Connect with us

Uncategorized

গ্রামীণ উন্নয়নে বড় পদক্ষেপ, ৫৪৬ কোটি টাকার প্রকল্প উদ্বোধনে শিবরাজ সিং চৌহান

Published

on

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- রাজ্যে ‘বিকশিত ভারত জি রাম জি আইন, ২০২৫’ প্রণয়ন উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার স্বামী বিবেকানন্দ ময়দানে জনপ্রতিনিধি সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এই উপলক্ষে প্রায় ৫৪৬ কোটি টাকার বিভিন্ন গ্রামোন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। পাশাপাশি আয়োজিত হয় লাভার্থি সম্মেলন। মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা) মানিক সাহার উপস্থিতিতে ভার্চুয়ালি প্রকল্পগুলির উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন এবং কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রকের মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। অনুষ্ঠানে সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব সহ রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্য–সদস্যাগণ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের সূচনা করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান বলেন, “২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গড়ার সংকল্প বাস্তবায়নে গ্রামীণ ভারতের সর্বাঙ্গীন উন্নয়নের রোডম্যাপ হলো ‘বিকশিত ভারত জি রাম জি আইন, ২০২৫’। এই আইনের মাধ্যমে শুধু গ্রামীণ ভারতের চেহারা বদলাবে না, গরিব মানুষের ভাগ্যও পরিবর্তিত হবে।”

তিনি জানান, নতুন আইনে বছরে ১০০ দিনের পরিবর্তে ১২৫ দিনের কাজের নিশ্চয়তা দেওয়া হবে। কাজের দাবি জানিয়ে সময়মতো কাজ না পেলে বেকার ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে এবং মজুরি প্রদানে ১৫ দিনের বেশি দেরি হলে সুদসহ মজুরি দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাজেটে এই কর্মসূচির জন্য ১৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। রাজ্যসমূহ ও অর্থ কমিশনের অংশীদারিত্বে আগামী অর্থবছরে প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। সেই হিসেবে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ১০ লক্ষ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে গ্রামীণ জীবনযাত্রার মানে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন তিনি।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিকে ‘অষ্টলক্ষ্মী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং ত্রিপুরা সেই অষ্টলক্ষ্মীর পূর্ণ বৈভবের প্রতিচ্ছবি। প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে ভারত বিশ্বগুরু হওয়ার পথে এগিয়ে চলেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিরোধী দলগুলির সমালোচনা করে শিবরাজ সিং চৌহান বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই আইনের বিরোধিতা করা হচ্ছে, যার কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই।

তিনি আরও জানান, কর্মসূচি বাস্তবায়নে যুক্ত জিআরএস ও টেকনিক্যাল স্টাফদের বেতন-ভাতার জন্য প্রশাসনিক ব্যয় ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯ শতাংশ করা হয়েছে। ফলে এই খাতে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ থাকবে। জনজাতি, তপশিলী জাতি, দিব্যাঙ্গজন ও বিধবা মহিলাদের কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

রাজ্য সরকারের প্রশংসা করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় রাজ্যকে দেওয়া লক্ষ্যমাত্রার ৯৯ শতাংশ ঘরের কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ‘লাখপতি দিদি’ তৈরির লক্ষ্যমাত্রাও রাজ্য অতিক্রম করেছে। আগামী দিনে রাজ্যে আরও প্রায় ২ লক্ষ ঘর নির্মাণে আর্থিক বরাদ্দ দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনায় ১০৮টি আবাসিক এলাকাকে সংযুক্ত করতে নতুন রাস্তা নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নে আইসিএআর-এর কৃষি বিজ্ঞানীদের একটি দল রাজ্যে পাঠানো হবে বলেও ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। প্রতিটি জেলায় স্বসহায়ক দলের পণ্য বিক্রির জন্য সি-মার্ট খোলা হবে এবং আরকেভিওয়াই মিশনে রাজ্যকে অতিরিক্ত ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা) মানিক সাহা বলেন, গ্রামীণ মানুষের রোজগারের নিশ্চয়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে এই আইন একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। বিরোধীরা এই আইন নিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। এমজিএনরেগার ত্রুটিগুলি সংশোধন করতেই এই নতুন আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এই আইনের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে স্থায়ী সম্পদ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারে দালালচক্র ও দুর্নীতির অবসান ঘটবে। গ্রামসভা ও পঞ্চায়েতের মাধ্যমে গ্রামের উন্নয়নের রূপরেখা নির্ধারণ করা যাবে। কৃষিকালীন সময়ে সর্বোচ্চ দুই মাস কাজ বন্ধ রাখার বিধান রাখা হয়েছে, যাতে কৃষিকাজ ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং শ্রমিকরা কৃষিক্ষেত্র ও পরবর্তীতে এই আইনের আওতায় কাজের সুযোগ পান।

সভাপতির বক্তব্যে পঞ্চায়েত মন্ত্রী কিশোর বর্মণ বলেন, স্বচ্ছতা ও সুশাসনের মাধ্যমে রাজ্য পঞ্চায়েতি ব্যবস্থায় এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বিভিন্ন বিভাগে ইতিমধ্যেই রাজ্য ৭টি পুরস্কার অর্জন করেছে। এই আইনের মূল লক্ষ্য গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে শক্তিশালী ভারত গঠন করা।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের সচিব অভিষেক সিং। রাজ্যের পক্ষ থেকে এই আইন প্রণয়নের সমর্থনে একটি প্রস্তাব পত্র মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্বসহায়ক দলের সদস্যাদের ঋণের চেক, সয়েল হেলথ কার্ড, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘরের চাবির প্রতীকী মডেল এবং বিভিন্ন সুবিধাভোগীদের গাড়ির চাবি তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠান শেষে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। পাশাপাশি আয়োজিত বিভিন্ন প্রদর্শনী মণ্ডপও অতিথিরা পরিদর্শন করেন। উল্লেখ্য, গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের উদ্যোগে এবং পঞ্চায়েত দপ্তরের সহায়তায় এই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

Continue Reading