গ্রাহকদের জোর করে ঋণ দিতে না এনবিএফসিগুলিকে আর্থিক সংহতিকরণ যেন আর্থিক শোষণ না হয়: নির্মলা

Date:

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- গ্রাহকদের জোর করে ঋণ দেওয়া থেকে বিরত থাকতে এবং যুক্তিসম্মত সুদের হার রাখতে দেশের নন-ব্যাঙ্কিং ফিনান্স কোম্পানিগুলিকে (এনবিএফসি) আর্জি জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। তিনি বলেন, ‘আর্থিক সংহতিকরণ যেন আর্থিক শোষণ হয়ে না দাঁড়ায়।’ গ্রাহকদের কাছ থেকে বকেয়া ঋণ উদ্ধারের জন্য রিজার্ভ ব্যাঙ্ক যে নিয়ম তৈরি করেছে এনবিএফসিগুলিকে সেই নিয়ম মেনে চলার নির্দেশও দিয়েছেন নির্মলা। এর পাশাপাশি সুদের হার যুক্তিসম্মত জায়গায় রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

এনবিএফসি একজোট হয়ে কাজ করা উচিত বলেই তিনি মনে করেন। তাঁর কথায়, ‘কেন্দ্রের আর্থিক সংহতিকরণ প্রকল্পকে আর্থিক শোষণের কাজে ব্যবহার করা যাবে না। গ্রাহকের প্রয়োজন এবং তা ফেরত দেওয়ার ক্ষমতার উপরে ভিত্তি করেই ঋণ দেওয়া উচিত।’ আগ্রাসী হয়ে কোনও ব্যক্তিকে ঋণ দেওয়া ঠিক নয় এবং ঋণ দেওয়ার পরে তা উদ্ধার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হওয়া প্রয়োজন। গ্রাহকের প্রতি সহানুভূতিশীল এবং তাঁর সম্মানহানি না করে শীর্ষ ব্যাঙ্কের নির্ধারিত নিয়ম মেনে ঋণ আদায় করতে হবে বলে তিনি জানান।

নির্মলা বলেন, ‘ঋণ আদায় করা আপনার কাজের অংশ ঠিকই, কিন্তু তার অর্থ এই নয় আপনি হৃহৃদয়হীনের মতো আচরণ করবেন। কাজেই গ্রাহকদের কল্যাণের কথা মাথায় না রেখে বৃদ্ধির জন্য চাপ সৃষ্টি করা যাবে না। এই বিষয়টি স্পষ্ট করে নেওয়া দরকার।’ ভারতে প্রায় ৯ হাজারের মতে এনবিএফসি রয়েছে।

এনবিএফসি বহরে যত বাড়বে তার ঝুঁকি নির্ধারিত করা এবং তা কী ভাবে এড়ানো যায় তার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা বাড়াতে হবে বলেই বার্তা দিয়েছেন নির্মলা। সুপরিকল্পিত এবং তথ্য নির্ভর উপায়ে ঝুঁকি নেওয়া দরকার। ক্ষমতার তুলনায় বেশি ঋণ দেওয়া কখনওই যুক্তিগ্রাহ্য নয়। এনবিএফসিগুলিতে নগদের জোগান এবং ঋণের ঝুঁকি অত্যন্ত গভীর ভাবে বিশ্লেষণ করা এবং রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে বলেও নির্মলা জানান।

উল্লেখ্য, গত চার বছরের মধ্যে এনবিএফসিগুলির মোট প্রদত্ত ঋণের পরিমাণ ২৪ লক্ষ কোটি টাকা থেকে দ্বিগুণ বেড়ে গত বছরের মার্চ পর্যন্ত ৪৮ লক্ষ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। দেশের বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলির মোট প্রদত্ত ঋণের প্রায় ২৪ শতাংশ ঋণ এনবিএফসিগুলি দিয়েছে। আগামী দিনে এর পরিমাণ বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলির প্রদত্ত ঋণের ৫০ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে।

কোভিড অতিমারীর পর থেকে এনবিএফসিগুলির বকেয়া ঋণ দ্রুত পুনরুদ্ধার হয়েছে। ২০২১ সালের মার্চে এই ক্ষেত্রের মোট অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ প্রদত্ত ঋণের ৬.৪ শতাংশ ছিল। গত বছরের মার্চে তা কমে প্রদত্ত ঋণের ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে তাদের মুনাফার অঙ্কও ২০২১ সালের মার্চের ১.১১ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৫ সালের মার্চে ২.৪ শতাংশ হয়েছে।

Share post:

Subscribe

Popular

More like this
Related

দিল্লি হাইকোর্টে মদ নীতি মামলা: ৪ মে শুনানি, কেজরিওয়াল-সিসোদিয়ার অনুপস্থিতি

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- দিল্লির বহুল আলোচিত আবগারি (মদ)...

পাকিস্তানের ফতেহ-২ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারের দাবি

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- পাকিস্তান নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ‘ফতেহ-২’...

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান প্রেসিডেন্ট আউনের, হামলার নিন্দা

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে দুই...

ঝড়-বৃষ্টির প্রভাব মোকাবিলায় তৎপর প্রশাসন, উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার কড়া বার্তা

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিপাত...