জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- ত্রিপুরা বিধানসভায় সোমবার ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের জন্য ৩৪,২১২.৩১ কোটি টাকার বাজেট পেশ করল রাজ্য সরকার। উন্নয়নমূলক নানা উদ্যোগ ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্পকে সামনে রেখে এই বাজেট উপস্থাপন করা হয়।
রাজ্যের অর্থমন্ত্রী প্রাণজিৎ সিংহ রায় চলমান অধিবেশনে বাজেট পেশ করে জানান, “বিকশিত ত্রিপুরা” গড়ে তোলার লক্ষ্যকে সামনে রেখে এই আর্থিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। বাজেটে ২৪০.৭২ কোটি টাকার আর্থিক ঘাটতির (ফিসকাল ডেফিসিট) প্রস্তাব ধরা হয়েছে।
এদিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা । তিনি রাজ্য সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) ও মহার্ঘ ভাতা রিলিফ (ডিআর) ৫ শতাংশ বৃদ্ধির ঘোষণা দেন। নতুন হারে এই বৃদ্ধি আগামী ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এর ফলে রাজ্যের কোষাগারের উপর বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার অতিরিক্ত আর্থিক চাপ পড়বে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের মোট ১,০২,৪৬৫ জন সরকারি কর্মচারী এবং ৮১,০১৯ জন পেনশনভোগী উপকৃত হবেন।
অর্থমন্ত্রী আরও জানান, চলতি বাজেটে মূলধনী ব্যয় (ক্যাপিটাল এক্সপেন্ডিচার) ধরা হয়েছে ৮,৯৪৫.৯২ কোটি টাকা, যা ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষের বাজেট অনুমানের তুলনায় ১৩.১৯ শতাংশ বেশি। এই বৃদ্ধি রাজ্যের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে সরকারের অগ্রাধিকারকে প্রতিফলিত করে।
বাজেটে জনজাতি সম্প্রদায়ের উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা পরিষেবার সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি, শিল্প বিকাশ এবং কৃষকদের সহায়তায় একাধিক নতুন কর্মসূচির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অর্থমন্ত্রী দাবি করেন, উন্নত প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকার ফলে রাজ্যে সামগ্রিক অপরাধের হার কমেছে। একই সঙ্গে পর্যটন শিল্পকে আরও এগিয়ে নিতে একাধিক নতুন উদ্যোগ গ্রহণের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিধানসভার চলমান বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে এই বাজেট পেশ করা হয়। অধিবেশনটি উপ-স্পিকার রামপ্রসাদ পালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রাজ্য সরকারের দাবি, এই বাজেট একটি সমন্বিত আর্থিক রূপরেখা, যার মাধ্যমে জনজাতি সম্প্রদায় ও সংখ্যালঘুসহ সমাজের সব স্তরের মানুষের উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং তাদের জীবনমান আরও উন্নত করা সম্ভব হবে।


Leave feedback about this