জনতার কলম প্রতিনিধি ত্রিপুরা আগরতলাঃ- মহিলা কলেজে ১০০ আসন বিশিষ্ট উপজাতি ছাত্রী আবাসনের শিলান্যাস করা হয় মহিলা কলেজে। এর ভিত্তিপ্রস্তর করেন উপজাতি কল্যাণ মন্ত্রী মেবার কুমার জমাতিয়া এবং সাংসদ প্রতিমা ভৌমিক। এক্ষেত্রে ব্যয় হবে ৪ কোটি টাকা। প্রজেক্টের কাজ আগামী ১৮ মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ছাত্রী নিবাস ১৮৮৬ স্কয়ার ফুট হবে। এদিন ভিত্তিপ্রস্তরের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সাংসদ প্রতিমা ভৌমিক বলেন, পয়সার অভাবে বহু ছাত্রী দূরদূরান্ত থেকে শহরের মহিলা কলেজে এসে পড়তে পারে না। সেদিকে গুরুত্ব দিয়ে সরকার ছাত্রী নিবাসের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। একইভাবে গন্ডাছড়াতে ছাত্র আবাসন এবং ফটিকছড়াতেও আবাসন গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে। বিশেষ করে এতে মেয়েদের শিক্ষার ক্ষেত্রে অনেকটা সহযোগিতা হবে। মেয়েরা শিক্ষাক্ষেত্রে এগিয়ে যেতে পারবে বলে অভিমত ব্যক্ত করলেন সাংসদ প্রতিমা ভৌমিক।
এদিকে উপজাতি কল্যাণ মন্ত্রীর মেবার কুমার জমাতিয়া বললেন, সরকার এটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। দূরদূরান্ত থেকে ছাত্রীরা মহিলা কলেজ এসে পড়াশোনা করতে আর্থিকভাবে এবং বিভিন্ন সমস্যার দরুণ অনেকটা সমস্যায় পড়তে হয়। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে আবাসন গড়ে উঠলে অনেকটা সহযোগিতা হবে ছাত্রীদের বলে অভিমত ব্যক্ত করলেন তিনি।
November 2020
রিয়াং শরনার্থীদের নানা সমস্যা নিয়ে গৃহমন্ত্রনালয়ের নেতৃত্বদের সাথে সেক্রেটারীয়েটে বৈঠকে মহারাজ
জনতার কলম প্রতিনিধি ত্রিপুরা আগরতলাঃ- রাজ্যে রিয়াং শরনার্থীরা দীর্ঘদিন যাবৎ সরকারী নানা সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে রিলিফ ক্যাম্পে রয়েছেন তাদের বাসস্থান এবং সরকারি সুযোগ সুবিধা প্রদানের দাবী তুলেছিল ব্রু রিয়াং শরনার্থীরা। তাদের এই দাবীকে রাজ্য সরকার সন্মতি দিলেও রাজ্যে মহামারী পরিস্থিতির কারনে দীর্ঘ দিন ধরে বন্ধ ছিল এর বাস্তবায়ন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার মহারাজা প্রদ্যুৎ কিশোর দেব্বর্মন এবং ব্রু নেতৃত্বসহ গৃহমন্ত্রনালয়ের নেতৃত্বদের নিয়ে রিয়াং শরনার্থীদের নানা ধরনের বঞ্চনার বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করা হবে সেক্রেটারিয়েট ভবনে বলে জানান তিনি। তাছাড়া কেন্দ্রিয় সরকার যেহেতু এবিষয়ে সন্মতি দিয়েছেন তাতে এর বাস্তবায়ন শুধু সময়ের অপেক্ষা বলে অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি।
বিগত দিনে ট্যাঙ্কটি যে জায়গায় ছিল সেখানে দাঁড়িয়ে কেউ সেলফি নিতে পেরেছেন? : মুখ্যমন্ত্রী
