Home Blog Page 6

‘ভুল দলে ছিলাম’—বিজেপিতে যোগ দিয়ে বিস্ফোরক চাড্ডা

0

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- দেশের রাজনীতিতে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে আম আদমি পার্টি (AAP)-এর একাধিক রাজ্যসভা সাংসদ দল ছেড়ে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (BJP) যোগ দিয়েছেন। রাঘব চাড্ডা, অশোক মিত্তল এবং সন্দীপ পাঠক শুক্রবার দিল্লিতে বিজেপি দফতরে দলীয় প্রধান নীতিন নবীনের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেন।

দলত্যাগী বাকি চার সাংসদ—প্রাক্তন ক্রিকেটার হরভজন সিং, স্বাতী মালিওয়াল, রাজিন্দর গুপ্তা এবং বিক্রম সাহনি—শীঘ্রই বিজেপিতে যোগ দেবেন বলেও জানা গেছে।

এদিন বিজেপি দফতরে চাড্ডা, মিত্তল ও পাঠককে ফুল দিয়ে স্বাগত জানানো হয় এবং উপস্থিত বিজেপি নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেন তারা।

এর আগে, ৩৭ বছর বয়সী রাঘব চাড্ডা সাংবাদিকদের জানান, তিনি সহ মোট সাতজন এএপি সাংসদ দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং বিজেপির সঙ্গে একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। সংবিধান অনুযায়ী, কোনও দলের দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ অন্য দলে যোগ দিলে তা বৈধ বলে গণ্য হয়—এই যুক্তি দেখিয়ে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সিপি রাধাকৃষ্ণনের কাছে প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

বর্তমানে এএপি-র ১০ জন রাজ্যসভা সাংসদের মধ্যে ৭ জনই বিজেপির দিকে ঝুঁকেছেন। ফলে অবশিষ্ট রয়েছেন মাত্র তিনজন—সঞ্জয় সিং, সন্ত বলবীর সিং সীচেওয়াল এবং এনডি গুপ্তা। দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সাংসদ দলত্যাগ করায় এই ক্ষেত্রে দলত্যাগ বিরোধী আইন কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কম।

দল ছাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রাঘব চাড্ডা বলেন, “গত কয়েক বছরে মনে হয়েছে আমি ভুল দলে আছি। এএপি তার মূল আদর্শ থেকে সরে গেছে। তাই আমি জনগণের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

অন্যদিকে সন্দীপ পাঠক জানান, “১০ বছর ধরে এই দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। কিন্তু আজ দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিতে হল।”

উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০১২ সালে এএপি গঠনের সময় থেকেই দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন চাড্ডা এবং কেজরিওয়ালের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০২২ সালের পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনে দলের জয়ে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তবে গত এক বছরে দলের নেতৃত্বের সঙ্গে তার দূরত্ব বাড়তে থাকে।

এএপি সূত্রে অভিযোগ, সংসদে কেন্দ্র ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ এড়িয়ে চলা, গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে নীরব থাকা এবং বিরোধী জোটের কর্মসূচিতে অনুপস্থিত থাকার মতো বিষয়গুলি নিয়ে চাড্ডার বিরুদ্ধে অসন্তোষ তৈরি হয়। এমনকি, মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের গ্রেফতার ও জামিনের সময়েও তার নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এএপি নেতা সঞ্জয় সিং বিজেপির বিরুদ্ধে “অপারেশন লোটাস”-এর অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, বিজেপি কেন্দ্রীয় সংস্থা ও প্রশাসনিক শক্তি ব্যবহার করে বিরোধী দল ভাঙার চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, “পাঞ্জাবের মানুষ এই সাতজন সাংসদকে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু তারা বিজেপির কোলে গিয়ে বসেছেন। পাঞ্জাবের মানুষ এই বিশ্বাসঘাতকতাকে ক্ষমা করবে না।”

