Monthly Archives
July 2025
জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- শারদোৎসবের আগেই অবৈধ বাজির কারবারিরা নানা রকম অবৈধ বাজি আনতে শুরু করেছেন। এখন থেকেই শব্দ বাজি মজুদ করে উৎসবের দিনগুলিতে চড়া দামে বিক্রি করার পরিকল্পনা। যদিও গুলিশি অভিযানে অন্তত একটি ক্ষেত্রে ব্যর্থ অবৈধ বাজির কারবারিরা। আমতলী থানার পুলিশ পাচারকালে ১০ কার্টুন শব্দ বাজি বাজেয়াপ্ত করেছে। এর মূল্য প্রায় ১০ লক্ষ টাকা বলে ওসি জানিয়েছেন। যদিও কাওকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
সোমবার সন্ধ্যায় রুটিন চেকিং এর সময় একটি ছোট লরিতে তল্লাশি চালিয়ে এই সাফল্য পায় পুলিশ। এই অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন এএসআই অপূর্ব চক্রবর্তী। পুলিশ ঘটনার তদন্ত চালিয়েছে। অভিযোগ আমতলী বাইপাস দিয়ে প্রতিনিয়ত অবৈধ সামগ্রী পাচার হচ্ছে। পুলিশ কিছু কিছু ক্ষেত্রে আটক করলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিভিন্ন অবৈধ সামগ্রী নির্বিগ্নে পাচার করে নিয়ে যাচ্ছে অবৈধ ব্যাপারীরা।
জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- দেশের নির্বাচন কমিশন নির্বাচক মন্ডলীর নামের তালিকা সংশোধনের নামে যে ভূমিকা পালন করছে তার তীব্র নিন্দা জানালেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। বলেন কোনো একটি দলকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্যে কাজ করছে নির্বাচন কমিশন। একইসঙ্গে তিনি প্রদ্যুৎ কিশোরে এর ভূমিকারও সমালোচনা করেন।
দেশের নির্বাচন কমিশন নির্বাচক মন্ডলীর নামের তালিকা যে ভাবে সংশোধন করছে তাতে উদ্বিগ্ন প্রদেশ কংগ্রেস। তাদের আশঙ্কা এই এস আই আর গদ্ধতি ত্রিপুরাতেও প্রয়োগ করতে পারে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি মঙ্গলবার কংগ্রেস ভবনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, ভারত সরকারের দেওয়া নাগরিকত্বের পরিচয়পত্র নির্বাচন কমিশন অস্বীকার করছে।
নির্বাচন কমিশনের এই ধরণের কোনো অধিকার নেই। সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে দেশের নির্বাচন কমিশন এই কাজ করছে বলে অভিযোগ করেন আশীষ বাবু। কোনো একটি রাজনৈতিক দলকে সুবিধা পাইয়ে দিতে এরা এই কাজ করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। সেই সঙ্গে প্রদ্যুৎ কিশোরে দেববর্মন এরও সমালোচনা করেন। বলেন অনেক নিম্ন আয়ের মানুষ এমনকি উপজাতিদের মধ্যেও অনেকে এখন জন্মের প্রমান পত্র দেখাতে পারবে না।
উল্লেখ্য সম্প্রতি প্রদ্যুৎ নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে বিহার মডেল ত্রিপুরাতেও লাগু করার দাবি জানিয়েছিলেন। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অবশ্য অনুপ্রবেশকারীদের সমর্থন করেন না বলে জানিয়েছেন। অনুপ্রবেশ কারীদের চিন্নিত করতে গিয়ে কোনো বৈধ নাগরিকের নাম বাতিল হলে কংগ্রেস বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে বলে সাফ জানিয়ে দেন তিনি। এদিকে এদিন বক্সনগর বিধানসভা কেন্দ্রের অবসর প্রাপ্ত এক শিক্ষক সহ এক যুবক সিপিআইএম দল ত্যাগ করে কংগ্রেস দলে যোগদান করেন।
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহা নবাগতদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দিয়ে বরণ করে নেন। উল্লেখ্য, ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচন অনেক দিন বাকি, তার আগেই, রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন দল থেকে নেতা, কর্মীরা এসে কংগ্রেস দলে যোগ দিচ্ছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে কংগ্রেসের হালে জোয়ার আসবে বলে দাবি বিভিন্ন মহলের।
জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- জিবি হাসপাতালে চোর ছিনতাইবাজদের উৎপাত চলছেই। একেতো চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে বিস্তর অভিযোগ। এখন টাকা পয়সা, মোবাইল, স্বর্ণালংকার নিয়ে জিবি তে যাওয়াটাই আতঙ্কের হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায়ই ঘটছে চুরির ঘটনা। অম্পি থেকে মঙ্গলবার এক মহিলা জিবি হাসপাতালে আসেন চিকিৎসা করাতে। টিকিট কাউন্টারে টিকিট নেওয়ার পর দেখেন উনার হাত ব্যাগে রাখা ছোট মানি ব্যাগটি নেই।
তাতে ১৪ হাজার টাকা ও মহিলার বাড়ির আলমারির দুইটি চাবি ছিল। প্রিয়াঙ্কা দাস নামে ওই মহিলা চুরির ঘটনা আঁচ করতে পেরে বেসরকারি সিকিউরিটি কর্মী ও টিকিট কাউন্টারে থাকা কর্মীদের জানান। তারা কোনো রকম সহযোগিতা না করে শুধু এইটুকুই পরামর্শ দেন থানায় জানানোর জন্যে। সেই অনুযায়ী নিরুপায় হয়ে প্রিয়াঙ্কা জিবি ফাঁড়িতে পুরো ঘটনা জানান। যদিও কাওকে আটক করার খবর নেই।
আশ্চর্যের বিষয় হলো জিবি তে চুরি ছিনতাই এর ঘটনা নতুন নয়। অথচ টিকিট কাউন্টারের সামনে প্রতিদিন এতো লোকের ভিড় থাকা স্বত্তেও এখানে নাকি সিসি ক্যামেরা নেই। তাছাড়া বেসরকারি নিরাপত্তা কর্মীরা কখনোই চোর ছিনতাইবাজদের পাকড়াও করতে পারে না। তাই স্বাভাবিক ভাবেই জিবি তে চুরি ছিনতাই এর ঘটনার সঙ্গে বড় একটি চক্র জড়িত কিনা তা নিয়ে অনেকের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।
জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৩৪তম প্রয়াণ দিবস পালন করলো ত্রিপুরায় এআইডিএসও, এআইডিওয়াইও ও এআইএমএসএস। ২৯ জুলাই নবজাগরণের পথিকৃৎ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্রাসাগরের প্রয়াণ দিবস। মঙ্গলবার তাঁর ১৩৪তম প্রয়াণ দিবসে গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের মধ্যে দিয়ে তাকে স্মরণ করলো এআইডিএসও, এআইডিওয়াইও ও এআইএমএসএস- এর ত্রিপুরা রাজ্য কমিটি।
এই উপলক্ষে রাজধানী আগরতলার পোস্ট অফিস চৌমুহনীতে বিদ্যাসাগরের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। উপস্থিত ছিলেন এআইডিএসও-এর রাজ্য সম্পাদক রামপ্রসাদ আচার্য সহ অন্যান্য নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা।
এদিন বক্তারা বিদ্যাসাগরের সমাজ সংস্কারমূলক ভূমিকা, নারী শিক্ষা, বিধবা বিবাহ প্রবর্তনসহ তাঁর প্রগতিশীল চিন্তাধারার মুল্যায়ন করেন এবং বর্তমান সমাজে তাঁর আদর্শ অনুসরণের প্রাসঙ্গিকতার উপর আলোকপাত করেন। রামপ্রসাদ অভিযোগ করেনঈশ্বরাত। বিদ্যাসাগর স্বপ্ন দেখেছিলেন ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক ও বৈজ্ঞানিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করার তা আজও হয়নি।
পানীয় জল, বিদ্যুৎ পরিষেবা এবং রাস্তাঘাটের সমস্যার সমাধানে দপ্তরের আধিকারিকদের নির্দেশ মন্ত্রী সুধাংশু দাসের
written by janatar kalam
জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি:- নিজ বিধানসভা কেন্দ্র ফটিকরায়ের জনগণের মৌলিক সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে পর্যালোচনা বৈঠক করলেন ফটিকরায় বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী সুধাংশু দাস। মঙ্গলবার ফটিকরায়ের আম্বেদকর কলেজের কনফারেন্স হলে এই পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ।বৈঠকে পৌরহিত করেন এলাকার বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী সুধাংশু দাস। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ঊনকোটি জেলাশাসক,মহকুমা শাসক, পানীয় জল ও স্বাস্থ্য নিধি, বিদ্যুৎ এবং পূর্ত দপ্তরের জেলা ও মহকুমা স্তরের আধিকারিকরা। 
