জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- দেশের রাজনীতিতে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে আম আদমি পার্টি (AAP)-এর একাধিক রাজ্যসভা সাংসদ দল ছেড়ে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (BJP) যোগ দিয়েছেন। রাঘব চাড্ডা, অশোক মিত্তল এবং সন্দীপ পাঠক শুক্রবার দিল্লিতে বিজেপি দফতরে দলীয় প্রধান নীতিন নবীনের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেন।
দলত্যাগী বাকি চার সাংসদ—প্রাক্তন ক্রিকেটার হরভজন সিং, স্বাতী মালিওয়াল, রাজিন্দর গুপ্তা এবং বিক্রম সাহনি—শীঘ্রই বিজেপিতে যোগ দেবেন বলেও জানা গেছে।
এদিন বিজেপি দফতরে চাড্ডা, মিত্তল ও পাঠককে ফুল দিয়ে স্বাগত জানানো হয় এবং উপস্থিত বিজেপি নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেন তারা।
এর আগে, ৩৭ বছর বয়সী রাঘব চাড্ডা সাংবাদিকদের জানান, তিনি সহ মোট সাতজন এএপি সাংসদ দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং বিজেপির সঙ্গে একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। সংবিধান অনুযায়ী, কোনও দলের দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ অন্য দলে যোগ দিলে তা বৈধ বলে গণ্য হয়—এই যুক্তি দেখিয়ে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সিপি রাধাকৃষ্ণনের কাছে প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
বর্তমানে এএপি-র ১০ জন রাজ্যসভা সাংসদের মধ্যে ৭ জনই বিজেপির দিকে ঝুঁকেছেন। ফলে অবশিষ্ট রয়েছেন মাত্র তিনজন—সঞ্জয় সিং, সন্ত বলবীর সিং সীচেওয়াল এবং এনডি গুপ্তা। দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সাংসদ দলত্যাগ করায় এই ক্ষেত্রে দলত্যাগ বিরোধী আইন কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কম।
দল ছাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রাঘব চাড্ডা বলেন, “গত কয়েক বছরে মনে হয়েছে আমি ভুল দলে আছি। এএপি তার মূল আদর্শ থেকে সরে গেছে। তাই আমি জনগণের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
অন্যদিকে সন্দীপ পাঠক জানান, “১০ বছর ধরে এই দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। কিন্তু আজ দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিতে হল।”
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০১২ সালে এএপি গঠনের সময় থেকেই দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন চাড্ডা এবং কেজরিওয়ালের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০২২ সালের পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনে দলের জয়ে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তবে গত এক বছরে দলের নেতৃত্বের সঙ্গে তার দূরত্ব বাড়তে থাকে।
এএপি সূত্রে অভিযোগ, সংসদে কেন্দ্র ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ এড়িয়ে চলা, গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে নীরব থাকা এবং বিরোধী জোটের কর্মসূচিতে অনুপস্থিত থাকার মতো বিষয়গুলি নিয়ে চাড্ডার বিরুদ্ধে অসন্তোষ তৈরি হয়। এমনকি, মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের গ্রেফতার ও জামিনের সময়েও তার নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এএপি নেতা সঞ্জয় সিং বিজেপির বিরুদ্ধে “অপারেশন লোটাস”-এর অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, বিজেপি কেন্দ্রীয় সংস্থা ও প্রশাসনিক শক্তি ব্যবহার করে বিরোধী দল ভাঙার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, “পাঞ্জাবের মানুষ এই সাতজন সাংসদকে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু তারা বিজেপির কোলে গিয়ে বসেছেন। পাঞ্জাবের মানুষ এই বিশ্বাসঘাতকতাকে ক্ষমা করবে না।”
এছাড়াও, সঞ্জয় সিং অভিযোগ করেন, বিজেপি পাঞ্জাবে ভাগবন্ত মান সরকারের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার চেষ্টা করছে। উল্লেখ্য, দিল্লি নির্বাচনে ধাক্কার পর পাঞ্জাবই বর্তমানে এএপি-র একমাত্র ক্ষমতাসীন রাজ্য, যেখানে ২০২৭ সালের শুরুতে নির্বাচন হওয়ার কথা।
অন্যদিকে, অরবিন্দ কেজরিওয়াল সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “বিজেপি আবারও পাঞ্জাবের মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করল।”
এই ঘটনায় দেশের রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে এবং আগামী দিনে এর প্রভাব পাঞ্জাবসহ জাতীয় রাজনীতিতে কতটা পড়বে, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।
