বেঙ্গালুরুতে যাঁরা একজোট হয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ২০ লক্ষ কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

Date:

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- লোকসভা ভোটের দিকে তাকিয়ে বেঙ্গালুরুতে যখন ২৬টি বিরোধী দলের বৈঠক বসেছে, তখন মঙ্গলবার সরকারি অনুষ্ঠান থেকে তাঁদের উদ্দেশে তীব্র টিপ্পনি কাটলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রী এদিন বলেন, ‘চব্বিশের নির্বাচনে সুশাসনের পক্ষে রায় দেওয়ার জন্য মানুষ মনস্থির করে ফেলেছে। অথচ দেশের দুর্দশার জন্য যাঁরা দায়ী তাঁরা এখন নতুন দোকান খুলে বসেছেন ।এর পরেই বিরোধী জোটের বৈঠককে কটাক্ষ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এঁদের দেখে একটা অউধি কবিতা মনে পড়ছে— এঁদের লেভেল এক রকম আর প্রোডাক্ট অন্যরকম। এঁরা দেশকে একটাই প্রতিশ্রুতি দিতে পারে, তা হল লাগামহীন দুর্নীতি।’

বেঙ্গালুরুতে বিরোধী জোটের যে বৈঠক বসেছে তাতে সর্বভারতীয় দল বলতে রয়েছে কংগ্রেস ও সিপিএম। বাকিরা মূলত ব্যক্তিকেন্দ্রিক আঞ্চলিক দল। যেমন তৃণমূল কংগ্রেস বা ডিএমকে কিংবা শরদ পাওয়ারের এনসিপি, মেহবুবা মুফতির পিডিপি, লালু প্রসাদের আরজেডি ইত্যাদি। এই সবকটি রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী জমানায় এই দলগুলির কোনও না কোনও নেতার বিরুদ্ধে ইডি-সিবিআইয়ে তদন্ত চলছে।এদিন সেই বিষয় নিয়েই খোঁচা দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘গণতন্ত্রের মূল কথা হল, অফ দ্য পিপল, বাই দ্য পিপল, ফর দ্য পিপল। কিন্তু এঁদের সবটাই তাঁদের পরিবারের জন্য। না খাতা না বহি, যো পরিবার কহে ওহি সহি। নিজের পরিবার বাঁচাও, পরিবারের জন্য দেশের সম্পত্তি লুঠ করে যাও।’

প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলতেই পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিরোধীরা। তৃণমূলের মুখপাত্র তাপস রায় বলেন, ‘ভয় পেয়েছেন মোদী, গদি উল্টে যায় যদি!’ তিনি আরও বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদীও একটা পরিবার তৈরি করেছেন। যে পরিবারে কিছু মুনাফাভোগী শিল্পপতি রয়েছেন। যাঁরা এখান থেকে টাকা সরিয়ে বিদেশে ভুয়ো কোম্পানি খুলে তাতে সেই অর্থ রাখছেন। শুধু তা নয়, মোদীর পার্টির মধ্যেই তো পরিবারতন্ত্রের ছড়াছড়ি। রাজনাথ সিংয়ে ছেলে, ধর্মেন্দ্র প্রধান, জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া—এঁরা কি পরিবারতন্ত্রের প্রোডাক্ট নয়?’প্রধানমন্ত্রী এদিন আরও বলেন, ‘বেঙ্গালুরুতে যাঁরা একজোট হয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ২০ লক্ষ কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এঁদের কেউ দুর্নীতি কাণ্ডে জেলে গেলে জোটে তাঁদের দর বেড়ে যায়। কারও গোটা পরিবারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে তাঁদের দর আরও বেড়ে যায়। কোনও রাজ্যে এঁদের কারও বিরুদ্ধে ইডি-সিবিআইয়ের তদন্ত শুরু বাকিরা তাঁর পক্ষ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন।’

জবাবে কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী এত নির্লজ্জ হতে পারেন, আগে জানা ছিল না। মহারাষ্ট্রে অজিত পাওয়ার, প্রফুল্ল প্যাটেলদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে কেন্দ্রীয় এজেন্সির তদন্ত চলছে। সেই অজিত পাওয়ার এখন মহারাষ্ট্রে বিজেপির বন্ধু শুধু নয়, রাজ্যের অর্থমন্ত্রীও বটে। মানে বিজেপির সঙ্গে থাকলে কোনও দুর্নীতিই দুর্নীতি নয়, আর বিজেপির বিরুদ্ধে মুখ খুললেই সে চোর। এই ব্যভিচারের রাজনীতির এবার ইতি হবে। মানুষ এই জঘন্য রাজনীতির খেলা ধরতে পারছে।’

Share post:

Subscribe

Popular

More like this
Related

দিল্লি হাইকোর্টে মদ নীতি মামলা: ৪ মে শুনানি, কেজরিওয়াল-সিসোদিয়ার অনুপস্থিতি

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- দিল্লির বহুল আলোচিত আবগারি (মদ)...

পাকিস্তানের ফতেহ-২ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারের দাবি

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- পাকিস্তান নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ‘ফতেহ-২’...

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান প্রেসিডেন্ট আউনের, হামলার নিন্দা

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে দুই...

ঝড়-বৃষ্টির প্রভাব মোকাবিলায় তৎপর প্রশাসন, উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার কড়া বার্তা

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিপাত...