জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- তিরুবনন্তপুরম: কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর শনিবার স্পষ্ট করে জানালেন, সংসদে তিনি কখনও দলের ঘোষিত অবস্থানের বিরোধিতা করেননি। তাঁর মতে, নীতিগতভাবে একমাত্র প্রকাশ্য ভিন্নমত তিনি প্রকাশ করেছিলেন ‘অপারেশন সিন্দুর’ ইস্যুতে, এবং সেই অবস্থান নিয়ে তাঁর কোনও অনুশোচনা নেই।
কেরালা সাহিত্য উৎসবের এক আলোচনাসভায় প্রশ্নের উত্তরে তিরুবনন্তপুরমের সাংসদ বলেন, ওই বিষয়ে তিনি সচেতনভাবেই কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে দলের নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর মতানৈক্য নিয়ে যে জল্পনা চলছে, তার মধ্যেই এই মন্তব্য করলেন শশী থারুর।
উল্লেখ্য, বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে যে কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে থারুরের দূরত্ব বাড়ছে। এমনকি অভিযোগ উঠেছে, সম্প্রতি কোচিতে একটি অনুষ্ঠানে রাহুল গান্ধী মঞ্চে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও শশী থারুরের নাম উল্লেখ করেননি। পাশাপাশি রাজ্যের কিছু নেতা তাঁকে বারবার উপেক্ষা করার চেষ্টা করছেন বলেও জল্পনা রয়েছে।
এই প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শশী থারুর বলেন, একজন পর্যবেক্ষক ও লেখক হিসেবে তিনি পাহালগামের ঘটনার পর একটি সংবাদপত্রে কলাম লিখেছিলেন। সেখানে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছিলেন যে ঘটনার জন্য দোষীদের শাস্তি হওয়া উচিত এবং দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তবে তিনি এটাও বলেছিলেন যে, ভারত যখন উন্নয়নের পথে এগোচ্ছে, তখন পাকিস্তানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে জড়িয়ে পড়া উচিত নয়। তাঁর মতে, যেকোনও পদক্ষেপ সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটিগুলিকেই লক্ষ্য করে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত।
নেহরুর উদ্ধৃতি দিয়ে বক্তব্য
শশী থারুর জানান, তিনি বিস্মিত হয়েছেন যে ভারত সরকার শেষ পর্যন্ত ঠিক সেই পথেই এগিয়েছে, যার কথা তিনি বলেছিলেন। তিনি দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর একটি উক্তির উল্লেখ করে বলেন, নেহরুই প্রশ্ন তুলেছিলেন— “যদি ভারতই শেষ হয়ে যায়, তাহলে কে বেঁচে থাকবে?”
থারুর বলেন, “যখন ভারতের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং বিশ্বের দরবারে দেশের অবস্থান প্রশ্নের মুখে, তখন সবার আগে ভারতই।”
তিনি আরও বলেন, উন্নত ভারত গঠনের পথে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে ভারতই সর্বোপরি হওয়া উচিত।


Leave feedback about this