এছাড়াও, সঞ্জয় সিং অভিযোগ করেন, বিজেপি পাঞ্জাবে ভাগবন্ত মান সরকারের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার চেষ্টা করছে। উল্লেখ্য, দিল্লি নির্বাচনে ধাক্কার পর পাঞ্জাবই বর্তমানে এএপি-র একমাত্র ক্ষমতাসীন রাজ্য, যেখানে ২০২৭ সালের শুরুতে নির্বাচন হওয়ার কথা।

অন্যদিকে, অরবিন্দ কেজরিওয়াল সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “বিজেপি আবারও পাঞ্জাবের মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করল।”

এই ঘটনায় দেশের রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে এবং আগামী দিনে এর প্রভাব পাঞ্জাবসহ জাতীয় রাজনীতিতে কতটা পড়বে, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।

আগরতলা পুরভোটে প্রস্তুতি শুরু, কর্মীদের সঙ্গে কৌশল বৈঠক মুখ্যমন্ত্রীর

0

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ড. মানিক সাহা শুক্রবার আগরতলা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (AMC) নির্বাচনের আগে নিজের মণ্ডলে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকে সাংগঠনিক প্রস্তুতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনার উপর বিশেষ জোর দেন।

বর্দোয়ালি মণ্ডল ও জেলা স্তরের নেতৃবৃন্দকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আসন্ন AMC ও নগর পঞ্চায়েত নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূল স্তরের সমন্বয় আরও শক্তিশালী করা এবং সুস্পষ্ট কৌশল নির্ধারণ করাই এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য।

মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এলাকা যেহেতু AMC-র অন্তর্গত, তাই স্থানীয় পর্যায়ে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন কার্যকরভাবে সম্পন্ন করতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, “এখানে অনেক কাজ বাকি রয়েছে। আমি সময়ে সময়ে এখানে আসি। আজ আমার নিজের মণ্ডলে এসেছি। মণ্ডল সভাপতি, জেলা সভাপতি ও কর্মীরা উপস্থিত রয়েছেন। আমরা আলোচনা করেছি কীভাবে এগিয়ে যাওয়া যায়। সামনে AMC ও নগর পঞ্চায়েত নির্বাচন রয়েছে—সেই অনুযায়ী কীভাবে সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে কার্যকরভাবে কাজ করা যায়, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।”

এদিন মুখ্যমন্ত্রী দলীয় কর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং মণ্ডলের চলমান কাজকর্মের খোঁজখবর নেন। তিনি নির্বাচনের জন্য পূর্ণ প্রস্তুতির পাশাপাশি এলাকার উন্নয়নমূলক কাজগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

ড. সাহা আরও জানান, AMC এলাকায় যেসব কাজ এখনও বাকি রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সম্পন্ন করার উপায় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মীদের কাছ থেকে সরাসরি মতামত সংগ্রহ করে বাস্তব পরিস্থিতি বোঝার এবং কাজের গতি বাড়ানোর দিকেও জোর দেওয়া হচ্ছে।

এই সফরের মাধ্যমে আসন্ন পুরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণের পাশাপাশি উন্নয়নমূলক কাজের গতি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে দলের প্রাথমিক প্রস্তুতির ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়েছে।

সাংবাদিকদের নিরাপত্তায় জোর দাবি, পুলিশ ডিজির সঙ্গে বৈঠকে আগরতলা প্রেসক্লাব

0

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- রাজ্যের পাহাড় ও সমতলের সাংবাদিকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে সরব হলো আগরতলা প্রেসক্লাব। শুক্রবার পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী প্রেসক্লাবের একটি প্রতিনিধি দল পুলিশ সদর দপ্তরে গিয়ে পুলিশ মহা-নির্দেশক (ডিজি) অনুরাগের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে।

প্রেসক্লাবের সভাপতি প্রণব সরকারের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের এই প্রতিনিধি দলে ছিলেন সহ-সভাপতি চিত্রা রায়, যুগ্ম সম্পাদক কমল চৌধুরী ও অভিষেক দে, এবং কার্যকরী সদস্য অভিষেক দেববর্মা। পুলিশ সদর দপ্তরের কনফারেন্স হলে আয়োজিত বৈঠকে পুলিশের একাধিক শীর্ষ আধিকারিকও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে, রাতের বেলায় কাজ করা চিত্র সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগরতলা সহ বিভিন্ন মহকুমা শহরে পুলিশের টহল বৃদ্ধির দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি প্রেস স্টিকারের অপব্যবহার রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সব ঋতুতে ব্যবহারযোগ্য প্রেস জ্যাকেট সরবরাহের দাবিও উত্থাপন করা হয়।

