জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- মানুষ যেন হয়ে উঠছে হায়েনা, নর পাষন্ডেরা পিটিয়ে খুন করল ৪০ বছরের এক যুবককে।ঘটনায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারে। চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র, ঠুটো জগন্নাথ পুলিশ প্রশাসন, ছি ছি রব জনমানষে। দিন দিন যেন মনুষত্ব হারাতে বসেছে সাধারণ মানুষজনেরা। মানুষের দ্বারা সংঘটিত লোমহর্ষক কিছু ঘটনায় বাকরুদ্ধ হয়ে পড়তে হয় শুভ বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষদের। বর্তমান ডটকমের যুগেও কোনও কিছু বিচার বিশ্লেষণ না করে, শুধুমাত্র সন্দেহের বসে মানুষ মানুষকে খুন করে ফেলছে। এ যেন আজব দুনিয়া। সাধারণ জিনিসকে কেন্দ্র করে একশ্রেণীর মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে তৈরি করছে জনরোষ , আর সেই জন রোষেই প্রাণহানি করছে সাধারণ মানুষের। পুলিশ এ রাজ্যে যেন কাল ঘুমে নিদ্রাচ্ছন্ন। গরু চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে প্রাণ হারালো খোদ রাজধানী আগরতলা শহরের বলদাখাল এলাকায় চল্লিশ বছর বয়সি নন্দু সরকার নামে এক যুবক। জানা যায়, নিহত যুবকের বাড়ি দক্ষিণ চন্দ্রপুর, পূর্ব ধলেশ্বর এলাকায়। মাত্র সাড়ে ১১ বছর আগে সোনালী দেব সরকারের সাথে বিয়ে হয়েছিল নন্দু সরকারের। বর্তমানে তাদের ছোট্ট একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। গত পরশুদিন ছোট্ট কন্যা সন্তানকে নিয়ে নন্দুর স্ত্রী সোনালী বাপের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল। ঈদের দিন সকালে বলদাখাল এলাকায় বাড়া বাড়ির পাশেই নন্দু হয়তো একটি গাভীকে দেখে তার গায়ে হাত বুলিয়েছে। কেননা নন্দুর পরিচিত এক যুবক জানায় সে প্রায়ই কুকুর ছাগল বিড়াল, গাভী দেখলে এদের সঙ্গে আদর সোহাগ করত। খাবারও এনে দিত পশুপাখিদের।বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ বলদা খাল এলাকা নন্দকের শুধুমাত্র সন্দেহ বসে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে। অথচ পাড়ার লোক সবাই তাকে চেনে। কেন এই হত্যাকাণ্ড বিস্ময় প্রকাশ করেছে অনেকে। এদিকে খবর পেয়ে নন্দর স্ত্রী সোনালী ছুটে আসে বাপের বাড়ি থেকে। এসেই শুনে নন্দকে গণপিটুনি থেকে উদ্ধার করে পুলিশ নিয়ে গিয়েছে থানায়। পরে জানতে পারে পুলিশ নন্দুকে মৃত অবস্থায় ফেলে এসেছে জিবি হাসপাতালে। সোনালীর প্রশ্ন কেন হত্যা করা হল তার স্বামীকে। কিভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হলো তাকে, কোথায় ছিল পুলিশ, এ ধরনের নানা প্রশ্ন বিড়বিড় করে বলছে সোনালী। জিবি হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানায় , নন্দুকে হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসকরা ইসিজি করে নিশ্চিত হয়েছে সে মৃত। তবে তার শরীরে আঘাতের দাগ রয়েছে। বাকিটা বলতে পারবে পিএম রিপোর্ট। অপরদিকে এলাকার মানুষ তীব্র খুব প্রকাশ করেছে পুলিশ প্রশাসনের উপর। বলছে নন্দুকে যে ব্রিজের উপরে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে, খারচি মেলা উপলক্ষে তখন সেখানে ডিউটিরত ছিল পুলিশ টিএসআর। কি করেছিল তখন পুলিশ প্রশাসন। তাছাড়া বোধজংনগর থানার পুলিশ জীবিত অবস্থায় নন্দুকে উদ্ধার করে নিয়ে গিয়েছিল। তবে কি পুলিশের পিটুনিতে মৃত্যু হয়েছে নন্দুর। এরকম হাজারো প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সাধারণ মানুষের মনে। সঠিক ময়নাতদন্ত হলেই বেরিয়ে আসবে আসল রহস্য।
