জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলায় উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ঘিরে এই সংঘাত ইতিমধ্যেই নাজুক যুদ্ধবিরতিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প “প্রজেক্ট ফ্রিডম” নামে একটি নতুন উদ্যোগ ঘোষণা করার পরপরই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য, সংঘাতের কারণে আটকে পড়া তেলবাহী ট্যাঙ্কার ও বাণিজ্যিক জাহাজগুলিকে নিরাপদে হরমুজ প্রণালী অতিক্রমে সহায়তা করা। উল্লেখ্য, বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি সংঘাত শুরুর পর থেকে কার্যত বন্ধ রয়েছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোট এবং ইরানের মধ্যে শুরু হওয়া এই সংঘাতে ইতিমধ্যেই হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, মার্কিন হামলায় পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে তারা ইরানের ছয়টি ছোট সামরিক নৌকা ধ্বংস করেছে।
অন্যদিকে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি তেলবন্দর আগুনে পুড়ে যায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, ওই এলাকায় একটি বড় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে সমুদ্রপথে অবরোধ জারি রেখেছে, যা তেহরান সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণার সমতুল্য বলে দাবি করেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, এই সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই। তিনি জানান, শান্তি আলোচনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে আরও গভীরভাবে সংঘাতে জড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
তীব্র উত্তেজনার মধ্যেও মার্কিন সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তাদের নৌবাহিনীর নিরাপত্তায় দুটি মার্কিন বাণিজ্যিক জাহাজ সফলভাবে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। তবে এই দাবি অস্বীকার করেছে ইরান।
উল্লেখ্য, গত মাসের ৮ তারিখ থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল এবং পরে ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। যদিও সেই আলোচনা কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়, ফলে পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত রয়ে গেছে।