এছাড়াও, সামাজিক মাধ্যমে ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ পরিচয়ে বিভ্রান্তিকর ও ভুয়ো তথ্য ছড়ানোর বিরুদ্ধে পুলিশ প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান জানানো হয়। প্রেসক্লাবের পরিচালন কমিটির বৈঠক ও বার্ষিক সাধারণ সভায় সদস্যদের উত্থাপিত বিভিন্ন সমস্যাও এদিন খোলামেলা ভাবে ডিজির সামনে তুলে ধরা হয়।

ডেপুটেশন শেষে প্রণব সরকার জানান, পুলিশ মহা-নির্দেশক সাংবাদিকদের দাবিগুলির সঙ্গে সহমত প্রকাশ করেছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।

তথ্য গোপনের অভিযোগে আইনি জটিলতায় টিঙ্কু রায়, আদালতে বীরজিৎ-এর চ্যালেঞ্জ

0

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- ত্রিপুরায় নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে বৃহস্পতিবার। কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা তথা কৈলাসহর বিধায়ক বীরজিৎ সিনহা রাজ্যের মন্ত্রী টিঙ্কু রায়ের বিরুদ্ধে নির্বাচন হলফনামায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে উনকোটি জেলার প্রধান বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট (CJM) আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

বীরজিৎ সিনহার অভিযোগ, নির্বাচনের সময় বাধ্যতামূলক নথিপত্র জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে মন্ত্রী টিঙ্কু রায় তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অপরাধমূলক অতীতের তথ্য গোপন করেছেন। তাঁর দাবি, এই ধরনের তথ্য গোপন করা নির্বাচনী বিধির গুরুতর লঙ্ঘন এবং জনজীবনে স্বচ্ছতার পরিপন্থী।

এই মামলাটি আদালতে পেশ করেন আইনজীবী নারসিংহ দাস, যাঁকে সহায়তা করেন যুব কংগ্রেস নেতা ও আইনজীবী পুজন বিশ্বাস। তাঁরা আদালতে বীরজিৎ সিনহার পক্ষে সওয়াল করেন।

আদালতের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বীরজিৎ সিনহা বলেন, “এর আগেও এই ধরনের ঘটনায় জনপ্রতিনিধিদের অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। অপরাধমূলক তথ্য গোপন করা কোনও সাধারণ ত্রুটি নয়, এটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার মূল ভিত্তিকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে।”

এই আবেদনের পর বিষয়টি এখন বিচারাধীন। অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, তা খতিয়ে দেখবে আদালত।

রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক দল ও বিরোধীদের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। নির্বাচনী হলফনামায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আম আদমি পার্টিতে বড় ভাঙন, রাঘব চাড্ডার নেতৃত্বে একাধিক সাংসদ বিজেপিতে যোগের পথে

0

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :-দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড়সড় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে আম আদমি পার্টি (AAP)-এর ভেতরে উদ্ভূত ভাঙন। দলের রাজ্যসভা সাংসদ রাঘব চাড্ডা দাবি করেছেন, তিনি সহ আরও বেশ কয়েকজন সাংসদ বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা AAP-এর জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাঘব চাড্ডার কথায়, রাজ্যসভায় AAP-এর মোট ১০ জন সাংসদের মধ্যে প্রায় ৭ জনই তাঁর পাশে রয়েছেন। এই সমর্থন নিয়ে তারা দলত্যাগের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন এবং ইতিমধ্যেই রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

