পরীক্ষায় ইংরেজি কিংবা হিন্দি চাপিয়ে দেওয়া মানেই তাদের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে : সন্দীপন 

Date:

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- সিবিএসই আওতাধীন সমস্ত স্কুলের বোর্ডের পরীক্ষা হিন্দি ও ইংরেজিতে দিতে হবে। সিবিএসসি বোর্ডের ডিরেক্টরের এই ইঙ্গিতটি ঘিরে এখন ক্ষোভে ফুঁসছেন ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবক মহল থেকে শুরু করে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন। জানা গেছে চলতি শিক্ষা বর্ষ থেকেই সিবিএসসি আওতাধীন সমস্ত স্কুলের বোর্ডের পরীক্ষা হিন্দি ও ইংরেজিতে দিতে হবে। এতে করে স্বাভাবিকভাবেই এক কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে ছাত্র-ছাত্রীদের। কারণ বর্তমানে রাজ্যে ১০০টি স্কুল রয়েছে সিবিএসসির আওতায়। সঙ্গে বিদ্যাজ্যোতির ১০০টি সরকারি স্কুল সিবিএসসির অধীনে চলে গেছে। এর মধ্যে বিদ্যাজ্যোতির আওতাধীন অনেক স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী আছে যারা প্রাক প্রাথমিক স্তর থেকে বাংলা মাধ্যমে পড়াশোনা করেছে। ইংরেজি, বিশেষ করে হিন্দির সঙ্গে এদের কোন পরিচয় নেই। ফলে চলতি শিক্ষা বর্ষ থেকেই যদি বাংলাকে বাদ দিয়ে শুধু ইংরেজি ও হিন্দিতে পরীক্ষা দিতে বাধ্য করা হয় তবে তাদের পরীক্ষায় পাশ করা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না। বিদ্যাজ্যোতি প্রকল্প স্কুলগুলিকে অন্তর্ভুক্তির আগে ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের বলা হয়েছিল বাংলা মাধ্যমের ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যতে বাংলাতেই পরীক্ষা দিতে পারবে। তাই বিষয়টি নিয়ে তখন কেউ তেমন আপত্তি তুলে নি। কিন্তু বর্তমানে সিবিএসসি বোর্ডের ডিরেক্টর এর বক্তব্য জনসম্মুখে প্রকাশ হতেই চাপা ক্ষোভে ফুঁসছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহল থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংগঠন। বিষয়টি নিয়ে এবার সরকারের স্পষ্টিকরণ চেয়ে ময়দানে নামল বামপন্থী দুই ছাত্র সংগঠন এসএফআই ও টিএসইউ। বাংলা মাধ্যম থেকে বিদ্যাজ্যোতি প্রকল্পে সিবিএসসির অন্তর্ভুক্ত হওয়া স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের আগামী বোর্ড পরীক্ষায় কোন ভাষার মাধ্যমে হবে তা নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে তার সুষ্ঠুভাবে সমাধানের জন্য দ্রুত ইতিবাচক উদ্যোগ নেওয়ার দাবিতে সোমবার আগরতলা শিক্ষা ভবনের সামনে এই দুটি সংগঠনের কর্মীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। তবে ইংরেজি ও হিন্দি প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেওয়ার বিষয় নিয়ে স্কুল শিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তার নিকট এদিন সময় চাইলেও প্রথমে সময় দিতে নারাজ ছিল দপ্তর। পরে দপ্তরের অধিকর্তা সময় দিলে দুই সংগঠনের এক প্রতিনিধি দল তার সাথে দেখা করে তাদের দাবীসনদ তুলে দেন। এদিনের এই আন্দোলন কর্মসূচি প্রসঙ্গে এসএফআই রাজ্য সম্পাদক সন্দীপন দেব জানান, বিদ্যাজ্যোতি প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত স্কুলগুলি যেহেতু বর্তমানে সিবিএসই বোর্ডের অধীনস্থ করা হয়েছে তাই আগামী বছর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসতে যাওয়া ছাত্র-ছাত্রীদের ইংরেজি কিংবা হিন্দি মাধ্যমে তাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা দিতে হবে। যা স্বাভাবিকভাবেই ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে অনেকটাই কঠিন। কারণ যেহেতু এই ছাত্র ছাত্রীরা দীর্ঘ সময় ধরে বাংলা মাধ্যমে পড়াশোনা করেছে তাই কোন ধরনের প্রস্তুতি ছাড়া ভোট পরীক্ষায় ইংরেজি কিংবা হিন্দি চাপিয়ে দেওয়া মানেই তাদের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাওয়ার শামিল।

 

 

 

Share post:

spot_imgspot_img

Popular

More like this
Related

সন্ত্রাসের নিন্দা, হাসপাতালে গিয়ে বার্তা দিলেন মন্ত্রী কিশোর বর্মন

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- রবিবার সকালে রামপদ...

এক ক্লিকে প্রার্থীদের তথ্য, ECINET প্ল্যাটফর্ম চালু নির্বাচন কমিশনের

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :-নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটাররা এখন ECINET...

পশ্চিম এশিয়া সংঘাত: হরমুজ পার সপ্তম ভারতগামী এলপিজি ট্যাঙ্কার

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতের মধ্যেই...

অমরপুরে বিজেপির শক্তি প্রদর্শন, ৭০০ ভোটারের যোগদানে নির্বাচনী বার্তা স্পষ্ট

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- আসন্ন এডিসি নির্বাচনকে...