উপস্থিত ছিলেন ফটিকরায় বিধানসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানগণ ।এই পর্যালোচনা বৈঠক প্রসঙ্গে মন্ত্রী সুধাংশু দাস জানান, ফটিকরায় বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার রাস্তাঘাটের সমস্যা ,পানীয় জলের ইসু ,বিদ্যুৎ পরিষেবা নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হবে ।বিধানসভা কেন্দ্রের অধীন জনগণকে সার্বিক সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যেই এই বৈঠক ।মন্ত্রী আরো জানান ,বর্তমানে ফটিকরায় বিধানসভা কেন্দ্রের কোন স্থানে সংশ্লিষ্ট দপ্তর গুলির কাজ নিয়ে কোন সমস্যা রয়েছে কিনা সেই বিষয়টিও বিস্তারিতভাবে আলোচনা হবে।
তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাক্তার মানিক সাহার নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার গোটা রাজ্যে উন্নয়নের গতি অব্যাহত রেখেছেন। প্রতিটি এলাকার উন্নয়নের জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হচ্ছে। এই অর্থ কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে, ২০২৪-২৫ অর্থ বর্ষের বরাদ্দ কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে এবং চলতি অর্থবছরের বাজেট বরাদ্দ যেন দ্রুততার সাথে ১০০ শতাংশ বাস্তবায়িত হয় সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই এই পর্যালোচনা বৈঠক বলে জানান মন্ত্রী সুধাংশু দাস।
এই পর্যালোচনা বৈঠকে ফটিকরায় বিধানসভা কেন্দ্রের অধীন বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানরা সংশ্লিষ্ট গ্রামগুলিতে পানীয় জল, বিদ্যুৎ পরিষেবা এবং রাস্তাঘাটের সমস্যার কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। এই সমস্যাগুলি দ্রুত সমাধানের জন্য বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকদের নির্দেশ দেন মন্ত্রী সুধাংশু দাস।
জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- অপারেশন সিঁদুর আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে, শেষ করা হয়নি। পাকিস্তানের মাটি ব্যবহার করে সন্ত্রাসীরা ফের মাথাচাড়া দিলে প্রয়োজনে আবার গুড়িয়ে দেওয়া হবে জঙ্গিঘাঁটি। সোমবার অপারেশন সিঁদুর নিয়ে সংসদে বিশেষ আলোচনা চলাকালীন এমনই হুঁশিয়ারি প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-এর। পাশাপাশি কোনও তৃতীয়পক্ষের চাপ নয়, পাকিস্তানের কাতর আকুতিতেই যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানালেন তিনি।
রাজনাথ সিং জানান, পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে থাকা জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরই পাকিস্তানের DGMO কে পুরো ঘটনা জানান ভারতের DGMO। যদিও এরপরেই ভারতের একাধিক জায়গা টার্গেট করে মিসাইল, ড্রোন হামলা চালানোর চেষ্টা করে পাকিস্তান। যা রুখে দেয় দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। সংসদে রাজনাথ বলেন, পহেলগাঁও হামলার বদলায় মাত্র ২২ মিনিটে জঙ্গিদের ঘরে ঢুকে মেরেছে সেনা।