চাড্ডার সঙ্গে এই সিদ্ধান্তে শামিল হয়েছেন দলের গুরুত্বপূর্ণ মুখ সন্দীপ পাঠক ও অশোক মিত্তল। তাঁদের এই পদক্ষেপকে দলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ ও মতবিরোধের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দল ছাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রাঘব চাড্ডা অভিযোগ করেন, আম আদমি পার্টি তার মূল আদর্শ থেকে সরে এসেছে। স্বচ্ছতা, দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান ও জনস্বার্থের রাজনীতি—যে ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে দলটি গড়ে উঠেছিল, তা আর আগের মতো নেই বলেই তিনি দাবি করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি চাড্ডার দাবি সত্যি হয়, তাহলে রাজ্যসভায় AAP-এর শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে এবং বিজেপি সেই সুযোগে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করতে পারে। একই সঙ্গে এই ঘটনা অরবিন্দ কেজরিওয়ালের নেতৃত্বাধীন দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

এই পরিস্থিতিতে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে, যা আগামী দিনে রাজনৈতিক লড়াইকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।

উন্নয়নের স্বার্থে ভারসাম্য চাইলেন শিবকুমার, রাজনাথের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা

0

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- নতুন দিল্লিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন কর্ণাটকের উপমুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার। বেঙ্গালুরুর প্রতিরক্ষা বিমানবন্দরগুলির আশেপাশে আরোপিত উচ্চতা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ নিয়ে এদিন বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে শিবকুমার জানান, এই বিধিনিষেধের কারণে শহরের একাধিক অঞ্চলে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত বর্ধনশীল মহানগরী হিসেবে বেঙ্গালুরুর বিকাশে এর প্রভাব পড়ছে বলেও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তিনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান, যাতে বিমান নিরাপত্তা বজায় রেখে একই সঙ্গে শহরের উন্নয়নের স্বার্থও রক্ষা করা যায়—এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমাধান খুঁজে দেখা হয়।

এই বৈঠককে কেন্দ্র করে বেঙ্গালুরুর ভবিষ্যৎ নগর পরিকল্পনা ও উন্নয়ন নিয়ে নতুন দিশা মিলতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

আয়ুষ্মান থেকে আবাস—একাধিক প্রতিশ্রুতি মোদির দমদম সভায়

0

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের আগে উত্তর ২৪ পরগনার দমদমে এক জনসভায় বক্তব্য রাখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবারের এই সভা থেকে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) ও বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ করেন এবং বিজেপির পক্ষে সমর্থন চেয়ে একাধিক প্রতিশ্রুতিও দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রথম দফার ভোটেই বাংলায় পরিবর্তনের হাওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে এবং বিজেপির জয়ের সূচনা হয়ে গেছে। তাঁর অভিযোগ, টিএমসি গণতন্ত্রকে দুর্বল করেছে, তবে প্রথম দফার ভোটে মানুষ সেই গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধারের বার্তা দিয়েছে। দ্বিতীয় দফায় ভোট দিয়ে সেই লড়াইকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি।

মোদি দাবি করেন, ভোটের ফল ঘোষণার পর টিএমসি-র ‘সন্ত্রাসের রাজত্ব’-এর অবসান হবে। তিনি বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলাকে দুর্নীতি, ভয় এবং সিন্ডিকেট রাজ থেকে মুক্ত করা হবে। একইসঙ্গে রাজ্যের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

মহিলাদের নিরাপত্তা ও সম্মান নিয়ে টিএমসি-কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিজেপি নারী নেতৃত্বাধীন উন্নয়নে বিশ্বাসী। বিজেপি সরকার গঠিত হলে মহিলাদের সুরক্ষা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

এছাড়াও, বিজেপি ক্ষমতায় এলে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু করে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করেন মোদি। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় বাড়ি নির্মাণে আর্থিক সহায়তা, মহিলাদের নামে বাড়ির মালিকানা, বিনামূল্যে রেশন এবং ‘সূর্য ঘর’ প্রকল্পের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিল শূন্য করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

মধ্যবিত্তদের জন্য কর ছাড়, শিক্ষা ও আবাসন ক্ষেত্রে সুবিধা বাড়ানোর কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, বিজেপি সরকার গঠিত হলে বাংলায় শিল্প ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

