2026-01-02
Ramnagar, Agartala,Tripura
রাজ্য শিক্ষা

সোশ্যাল মিডিয়ার যুগেও বইয়ের গুরুত্ব অপরিসীম: মুখ্যমন্ত্রী

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- বই হচ্ছে আমাদের প্রকৃত বন্ধু। বই কোনোদিন বিশ্বাসঘাতকতা করে না। আজ বিকেলে হাপানিয়া আন্তর্জাতিক মেলা প্রাঙ্গণে ৪৪তম আগরতলা বইমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা) মানিক সাহা একথা বলেন। তিনি বলেন, বইমেলা হচ্ছে লেখক, পাঠক এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের মিলনস্থল। একে একটি মিনি কুম্ভ মেলা বলা যেতে পারে। কলমের ক্ষমতা তরোয়ালের চেয়েও বেশি। এটা এখন সর্বজনবিদিত। প্রতিদিন পড়াশোনা করলে নিজেকে অনেক পরিশীলিত করা যায়। পড়াশোনার কোনও শর্টকাট রাস্তা নেই। তিনি বলেন, বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে নিজেকে নানাভাবে বিকশিত করা যায়। চিন্তা চেতনার উন্মেষ ঘটে। এমন কোনও বিষয় নেই যার উপর লেখা যায় না। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগরতলা বইমেলা সর্বজনবিদিত। সারা পৃথিবীর মানুষ এই মেলা সম্পর্কে অবহিত। ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষার জন্য এবার বইমেলার সময় পাল্টানো হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এতে ছাত্রছাত্রীরা উপকৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে বই উপহার হিসেবে দেওয়া হতো। এই অভ্যাস যদি আবার ফিরিয়ে আনা যায় তাহলে লেখক, প্রকাশক সবাই উপকৃত হবেন। সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে বইয়ের প্রতি কিছুটা সময় দেওয়া গেলে আমরা নিজেরাই অনেকটা উপকৃত হবো। হাঁপানিয়ায় বইমেলার আয়োজন প্রসঙ্গ উত্থাপন করে তিনি বলেন, হাঁপানিয়ায় বইমেলার আয়োজন করলে নানাদিক দিয়ে অনেক সুবিধা হয়। মেলাস্থলটি জাতীয় সড়কের একেবারে পাশে। পাশাপাশি রেলস্টেশনও খুব কাছে। স্বাভাবিকভাবেই যাতায়াতের দিক দিয়ে কোনও সমস্যা হয় না। উপরন্তু এই আন্তর্জাতিক মেলা প্রাঙ্গণে সমস্ত পরিকাঠামো তৈরি করা আছে। এখানে মেলার আয়োজন করলে খরচও অনেক কম হয়।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, একমাত্র ত্রিপুরাতেই সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় বইমেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে। বইমেলা উপলক্ষ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে সমস্ত পুরস্কার দেওয়া হয়ে থাকে সেগুলি নবীন প্রজনাকে উজ্জীবিত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানের সম্মানিত অতিথি রাজ্য বিধানসভার উপাধ্যক্ষ রামপ্রসাদ পাল বলেন, বই ছাড়া আমরা কেউ বাঁচতে পারি না। অন্ধকার দিক থেকে আলোর দিশায় নিয়ে আসে বই। বই মানবজাতির আত্মা। বইয়ের চর্চা যত বেশি করা যায় ততই নিজেকে সমৃদ্ধ করা যায়।

সভাপতির ভাষণে বিধায়ক মিনারাণী সরকার বলেন, হাঁপানিয়া মেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত আগরতলা বইমেলায় প্রতিবছর বই পিপাসুদের সংখ্যা বাড়ছে। ছাত্রছাত্রীরা বইকে যত বেশি আপন করে নেবে ততই তারা উপকৃত হবে।

স্বাগত ভাষণে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সচিব ড. পি. কে. চক্রবর্তী বলেন, বইমেলা হচ্ছে জ্ঞান, সংস্কৃতি ও আনন্দের মিলন ক্ষেত্র। হাপানিয়া আন্তর্জাতিক মেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত বইমেলায় বই বিক্রির সংখ্যা প্রতিবছরই বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২৪ সালে আয়োজিত বইমেলায় বই বিক্রি হয়েছিল ১ কোটি ৪৭ লক্ষ টাকার। গত বছরের মেলায় বই বিক্রি হয়েছে ১ কোটি ৫৩ লক্ষ টাকা। এবছর বই বিক্রির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। ৪৪তম আগরতলা বইমেলায় ১৮৩টি স্টল খোলা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে আগরতলা পুরনিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, পশ্চিম ত্রিপুরা জিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল, বিশেষ অতিথি হিসেবে রাজ্যভিত্তিক সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত চক্রবর্তী, বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে ত্রিপুরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য পদ্মশ্রী পুরস্কারে সম্মানিত ড. অরুণোদয় সাহা, বিশিষ্ট লেখক নরেশ দেববর্মা, বিশিষ্ট লেখক মিলন কান্তি দত্ত, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের অধিকর্তা বিম্বিসার ভট্টাচার্য প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ৪৪তম আগরতলা বইমেলার স্মরণিকা এবং গোমতীর আবরণ উন্মোচন করেন মুখ্যমন্ত্রী সহ বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা কবি সম্মেলন ও বই প্রকাশ মঞ্চে টেকনো ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটির কর্ণধার তথা প্রফেসর সত্যম রায় চৌধুরীর দুটি বইয়ের প্রকাশ করেন। মুখ্যমন্ত্রী বইমেলায় আলোকচিত্র সাংবাদিকদের দ্বারা আয়োজিত আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন ত্রিপুরা কর্তৃক একটি বিশেষ স্বাস্থ্য সচেতনতা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার স্টলের উদ্বোধন করেন।

    Leave feedback about this

    • Quality
    • Price
    • Service