচার্য , উপমুখ্যমন্ত্রী জিষ্ণু দেব বর্মন , শিক্ষামন্ত্রী রতন লাল নাথ, তথ্য-সংস্কৃতি দপ্তরের মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী , সহ সাংসদ রেবতী ত্রিপুরা, উপজাতি কল্যাণ মন্ত্রী রাম পদ জমাতিয়া ,সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সান্তনা চাকমা অন্যান্য পদাধিকারীরা। আগরতলার হাপানিয়ায় বসেছে চিন্তন বৈঠক। বৈঠকে উল্লেখিত বিষয়গুলি সমাধান করতে পারলেই বিজেপির আগামীর পথ খোলা বলে ধারণা করা যাচ্ছে। নতুবা শঙ্কা রয়েছে আকস্মিক বিপদের।
সরকার কেন্দ্রীয় বা রাজ্য প্রকল্প নিয়ে গুরুত্বসহকারে রূপায়নের চেষ্টা করছে :- উপমুখ্যমন্ত্রী
জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারের কোন প্রকল্প রূপায়ণে কারো কোন অভিযোগ থাকলে নির্দিষ্টভাবে অভিযোগ নিয়ে আসলে দ্রুততার সঙ্গে তা সমাধানের চেষ্টা হবে। নির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া বিধানসভায় প্রশ্ন তোলার কোন মানে হয় না। স্পেসিফিক অভিযোগ তুলে আনা হলে সরকার সাথে সাথেই তার অ্যাকশন নেবে। শাসক দলের বিধায়ক বিপ্লব কুমার ঘোষের এক প্রশ্নোত্তরে স্পষ্ট জানালেন রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী তথা গ্রাম উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী যীষ্ণু দেব বর্মন। এদিন যীষ্ণু দেব বর্মন স্পষ্ট জানান , প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর নিয়ে রাজ্যে কোন অভিযোগ নেই। যদি নির্দিষ্ট কেউ অভিযোগ নিয়ে আসতে পারে তাহলে সেটা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়।সরকার কেন্দ্রীয় বা রাজ্য প্রকল্প নিয়ে গুরুত্বসহকারে রূপায়নের চেষ্টা করছে।
২৪ ঘন্টার মধ্যেই ছিনতাই কান্ডের ৬০,০০০ টাকা ও নথিপত্র ভর্তি ব্যাগ উদ্ধারে সক্ষম পুলিশ
তেলিয়ামুড়া প্রতিনিধি :- অর্থ ছিনতাইয়ের ঘটনার দৌরাত্ম্যে যেন এগিয়ে গোটা তেলিয়ামুড়া শহর । সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা ছিনতাই যেন প্রতিযোগিতা চলছে তেলিয়ামুড়ায় । উল্লেখ্য, মাত্র ২ ঘন্টার ব্যবধানে আজ শুক্রবার সাপ্তাহিক হাঁট বাজারের দুপুরে তেলিয়ামুড়া থানাধীন শহরের প্রাণকেন্দ্র অম্পি চৌমুহনী এলাকার পর পর দুইটি জায়গা থেকে সর্ব মোট ৭৫, ০০০ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা উঠে আসলো । উল্লেখ্য, আজ শুক্রবার দুপুর আনুমানিক ১ টা ৩০ মিনিট নাগাদ গামাইবাড়ির তরুনী কান্ত দাসের ছেলে বলরাম দাস(৪৩) বাড়িমুখী হওয়ার সময় অম্পি চৌমুহনী এলাকার দমকল বিভাগের অফিস সংলগ্ন এলাকায় নিজের মোটর সাইকেলটি থামিয়ে রাস্তার বিপরীত পাশের একটি দোকানে যায় । যদিও তখন সময় মোটর সাইকেলের মধ্যে একটি ব্যাগে মোট ৬০,০০০ টাকা সহ জরুরী কিছু নথিপত্র ছিল । কিন্তু কিছু সময় পর জনৈক বলরাম দাস দোকানের কাজ সেরে রাস্তার পাশে অবস্থানরত নিজের মোটর সাইকেলের সামনে এসে তিনি প্রত্যক্ষ করেন বাইকে টাকা ভর্তি ব্যাগটি নেই । পরবর্তীতে হতাশা হয়ে দীর্ঘক্ষণ ধরে অনেক খোঁজাখুঁজি চলে গোটা তেলিয়ামুড়া শহর এলাকায় । অবশেষে কোন পথ না পেয়ে অর্থ হাড়িয়ে হতাশাগ্রস্থ হয়ে তেলিয়ামুড়া থানার পুলিশের দারস্থ হন বলরাম বাবু । অপরদিকে, একই দিনে দীর্ঘ কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে তেলিয়ামুড়া থানাধীন মোহরছড়ার হরিপদ ঘোষ নামে এক সতোর্ধ্ব ব্যাক্তি নিজ গৃহিনীর পেনশনের ১৫,০০০ টাকা তুলেন তেলিয়ামুড়ার পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক থেকে । কিন্তু ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তুলে হরিপদ বাবু তেলিয়ামুড়ার বিদ্যুৎ দপ্তরের অফিসে যাবার পথে তেলিয়ামুড়ার অম্পি চৌমুহনী এলাকায় আসা মাত্রই হঠাৎ হরিপদ বাবুর শরীরে অসহ্য চুলকানি অনুভব হয় । তখন তিনি শরীরে হাতে মুখে জল দেওয়ার জন্য রাস্তার পাশে ফুটপাতে থাকা একটি দোকানের টেবিলের উপর নিজের হাতে ১৫,০০০ টাকা সমেত নথিপত্র ভর্তি ব্যাগটি রাখেন । কিন্তু হঠাৎ তিনি প্রত্যক্ষ করেন সেই টেবিলে তাঁর ব্যাগটি নেই । আচমকা ব্যাগটি গায়েব । অনেক খোঁজাখুঁজি করেও টাকা ও নথিপত্র ভর্তি সেই ব্যাগটির কোন হদিশ বার করতে পারেন নি । পরবর্তীতে স্থানীয় জনগণ মারফত খবর দেওয়া হয় তেলিয়ামুড়া থানায় । সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনার খবর পেয়ে তেলিয়ামুড়া থানার পুলিশ বাবুরা ছুটে এসে পর পর কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে তেলিয়ামুড়ায় ছিনতাই কান্ডের রহস্য উন্মোচনে তদন্তে নামে । যদিও বারবার তেলিয়ামুড়া থানার পুলিশ বাবুরা পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের CC TV -র ভিডিও ফুটেজ চেক করে সন্ধ্যা পর্যন্ত চিরুনি অভিযান চালিয়েছে টাকা উদ্ধারে গোটা তেলিয়ামুড়ায় । অবশেষে সন্ধ্যা আনুমানিক ৭ টা নাগাদ তেলিয়ামুড়া থানার পুলিশ বাবুরা শিববাড়ি এলাকায় একটি অপরিত্যক্ত জায়গা থেকে ৬০,০০০ টাকা সমেত নথিপত্র ভর্তি ব্যাগটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয় । সঙ্গে সঙ্গেই তেলিয়ামুড়া থানা থেকে হতাশাগ্রস্থ বলরাম বাবু’কে খবর দিয়ে টাকা ও নথিপত্র ভর্তি ব্যাগটি তুলে দেয় । তবে এইদিকে সুব্রত চক্রবর্তী সদ্য তেলিয়ামুড়া থানার OC হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই ছিনতাই কান্ডের ৬০,০০০ টাকা ও নথিপত্র ভর্তি ব্যাগ উদ্ধারে ও OC সুব্রত চক্রবর্তীর কর্মকান্ডে শুভবুদ্ধি সম্পন্ন সচেতন মহল জুড়ে খুশির বাতাবরণ বইছে ।
জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- বিপ্লব যুগের অবসানে শেষ পর্যন্ত সরকারি আবাস পেয়েছে পূর্ব ত্রিপুরা লোকসভা আসনের সাংসদ রেবতী ত্রিপুরা। কি কারনে এতদিন সরকারি আবাস পায়নি একজন লোকসভার সাংসদ এ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে অনেকে। সাংসদ রেবতী ত্রিপুরাও এতদিন প্রকাশ্যে মুখ খোলেনি।যদিও অতি ঘনিষ্ঠ দু একজনের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছিল। কিন্তু অভিযোগ তুলেনি কারো উপর।দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ না করে নিরবে সহ্য করে নিয়েছিল বঞ্চনাকে। নিন্দুকেরা বলছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব এর অনীহার কারণে এতদিন ভাড়া বাড়িতে থাকতে হয়েছে সাংসদ রেবতী ত্রিপুরাকে। শেষ পর্যন্ত বিজেপি আইপিএফটি জোট সরকারের সাড়ে চার বছরের মাথায় কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপে বিপ্লব যুগের অবসান ঘটিয়ে মানিক যুগ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পরিবর্তন ঘটতে চলেছে রাজ্য রাজনীতি। যারা এতদিন বঞ্চনার শিকার হয়ে আসছিল তাদেরকে সুযোগ সুবিধা প্রদানে সচেষ্ট হয়েছে নয়া মুখ্যমন্ত্রী। তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত সাংসদ রেবতী ত্রিপুরার সরকারি আবাসে প্রবেশ। রীতিমতো ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান নিষ্ঠা সহকারে পালন করে গৃহে প্রবেশ করেছেন সাংসদ রেবতী ত্রিপুরা। একই দিনে দল ত্যাগ করলেন করবুকের বিধায়ক বুৰ্বো মোহন ত্রিপুরা। সেও বঞ্চনার আরেক দৃষ্টান্ত।