Monthly Archives
June 2023
অধ্যাপক প্রশান্ত চন্দ্র মহলানবিশের বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং পরিসংখ্যান ইনস্টিটিউটে পরিসংখ্যানের আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠায় তার অবদান ছিল অনস্বীকার্য : মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা
written by janatar kalam
জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- ভারতে পরিসংখ্যানের জনক হলেন অধ্যাপক প্রশান্ত চন্দ্ৰ মহলানবিশ। তিনি ছিলেন বিজ্ঞানী, অর্থনীতিবিদ
ও গবেষক। ১৯৩১ সালের ১৭ ডিসেম্বর তিনি কলকাতায় ভারতীয় পরিসংখ্যান ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং পরিসংখ্যান ইনস্টিটিউটে পরিসংখ্যানের আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠায় তার অবদান ছিল অনস্বীকার্য। ভারত সরকার তাকে ১৯৬৮ সালে পদবিভূষণ পুরস্কারে পুরস্কৃত করেন। পরিসংখ্যান দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা আল রাজ্য অতিধিশালায় অর্থনীতি ও পরিসংখ্যান দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত পরিসংখ্যান দিবসের উদ্বোধন করে একথা বলেন। আজ প্রয়াত অধ্যাপক প্রশান্ত চন্দু মহালানবিশের ১৩০ তম জন্মজয়ন্তী । অনুষ্ঠান শুরুর আগে গতকাল কুমারঘাটে উল্টোরথে দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। ১৭তম পরিসংখ্যান দিবসের উদ্বোধন করে মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মী বলেন, সারা দেশ আজ এই দিবসটি পালন করছে। তিনি বলেন, মহলানবিশ বিশ্বাস করতেন যে, পরিসংখ্যান জাতীয় পরিকল্পনার গতিশীলতার একটি অবিচ্ছেদ অংশ। ১৯৫০ সালে তিনি সর্বভারতীয় ভিত্তিতে জাতীয় নমুনা সমীক্ষা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি বলেন, বর্তমানে আমাদের রাজ্যে ৪ জেলায় অর্থনীতি ও পরিসংখ্যান দপ্তরের অফিস রয়েছে। আরও ৪ জেলায় চালু করা হবে।
অনুষ্ঠানে অর্থনীতি ও পরিসংখ্যান দপ্তরের বিশেষ সচিব অভিষেক চন্তা অধ্যাপক প্রশান্ত চন্দ্র মহলানবিশের শিক্ষা ও কর্মজীবন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানের অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পঞ্চায়েত দপ্তরের অধিকর্তা এন. দার্লং, সমাজ কল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তা স্মিতা মল্, অর্থনীতি ও পরিসংখ্যান দপ্তরের অধিকর্তা নগেন্দ্র দেববর্মা এবং ইকফাই বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার ড. রাজনাথ স্বাগত বক্তব্য রাখেন অর্থনীতি ও পরিসংখ্যান দপ্তরের মুগা অধিকর্তা এল. এস. দার্লহ। অনুষ্ঠানে পরিসংখ্যান দপ্তরের মন্ত্রী দপ্তরের ফেইসবুক ও ইনস্টাগ্রাম চালু করেন। তাছাড়াও মন্ত্রী দপ্তরের তিনটি বইয়ের আনুষ্ঠানিক প্রকাশ করেন। এই ৩টি বইয়ে ত্রিপুরার সমস্ত দপ্তরের পরিসংখ্যানগত তথ্য অন্তর্ভূক্ত রয়েছে। এতে জনগণের জন্য যে পরিকল্পন রয়েছে সেগুলি বাস্তবায়নেও পদক্ষেপ নেওয়া
হবে।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রীসহ অতিথিগণ প্রয়াত অধ্যাপ্ত মহলানবিশের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন। এবছর পরিসংখ্যান দিবসের মূল থিম হলো- ‘এলাইনমেন্ট অব স্টেট ইন্ডিকেটর ফ্রেমওয়ার্ক উইদ ন্যাশনাল ইন্ডিকেটর ফ্রেমওয়ার্ক ফর মনিটরিং সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলস’। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী এবং বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকশণ উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর টেকনিক্যাল সেশনে ‘সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলস’ – বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন অর্থনীতি ও পরিসংখ্যান দপ্তরের অতিরিক্ত অধিকর্তা এ কে চন্দ। সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন দপ্তরের পরিসংখ্যানবিদ সংগীতা তলাপাত্র।
রাজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ ড্রাগস সহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে আমবাসা থানার পুলিশ। আটককৃত ড্রাগসের পরিমাণ ৩কেজি ৪৬ গ্রাম। যার বাজার মূল্য আনুমানিক ৩০কোটি ৮ লক্ষ টাকা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গোপন খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ মিজোরাম থেকে আসা একটি গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে এই বিপুল পরিমাণ ড্রাগস উদ্ধার করেছে। ধলাই জেলার পুলিশ সুপার ও মহকুমা পুলিশ আধিকারিকের নেতৃত্বে একটি টিম সারা রাত্র গাড়িটিকে ধাওয়া করে ভোর তিনটা নাগাদ আটক করতে সক্ষম হয়। পুলিশের কাছে খবর ছিল গাড়িটি সিপাহীজলা জেলার দিকে যাবে। জেলা পুলিশ সুপার জানিয়েছে স্মরণকালের মধ্যে ত্রিপুরা রাজ্যে এটি সবচেয়ে বড় ড্রাগস আটকের ঘটনা।
জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- ঈদের খুশিতে মেতে উঠেছে হিন্দু মুসলিম সমস্ত সম্প্রদায়ের লোক। একে অপরকে আপন করে নিয়েছে আলিঙ্গনের মাধ্যমে। কেন্দ্রীয়ভাবে ঈদ উল আযহা পালিত হয় গেদু মিয়ার মসজিদে।ঈদের সামাজিক অর্থ উৎসব আর আভিধানিক অর্থ পুনরাগমন বা বারবার ফিরে আসা। তাই প্রতি বছরই মুসলমানদের জীবনে ফিরে আসে ঈদ। প্রথমটি উদযাপিত হয় দীর্ঘ ১ মাস রোজা রাখার পর। যাকে বলা হয় ঈদ-উল- ফিতর বা রোজার ঈদ, আর অন্যটি আত্মত্যাগের কোরবানীর ঈদ বা ঈদ-উল-আজহা। এই দুইটি ঈদই হল মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব।গোটা পৃথিবীতেই মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা এই দিন খুবই আনন্দের সঙ্গে পালন করেন। সবাই এ দিন সাধ্যামতো ভালো পোশাক পরে। ঘরে ঘরে ভোজের আয়োজন হয়। আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীরাও এই আনন্দের অংশীদার হয়। দরিদ্ররাও এ দিনটিকে যথাযোগ্য মর্যাদা আনন্দের সাথে পালন করে। মুসলমানেরা এ দিন ঈদের দুই রাকাত নামাজ আদায় করেন। আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবাই কোলাকুলি-সহ সালাম ও শুভেচ্ছার হাত বাড়িয়ে দেয়।বর্তমানে ঈদকার্ড বিনিময় একটি জনপিয় প্রথায় পরিণত হয়েছে। আর তথ্য-প্রযুক্তির যুগে সোশ্যাল মিডিয়াতেও আনন্দ-খুশি ও ঈদের আবেগ ভাগাভাগি করে থাকে। সমাজের ধনী ও সক্ষম ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট হারে গরিবদের ফিতরা বা শর্তহীন অনুদান বিতরণ করে থাকে যা ধর্মীয় দিক থেকে ধনীদের জন্য যা বাধ্যতামূলক।এই ঈদ উৎসবের কী ভাবে প্রচলন হয়েছে তার ইতিহাস ও তথ্য সঠিকভাবে আজও জানা যায়নি। নানা ইতিহাস গ্রন্থ ও ঐতিহাসিক সূত্র ও তথ্য থেকে রোজাপালন এবং ঈদ-উল-ফিতর বা ঈদ-উল-আজহা উদযাপনের যে ইতিহাস জানা যায় তাতে ১২০৪ খৃস্টাব্দে বঙ্গদেশ মুসলিম অধিকারে এলেও নমাজ, রোজা ও ঈদোৎসবের প্রচলন হয়েছে তার বেশ আগে থেকেই। বঙ্গদেশ যুদ্ধবিগ্রহের মাধ্যমে মুসলিম অধিকারে আসার বহু আগে থেকেই মধ্য ও পশ্চিম এশিয়া থেকে মুসলিম সুফি, দরবেশ ও সাধকরা ধর্ম-প্রচারের লক্ষ্যে উত্তর ভারত হয়ে পূর্ব-বাংলায় আসেন।