ত্রিপুরায় পর্যটন বিপ্লব: ডুম্বুরে মাতাবাড়ি ট্যুরিজম সার্কিটের সূচনা করলেন জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া

Date:

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- ত্রিপুরার পর্যটন মানচিত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলেন কেন্দ্রীয় উত্তর-পূর্ব উন্নয়ন ও যোগাযোগ মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। রবিবার ডুম্বুর লেকের নারকেলকুঞ্জে ₹৪৫০ কোটি ব্যয়ে ‘মাতাবাড়ি ট্যুরিজম সার্কিট’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি। ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. মানিক সাহা। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী।

তিন দিনের ত্রিপুরা সফরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজ্যের জন্য মোট ₹৭৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের ঘোষণা করেন, যা পর্যটন, আগরউড, পরিকাঠামো ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সিন্ধিয়া জানান, মাতাবাড়ি ট্যুরিজম সার্কিটের মাধ্যমে ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দির, চাবিমুড়া ও ডুম্বুর লেককে এক সুতোয় গেঁথে আন্তর্জাতিক মানের আধ্যাত্মিক ও ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এই প্রকল্পে উত্তর-পূর্ব উন্নয়ন মন্ত্রক (DoNER) দিচ্ছে ₹২৭৬ কোটি টাকা।

প্রকল্পের আওতায় থাকবে ফ্লোটিং জেটি, পরিবেশবান্ধব রিসোর্ট, আধুনিক পর্যটন পরিকাঠামো এবং স্থানীয় সংস্কৃতিনির্ভর অভিজ্ঞতা, যা ডুম্বুর অঞ্চলকে আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে বিশেষ পরিচিতি দেবে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, “আজ আমরা শুধু ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করিনি, আমরা ত্রিপুরার মানুষের ভবিষ্যৎ জীবিকার ভিত গড়ে দিলাম।” এই প্রকল্পে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যার মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ নারী অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও স্থানীয় যুবকদের পর্যটন কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি, নামী প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ ট্যুর গাইড তৈরি করা হবে।

ডুম্বুর লেকের শান্ত জলরাশি, সবুজ দ্বীপপুঞ্জ ও নির্মল পরিবেশের ভূয়সী প্রশংসা করে সিন্ধিয়া বলেন, প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিকতার এক বিরল মিলনস্থল ডুম্বুর। ত্রিপুরার মানুষের সরলতা ও অতিথিপরায়ণতাই রাজ্যের সবচেয়ে বড় শক্তি, যা রাজ্যকে বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করবে। তাঁর কথায়, “ত্রিপুরা এক অনন্য সম্পদ—যা বিশ্বের সামনে তুলে ধরা দরকার।”

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘বিকশিত উত্তর-পূর্ব’, ‘লোকাল টু গ্লোবাল’ এবং ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’-র দৃষ্টিভঙ্গির কথা উল্লেখ করে সিন্ধিয়া বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রবেশদ্বার হিসেবে ত্রিপুরাকে গড়ে তোলা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার নেতৃত্ব ও কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের প্রশংসা করে তিনি জানান, এই সমন্বয়ই ত্রিপুরাকে উন্নয়নের নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিচ্ছে।

উল্লেখ্য, সফরের প্রথম দিনে সড়ক, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সৌর মাইক্রো-গ্রিডসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ₹২২০ কোটি টাকার প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন সিন্ধিয়া। দ্বিতীয় দিনে ₹৮০ কোটি ব্যয়ে আগরউড ভ্যালু চেন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়, যার মাধ্যমে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন সম্ভব হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, পর্যটন, আগরউড, বাঁশ ও পরিকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে আগামী দিনে ত্রিপুরা আত্মনির্ভর রাজ্যে পরিণত হবে এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির এক শক্তিশালী স্তম্ভ হয়ে উঠবে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ইঞ্জিনিয়ার্ড বাঁশকে কেন্দ্র করে ২২টি প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। ‘গ্রিন গোল্ড’ নামে পরিচিত এই উদ্যোগ পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের পাশাপাশি আঞ্চলিক অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।

Share post:

Subscribe

Popular

More like this
Related

সোনার ওজনে গরমিলের অভিযোগে বসুন্ধরা জুয়েলার্সে অভিযান

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- বুধবার আগরতলায় বসুন্ধরা...

দক্ষিণ জেলায় অশান্তি পরিদর্শনে মুখ্যমন্ত্রী, শান্তির আশ্বাস

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- দক্ষিণ জেলার বিভিন্ন...

লোক ভবনে হাঁসের ছানা বিতরণ, স্বনির্ভরতার বার্তা রাজ্যপালের

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- আজ সন্ধ্যায় লোক...

উত্তর মনুবনকুলে বিজেপি কার্যালয়ে হামলা, তীব্র নিন্দা রাজীব ভট্টাচার্যের

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- উত্তর মনুবনকুলে এডিসি...