জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- কাশ্মীর উপত্যকায় সোমবার মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৪.৮। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল বুদগাম জেলায়, যার ফলে কম্পনের প্রভাব উপত্যকার বিস্তীর্ণ এলাকায় অনুভূত হয়। ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে বহু মানুষ ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তরের আধিকারিকরা জানান, ভোর ৫টা ৩৫ মিনিট নাগাদ এই ভূমিকম্পটি হয়। ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল শ্রীনগর থেকে মাত্র ২১ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত বুদগাম জেলা। কেন্দ্রস্থল উপত্যকার মধ্যেই হওয়ায় কম্পনের প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি অনুভূত হয়।
কম্পনের সময় ঘরের জানালা ও দরজা কাঁপতে থাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি ও সম্পত্তির ক্ষতির রিপোর্ট সংগ্রহের কাজ চলছে।
এই ভূমিকম্পে অনেকের মনে ২০০৫ সালের ৮ অক্টোবরের ভয়াবহ ভূমিকম্পের স্মৃতি ফিরে আসে। সেবার রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৭.৬, যা অত্যন্ত শক্তিশালী বলে বিবেচিত হয়। সেই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের (পিওকে) মুজফ্ফরাবাদ শহর। কম্পনের প্রভাব তাজিকিস্তান, চিনের শিনজিয়াং ও আফগানিস্তান পর্যন্ত অনুভূত হয়েছিল।
২০০৫ সালের ভূমিকম্পে ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। পিওকে-র মুজফ্ফরাবাদ শহর কার্যত ধ্বংস হয়ে যায় এবং প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েন। ওই ঘটনায় পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে প্রায় ১ লক্ষ ৩৮ হাজার মানুষ আহত হয়েছিলেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০০৫ সালের আগেও কাশ্মীর উপত্যকায় বড় ভূমিকম্পের নজির রয়েছে। ১৮৮৫ সালের ৩০ মে বারামুলা ভূমিকম্পে রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৬.৮। ভূমিকম্পের কেন্দ্র উপত্যকার মধ্যেই থাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। ওই ঘটনায় অন্তত ৩,০৮১ জনের মৃত্যু হয় এবং বিপুল সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি ঘটে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কাশ্মীর উপত্যকা ও লাদাখের জান্স্কার এলাকা ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। অতীতেও একাধিকবার এই অঞ্চলে ভয়াবহ ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।


Leave feedback about this