জনতার কলম প্রতিনিধি ত্রিপুরা আগরতলাঃ- যে এলবার্ট ইক্কা নিজের প্রানের বলিদান দিয়ে শহর আগরতলাকে বাচিয়েছিল সেই এলবার্ট ইক্কা নাম অনুসারে রাজধানীর লিচু বাগান এলাকায় একটি পার্ক নির্মান করা হয় সেই পার্কে বাংলাদেশের মুক্তি যুদ্ধে শহিদ হওয়া জওয়ানদের নানা স্মৃতি তুলে ধরা হয়েছে এবং সেই যুদ্ধের স্মৃতি হিসাবে যে ট্যাংকটি রাজধানীর পোস্ট অফিস চৌমুনীতে বিরাজিত হয়ে দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে রাজ্যের ঐতিহ্য বহন করে চলছে সেটিকে স্থানান্তরিত করা হল এলবার্ট ইক্কা পার্কে। আর সরকারের এই পদক্ষেপে যেমন বিভিন্ন মহল থেকে উঠছে অভিযোগের সুর তেমনই শুনা যাচ্ছে প্রশংসার বানীও। সোমবার এই বিষয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান বিগ বিগত দিনে ট্যাঙ্কটি যে জায়গায় ছিল সেখানে দাঁড়িয়ে কেউ সেলফি নিতে পেরেছেন বলে প্রশ্ন রাখার পাশাপাশি তিনি বলেন একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ঘটনা আজকের প্রজন্মের অনেকেই জানা নেই কিন্তু যে এলবার্ট একটা পার্ক রয়েছে সেখানে শহীদদের স্মৃতি হিসেবে স্থাপিত করা হলে ট্যাংকের ইতিহাস সম্পর্কে আজকের প্রজন্ম ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অবগত হবেন। তাছাড়া একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম বলে জানান তিনি।
জনতার কলম প্রতিনিধি ত্রিপুরা আগরতলাঃ- জানা যায় দীর্ঘ ২৫, ৩০ বছর ধরে রাজধানী এডি নগর এলাকার অভিনন্দন এন্টারপ্রাইজ নামক বেসরকারি সংস্থায় কাজ করে আসছেন অনেকে কিন্তু গত শনিবার হঠাৎ সংস্থায় কাজ নেই বলে তালা ঝুলিয়ে দেয় বলে জানা যায়। তারই পরিপ্রেক্ষিতে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে শ্রম দপ্তরে আবেদন জানানো হয়, তাছাড়া মুখ্যমন্ত্রীর ও দ্বারস্থ হয়েছেন শ্রমিকরা তারপর একপ্রকার ক্ষোভের জেরেই অভিনন্দন এন্টারপ্রাইজের সামনে তাদের কাজ ফিরিয়ে দেবার ও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে অভিনন্দন এন্টারপ্রাইজের মালকপক্ষকে আদেশ দিয়ে পুনরায় কাজ চালু করার বিষয় নিয়ে দাবী রাখেন। তা না হলে এখানে যারা শ্রমিকরা রয়েছেন ওরা না খেয়ে অনাহারে মরে যাবেন বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।
জনতার কলম,ত্রিপুরা উদয়পুর প্রতিনিধি :- জনতার কলম, এিপুরা,উদয়পুর প্রতিনিধি :- এই বছর করোনা আবহের জন্য মাতাবাড়িতে দেওয়ালী মেলা না হলেও অন্যান্য বছরের ন্যায় এইবারারও মায়ের দেওয়ালীর বিশেষ পূজার্চনা হবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এবং সরকারী সমস্ত বিধি নিষেধ মেনে মায়ের দর্শন ও পূজো দিতে পারবেন পূর্নার্থীরা। তাই আলোর উৎসব দীপাবলি উপলক্ষ্যে মায়ের মন্দিরকে ইতিমধ্যেই নতুন রঙে রাঙিয়ে তোলা হয়েছে। পাশাপাশি বর্তমানে আলোক সজ্জার কাজ চলছে জোরকদমে। হাতে সময় খুব কম। তাই প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে। গোটা মাতাবাড়ি চত্বর এবং ব্রম্মাবাড়ি থেকে মাতাবাড়ি অব্দি জাতীয় সড়কের দু পাশে আলোকসজ্জায় সাজিয়ে তোলা হচ্ছে।