সভা থেকে মোদি আরও বলেন, বাংলার গৌরব পুনরুদ্ধার এবং উন্নয়নের নতুন অধ্যায় শুরু করতে মানুষের এক একটি ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি রাজ্যের মানুষকে বিজেপির পক্ষে ভোট দিয়ে ‘নতুন পরিবর্তন’-এর পথ প্রশস্ত করার আহ্বান জানান।

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথম অধিবেশনেই আস্থা ভোটে পাশ সম্রাট চৌধুরী

0

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :-বিহারে সম্রাট চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন নতুন এনডিএ সরকার শুক্রবার বিধানসভায় আস্থা ভোটে জয়লাভ করে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করেছে। বিধানসভায় ধ্বনি ভোটে আস্থা প্রস্তাব পাস হয়। প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার পর দেখা যায়, সংখ্যার দিক থেকে শাসকপক্ষ স্পষ্টভাবে এগিয়ে, ফলে বিরোধীরা পিছিয়ে পড়ে। এরপর বিধানসভার স্পিকার প্রেম কুমার প্রস্তাবটি গৃহীত হয়েছে বলে ঘোষণা করেন।

২৪৩ সদস্যের বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের জন্য সরকারের প্রয়োজন ছিল ১২২টি ভোট। তবে এনডিএ জোট তাদের ঐক্য প্রদর্শন করে ২০১ জন বিধায়কের সমর্থনের দাবি জানায়, ফলে ভোটাভুটির সম্ভাবনা প্রায় ছিল না বললেই চলে।

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর শুক্রবারই প্রথমবার বিধানসভায় আসেন সম্রাট চৌধুরী, যেখানে তাঁকে ফুলের তোড়া দিয়ে স্বাগত জানানো হয়। উল্লেখ্য, জেডিইউ-র জাতীয় সভাপতি নীতীশ কুমার রাজ্যসভায় নির্বাচিত হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন। এরপর ১৫ এপ্রিল সম্রাট চৌধুরীর নেতৃত্বে এনডিএ সরকার গঠিত হয়। আস্থা ভোটের জন্য বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছিল।

সংবিধান অনুযায়ী, নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে সরকারকে বৈধতা দিতে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হয়। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত বিহার বিধানসভা নির্বাচনে এনডিএ ২০২ জন বিধায়কের সমর্থন পেয়ে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে, ফলে আস্থা ভোটের আগেই সরকার শক্ত অবস্থানে ছিল। যদিও নিতিন নবীন রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন।

নতুন সরকার গঠনের পর মন্ত্রিসভার মধ্যে দপ্তর বণ্টনও সম্পন্ন হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী বর্তমানে সাধারণ প্রশাসন, স্বরাষ্ট্র, ক্যাবিনেট সচিবালয়, সতর্কতা এবং নির্বাচনসহ মোট ২৯টি দপ্তরের দায়িত্বে রয়েছেন। উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয় কুমার চৌধুরী জলসম্পদ ও সংসদীয় কার্যসহ ১০টি দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েছেন। অন্যদিকে উপমুখ্যমন্ত্রী বিজেন্দ্র প্রসাদ যাদব শক্তি ও পরিকল্পনা-উন্নয়নসহ ৮টি দপ্তরের দায়িত্বে রয়েছেন। তবে বিহার মন্ত্রিসভার আরও সম্প্রসারণ এখনও বাকি রয়েছে।

এআই ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করলেন নির্মলা সীতারামণ, ব্যাংকগুলিকে বাড়তি নজরদারির পরামর্শ

0

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- শুক্রবার কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামণ দ্রুত বিকাশমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দেশের ব্যাংকগুলিকে আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে Anthropic-এর নতুন এআই মডেল ‘মিথোস এআই’-এর সম্ভাব্য ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ভারতীয় ব্যাংকগুলো প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকলেও, দ্রুত পরিবর্তনশীল এআই প্রযুক্তির কারণে বাড়তি সতর্কতা জরুরি হয়ে উঠেছে। তিনি জানান, উন্নত ক্ষমতার জন্য বিশ্বজুড়ে আলোচনায় থাকা ‘মিথোস এআই’ মডেলের সঙ্গে যুক্ত ঝুঁকিগুলির উপর সরকার ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখছে।

