এমজিএনরেগা বাতিলের প্রতিবাদে আগরতলায় কংগ্রেসের বিক্ষোভ, নতুন আইন প্রত্যাহারের দাবি

Date:

জনতার কলম আগরতলা প্রতিনিধি :-কেন্দ্র সরকারের সদ্য প্রণীত গ্রামীণ কর্মসংস্থান সংক্রান্ত নতুন আইনের বিরুদ্ধে শুক্রবার রাজধানী আগরতলায় তীব্র বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করল ত্রিপুরা প্রদেশ অসংগঠিত শ্রমিক কংগ্রেস। এই বিক্ষোভ ছিল সর্বভারতীয় অসংগঠিত শ্রমিক কংগ্রেস (AIUWC)-এর ডাকে দেশব্যাপী আন্দোলনের অংশ।

বিক্ষোভকারীরা মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইন (MGNREGA) বাতিল করে তার পরিবর্তে প্রণীত ‘বিকশিত ভারত–গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ) আইন, ২০২৫’ বা VB-G RAM G Act-এর বিরুদ্ধে সরব হন।

প্রতিবাদকারীদের অভিযোগ, এমজিএনরেগা প্রকল্প থেকে মহাত্মা গান্ধীর নাম বাদ দিয়ে কেন্দ্র সরকার জাতির পিতার উত্তরাধিকার মুছে ফেলার চেষ্টা করছে। তাঁরা একে জাতির পিতার প্রতি অপমান এবং শ্রমিকদের অধিকারের উপর সরাসরি আঘাত বলে অভিহিত করেন।

সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস নেতারা বলেন, এই পরিবর্তন সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং মূল আইনের চেতনাকে নষ্ট করেছে। তাঁদের দাবি, এমজিএনরেগা ছিল চাহিদাভিত্তিক কর্মসংস্থানের একটি আইনি অধিকার, কিন্তু নতুন আইন সেই অধিকার কেড়ে নিয়ে একে কেন্দ্র-নিয়ন্ত্রিত মিশনে রূপান্তরিত করেছে।

নেতাদের আরও অভিযোগ, অধিকারভিত্তিক কাঠামো ভেঙে এই প্রকল্পকে এখন বিবেচনাধীন কল্যাণমূলক স্কিমে পরিণত করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন আইনে রাজ্যগুলির উপর আর্থিক চাপও বাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।

এমজিএনরেগার আওতায় যেখানে মজুরির সম্পূর্ণ দায়িত্ব এবং উপকরণের ৭৫ শতাংশ ব্যয় বহন করত কেন্দ্র, সেখানে নতুন আইনে মজুরি ও উপকরণ—উভয় ক্ষেত্রেই রাজ্য সরকারকে ৪০ শতাংশ ব্যয় বহন করতে হবে। এতে রাজ্যের অর্থনৈতিক ভারসাম্য বিঘ্নিত হবে এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যাহত হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন বিক্ষোভকারীরা।

এছাড়াও চাষাবাদের ব্যস্ত মৌসুমে ৬০ দিনের ‘নো-ওয়ার্ক পিরিয়ড’ এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণের বিরুদ্ধেও আপত্তি জানান তাঁরা। কংগ্রেস নেতাদের মতে, এসব বিধান গ্রামীণ শ্রমিকদের জীবিকা ও আয়ের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।

এদিকে কংগ্রেস দল দেশজুড়ে ‘সেভ এমজিএনরেগা’ অভিযান শুরু করার ঘোষণা করেছে। জেলা সদর দপ্তর থেকে শুরু করে গ্রাম স্তরে কর্মসূচির মাধ্যমে নতুন আইনের ক্ষতিকর দিকগুলি তুলে ধরা হবে বলে জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, শুক্রবারের বিক্ষোভ মিছিলটি প্রদেশ কংগ্রেস দপ্তর থেকে শুরু হয়ে সার্কিট হাউস পর্যন্ত যাওয়ার কথা থাকলেও বুদ্ধ মন্দির এলাকায় পুলিশ মিছিল আটকে দেয়। এর প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীরা ঘটনাস্থলেই নতুন আইনের কপি পুড়িয়ে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান। এরপর শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি সমাপ্ত হয়।

Share post:

Subscribe

Popular

More like this
Related

আলিশান বাসভবন নিয়ে কেজরিওয়ালকে নিশানা বিজেপির

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :-দিল্লি সরকারের মন্ত্রী প্রবেশ বর্মা শনিবার...

নতুন ভূমিকায় অশোক লাহিড়ী, মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- সদ্য নীতি আয়োগের উপ-চেয়ারম্যান হিসেবে...

উত্তরাখণ্ড বোর্ডের ফলাফল ২০২৬ প্রকাশ: হাইস্কুলে পাশের হার ৯২.১%, শীর্ষে অক্ষত গোপাল

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- উত্তরাখণ্ড বোর্ড অফ স্কুল এডুকেশন...

পাকিস্তানে ইরানের কূটনৈতিক তৎপরতা, সংঘাতের মাঝেই বাড়ছে চাপ

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :-পশ্চিম এশিয়ায় ইসরায়েল ও হেজবোল্লার মধ্যে...