বিহারের জয় ভারতীয় জনতা পার্টির পশ্চিমবাংলা জয় সুনিশ্চিত করেছে- অলক ভট্টাচার্য
জনতার কলম প্রতিনিধি ত্রিপুরা আগরতলাঃ- এন ডি এ জয়যুক্ত হওয়াতে কার্যালয় থেকে এক অভিনন্দন রেলি সংঘটিত হয়। মিছিলে উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ বিজেপি পশ্চিম জেলা সভাপতি অলক ভট্টাচার্য। তিনি জানান বিহারের জয় পশ্চিমবাংলায় ভারতীয় জনতা পার্টির জয়কে সুনিশ্চিত করেছে। পাশাপাশি ত্রিপুরা রাজ্যের আসন্ন এডিসি এবং পৌর নির্বাচনে জয় থেকে অনুপ্রাণিত করেছে। এই জয় যে অখন্ড ভারতের স্বপ্ন দেখতে পারে এবং ভারতবর্ষে মুক্তি আনতে পারে তা বিহার বাসী প্রমাণ করে দিয়েছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি।
জনতার কলম প্রতিনিধি ত্রিপুরা আগরতলাঃ- নেশা বিরোধি অভিযানে বড় সাফল্য পেল রাজ্যের প্রশাসন। ঘটনা সূত্রে জানা যায় গোপন খবরের উপর ভিত্তি করে মধুপুর থানার ওসি তাপস দাস এর নেতৃত্বে পুলিশ ও টিএসআর যৌথ অভিযান চালায় কমলাসাগর বিধানসভার অন্তর্গত অরবিন্দ নগর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার 1 নং ওয়ার্ডে পাঁচ কানি গাজা বাগানে, সেখানে পাঁচ হাজার গাছ ধ্বংস করে অভিযানকারী প্রশাসনের টিম। আগামী দিনেও এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানায় মধুপুর থানার ওসি তাপস দাস। রাজ্যের পুলিশের এই ধরনের অভিযানে গাজা মাফিয়াদের মধ্যে এক প্রকার আতঙ্ক দেখা দেয়।
বিহার নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির জয় দেশের মানুষের বিশ্বাসের জয়- পাপিয়া দত্ত
জনতার কলম প্রতিনিধি ত্রিপুরা আগরতলাঃ- বুধবার সদর বিজেপি কার্যালয়ে এক সাংবাদিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এদিনের বৈঠকে প্রদেশ বিজেপি রাজ্য সম্পাদিকা পাপিয়া দত্ত বক্তব্য রাখতে গিয়ে গতকাল বিহারের বিধানসভা নির্বাচনসহ অন্যান্য রাজ্যের উপ-নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি যে জয় লাভ করেছে তা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনকল্যাণমুখী কাজের প্রতি মানুষের যে বিশ্বাস সেই বিশ্বাসের জয় বলে জানান। তাছাড়া এই জয়ের মধ্য দিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপর ভারতবাসীর যে বিশ্বাস সেই বিশ্বাস পরিস্ফুট হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মাতাবাড়িতে হচ্ছেনা এবছর দীপাবলি উপলক্ষে মেলা,চিন্তার ভাঁজ পেরা ব্যবসায়ীদের মধ্যে
জনতার কলম, এিপুরা,উদয়পুর প্রতিনিধি :- করুনা আবহে বিভিন্ন বিধিনিষেধ থাকায় এ বছর আর দীপাবলি মেলা হচ্ছে না, একান্ন পীঠস্থান মাতা বাড়িতে। বসছেনা কোন অস্থায়ী দোকানপাট।থাকছেনা কোনো প্রদর্শনী! হবে না কোন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এবছর দীপাবলি মেলা নয় , এ বছর হবে ত্রিপুরেশ্বরী মায়ের দর্শন। থাকছেনা কোনো বিশেষ ট্রেনও। সবই হচ্ছে করুনা আবহের জন্য। সরকারি সমস্ত বিধিনিষেধ মেনে ত্রিপুরেশ্বরী মায়ের মন্দিরে পূজা দিতে পারবে দর্শনার্থীরা। যেহেতু এবছর দীপাবলি উপলক্ষে কোন মেলা বসেছে না, তার জন্য চিন্তার ভাঁজ পড়েছে মাতারবাড়ি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যেও।