অপারেশন সিঁদুরে ঘাবড়ে গিয়ে হামলা চালায় পাকিস্তান। ১০ মে রাতে পাকিস্তান মিসাইল ছোঁড়ে। পাল্টা হামলায় ভারত পাকিস্তানের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ধ্বংস করে দেয়। যদিও ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কোনও ক্ষতি হয়নি। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বদ্ধপরিকর ভারত। এরপরেই নাম না করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি ওড়ান প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, কারও চাপে অপারেশেন সিঁদুর স্থগতি হয়নি। ভারতীয় সেনার মার খেয়ে পাকিস্তান যুদ্ধ থামানোর অনুরোধ করেছিল। ১২ মে দুই দেশের DGMO-র মধ্যে কথা হয়। এর আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশ যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত নেয়।
ভারতের ক’টা বিমান ধ্বংস হল সেটা জানতে চাইছেন কেন? সংসদে দাঁড়িয়ে এভাবেই বিরোধীদের পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। বিরোধীদের বিঁধে তিনি বলেন, বিরোধীদের প্রশ্নগুলি মোটেই জাতীয় স্বার্থকে প্রতিফলিত করে না। কত অস্ত্র বা কত বিমান ধ্বংস হল, সেই প্রশ্ন না করে বিরোধীদের জিজ্ঞাসা করা উচিত ছিল জঙ্গিঘাঁটিগুলো সফলভাবে ধ্বংস করা গিয়েছে কিনা। অর্থাৎ ক্ষয়ক্ষতি জানতে চেয়ে বিরোধীদের প্রশ্নকে কার্যত অবান্তর প্রমাণিত করলেন রাজনাথ। অপারেশন সিঁদুর নিয়ে সোমবার আলোচনা শুরু হল সংসদে।
পাক জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার এই অপারেশনে ভারতের কতখানি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সেই নিয়ে প্রথম থেকেই প্রশ্ন তুলেছিল বিরোধীরা। ভারতীয় সেনার তরফে ক্ষয়ক্ষতি মেনে নেওয়া হলেও তার পরিমাণ স্পষ্ট করা হয়নি। সেই একই পথে হাঁটলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রীও। সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি বললেন, আমাদের কয়েকজন বিরোধী সদস্য জানতে চাইছেন, ভারতের কত যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে। আমার মনে হয়। এই প্রশ্নটা আমাদের জাতীয় মানসিকতাকে প্রতিফলিত করে না। প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, বিরোধীরা তো জানতে চাননি যে শত্রুদের ক’টা যুদ্ধবিমান আমরা ধ্বংস করেছি? যদি প্রশ্ন করতে হয় তাহলে জিজ্ঞাসা করুন, ভারত জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে কিনা।
উত্তর হল হ্যাঁ জিজ্ঞাসা করুন, এই অপারেশনে আমাদের বীর সেনার কোনও ক্ষতি হয়েছে কিনা, উত্তর হল না, আমাদের কোনও সেনার ক্ষতি হয়নি। জিজ্ঞাসা করুন, অপারেশন সিঁদুর সফল হয়েছে কিনা। উত্তর হল হ্যাঁ। অপারেশন সিঁদুর সফল। প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনে করিয়ে দিয়েছেন, পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেলে কেউ জিজ্ঞাসা করে না, পরীক্ষাকেন্দ্রে তার কলম ভেঙে গিয়েছিল কিনা। তাই ভারতের যুদ্ধবিমান ধ্বংসের খতিয়ান চাওয়া আদতে খুব একটা যুক্তিসঙ্গত নয় বলেই ইঙ্গিত করলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
আমাদের সরকার পাকিস্তানের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য অসংখ্য প্রচেষ্টা করেছে। সোমবার লোকসভায় এমনটাই জানালেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। একইসঙ্গে তিনি বলেছেন, কিন্তু পরবর্তীতে, ২০১৬ সালের সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, ২০১৯ সালের বালাকোট বিমান হামলা এবং ২০২৫ সালের অপারেশন সিঁদুরের মাধ্যমে, আমরা শান্তিপ্রতিষ্ঠার জন্য একটি ভিন্ন পথ গ্রহণ করেছি। নরেন্দ্র মোদি সরকারের অবস্থান স্পষ্ট-আলোচনা এবং সন্ত্রাস একসঙ্গে চলতে পারে না।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং আরও বলেছেন, আমরা ভগবান কৃষ্ণের কাছ থেকে শিখেছি, শেষ পর্যন্ত, ‘ধর্ম’ রক্ষা করার জন্য সুদর্শন চক্র বেছে নিতে হয়। আমরা ২০০৬ সালের সংসদ হামলা, ২০০৮ সালের মুম্বই হামলা দেখেছি-এবং এখন আমরা বলেছি যে যথেষ্ট হয়েছে এবং সুদর্শন চক্র বেছে নিয়েছি। রাজনাথ আরও বলেন, আমরা বিশ্বাস করি যে, যখন আপনার প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসবাদকে একটি কৌশল করে ফেলে এবং সংলাপের ভাষা বোঝে না, তখন দৃঢ় থাকা এবং সিদ্ধান্তমূলক হওয়াই একমাত্র বিকল্প।