অন্যদিকে আরবীয় এবং অন্যান্য মুসলিম দেশের বণিকেরা চট্টগ্রাম নৌবন্দরের মাধ্যমেও বাংলার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। এভাবেই একটা মুসলিম সাংস্কৃতিক তথা ধর্মীয় প্রভাব যে পূর্ব-বাংলায় পড়েছিল। তবে মুঘল যুগে ঈদের দিন যে হইচই বা আনন্দ হতো তা মুঘল ও বনেদি পরিবারের উচ্চপদস্থ এবং ধনাঢ্য মুসলমানদের মধ্যে কিছুটা হলেও সীমাবদ্ধ ছিল। তার সঙ্গে সাধারণ মানুষের ব্যবধান না থাকলেও কিছু দূরত্ব ছিল।আগরতলায় গেদু মিয়ার মসজিদে পবিত্র ঈদ নামাজে উপস্থিত থেকে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন রাজ্য সরকারের সংখ্যালঘু উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী শুক্লা চরণ নোয়াতিয়া। ঈদের এই কুরবানী প্রসঙ্গে যতদূর জানা গেছে মুসলমানদের প্রিয় নবী আব্রাহামের এর কাছে আল্লাহতালা তার প্রিয় ছেলেকে কুরবানী চেয়েছিল। নবী যখন একমাত্র ছেলেকে কোরবানির জন্য তৈরি করেছিল তখন আল্লাহতালা খুশি হয়ে একটি দুম্বা পাঠিয়েছিল। এই দুম্বা কুরবানী দিয়েই খুশি করিয়েছিল আল্লাহকে। আর তারপর থেকেই ত্যাগের প্রতীক হিসেবে মুসলমান ধর্মালম্বীরা পবিত্র ঈদে বিভিন্ন পশু কুরবানী দিয়ে থাকে। জানিয়েছেন জনৈক ইমাম। এবছর ঈদে বাংলাদেশ থেকেও অনেক মুসলমান ধর্মালম্বী ত্রিপুরায় এসেছে ঈদ উল আযহা পালনের উদ্দেশ্যে। এরকম এক বাংলাদেশী নাগরিকের সাথে এই প্রতিবেদকের কথা হয়েছে গেদু মিয়ার মসজিদে। এদিকে বৃহস্পতিবার সোনামুড়া কুলোবাড়ি ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৮ টা নাগাদ নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এখানে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক শামসুল হক। মুসলিম ধর্মালম্বীদের এই কুরবানী ঈদের নামাজ আদায়ে সোনামুড়া মহাকুমার বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন আসেন কুলোবাড়ি ঈদ গ্রাহ ময়দানে। এদিন নামাজ আদায় শেষে সিপিআইএম বিধায়ক শামসুল হক বলেন, সোনামুড়া মহকুমার বিভিন্ন এলাকায় সংখ্যালঘুরা এখনও রয়েছে বর্ডার ফেন্সিং এর বাইরে। পরিতাপের বিষয় হল অন্যান্য বৎসর যারা বর্ডার ফেন্সিং এর বাহিরে রয়েছে সেই সংখ্যালঘুদের জন্য কুরবানী ঈদের সময় গবাদিপশু ক্রয় বিক্রয় করার জন্য তাহাদেরকে পারমিট এর ব্যবস্থা করা হত। কিন্তু এই বৎসর সরকারের পক্ষ থেকে পারমিট দেওয়ার ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়ার ফলে বর্ডারও সিল করে দেওয়া হয়। ফলে কাঁটাতারের বাহিরে যে সংখ্যালঘুরা রয়েছে তারা কুরবানী ঈদের গবাদি পশু ক্রয় বিক্রয় করতে পারছেন না।অভিযোগ বিষয়টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে মহকুমা শাসককেও অবগত করা হয়েছিল।কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।তবে যাই হোক ঈদকে কেন্দ্র করে কুরবানী নিয়ে রাজ্যের কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।নির্বিঘ্নেই চলছে ঈদের আনন্দ উৎসব ও কুরবানী।
কুমারঘাটে উল্টোরথে মর্মান্তিক দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে মুখ্যমন্ত্রী নিহত এবং আহত পরিবারকে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা
written by janatar kalam
জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :-