যেহেতু লোকসমাগম আগের মত হবে না তাই তারা অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর পেড়ার সংখ্যাটা অনেকটাই কম তৈরি করছে। এমনটাই জানালো মাতারবাড়ীর স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সংবাদমাধ্যমের কাছে।
“ভোট আসে ভোট যায় প্রতিশ্রুতি থাকে প্রতিশ্রুতির জায়গায়” প্রসঙ্গ : পাহাড়ের পানীয়জল
জনতার কলম,ত্রিপুরা,তেলিয়ামুড়া,প্রতিনিধি :-আর ঠিক এমনটাই চলছে পার্বত্যময় সবুজ বনানীতে ঘেরা আমাদের এই ক্ষুদ্র ত্রিপুরা রাজ্যে । আমাদের ত্রিপুরা রাজ্যের পাহাড়ি গিরি এলাকাজুড়ে বিশুদ্ধ পানীয় জলের সংকট বর্তমানে তেমন কোন নতুন কথা বা ঘটনা নয় । এই ধারা যেন দীর্ঘ ২৫ বছরের বাম আমল থেকেই নদী গতি স্রোতের প্রবাহে চলে আসছে, যা বর্তমানে ৩ বছরের রাম আমলেও এই স্রোতধারা অব্যহত রয়েছে । তবে পাহাড়ের অন্দরে বসবাসরত সহজ সরল এই গিরিবাসীদের জল সংকটের সমাধান ও পাহাড়ের জঙ্গলাকীর্ণ রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করার দোহাই দিয়েই কিন্তু বছরের পর বছর আসন্ন যে কোন নির্বাচনে গ্রাম বাসীদের কাছ থেকে ভোট আদায় করে একে একে ভোট বৈতরণী পার হচ্ছে রাজনৈতিক নেতা আমলারা । উল্লেখ্য, দীর্ঘ ২৫ বছরের বাম শাসনাধীনেও পাহাড়ের উপজাতি বসতি গিরি এলাকায় বিশুদ্ধ পানীয় জলের সংকট ও রাস্তাঘাটের দুর্ভোগ থেকে বিন্দুমাত্রও রেহাই পায় নি ওই সমস্ত গিরিবাসীরা । “যেমন ছিল বামে ঠিক তেমনই আছে রামেও” । যদিও ৩ বছরের বিজেপি আইপিএফটি জোট শাসনাধীনে একমাত্র “আমলা” বাদে কোন “কামলা”র-ই ভাগ্য বদলায় নি । তবে ২০১৮-র বিধানসভা নির্বাচনে যখন রাজ্যে নতুন করে পালা বদল হয়েছিল, ঠিক এর পূর্বেই নির্বাচনের সময় কতই না মায়া কান্না করে পার্বত্যময় গিরিবাসীদের জন্য দীর্ঘদিনের বিশুদ্ধ পানীয় জলের সমস্যা ও রাস্তাঘাটের সমস্যার সমাধান করবে বলে “গাল-ভড়া” এক ঘর প্রতিশ্রুতির বন্যা বইয়ে দিয়েছিল বর্তমান নব জোট সরকারের এক একজন রতি মহারতি নেতাগণ । কিন্তু রাজ্যে পালা বদলের নতুন করে জোট সরকারের ৩ বছর গড়াতে চললেও আজও গিরি ও অন্দর এলাকার বসবাসরত সহজ সরল মানুষজন এখনও পরিশ্রুত পানীয় জলের বিন্দুমাত্র স্বাদ ভোগ করতে পারে নি, সেইসাথে জঙ্গলাকীর্ণ রাস্তাঘাটের ও কোন পরিবর্তন হয় নি । ফলে স্বাধীন ভারতের ৭৪ বছর পরেও আজও “ছড়া-পাথর চুষা” নোংরা ঘোলাটে জলেই পানীয় জলের পাশাপাশি নিত্য প্রয়োজনীয় কাজেও এই নোংরা অপরিশোধিত জল তাদের আজও ভাগ্যের নির্মম পরিহাসের দরুণ ব্যবহার করতে হচ্ছে । এমনই একটি জ্বলন্ত ছবি ও অভিযোগ উঠে আসলো আমাদের সবুজ শহর তেলিয়ামুড়া থেকে মাত্র ১৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বড়মুড়া