জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- ত্রিপুরা রাজ্য বিদ্যুৎ নিগম লিমিটেড (TSCL) গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পরিষেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়েছে। আজ আগরতলার কর্পোরেট অফিসে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে, যেখানে ব্যুরো অব এনার্জি এফিসিয়েন্সি (BEE) ও ত্রিপুরা রাজ্য বিদ্যুৎ নিগম যৌথভাবে ৩০ জন আশা ফ্যাসিলিটেটরের মাঝে ই-বাইসাইকেল বিতরণ করে, বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, দেশের সেরা রাজ্য হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য।
মন্ত্রী জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ দপ্তরের ইঞ্জিনিয়াররা অত্যন্ত দক্ষ ও দায়িত্বশীল এবং সঠিক ও ধারাবাহিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, “বিদ্যুৎ ছাড়া কোনও কাজই সম্ভব নয়। তাই আমাদের পরিষ্কার ও সবুজ শক্তির দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। সৌরশক্তির মাধ্যমে ইতিমধ্যেই ২৫টি গ্রামে জলের সরবরাহ নিশ্চিত করেছি। এখন এই ক্ষেত্রটি আরও বিস্তৃত করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছি।”
তিনি আরও তুলে ধরেন, জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতি মেগাওয়াটে খরচ ৭ থেকে ২০ কোটি টাকা, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ ৫ থেকে ১০ কোটি টাকা হলেও, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ মাত্র প্রায় ৪ কোটি টাকা প্রতি মেগাওয়াট। মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, যদি সর্বত্র সৌরশক্তি ব্যবহার করা যায়, ত্রিপুরা সহজেই দেশসেরা রাজ্য হতে পারবে। ইতিমধ্যেই প্রায় ৩৮,০০০ কানি জমিতে সৌর পাম্প বসানো হয়েছে, যা আগামী ২৫ বছর জল সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান নিশ্চিত করবে।
মন্ত্রী আশা কর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ভূয়সী প্রশংসা করে তাদের সমাজের “যোদ্ধা” হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, “ঘরে ঘরে গিয়ে শিশুদের টিকাকরণসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন আমাদের আশা কর্মীরা। সমাজে এমন অনেক মানুষ আছেন, যারা নীরবে কাজ করেন—তাঁরাই প্রকৃত যোদ্ধা। আমাদের অবশ্যই তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।”
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে ত্রিপুরা বিদ্যুৎ সরবরাহে দেশের এক নম্বরে না হলেও চতুর্থ স্থানে রয়েছে। তবে সঠিক ও ২৪×৭ বিদ্যুৎ পরিষেবা দিয়ে দেশসেরা রাজ্য হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করাই মূল লক্ষ্য।


Leave feedback about this