রাজনাথের কথায়, সন্ত্রাসবাদকে সমর্থনকারীদের কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, ভারত মাতৃভূমিকে রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আসুন আমরা সকলেই দলীয় মতভেদের উর্ধ্বে উঠে একসাথে দাঁড়াই। পাকিস্তানের সমালোচনা করে রাজনাথ বলেছেন, সভ্য ও গণতান্ত্রিক দেশগুলির সঙ্গে সংলাপ করা যেতে পারে। কিন্তু যে দেশে ভারতের বিরুদ্ধে কেবল ধর্মীয় উগ্রতা এবং ঘৃণা রয়েছে, তাদের সাথে সংলাপ হতে পারে না সন্ত্রাসবাদের ভাষা ভয়, রক্ত এবং ঘৃণা, সংলাপ নয়।
গুলির শব্দে সংলাপের কণ্ঠস্বর দমন করা হয়। যেখানে রক্তপাত হয় সেখানে আলোচনা হতে পারে না। পাকিস্তান নিজের ফাঁদে আটকা পড়েছে, পাকিস্তানের উদ্দেশ্য এবং নীতি সম্পর্কে কোনও সন্দেহ থাকা উচিত নয়। পাকিস্তান সরকার সন্ত্রাসীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে শেষকৃত্যের আয়োজন করে এবং সেনা কর্মকর্তারা তাতে অংশগ্রহণ করে।
জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- বিরোধীদের ভূমিকার তীব্র নিন্দা করেন সংসদ বিষয়কমন্ত্রী কিরেণ রিজিজ। কংগ্রেস-সহ বিরোধীদের সমালোচনা করে রিজিজু বলেছেন, কোনও বিরোধী দলেরই পাকিস্তানের ভাষায় কথা বলা উচিত নয়। সোমবার রিজিজু বলেছেন, বিরোধীরা ইউ-টার্ন নিয়েছে। এমনটা চলবে না। আধঘণ্টা পর সংসদের কার্যক্রম আবার শুরু হবে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী বিতর্ক শুরু করবেন। আমি সকলকে তাঁর কথা শোনার জন্য অনুরোধ করছি। কোনও বিরোধী দলেরই পাকিস্তানের ভাষায় কথা বলা উচিত নয়।
অপারেশন সিঁদুর নিয়ে আলোচনা শুরুর আগেই লোকসভার অধিবেশন মুলতবি হওয়ার বিষয়ে সংসদ বিষয়কমন্ত্রী কিরেণ রিজিজু বলেন, কংগ্রেস এবং বিরোধীরা এখন অপারেশন সিঁদূব নিয়ে আলোচনা থেকে কেন পালিয়ে যাচ্ছে? কিরেণ রিজিজু আরও বলেছেন, আমরা সকলেই আলোচনার জন্য প্রস্তুত ছিলাম। আলোচনা শুরু হওয়ার ১০ মিনিট আগে, বিরোধীরা তাদের এজেন্ডা নিয়ে আসে যে সরকারকে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে, এরপরে, এসআইআর ইস্যুটি নিয়ে আলোচনা করা হবে। আলোচনার মাত্র ১০ মিনিট আগে এমন শর্ত আনা ঠিক নয়।
বিহারে এসআইআর সহ বিভিন্ন ইস্যুতে কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলের সাংসদদের তুমুল হইহট্টগোলের কারণে সোমবার শুরুতেই উত্তাল সংসদ। ব্যাপক হইচইয়ের কারণে দুপুর বারোটা পর্যন্ত লোকসভা ও রাজ্যসভার অধিবেশন মুলতুবি করে দেওয়া হয়। সোমবার বেলা এগারোটা থেকে শুরু হয় লোকসভা ও রাজ্যসভার অধিবেশন। তার আগে সংসদ ভবন চত্বরে এসআইআর ইস্যুতে বিক্ষোভ দেখান ইন্ডিয়া জোটের নেতারা। উপস্থিত ছিলেন লোকসভার বিরোধী দলেনতা তথা কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধিও।
পরে লোকসভার অধিবেশন শুরু হলেও, স্লোগান দিতে থাকেন বিরোধীরা। একই চিত্র ছিল রাজ্যসভাতেও। তুমুল হইচইয়ের জন্য লোকসভা ও রাজ্যসভার অধিবেশন দুপুর বারোটা পর্যন্ত মুলতুবি করে দেওয়া হয়।
জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- জঙ্গিদমন অভিযানে কাশ্মীর উপত্যাকায় ফের বড় সাফল্য। শ্রীনগরের দাচিগাম জঙ্গলে চালানো হয় সেনার ‘অপারেশন মহাদেব’। এই অভিযানে খতম হয়েছে ৩ জঙ্গি। এদের মধ্যে আছে বৈসরন উপত্যকায় হামলার মাস্টারমাইন্ড সুলেমান ওরফে হাশিম মুসা। তার সঙ্গে নিকেশ হয়েছে দুই জঙ্গি আবু হামজা এবং ইয়াসির। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, নিহত তিন জঙ্গি লস্কর-ই তইবার সক্রিয় সদস্য এবং পাকিস্তানের নাগরিক ভারতীয় সেনা, সিআরপিএফ এবং জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ যৌথ অভিযান চালায়। এই অভিযানকে কেন্দ্র করে সোমবার সকাল থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে দাচিগাম এলাকা।
সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সোমবার সকালে শ্রীনগরের দাচিগাম জঙ্গল এলাকায় অভিযানে নামে ভারতীয় সেনার চিনার কোর। অভিযানের নাম ছিল ‘অপারেশন মহাদেব’। জঙ্গিদের সম্ভাব্য ঘাঁটিকে টার্গেট করে গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে নিরাপত্তাবাহিনী। বিরাট নিরাপত্তা বাহিনী ঘিরে ফেলার পর আর পালানোর পথ ছিল না জঙ্গিদের। এমন অবস্থায় সেনাকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে জঙ্গির। সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা জবাব দেয় নিরাপত্তাবাহিনীও। বেশ কিছুক্ষণ ধরে দুই পক্ষের মধ্যে চলে তুমুল গুলির লড়াই। নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে তিন জঙ্গির মৃত্যু হয় বলে জানা গিয়েছে। ওই অঞ্চলে বেশ কয়েকজন জঙ্গি এখনও লুকিয়ে রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এলাকা জুড়ে শুরু হয়েছে তল্লাশি অভিযান। ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে গোটা এলাকা জুড়ে। জঙ্গিদের কাছ থেকে অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার হয়েছে বলে সূত্রের দাবি গোয়েন্দা সূত্রে খবর, সম্প্রতি সীমান্ত পেরিয়ে প্রায় ১৫০ জন জঙ্গি এ দেশে অনুপ্রবেশ করেছে। তারা ওই অঞ্চলেই আত্মগোপন করে রয়েছে। সেই জঙ্গিদের দমন করতে জারি আছে অভিযান।
উল্লেখ্য, গত ২৬ এপ্রিল কাশ্মীরে বৈসরণ উপত্যকায় লস্কর-ই-তইবার ছায়া সংগঠন টিআরএফ-এর জঙ্গিদের গুলিতে প্রাণ যায় ২৬ জন পর্যটকের। ধর্মীয় পরিচয় জেনে পর্যটকদের হত্যা করে জঙ্গিরা। এই বর্বরোচিত হামলায় সঙ্গে জড়িত জঙ্গিদের খোঁজে গত কয়েক মাস ধরে লাগাতার অভিযান চালাচ্ছে সেনা। এই অভিযানের পোশাকি নাম অপারেশন মহাদেব। এদিনের অভিযানও তারই অংশ। এর আগে ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযান চালায় ভারতীয় সেনা। পাকিস্তানে ঢুকে নিশানা করা হয় জঙ্গি ও তাদের একাধিক ঘাটি। তারপর দুই দেশের সংঘাত বাড়তে থাকে। কয়েকদিন পর সেই সংঘাত কমে। তবে কাশ্মীরে জঙ্গি দমন অভিযান জারি আছে ভারতীয় সেনার। সোমবার অপারেশন মহাদেব নামে দাচিগাম জঙ্গলে চালানো অভিযানে সাফল্য পায় ভারতীয় সেনা।
লোকসভায় অপারেশেন সিঁদুর নিয়ে আলচনার দিনই জম্মু ও কাশ্মীরে জঙ্গিদের সঙ্গে ভারতীয় সেনার গুলির লড়াইয়ে তিন জঙ্গিকে খতম হয়া বড় সাফল্য। তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য, পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার সঙ্গে জড়িত কুখ্যাত জঙ্গি সুলেমান মুসার নাম। জঙ্গিদের ডেরা থেকে এএম ৪৭ রাইফেল থেকে আমেরিকায় তৈরি কার্বাইনের মতো অত্যাধুনিক অস্ত্রও উদ্ধার হয়েছে। সেনার ভূমিকার প্রশংসা করেছেন ভারতীয় সেনার নর্দান কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল প্রতীক শর্মা।
জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে ইতিমধ্যেই উত্তাল রাজ্য-রাজনীতি। নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। শুধু ঘাসফুল শিবিরই নয়, ক্ষোভ উগরে দিয়েছে অন্যান্য বিরোধীরাও। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সদ্য শেষ হওয়া ২১শে জুলাইয়ের সভা মঞ্চ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে বাংলায় তিনি এস আই আর হতে দেবেন না। এখানেই শেষ নয়, তৃণমূল সুপ্রিমো রীতিমতো নির্বাচন কমিশন ঘেরাওয়ের হুমকিও দেন।
এবার এই ইস্যুতে নিজের অবস্থান জানালেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবার এর সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দিল্লি যাওয়ার পথে কলকাতা বিমানবন্দরে তিনি বলেন, বিভাজন ও বৈষম্যের রাজনীতি করছে বিজেপি। বিজেপি হিংসার রাজনীতি করছে। এস আই আর এর নামে বাঙালিদের অত্যাচার করতে চাইছে। হেনস্থা করছে। মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। অভিষেক অভিযোগ করে বলেন, বিহারে কুকুরের নামে ডুয়ো ভোটার কার্ড করেছে বিজেপি। ভুয়ো ভোটার কার্ড করে ভোট লোটার চেষ্টা করছে।তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের মতে এটি একটি চক্রান্ত বাঙালিদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার। এখানেই শেষ নয়, তিনি বাঙালিদের অবদান তুলে ধরার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগেবও দাবি তোলেন।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘বাঙালিদের নাগরিক অধিকার খর্ব করা হচ্ছে এসআইআরের নামে। যাদের মধ্যে কোন ইচ্ছাই নেই বাংলা ও বাঙালিকে চেনার, তাদের কোন ধারণাই নেই বাংলার ইতিহাস সম্পর্কে। চার চারটি নোবেলজয়ী দিয়েছে এই বাংলা। বাঙালির অবদান কী ছিল স্বাধীনতা আন্দোলনে, তা ভুলে গেলে চলবে না।’ অমিত শাহের পদত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যেই সরকার সংবিধান মানে না, লঙ্ঘন করে নাগরিক অধিকার, তার নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তির পদে থাকার কোন অধিকার নেই।’অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আরও অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন বিজেপির চাটুকারিতা করছে, দাসত্ব করছে। বিজেপির তল্পিবাহক কমিশন। বাংলায় হেরেছে বলে বাংলার মানুষের ভোটাধিকার কাড়ছে।
বর্তমানে বঙ্গ ও জাতীয় রাজনীতিতে হইচই ফেলে দিয়েছে নির্বাচন কমিশনের স্পেশাল ইনটেনসিভরিভিশন (এসআইআর)। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ গোটা তৃণমূল কংগ্রেস ইতিমধ্যেই এই ব্যাপারে সরব হয়েছেন। শুধু তাই নয়, বিজেপি বিরোধী দলগুলির বক্তব্য, কমিশনের মূল উদ্দেশ্য বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়া। এক কথায় বলতে গেলে, কমিশনের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে পড়তে হয়েছে তীব্র কটাক্ষের মুখে।
এবার এই ইস্যু নিয়ে মুখ খুললেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এটা একটা কৌশল, ভোটের আগে বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার। নির্বাচন কমিশন কাজ করছে বিজেপির ইশারায়।’ এছাড়াও ঘাসফুল শিবিরের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট লুট করে ক্ষমতায় আসার অভিযোগ তোলেন। প্রসঙ্গত, এসআইআর নিয়ে সদ্য শেষ হওয়া ২১শে জুলাই সভা মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান যে বাংলায় তিনি তা হতে দেবেন না। শুধু তাই নয়, নির্বাচন কমিশন ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারিও দেন।