সীতারামণ আরও জানান, ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক (MeitY) এই বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সরকার ও সংস্থার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে, যাতে সম্ভাব্য ঝুঁকি বোঝা যায় এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার উপর তার প্রভাব মূল্যায়ন করা যায়।

তিনি ইঙ্গিত দেন, এআই-সংক্রান্ত নতুন ও জটিল হুমকির মোকাবিলায় বিদ্যমান নিয়ম ও নিরাপত্তা কাঠামো হালনাগাদ করা প্রয়োজন হতে পারে। পাশাপাশি, এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্যাংকগুলির মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার উপর জোর দেন তিনি। এই ক্ষেত্রে ইন্ডিয়ান ব্যাংকস অ্যাসোসিয়েশন (IBA) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেও উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, এর একদিন আগেই অর্থমন্ত্রী ‘মিথোস এআই’-কে ঘিরে “অভূতপূর্ব” ঝুঁকির সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন।

এর আগে, চলতি মাসের ৬ এপ্রিল ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ পাবলিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড পলিসির স্বর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে সীতারামণ বলেন, ভারতের শক্তিশালী আর্থিক অবস্থা এবং পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের কারণে রিজার্ভ ব্যাংকের কাছে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গত এক দশকের আর্থিক শৃঙ্খলার ফলেই সরকার পুঁজি ব্যয় (capex) চালিয়ে যাওয়া, আরবিআই-এর পক্ষে সুদের হার কমানো এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলোতে সহায়তা দেওয়ার মতো সক্ষমতা অর্জন করেছে।

গঙ্গার তীরে মোদি, উন্নয়ন প্রতিশ্রুতির সুর বাংলায়

0

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শুক্রবার কলকাতায় হুগলি নদীতে নৌবিহারের কিছু মুহূর্ত ভাগ করে নিয়ে গঙ্গার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং বাঙালির জীবনে এর গভীর সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

একাধিক এক্স (X) পোস্টে মোদি এই অভিজ্ঞতাকে “অত্যন্ত বিশেষ একটি সকাল” বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “প্রতিটি বাঙালির কাছে গঙ্গার একটি বিশেষ স্থান রয়েছে। বলা যায়, গঙ্গা বাঙালির আত্মার মধ্য দিয়েই প্রবাহিত হয়। তাঁর পবিত্র জল বহন করে এক সমগ্র সভ্যতার চিরন্তন চেতনা।”

প্রধানমন্ত্রী নদীর তীরবর্তী নানা দৃশ্যের ছবিও শেয়ার করেন, যেখানে ঐতিহ্যবাহী হাওড়া ব্রিজ ও বিদ্যাসাগর সেতুর মনোরম দৃশ্য ধরা পড়ে। তিনি জানান, এই সফরে নিজেও কিছুটা ফটোগ্রাফির চেষ্টা করেছেন। বৃহস্পতিবার হাওড়া ব্রিজে তাঁর রোড শোয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, স্থলপথে দেখার পর এবার জলপথ থেকে সেই দৃশ্য ভিন্ন এক অনুভূতি দিয়েছে।

এই সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় নৌকাচালক ও সকালে হাঁটতে বের হওয়া মানুষের সঙ্গে কথোপকথন করেন এবং তাঁদের পরিশ্রম ও নিষ্ঠার প্রশংসা করেন। পাশাপাশি তিনি পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন ও মানুষের সমৃদ্ধির প্রতি কেন্দ্র সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার তিনি বেলুড় মঠ পরিদর্শন করে শ্রী রামকৃষ্ণ, মা সারদা ও স্বামী বিবেকানন্দের শিক্ষার প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বেলুড় মঠকে সেবা, সম্প্রীতি ও মানবিকতার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন এবং সেখানে স্বামী গৌতমনন্দের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।

উল্লেখ্য, চলমান পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের মধ্যে এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রথম দফার ভোটগ্রহণে ৯১.৭৮ শতাংশ ভোট পড়েছে। দ্বিতীয় দফার ভোট ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে এবং ফল ঘোষণা করা হবে ৪ মে।