কুমারঘাটে উল্টোরথে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। আজ সন্ধ্যায় ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে কুমারঘাটের পিডব্লিউডি ডাকবাংলোয় এক সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই ঘটনা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও মর্মান্তিক। আমি গভীর মর্মাহত। নিহতদের পরিবার পরিজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্য সরকার নিহত ও আহতদের পরিবার পরিজনদের পাশে রয়েছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রত্যেক নিহতের নিকট আত্মীয়কে চার লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া এই দুর্ঘটনায় ৬০ শতাংশেরও বেশী আহতদের ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা এবং ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ আহতদের ৭৪ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়াও আহতদের হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের পদস্থ আধিকারিক এবং রাজ্যস্তরীয় প্রশাসনের বরিষ্ঠ আধিকারিকদের এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী রিলিফ ফান্ড থেকে এই ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা ও আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। এই ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার প্রয়োজনে বহিঃরাজ্যে নিয়ে যেতে হলে সরকার তার ব্যয়ভার বহণ করবে। সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই ঘটনার তদন্তের জন্য ইতিমধ্যেই জেলাশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিক সম্মেলনে সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষামন্ত্রী টিংকু রায় এবং বিধায়ক ভগবানচন্দ্র দাস উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে কুমারঘাটে ইসকন আয়োজিত উল্টোরথের সময় মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর পেয়েই মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা আজ সন্ধ্যায় ট্রেনে আগরতলা থেকে কুমারঘাটে ছুটে আসেন। কুমারঘাট পৌঁছেই মুখ্যমন্ত্রী প্রথমে কুমারঘাটের গীতাঞ্জলী অডিটরিয়ামের কাছে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এরপর মুখ্যমন্ত্রী কুমারঘাট মহকুমা হাসপাতাল ও ফটিকরায় প্রথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এই ঘটনায় আহতদের দেখতে যান ও তাদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ খবর নেন। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা মন্ত্রী টিংকু রায়, ঊনকোটি জিলা পরিষদের সভাধিপতি অমলেন্দু দাস, বিধায়ক ভগবানচন্দ্র দাস, ত্রিপুরা শিল্প উন্নয়ন নিগমের চেয়ারম্যান নবাদল বণিক, ঊনকোটি জেলার জেলাশাসক তড়িৎ কান্তি চাকমা, ঊনকোটি জেলার পুলিশ সুপার কান্তা জাঙ্গির, কুমারঘাট মহকুমার মহকুমা শাসক সুব্রত দাস প্রমুখ।
উল্লেখ্য, অন্যান্য বছরের মতো এবছরও ঊনকোটি জেলার কুমারঘাটে স্থানীয় ইসকনের উদ্যোগে আজ উল্টোরথের আয়োজন করা হয়েছিল। এই উল্টোরথ উৎসবে অগণিত ভক্তপ্রাণ পুণ্যার্থীর সমাগম হয়েছিল। বিকেলের দিকে উত্তর পাবিয়াছড়ার দিকে যাওয়ার সময় গীতাঞ্জলী অডিটরিয়ামের কাছে জাতীয় সড়কের উপর রথে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সাথে সাথেই অগ্নিনির্বাপকের উদ্ধারকারী দল নিহত ও আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২ জন শিশু সহ ৭ জন নিহত ও ১৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের কুমারঘাট, ফটিকরায়, কৈলাসহর ও আগরতলার হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে।
জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেই ফের দেশের মানুষ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায়। তার জন্য প্রধানমন্ত্রী কর্মসূচি শুরু করেছে মেরা বুথ সবচেয়ে মজবুত। এই কর্মসূচি সারা দেশে একযোগে প্রতিটি বুথে সম্পন্ন হয়েছে। আমার বুথ সবচেয়ে মজবুত। কর্মসূচির সূচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ভোপালে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী।নরেন্দ্র মোদির কেন্দ্রে নয় বছর শাসনকালের মাসব্যাপী প্রচার কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবেই এদিনের এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচি রূপায়ণে দেশব্যাপী বিজেপি দলের মন্ত্রী, এমএলএ, সাংসদ, এমনকি একজন তৃণমূল স্তরের কার্যকর্তাও নিজ নিজ বুথ এলাকায় টিভির সাহায্যে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য সাধারণ মানুষদেরকে নিয়ে শুনেছেন। মঙ্গলবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা : মানিক সাহা নিজ বিধানসভা এলাকা অরুন্ধতীনগর কমিউনিটি হলে সেখানকার দলীয় কার্যকর তাদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তব্য শোনেন। পরে দলীয় কর্মী সমর্থকদের নিয়ে ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি স্বরূপ বিভিন্ন আলাপ আলোচনা করেন। আহ্বান রাখেন দলীয় কার্যকর্তাদের একত্রি করনের মাধ্যমে ২৪ লোকসভা নির্বাচনে ফের যেন সাধারণ মানুষ নরেন্দ্র মোদিকেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে পায়। সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করতে হবে প্রতিটি কার্যকর্তা উন্নয়ন কাজের ফিরিস্তি তুলে ধরতে হবে সাধারণ মানুষদের কাছে। তবেই মোদিজীর অসম্পূর্ণ স্বপ্ন গুলি বাস্তবে রূপায়িত করতে আরও সহজতর হবে। অরুন্ধতীনগর কমিউনিটি হলে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দিন প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শোনা অনুষ্ঠানে ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র দীপক মজুমদার। এছাড়াও বিধানসভা এলাকার বিভিন্ন নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি এলাকার স্থানীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়।
জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- দুটি গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত চালকসহ তিন ব্যক্তি | ঘটনা আসাম আগরতলা জাতীয় সড়কের বড়মুড়া ইকোপার্ক সংলগ্ন এলাকায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে টিএসআর এর বাস ও একটি চার চাকার মাল গাড়ির সংঘর্ষে ছোট গাড়ির চালক সহ তিনজন আহত হয়েছে। খবর পেয়ে অগ্নি নির্বাপক দপ্তরের কর্মীরা ছুটে এসে আহত চালক সরোজ রুদ্রপাল, মনির উদ্দিন ও স্বপন রায়কে তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করায়। ঘটনায় টিএসআর সপ্তম ব্যাটেলিয়ানের বাস চালকও সামান্য আঘাত পেয়েছে। এ নিয়ে বেশ কিছুক্ষণ বন্ধ ছিল যানবাহন চলাচল।
জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- চব্বিশ লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির জয় নিশ্চিত করতে একদিনে দেশের ১০লক্ষ বুুথের সঙ্গে এক যোগে রাজ্যের ৩৩২৮ টি বুুথে মেরা বুুথ সবচেয়ে মজবুত কর্মসূচির রূপায়িত হয়। প্রত্যেকেই চাইছে ফের প্রধানমন্ত্রী হোক মোদী। রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম অনুসারে রাজ্যের ৩৩২৮টি বুুথে একযুগে সম্প্রচারিত হয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভোপালে অনুষ্ঠিত জনসমাবেশের বক্তব্য। ত্রিপুরা প্রদেশ বিজেপি সারা দেশের সঙ্গে রাজ্য সফল রূপায়ণের লক্ষ্যে সব কয়টি বুুথে দলীয় কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছিল সফলভাবে কর্মসূচির রূপায়ণের জন্য।প্রদেশ বিজেপি সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য এই কর্মসূচির সফল রূপায়ণ করেছে রাজধানীর মর্ডান ক্লাবে। সেখানে এলাকার সমস্ত কার্যকর্তা দলীয় কর্মী সমর্থকদের সাথে বসে প্রধানমন্ত্রীর মূল্যবান বক্তব্য শোনেন। বলেন মোদীজি চাইছে সমস্ত বুুথের কার্য কর্তারা একযোগে কর্মসূচীর সফল রূপায়ন করুক। সেই কর্মসূচির রূপায়ণে দেশের অন্যান্য রাজ্যগুলির তুলনায় কোন অংশেই ত্রিপুরা কম করেনি। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়াকে উপেক্ষা করেও সকাল থেকে কর্মসূচি রূপায়ণের লক্ষ্যে দলীয় কার্যকর্তাদের উৎসাহ উদ্দীপনা ছিল ব্যাপক। প্রদেশ সভাপতি এদিন রাজ্যের সমস্ত জেলা মহকুমার বুুথ কার্যকর্তাদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেছেন। একই সঙ্গে নির্দেশ দিয়েছেন ২৪ লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন থেকেই মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য।এদিন সাব্রুম থেকে ধর্মনগর সর্বত্রই কর্মসূচি রূপায়ণ হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- আমার বুথ সবচেয়ে মজবুত এই কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে মঙ্গলবার দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভূপালে ভারতীয় জনতা পার্টির কার্যকর্তাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রেখেছে। আগরতলায় বাধারঘাট চারিপাড়া স্কুলে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক দলীয় কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শুনেন। পাশাপাশি দলীয় কর্মী সমর্থকদের বুথ স্ব-শক্তি করনের উপর গুরুত্ব আরোপ করেছে। বলেন আসন্ন ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে গত লোকসভা নির্বাচনের চেয়েও বেশি ভোটে জয়ী করে নরেন্দ্র মোদিকে সবাই ফের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায়। তার জন্য প্রতিটি কার্যকর্তা নিজ নিজ বুথ এলাকায় সক্রিয়ভাবে দলীয় কর্মসূচির রূপায়ন করতে হবে। সাধারণ মানুষকে অবহিত করাতে হবে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা গুলি সম্পর্কে। তবেই মানুষ বিজেপিকে পুনরায় ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে।
জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- আগরতলা সাব্রুম রেলে পর্যাপ্ত পরিমাণে ব্যবস্থা করা। ধর্মনগর- সাবরুম একটি ট্রেনের ব্যবস্থা করা। আন্ত রাজ্য দুটি ট্রেন সাবরুম থেকে ছাড়ার ব্যবস্থা করা এবং সাব্রুম স্টেশন থেকে দূরপাল্লার রেল ছাড়ার ব্যবস্থা সহ বিলোনিয়া এবং সাব্রুম স্টেশনকে সরাসরি বাংলাদেশের সাথে যুক্ত করার দাবিতে গর্জে উঠেছে সিপিআইএম দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলা কমিটি। মঙ্গলবার সিপিআইএম দক্ষিণ জেলা কমিটির উদ্যোগে সাব্রুম স্টেশন মাস্টারের নিকট এক ডেপুটেশন প্রদান করা হয়। তাদের দাবি রাজ্য সরকার এই বিষয়ে রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে অবশ্যই তা চালু করা সম্ভব হবে।
