জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের সংঘর্ষবিরতির পর স্থায়ী সমাধান খুঁজতে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চললেও এখনো পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত সমাধান সামনে আসেনি।
এদিকে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেয়েন জানিয়েছেন, ইরান ও লেবাননে সংঘর্ষবিরতি বজায় রাখতে ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য যুদ্ধের স্থায়ী অবসান এবং হরমুজ প্রণালীতে কোনও অতিরিক্ত ফি ছাড়াই নৌ-চলাচলের পূর্ণ স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনা।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, যেকোনও শান্তি চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা প্রয়োজন। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাব ইউরোপের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার উপরও পড়তে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।
অন্যদিকে, ইরানের মেহের নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতিসংঘে ইরানের দূত আমির সাঈদ ইরাভানি নিরাপত্তা পরিষদকে সতর্ক করে বলেছেন, ইসরায়েল আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তির জন্য একটি গুরুতর হুমকি হয়ে রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ইসরায়েল বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে এবং বেসামরিক অবকাঠামোর উপর হামলা চালাচ্ছে।
ইরানি দূত বলেন, পশ্চিম এশিয়ায় প্রকৃত যৌথ নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করতে হলে অস্থিরতার মূল উৎস—ইসরায়েলের দখলদার নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তিনি নিরাপত্তা পরিষদকে আহ্বান জানান, লেবাননে যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি বজায় রাখা, বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামোর উপর হামলা বন্ধ করা এবং দখলদার বাহিনী প্রত্যাহারে ইসরায়েলকে বাধ্য করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
এদিকে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। ওই হামলায় সিভিল ডিফেন্সের তিন সদস্য নিহত হয়েছেন। জানা গেছে, তারা পূর্ববর্তী হামলায় আহতদের উদ্ধার করতে গিয়ে প্রাণ হারান।
লেবাননের সরকারি ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট আউন বলেন, “এই হামলা ত্রাণ ও প্রাথমিক চিকিৎসা কর্মীদের লক্ষ্য করে চালানো ধারাবাহিক আক্রমণের অংশ, যা প্রমাণ করে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক আইন ও সনদের লঙ্ঘন অব্যাহত রেখেছে।”