পাহাড়ের মধ্যে উপজাতি অধ্যুষিত মান্দাই ব্লকের অধীন উপজাতি স্ব-শাসিত জেলা পরিষদের অন্তর্গত “ADC” ভিলেজের নিউ খামতিং বাড়ি এলাকা থেকে । বিবরণে জানা যায়, বড়মুড়া পাহাড়ের ওই নিউ খামতিং বাড়ি এলাকায় মোট ২০০-র মতো জনজাতি পরিবারের স্থায়ী বসবাস । উল্লেখ্য, এই নিউ খামতিং বাড়ি এলাকায় বসবাসকারী উপজাতি অংশের মানুষজনরা দীর্ঘদিন ধরেই পরিশ্রুত বিশুদ্ধ পানীয় জলের তীব্র সংকটে ভুকছে, সেইসাথে জঙ্গলাকীর্ণ রাস্তাঘাটের চলাচলের সমস্যা তো আছেই । যদিও তেলিয়ামুড়া শহর থেকে ১৬ কিলোমিটার দূরবর্তী এই নিউ খামতিং বাড়ি বস্তিতে ২০২০-এ রাম আমলে দাঁড়িয়েও বিভিন্ন “চড়াই-উৎরাই” পার হয়েই পৌছুতে হয় আজও। জানা যায়, ওই বস্তিতে বিশুদ্ধ পানীয় জলের এতোটাই সংকট যে, কি বর্ষা আর কি শুখা-মরশুম সারা বছরেই তাদেরকে এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড় অতিক্রম করে ও কোন কোন সময় পাহাড়ের নিচে গিয়েও গর্ত করে পরিস্রুত পানীয় জল সংগ্রহ করতে হয় । যদিও এখানেই শেষ নয়, শুখা মরসুমে এই জলের উৎস গুলো প্রায় শুকিয়ে যাবার কারণে আবার ভিন্ন কোন এক জায়গায় গিয়ে সেই পানীয় জলের সন্ধান করতে হচ্ছে তাদের কখনো কখনো হয়তো বা । যদিও এই সামান্যটুকু পরিমাণ জল দিয়েই তাদের পানীয় জল থেকে শুরু করে, তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় সমস্ত যাবতীয় কাজকর্মে সীমাবদ্ধ থাকতে হয় ও দিনযাপন করতে হয় । ফলে এই নোংরা এবং দূষিত ঘোলাটে জল প্রতিনিয়ত ব্যবহার করার ফলে তাঁদেরকে আজ একদিকে যেমন নানা অজানা ও কঠিন ব্যধিতে ভুগতে হচ্ছে, ঠিক তেমনই অন্যদিকে অনেক সময়ই কোন কোন গিরিবাসীকে এই নোংরা ও অপরিশোধিত পানীয় জলের কারনে মৃত্যুপথযাত্রীও হতে হচ্ছে । তবে বলা যেতেই পারে বিগত ২৫ বছরের বাম সরকারের শেষ লগ্নে “DWS” থেকে সরকারী ভাবে গাড়ি করে ওই এলাকায় জল দেওয়া শুরু করলেও, হঠাৎ রাজ্যে পালা বদলে নতুন করে বিজেপি-আইপিএফটি জোট সরকারের আমলে বর্তমানে “ONGC”-র দপ্তর থেকে গাড়িতে করে ৫০ থেকে ৭০ টাকার বিনিময়ে স্বল্প পরিসরে সমানুপাতে বস্তির সকলকে জল সরবরাহ করা হচ্ছে যদিও । ফলে তাতেও কোন সুফল বা পানীয় জলের সমস্যার সমাধান হচ্ছে না । এই জল সরবরাহ করার কিছুক্ষণের মধ্যেই এই জলের পাত্রে দেখা মেলে জলের পাত্রের নীচে লাল বর্ণের আয়রন জমে রয়েছে । যদিও কোনরকম সু-পথ না পেয়ে বাধ্য হয়েই এই আয়রন যুক্ত লাল বর্ণের ঘোলাটে জল পানীয় জল হিসেবে আজও ব্যবহার করতে হচ্ছে ওই এলাকার গিরি বাসীদের । এখন সেটাই দেখার বিষয় যে, আসন্ন রাজ্য “ADC” নির্বাচনের আগে রাজ্যের সমস্ত পাহাড়ি প্রত্যন্তময় অঞলে বসবাসরত সকল গিরিবাসীদের দীর্ঘদিনের যে একটা মূল সমস্যা রয়েছে “বিশুদ্ধ পানীয় জল”-র সমস্যার সুরাহা করা সেটা আদৌ পূরণ হয় কিনা – নাকি আজও পূর্বের মতোই আমলা নেতা মন্ত্রীদের প্রতিশ্রুতির সুতোঁতেই ফের একবার বাঁধা পড়ে থাকবে !
